Header Ads

Header ADS

হিন্দু আইনের গুরুত্বপূর্ণ টিকা সমূহ। সহজ ও সাবলীল ভাষায় । পড়লেই মনে থাকবে । এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

 

                    হিন্দু আইন গুরুত্বপূর্ণ টিকা। এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪



1.      হিন্দু আইনে দেশান্তরগমন (Expatriation under Hindu Law):

হিন্দু আইনে, দেশান্তরগমন বা "অধিকার স্থানান্তর" এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি ব্যক্তি তার দেশ বা জনগণের পরিসরে থেকে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারেন বা অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে যেতে পারেন।

এটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে:

1.      স্বতন্ত্র নাগরিকত্বের অধিকার:

o    হিন্দু আইনে কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ইচ্ছায় দেশান্তরিত হন, তবে তাকে তার নতুন স্থানে বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট আইন অনুসরণ করতে হয়।

o    হিন্দু আইনে দেশান্তরগমন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এর জন্য পরিবারের বা সমাজের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

2.      ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ:

o    হিন্দু ধর্মে সাধারণত দেশান্তরগমনকে নিষেধ করা হয়নি, তবে কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি নিয়মের সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ হতে হবে।

o    বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানান্তর বা ধর্মের পরিবর্তন হলে তা প্রভাব ফেলতে পারে পারিবারিক সামাজিক সম্পর্কের উপর।

3.      ব্যক্তিগত অধিকার:

o    একটি হিন্দু ব্যক্তি আইনগতভাবে অন্য দেশে যেতে পারে, তবে পরিবারের সদস্যদের বা সমাজের মতামত কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

o    অধিকাংশ ক্ষেত্রে, দেশান্তরগমন কেবল আইনগত অনুমতির বিষয়, এর সাথে সামাজিক বা ধর্মীয় দিক থেকে কোনো বাধা নেই।

পরিশেষে  হিন্দু আইনে দেশান্তরগমন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে দেখা হয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা বা ধর্তব্য বিষয় থাকতে পারে, যেমন ধর্মীয় রীতি বা পরিবারের সম্মতি, যা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।

 

 

2.      ফ্যাকটাম ভ্যালেট (Factum Valet) একটি লাতিন আইনী শব্দবোধক যা সাধারণত ব্যবহৃত হয় আইনে বা চুক্তির ক্ষেত্রে। এর পূর্ণ অর্থ হলো "কৃত কাজের বৈধতা" বা "কৃত কাজের গুরুত্ব" এটি এমন একটি নীতি বা ধারণা যা ইঙ্গিত করে যে, যদি কোনো কাজ বা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে এবং তা কোনো অস্পষ্টতা বা অবৈধতার কারণে ভেঙে না পড়ে, তবে সেই কাজ বা চুক্তি বৈধ কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি যদি সেই কাজের কিছু অংশে ভুল বা অসামঞ্জস্যও থাকে।

 

 

 

ফ্যাকটাম ভ্যালেটের কিছু মূল দিক:

  1. আইনী বৈধতা:
    • ফ্যাকটাম ভ্যালেট সাধারণত সেই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে একটি আইনী কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা কেবলমাত্র কোনো নৈতিক বা প্রক্রিয়াগত ভুলের কারণে অবৈধ বা অসম্পূর্ণ হয় না।
    • এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো কাজ যতক্ষণ না তা স্পষ্টভাবে অবৈধ বা নিষিদ্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার কার্যকারিতা বা প্রভাব ধরে রাখা হবে।
  2. চুক্তি অ্যাগ্রিমেন্ট:
    • ফ্যাকটাম ভ্যালেট চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি একটি চুক্তি বা আইনগত কার্যক্রম কিছু ভুলের মধ্যে সম্পাদিত হয়, তবে সেটি যদি বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তবে তা বৈধ হতে পারে যতক্ষণ না কোনো গুরুতর ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে যা চুক্তির মূল উদ্দেশ্যকে প্রভাবিত করে।
  3. প্রভাব কার্যকারিতা:
    • আইনী বা চুক্তির বৈধতা থাকলে, কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত শুদ্ধ মনে করা হবে, যতদিন না তার ভঙ্গুরতা বা অসামঞ্জস্য প্রকাশ পায় এবং তা আইনগতভাবে প্রমাণিত না হয়। অর্থাৎ, এমনকি কিছু ভুল থাকলেও তা সাধারণত প্রভাবিত বা বাতিল হতে পারে না।

উদাহরণ:

