রাজস্ব আইন এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীয় ভাষায় পার্ট- ৫
রাজস্ব আইন এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীয় ভাষায় পার্ট- ৫
৫। (ক) কর অবকাশ বলতে কী বুঝ? বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কী কী খাতে কী কী শর্তে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হয়?
(খ) তুমি কী মনে কর কর অবকাশ পদ্ধতি বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে কোন সুফল বয়ে আনবে? তোমার ধারণা ব্যাখ্যা কর।
কর
অবকাশ বলতে কী বুঝ? বিদ্যমান
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কী কী খাতে
কী কী শর্তে কর
অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হয়? বিস্তারিত
১. কর অবকাশ বলতে
কী বুঝ?
কর
অবকাশ
(Tax Exemption / Tax Relief) বলতে
বোঝায়—
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ বা সম্পদের ওপর
নির্ধারিত করের কিছু
অংশ
মওকুফ
বা
হ্রাস
করার প্রক্রিয়াকে কর অবকাশ বলা
হয়।
মূল
উদ্দেশ্য:
1. করদাতার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো।
2. বিনিয়োগ, ব্যবসা ও উৎপাদনকে উৎসাহিত
করা।
3. সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দাতব্য খাতকে
সমর্থন করা।
সংক্ষেপে:
করদাতা কোনো খাত বা কার্যক্রমে বিনিয়োগ
বা ব্যয় করলে সরকার তাকে আয়কর বা সম্পদকরের নির্দিষ্ট
অংশ মওকুফ বা হ্রাস করে
সুবিধা দেয়, এটিই কর অবকাশ।
২. বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কর অবকাশ সুবিধার
খাতসমূহ ও শর্ত
(ক) ব্যক্তিগত আয়কর অবকাশ
1. প্রভিডেন্ট
ফান্ড,
গ্র্যাচুইটি
ও
জীবন
বীমা
o
শর্ত:
সরকারি বা অনুমোদিত তহবিলে
নিয়মিত মাসিক/বাৎসরিক অবদান
o
সুবিধা:
বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আয়কর অবকাশ
2. পারিবারিক
ছাড়
o
শর্ত:
স্ত্রী/পুত্র/কন্যা, পিতা-মাতার জন্য আইনসম্মত অনুমোদিত খরচ
o
সুবিধা:
নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কর অবকাশ
3. শিক্ষা
ও
স্বাস্থ্য
ব্যয়
o
শর্ত:
সরকারি অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে ব্যয়
o
সুবিধা:
সীমার মধ্যে আয়কর হ্রাস
(খ) ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ খাতের
কর অবকাশ
1. নতুন
শিল্প
ও
উৎপাদন
খাত
o
শর্ত:
অনুমোদিত শিল্প খাতে ন্যূনতম বিনিয়োগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু
o
সুবিধা:
কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আয় হ্রাস বা কর অবকাশ
2. রপ্তানি
বা
খাত
o
শর্ত:
অনুমোদিত রপ্তানি বা বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চল নিবন্ধন
o
সুবিধা:
রপ্তানি আয় আয়ের ওপর আংশিক বা সম্পূর্ণ কর
অবকাশ
3. গবেষণা
ও
উন্নয়ন
o
শর্ত:
সরকারি অনুমোদিত প্রকল্পে বিনিয়োগ
(গ) সামাজিক ও দাতব্য খাতের
কর অবকাশ
1. চ্যারিটেবল
প্রতিষ্ঠান
ও
দান
o
শর্ত:
অনুমোদিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান (এ.পি.ও,
স্কুল, হাসপাতাল, এতিমখানা)
o
সুবিধা:
দানের মূল্য বা নির্দিষ্ট সীমার
মধ্যে কর হ্রাস
2. ধর্মীয়
ও
শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
o
শর্ত:
সরকারি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান
o
সুবিধা:
দানকৃত সম্পদের উপর কর অবকাশ
(ঘ) কৃষি ও উৎপাদন খাত