ধরা যাক, একটি চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে এবং সেই চুক্তিতে কিছু ত্রুটি আছে, তবে চুক্তি যদি বাস্তবায়িত হয় এবং পক্ষগুলি সেই চুক্তি অনুসারে কার্যক্রম শুরু করে, তবে "ফ্যাকটাম ভ্যালেট" নীতির আওতায় সেই চুক্তিটি বৈধ কার্যকর গণ্য হবে যতক্ষণ না ত্রুটিগুলি চূড়ান্তভাবে সুরাহা করা হয়।

পরিশেষে

ফ্যাকটাম ভ্যালেট একটি আইনী নীতি যা বলে যে, একটি কার্যকর বা বাস্তবায়িত কাজ বা চুক্তি ত্রুটিপূর্ণ হলেও যদি সেটি সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো গুরুতর আইনগত অসামঞ্জস্য না থাকে, তবে সেটি বৈধ কার্যকর হবে।

 

 

 

3.      গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ

গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ বা গো থিওরি অফ রিপ্রেজেন্টেশন মূলত একটি দার্শনিক এবং আইনী ধারণা যা দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবনা, এবং অভিজ্ঞতাকে বুঝতে এবং ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়। এই তত্ত্বের মূল বিষয় হলো, কোনও সমাজ বা সম্প্রদায়ের সদস্যরা যখন সরকার বা কোনও সত্তার প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, তখন তাদের মতামত সত্তার মধ্যে সঠিক যথাযথ প্রতিফলন হতে হবে। এর মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা এবং প্রভাব সমাজের নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হবে।

এটি সাধারণত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে মানুষের ভোট বা নির্বাচন প্রক্রিয়া মাধ্যমে তাদের মতামত বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। একে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব বলেও উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রধান ধারণা:

1.      প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব:

o    জনগণ তাদের মতামত বা চিন্তাধারা একজন প্রতিনিধি বা সরকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। এই প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে কাজ করবেন এবং তাদের ইচ্ছা এবং আশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন।

2.      গণতন্ত্রে প্রতিনিধিত্ব:

o    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধির নির্বাচন করা হয়, যারা পরবর্তীতে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন। এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য দায়িত্বশীল থাকেন।

3.      আইনী প্রতিফলন:

o    প্রতিনিধিরা যদি জনগণের সত্যিকার ইচ্ছার সঙ্গে সুসঙ্গতভাবে কাজ না করেন, তবে তা গণতান্ত্রিক মতবাদ আইনের প্রতি বিরোধী হতে পারে। এতে জনগণের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।

পরিশেষে

গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ এমন একটি তত্ত্ব যা জনগণের মতামত বা ইচ্ছাকে সরকারি সিদ্ধান্ত নীতির মধ্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করার কথা বলে। এটি সাধারণত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এর সাথে সম্পর্কিত।

 


 

4. সহ-অংশীদার (Co-Partner) –

সহ-অংশীদার হিন্দু আইনে সেই ব্যক্তি বা সদস্যকে বোঝায়, যিনি হিন্দু যৌথ পরিবার বা পারিবারিক সম্পত্তি বা ব্যবসায় অংশীদার হন। সাধারণত, হিন্দু আইন অনুসারে, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সহ-অংশীদার হিসেবে সম্পত্তির অধিকারী হন, বিশেষত হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ১৯৫৬ অনুযায়ী।

মূল পয়েন্ট:

1.      হিন্দু যৌথ পরিবার: পরিবারে পিতা, পুত্র, এবং অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা সাধারণত সহ-অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হন, এবং সম্পত্তির উপর সমান অধিকারী হন।

2.      সম্পত্তির ভাগ: সহ-অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করা হয় এবং তারা একে অপরের সাথে লাভ-লোকসান ভাগ করে নেন।

3.      ব্যবসায়ী অংশীদারিত্ব: ব্যবসায়ও সহ-অংশীদার থাকতে পারেন, যেখানে সকল অংশীদারের সমান অধিকার থাকে।

পরিশেষে, সহ-অংশীদার হল সেই ব্যক্তি, যিনি পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পত্তির সমান অধিকারী এবং প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করেন।

5.অনুমোদিত বিবাহ

হিন্দু আইনে অনুমোদিত বিবাহ বলতে সেই বিবাহকে বোঝায়, যা আইন ধর্মীয় রীতিনীতির শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হয়েছে এবং যা আইনত বৈধ বলে স্বীকৃত।

শর্তসমূহ:

1.      বয়স: বর কনে যথাক্রমে কমপক্ষে ২১ এবং ১৮ বছর বয়সী হতে হবে।

2.      মন্তব্যযোগ্যতা: উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো নিষিদ্ধ সম্পর্ক (যেমন, পিতামাতার মধ্যে সম্পর্ক) থাকতে হবে না।

3.      মনোযোগী সক্ষমতা: বর কনে উভয়েই মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে।

4.      ধর্মীয় আচার: বিবাহটি সাধারণত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসারে (যেমন, সপ্তপদী) সম্পন্ন হতে হবে।

5.      পুনর্বিবাহের অনুমতি: বর বা কনে যদি কোনো ব্যক্তির জীবিত স্ত্রীর/স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত না থাকে, তবে বিবাহটি বৈধ হবে।

পরিশেষে

অনুমোদিত বিবাহ হিন্দু আইনে সেই বিবাহকে বোঝায়, যা উপরের শর্তগুলো পূরণ করে এবং ধর্মীয় আইনীভাবে বৈধ

 

(6) নাবালকের অভিভাবক

হিন্দু আইনে নাবালক হলো যে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম বয়সী তার পিতা-মাতা বা আইনত নিযুক্ত ব্যক্তি নাবালকের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

1.      অভিভাবক কে:

o    নাবালকের পিতা-মাতা মূল অভিভাবক।

o    পিতা-মাতা অনুপস্থিত বা অক্ষম হলে, আদালত নিযুক্ত অভিভাবক করতে পারে।

2.      কর্তব্য ক্ষমতা:

o    নাবালকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাপন নিশ্চিত করা।

o    নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিরাপত্তা দেখভাল।

o    নাবালকের পক্ষ থেকে আইনগত লেনদেন করা (যদি প্রয়োজন হয়)

3.      সীমাবদ্ধতা:

o    সম্পত্তি নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।

o    বড় ধরনের চুক্তি বা বিক্রয় করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

পরিশেষে
হিন্দু আইনে নাবালকের অভিভাবক হলো সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালকের রক্ষা, শিক্ষা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেন এবং তার পক্ষে আইনগত কাজ করতে পারেন।

 

7.সেবায়েত (Servant) –

সংজ্ঞা:
সেবায়েত হলো সেই ব্যক্তি, যিনি অন্যের পরিচার্যা বা সেবা দেন এবং এর বিনিময়ে বেতন বা পারিশ্রমিক পান

 

দায়িত্ব:

o    নিয়োগকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা।

o    সততা, নিষ্ঠা নিয়মকানুন মেনে চলা।

অধিকার:

o    নিয়মিত বেতন বা পারিশ্রমিক পাওয়া

o    শ্রমিক আইন বা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত সুরক্ষা সুবিধা পাওয়া।

আইনী দৃষ্টিকোণ:

হিন্দু আইনে বা সাধারণ নাগরিক আইনে, সেবায়েতকে কাজের ধরন শর্ত অনুযায়ী অধিকার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

o    নিয়মিত চুক্তি থাকলে, তার অধিকার সংরক্ষিত থাকে।

পরিশেষে
সেবায়েত হলো সেই ব্যক্তি, যিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে অন্যের সেবা বা কাজ করেন এবং বেতন আইনী সুবিধা পান।

 

8. গন্ধর্ব বিবাহ (Gandharva Marriage) –

সংজ্ঞা:
হিন্দু ধর্মে গন্ধর্ব বিবাহ হলো সেই বিবাহ, যা বর কনের ইচ্ছায়, বিনা প্রক্রিয়া আত্মীয় বা ধর্মীয় অনুমতি ছাড়াই সম্পন্ন হয় এটি মূলত প্রেম বা স্বতঃস্ফূর্ত বিবাহ

মূল বৈশিষ্ট্য

 

1.      ইচ্ছার ভিত্তি: বর কনের স্বাধীন ইচ্ছায় বিবাহ সম্পন্ন হয়।

2.      ধর্মীয় বা পারিবারিক অনুমতি প্রয়োজন নেই।

3.      প্রেমময় বা স্বতঃস্ফূর্ত সম্পর্ক-এর ওপর ভিত্তি করে।

4.      প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে স্বীকৃত, কিন্তু বর্তমানে আইনের অধীনে বৈধ বিবাহ হিসেবে হিন্দু বিবাহ আইন, অনুযায়ী শর্ত পূরণ করতে হবে

পরিশেষে
গন্ধর্ব বিবাহ হলো সেই প্রাচীন হিন্দু বিবাহ, যা বর-কনের স্বাধীন ইচ্ছায়, প্রথা বা অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন হয়, এবং এটি প্রেমভিত্তিক বা স্বতঃস্ফূর্ত বিবাহ।

9.কর্তা (Karta) –

সংজ্ঞা:
হিন্দু আইন অনুযায়ী কর্তা হলো হিন্দু যৌথ পরিবারের প্রধান সদস্য, যে পরিবারের সম্পত্তি পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ আইনগত প্রতিনিধিত্ব করে।