1. কৃষিজমি
o
শর্ত:
উৎপাদনমূলক কৃষিকাজ প্রমাণযোগ্য
o
সুবিধা:
আয় বা সম্পদের ওপর
কর হ্রাস
2. সরকারি
অনুমোদিত
উন্নয়ন
প্রকল্প
o
শর্ত:
সরকারি অনুমোদিত সামাজিক বা অবকাঠামোগত প্রকল্পে
বিনিয়োগ
o
সুবিধা:
বিনিয়োগের উপর আংশিক বা পূর্ণ কর
অবকাশ
(ঙ) সাধারণ শর্তাবলী
1. সীমা
নির্ধারণ
o
সরকার
প্রতি বছর সর্বোচ্চ কর অবকাশের সীমা
নির্ধারণ করে।
2. নথি
ও
প্রমাণপত্র
দাখিল
বাধ্যতামূলক
o
বিনিয়োগ,
ব্যয় বা দান প্রমাণের
জন্য নথি সংযুক্ত করতে হয়।
3. সময়সীমা
প্রযোজ্য
o
কর
অবকাশ শুধুমাত্র নির্ধারিত করবর্ষ বা নির্দিষ্ট সময়ের
জন্য প্রযোজ্য।
4. অনুমোদিত
খাত
o
শুধুমাত্র
সরকার বা আইন দ্বারা
অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ/ব্যয় কর অবকাশের জন্য
গ্রহণযোগ্য।
উপসংহার
কর
অবকাশ
হলো সরকারের পক্ষ থেকে করদাতাকে প্রদত্ত সুবিধা, যা—
·
বিনিয়োগ,
দান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে
উৎসাহিত করে।
·
সরকারী
শর্ত ও সীমার মধ্যে
প্রযোজ্য।
·
করদাতার
আয়কর বা সম্পদকর কমিয়ে
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
(খ)
তুমি কী মনে কর
কর অবকাশ পদ্ধতি বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে কোন সুফল বয়ে আনবে? তোমার ধারণা ব্যাখ্যা কর বিস্তারিত আলোচনা
নিশ্চয়ই! নিচে প্রশ্নটি বিস্তারিতভাবে
বিশ্লেষণসহ
সাজানো হলো, যাতে পরীক্ষায় লিখতেও সহজ হয়।
কর অবকাশ পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে সুফল
কর
অবকাশ
(Tax Exemption / Tax Relief) হলো
সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট আয়, বিনিয়োগ, ব্যয় বা সম্পদের ওপর
কর হ্রাস বা মওকুফ করার
ব্যবস্থা। এটি শিল্প খাতের উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক প্রণোদনা।
১. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
·
কর
অবকাশ নতুন ও বিদ্যমান শিল্প
প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা
হিসেবে
কাজ
করে।
·
উদ্যোক্তারা
নতুন কারখানা, উৎপাদন ইউনিট, মেশিন ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ
করতে উৎসাহিত হন।
·
এতে
দেশের শিল্পখাতে নতুন অর্থ প্রবাহিত হয় এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ে।
২. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও প্রতিযোগিতার সুবিধা
·
কর
অবকাশের কারণে উৎপাদন
খরচ
কমে,
ফলে পণ্যের মূল্য সাশ্রয়ী হয়।
·
বাংলাদেশী
পণ্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে
প্রতিযোগিতামূলক
সুবিধা
পায়।
·
কম
খরচে উৎপাদনের ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠান লাভ বাড়াতে পারে।
৩. লাভ বৃদ্ধি ও পুনঃবিনিয়োগ
·
কর
অবকাশে প্রতিষ্ঠান লাভের অংশ বেশি রাখতে পারে।
·
বৃদ্ধি
পাওয়া লাভ পুনঃবিনিয়োগে ব্যবহার করে নতুন ইউনিট স্থাপন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন সম্প্রসারণ
করতে পারে।
·
ফলে
শিল্প খাত দীর্ঘমেয়াদে
বিকশিত
হয়।
৪. চাকরি সৃষ্টি
·
নতুন
শিল্প ও উৎপাদন ইউনিট
স্থাপনের কারণে শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
·
বিভিন্ন
স্তরের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়, যেমন মেশিন অপারেটর, প্রযুক্তিবিদ, প্রশাসনিক কর্মী।
·
এর
ফলে বেকারত্ব
হ্রাস
হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
৫. প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন
·
কর
অবকাশ উদ্যোক্তাদের নতুন
প্রযুক্তি
ও
প্রশিক্ষণে
বিনিয়োগ
করতে উৎসাহিত করে।
·
আধুনিক
প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের মান
বৃদ্ধি পায়।
·
শিল্প
খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সহায়ক।
৬. রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা
আয় বৃদ্ধি
·
বিশেষ
করে রপ্তানি খাতে কর অবকাশ দিলে
পণ্যের
খরচ
কমে,
বৈদেশিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সুবিধা হয়।
·
বাংলাদেশি
পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সাশ্রয়ী হয় এবং বৈদেশিক
মুদ্রা
আয়
বৃদ্ধি
পায়।
৭. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
·
বিনিয়োগ,
উৎপাদন, চাকরি ও রপ্তানি বৃদ্ধি
দেশের মোট
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
ত্বরান্বিত করে।
·
কর
অবকাশ শিল্প খাতে ন্যায্য সুযোগ সৃষ্টি করে এবং শিল্পায়নের গতি বাড়ায়।
৮. শর্তসাপেক্ষ বাস্তবায়ন
·
কর
অবকাশের সুফল পেতে হলে শর্তাবলী যথাযথভাবে
বাস্তবায়ন
ও
পর্যবেক্ষণ
করা জরুরি।
·
উদাহরণ:
অনুমোদিত শিল্প খাত, নির্দিষ্ট বিনিয়োগ, সময়সীমা মানা, যথাযথ নথিপত্র দাখিল।
·
শর্ত
না মানলে সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছাবে না এবং শিল্পোন্নয়নে
প্রভাব কমে।
উপসংহার
কর অবকাশ পদ্ধতি বাংলাদেশের শিল্প খাতকে উৎসাহিত করে। এটি নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন সম্প্রসারণ, চাকরি সৃষ্টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর সুফল নিশ্চিত
করতে শর্ত
অনুযায়ী
কার্যকর
বাস্তবায়ন
অপরিহার্য।
৬। (ক) কর নির্ধারণ ও কর নির্ধারণী চক্র বলতে কি বুঝ?
(খ) কর এড়ানো ও কর ফাঁকি বলতে কি বুঝ? আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ অনুসারে নিম্নের অপরাধের জন্য কি কি শাস্তি প্রযোজ্য?
(i) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করা ।
(ii) আয় গোপন করা হলে। (iii) কর পরিশোধে অক্ষমতা /ত্রুটি।
১.
কর
নির্ধারণ
(Assessment of Tax)
কর নির্ধারণ বলতে বোঝায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়,
সম্পদ বা ব্যবসা অনুযায়ী
করের পরিমাণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া।
অর্থাৎ, কর কত হবে,
কবে দিতে হবে, এবং কি ধরনের কর
দিতে হবে—সবকিছু নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে কর
নির্ধারণ
বলা হয়।
উদাহরণ:
·
একজন
ব্যবসায়ী তার আয় অনুযায়ী আয়কর দিতে হবে। সরকারের কর অফিস তার
আয় দেখে কর নির্ধারণ করে।
মূল
বিষয়সমূহ:
1. করদাতা (Taxpayer) এর তথ্য সংগ্রহ
করা।
2. আয় বা সম্পদের হিসাব
করা।
3. করের হার (Rate) অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা।
4. করদাতাকে কর প্রদানের নোটিশ
বা বিল প্রদান।
২.
কর
নির্ধারণী
চক্র
(Tax Assessment Cycle)
কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার একটি ধারা বা চক্র আছে,
যেটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এই চক্রটিকেই কর নির্ধারণী
চক্র
বলা হয়।
ধাপগুলো:
1. তথ্য
সংগ্রহ
2. আয়
ও
সম্পদের
যাচাই
3. কর
নির্ধারণ
4. নোটিশ
প্রদান
(Notice Issuance):
5. পরিশোধ
(Payment):
6.