মূল বৈশিষ্ট্য:

1.      সাধারণত পিতৃপুরুষ বা পরিবারের সিনিয়র পুরুষ সদস্য কর্তা হন।

2.      তিনি পরিবারের সম্পত্তি পরিচালনা ব্যবস্থাপনা করেন।

3.      পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে চুক্তি লেনদেন করতে পারেন।

4.      কর্তার দায়িত্ব হলো পরিবারের স্বার্থ সংরক্ষণ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা

5.      মৃত্যুর পর, পরিবারের সিনিয়রতম পুত্র বা অনুমোদিত সদস্য কর্তা হয়ে ওঠেন।

পরিশেষে
কর্তা হলো হিন্দু যৌথ পরিবারের প্রধান আইনগত প্রতিনিধি, যিনি পরিবারের সম্পত্তি, ব্যবসা সদস্যদের কল্যাণ পরিচালনা করেন।

 

 

10.অবিভাজ্য সম্পত্তি

সংজ্ঞা:
হিন্দু আইন অনুযায়ী অবিভাজ্য সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করা যায় না এবং যা হিন্দু যৌথ পরিবারের প্রধান বা সহ-অংশীদারের দ্বারা পরিচালিত হয়

মূল বৈশিষ্ট্য:

1.      সাধারণত হিন্দু যৌথ পরিবারের সম্পত্তি অবিভাজ্য হয়।

2.      সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ব্যবহার কর্তা বা পারিবারিক সদস্যদের দ্বারা হয়।

3.      বৈবাহিক, ব্যবসায়িক বা পারিবারিক কাজে এই সম্পত্তি ব্যবহার করা যায়।

4.      সদস্যরা সম্পত্তির আয় থেকে অংশ পান, কিন্তু মূল সম্পত্তি ভাগ করা যায় না।

5.      হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, অনুযায়ী, অবিভাজ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়মিত পরিবার পিতৃপুরুষের হাতে থাকে।

পরিশেষে
অবিভাজ্য সম্পত্তি হলো হিন্দু যৌথ পরিবারের সেই সম্পত্তি, যা ভাগ করা যায় না এবং যা পরিবারের প্রধান বা সদস্যদের সম্মিলিত ব্যবস্থাপনায় থাকে, এবং তার আয় থেকে অংশীদাররা সুবিধা পান।

 

11.উইল

সংজ্ঞা:
উইল হলো একটি লিখিত দলিল, যা একজন ব্যক্তি (Testator) মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কার কাছে যাবে তা স্বেচ্ছায় নির্ধারণ করার জন্য তৈরি করে

উইল (Will) – বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

1.      স্বেচ্ছামূলক (Voluntary)

o    Testator নিজের ইচ্ছায় উইল তৈরি করে।

2.      মৃত্যুর পর কার্যকর (Operates after Death)

o    উইল জীবিত অবস্থায় কার্যকর হয় না।

3.      লিখিত সাক্ষীসহ (Written & Witnessed)

o    আইনি ফর্মালিটি পূরণ জরুরি।

4.      পরিবর্তনযোগ্য (Revocable)

o    Testator চাইলে কোনো সময় পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।

5.      নিজস্ব সম্পত্তি (Own Property)

o    কেবল Testator-এর নিজের সম্পত্তি উইলের জন্য ব্যবহার করা যায়।

6.      পরিচ্ছন্ন ইচ্ছা (Clear Intention)

o    সম্পত্তি কার কাছে যাবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

7.      আইনি গ্রহণযোগ্যতা (Legally Recognized)

o    স্বাক্ষর এবং সাক্ষীর মাধ্যমে আইনসম্মত।

 

12.দেবত্তর সম্পত্তি  

 

সংজ্ঞা:

দেবত্তর সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যা ঐশ্বরিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে এবং পূণ্যদান বা ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয় সাধারণভাবে, এটি কোনো ব্যক্তির স্বত্বের অধীনে থাকলেও তার ব্যক্তি মালিকানা নয়

 

মূল বৈশিষ্ট্য:

1.      ঈশ্বর/ধর্ম উদ্দেশ্যে উৎসর্গ: উদাহরণ: মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরের জমি।

2.      পারিবারিক নিয়ম প্রযোজ্য না: Testator-এর মৃত্যুর পরও ব্যক্তি উত্তরাধিকারী স্বাভাবিকভাবে নিতে পারবে না।

3.      ব্যবহার: শুধু ধর্মীয় বা বৈদিক কার্য্যেই ব্যবহার হয়।

4.      দেবদ্বার/মন্দির কর্তৃপক্ষের অধীনে: কোন ব্যক্তিগত দখল নয়।

 

উদাহরণ:

·         মন্দির নির্মাণের জন্য কোনো ব্যক্তি জমি উৎসর্গ করলে সেটি দেবত্তর সম্পত্তি হয়ে যায়।

·         দানকৃত গরু, কৃষি জমি বা টাকা যা মন্দির বা ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়।

 

13.সপিণ্ড

সংজ্ঞা

·         সপিণ্ডহলো সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা যাদের সঙ্গে একজন মানুষের রক্তের সম্পর্ক বা বংশগত সম্পর্ক থাকে, যার কারণে তারা বিবাহ বা উত্তরাধিকার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সম্পর্কিত বলে গণ্য হয়।মূলত নিকটতম আত্মীয় / বংশগত আত্মীয় বোঝায়।

 

বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

1.      রক্তের সম্পর্কের ভিত্তি:

o    সপিণ্ডমূলত রক্তের সম্পর্ক বা বংশগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

2.      বিবাহে প্রাসঙ্গিক:

o    Hindu Marriage Act অনুযায়ী সপিণ্ড”-এর মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ

3.      উত্তরাধিকারে প্রাসঙ্গিক:

o    Hindu Succession Act অনুযায়ী, সপিণ্ডপরিবার উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।

4.      সীমা (Extent):

o    সাধারণভাবে 3 প্রজন্ম (পুরুষদের দিক থেকে) বা 5 প্রজন্ম (মহিলাদের দিক থেকে) পর্যন্ত রক্ত সম্পর্ককে সপিণ্ডধরা হয়।

o     মূলত রক্তের সম্পর্ক বা বংশগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

5.উদ্দেশ্য:

o    বিবাহে নিষিদ্ধ সম্পর্ক চিহ্নিত করা।

o    উত্তরাধিকার/মৃত্যু পরবর্তী সম্পত্তি বণ্টন নির্ধারণ।

 

14.প্রতিনিধিত্ব মতবাদ

সংজ্ঞা:

মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী না থাকলে বা কেউ উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে অক্ষম হলে তাদের স্থানে তাদের বংশধর বা প্রতিনিধি উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি গ্রহণ করে।

সহজভাবে: প্রত্যেকেই তার পূর্বপুরুষের স্থলে উত্তরাধিকারী হতে পারে।

 

বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

1.      প্রধান উদ্দেশ্য: মৃত বা অনুপস্থিত উত্তরাধিকারীর স্থলে বংশধরকে সম্পত্তি বণ্টন করা।

2.      শর্ত:

o    মূল উত্তরাধিকারী মৃত্যুবরণ করেছে বা উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে অক্ষম।

o    প্রতিনিধিরা রক্ত বা বংশগত সম্পর্ক দ্বারা সংযুক্ত।

3.      সীমা: সাধারণভাবে পরিচ্ছন্নভাবে সরাসরি সন্তান বা নিকটতম আত্মীয়রা

 

উদাহরণ:

·         X-এর ছেলে Y মারা গেছে। Y-এর সন্তান Z তার পিতার স্থলে উত্তরাধিকারী হয়ে সম্পত্তি পাবেন।

·         অর্থাৎ, Z হল Y-এর প্রতিনিধিত্বকারী (Representative)

15. স্ত্রীধন

স্ত্রীধন হলো সেই সম্পত্তি যা নারী স্বাভাবিকভাবে বা আইনগতভাবে পায় এবং যা তার নিজস্ব অধিকার নিয়ন্ত্রণে থাকে।হিন্দু আইন অনুযায়ী, স্ত্রীধন শুধুমাত্র স্ত্রীর মালিকানায় থাকে এবং স্বামী বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় দখল করতে পারে না

বৈশিষ্ট্য

1.      নারীর নিজস্ব সম্পত্তিস্বামী বা পরিবারের দ্বারা দখল বা ব্যবহার করা যায় না।

2.      স্বায়ত্তশাসনস্ত্রী চাইলে বিক্রি, দান বা ব্যবহার করতে পারে।

3.      উত্তরাধিকার যোগ্যস্ত্রী মারা গেলে তার স্ত্রীধণ উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে।

 

 

উদাহরণ:

1.      পিতা, স্বামী বা অন্যান্য আত্মীয় থেকে পাওয়া উপহার

o    যেমন: গহনা, কাপড়, জমি

2.      বিয়ের সময় প্রদত্ত সম্পদ (Dowry নয়,

3.      স্ত্রীর ব্যক্তিগত আয় বা সঞ্চয়

 

No comments

Powered by Blogger.