সমাপ্তি
ও
পুনর্মূল্যায়ন
(Closure & Reassessment, যদি প্রয়োজন
হয়)
(খ) কর এড়ানো ও কর ফাঁকি
১.
কর
এড়ানো
(Tax Evasion)
পরিভাষা:
করদাতা আইনসম্মত নিয়ম মেনে কর দিতে না
চাইলে তাকে কর
এড়ানো
বলা হয়। এটি অবৈধ
ও
অপরাধজনক
কাজ,
কারণ এখানে তথ্য গোপন বা মিথ্যা উপস্থাপন
করা হয়।
উদাহরণ:
·
আয়
কম দেখানো
·
সম্পদ
বা ব্যবসার আয় লুকানো
·
খরচ
বেশি দেখানো
সহজভাবে বলা যায়, কর ফাঁকির উদ্দেশ্য
হলো কম
কর
দেওয়া
বা
কর
দিতে
না
চাওয়া।
২.
কর
ফাঁকি
(Tax Fraud / Tax Dodging)
কর ফাঁকি হলো করদাতা জাল
তথ্য
বা
নথি
ব্যবহার
করে
সরকারকে
প্রতারণা
করা,
যাতে কর কম দিতে
হয় বা কোনো কর
দিতে না হয়।
উদাহরণ:
·
জাল
বিল বা চালান তৈরি
করা
·
অবৈধ
খরচ বা ক্ষতি দেখানো
·
অন্যের
নামে সম্পদ দেখানো
মোটকথা:
·
কর
এড়ানো = কর কম দেখানোর
চেষ্টা (প্রতারণার আঙ্গিক)
·
কর
ফাঁকি = সরাসরি প্রতারণা বা জালিয়াতি
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী শাস্তি
১.
কর
এড়ানোর
জন্য
শাস্তি
(Sec. 78, Income Tax Ordinance 1984 অনুযায়ী)
·
কর
ফাঁকির জন্য নির্ধারিত কর + দণ্ড
(Penalty)
·
যদি
কর ফাঁকি গুরুতর হয় → জেল
হতে
পারে
১–২
বছর
পর্যন্ত
·
শাস্তি
হতে পারে অর্থদণ্ড বা উভয়
২.
কর
ফাঁকির
জন্য
শাস্তি
(Sec. 82, Income Tax Ordinance 1984 অনুযায়ী)
·
জাল
তথ্য, নথি বা রেকর্ড ব্যবহার
করলে → অর্থদণ্ড
·
গুরুতর
ক্ষেত্রে → জেল
২–৫
বছর
পর্যন্ত
·
পুনরায়
কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক
মূল
নিয়ম:
|
অপরাধ |
শাস্তি |
|
কর
এড়ানো (হালকা/মধ্যম) |
অর্থদণ্ড,
করের অতিরিক্ত পরিশোধ |
|
কর
এড়ানো (গুরুতর) |
১–২ বছর
জেল + অর্থদণ্ড |
|
কর
ফাঁকি/জালিয়াতি |
২–৫ বছর
জেল + অর্থদণ্ড + কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক |
১. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করা (Late Filing of Tax Return)
বিবরণ:
·
করদাতা
যখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় না।
·
এটি
সাধারণত অবহেলার কারণে হয়, কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এটি অপরাধ।
শাস্তি
(Income Tax Ordinance 1984 অনুযায়ী):
·
জরিমানা:
সাধারণত নির্ধারিত অর্থদণ্ড।
·
গুরুতর
ক্ষেত্রে: অতিরিক্ত জরিমানা + সরকারের পক্ষ থেকে করের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ।
মনে
রাখার
কৌশল:
·
“সময়মতো
দাখিল না করলে জরিমানা।”
২. আয় গোপন করা (Concealment of Income)
বিবরণ:
·
করদাতা
তার আয় বা সম্পদের কিছু
অংশ গোপন করে, যাতে কম কর দিতে
হয়।
·
এটি
সরাসরি কর
ফাঁকির
অন্তর্ভুক্ত।
শাস্তি:
·
অর্থদণ্ড:
গোপন আয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ অতিরিক্ত কর হিসেবে।
·
জেল:
গুরুতর ক্ষেত্রে ১–২ বছর
পর্যন্ত।
·
পুনঃপরিশোধ
বাধ্যতামূলক।
মনে
রাখার
কৌশল:
·
“লুকানো
আয় → জেল + জরিমানা।”
৩. কর পরিশোধে অক্ষমতা বা ত্রুটি (Failure or Mistake in Payment)
বিবরণ:
·
করদাতা
কর প্রদানে ত্রুটি করে বা অর্থ প্রদান
করতে অক্ষম হয়।
·
এই
ক্ষেত্রে সরাসরি দোষ Intent না থাকলেও শাস্তি
প্রযোজ্য
হতে
পারে।
শাস্তি:
·
অর্থদণ্ড:
সাধারণভাবে করের সাথে অতিরিক্ত জরিমানা।
·
যদি
জাল তথ্য বা প্রতারণা লক্ষ্য
করা যায় → জেল ২–৫ বছর
পর্যন্ত।
·
কর
পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
মূল্য সংযোজন কর (VAT)-এর সুবিধা ও অসুবিধা
ভূমিকা:
মূল্য
সংযোজন
কর
(VAT) হলো
এমন
একটি
পরোক্ষ
কর,
যা
পণ্য
বা
সেবার
উৎপাদন
ও
বিতরণের প্রতিটি ধাপে
সংযোজিত মূল্যের ওপর
আরোপ
করা
হয়।
নিচে
VAT-এর
প্রধান
সুবিধা
ও
অসুবিধা আলোচনা
করা
হলো।
VAT-এর সুবিধা
- রাজস্ব
বৃদ্ধি: সরকার সহজে ও স্থায়ীভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে।
- কর
ফাঁকি কমে: প্রতিটি ধাপে কর দেওয়ায়
হিসাব স্বচ্ছ থাকে, ফাঁকি দেওয়া কঠিন হয়।
- কর
ব্যবস্থার সরলতা: একক হারে কর আরোপ করলে কর কাঠামো সহজ হয়।
- উৎপাদনে
উৎসাহ: ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধার ফলে উৎপাদকরা
উৎসাহিত হয়।
- বাজারে
স্বচ্ছতা: হিসাবরক্ষণ
ও
নথিপত্রের মান উন্নত হয়।
- রপ্তানিতে
সহায়ক: রপ্তানির
ক্ষেত্রে শূন্যহার/রিফান্ড সুবিধা থাকায় প্রতিযোগিতা বাড়ে।
VAT-এর অসুবিধা
- ভোক্তার
ওপর চাপ: পণ্যের দাম বাড়তে পারে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয়
পণ্যে।
- দরিদ্রদের
ওপর প্রভাব: আয়ের তুলনায় করের বোঝা দরিদ্রদের
জন্য বেশি হয় (রিগ্রেসিভ প্রভাব)।
- প্রশাসনিক
জটিলতা: হিসাবরক্ষণ
ও
রিটার্ন দাখিল ছোট ব্যবসার জন্য কঠিন হতে পারে।
- ব্যবসায়
ব্যয় বৃদ্ধি: সফটওয়্যার,
হিসাবরক্ষক ইত্যাদির খরচ বাড়ে।
- ভুল
প্রয়োগের ঝুঁকি: হার ও বিধি জটিল হলে বিভ্রান্তি ও
অনিয়ম হতে পারে।
উপসংহার:
VAT একটি
কার্যকর ও
আধুনিক
করব্যবস্থা হলেও
সঠিক
হার
নির্ধারণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে
ছাড়
এবং
সহজ
প্রশাসনের মাধ্যমে এর
অসুবিধা কমিয়ে
সুবিধা
সর্বাধিক করা
যায়।
No comments