একটি মামলার বিচার্য বিষয় বলতে তুমি কি বুঝ? এর প্রকারভেদ আলোচনা কর। কোন কোন বিষয়ের ভিত্তিতে একটি মামলার বিচার্য বিষয় প্রণীত হয়? বিচার্য বিষয় সংশোধন ও বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা বর্ণনা কর।
একটি মামলার বিচার্য বিষয় বলতে তুমি কি বুঝ? এর প্রকারভেদ আলোচনা কর। কোন কোন
বিষয়ের ভিত্তিতে একটি মামলার বিচার্য বিষয় প্রণীত হয়? বিচার্য বিষয় সংশোধন ও বাদ দেয়ার
ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা বর্ণনা কর।
একটি মামলার বিচার্য বিষয়
বলতে কী বুঝি?
সংজ্ঞা:
মামলার বিচার্য বিষয় (Cause of Action /
Subject Matter of Suit) হলো
মামলা দায়ের করার জন্য যে মূল কারণ বা ভিত্তি আছে, যা আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।সহজভাবে: এটি হলো মামলার মূল বিষয় বা ভিত্তি, যা দেখায় কেন
মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত কেন এটি বিবেচনা করবে।
উদাহরণ:
1. টাকা আদায়ের মামলা → মামলা দায়েরের বিচার্য বিষয় হলো ঋণ বা চুক্তি
লঙ্ঘন।
2. জমি ফেরতের মামলা → মামলা দায়েরের বিচার্য বিষয় হলো মালিকানা হস্তান্তরের অধিকার।
বিচার্য বিষয়ের প্রকারভেদ
বিচার্য বিষয় (Cause of Action /
Subject Matter of Suit) মূলত
দুটি প্রধান প্রকারে ভাগ করা হয়:
মূল (Principal
/ Essential Cause of Action)
সংজ্ঞা:
মামলা চালানোর জন্য যে মূল কারণ বা ভিত্তি রয়েছে, সেটি হলো মূল বিচার্য বিষয়।এটি মামলার ভিত্তি এবং আদালত প্রায়শই এর ওপর সিদ্ধান্ত
নেয়।
লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য:
1. মামলার প্রধান দাবির সাথে সম্পর্কিত।
2. আদালতের রায় মূলত এই কারণের ওপর
নির্ভর করে।
3. বাদ দিলে বা পরিবর্তন করলে
মামলা কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।
উদাহরণ:
·
চুক্তি
লঙ্ঘনের মামলা → চুক্তি লঙ্ঘন হল মূল কারণ
·
জমি
ফেরতের মামলা → মালিকানা অধিকার হলো মূল কারণ
·
ঋণ
আদায়ের মামলা → ঋণ প্রদান না
হওয়া মূল কারণ
উপ-বিচার্য
সংজ্ঞা:মামলা সম্পর্কিত সহায়ক বা অতিরিক্ত কারণ, যা মূল মামলা
সমাধান করতে সহায়ক।এটি মুল মামলার সাথে যুক্ত, কিন্তু একা standalone মামলা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য:
1. মূল মামলা সমাধানে সহায়ক।
2. প্রায়শই সুদের হিসাব, ক্ষতিপূরণ, আদালতের খরচ আদায় ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
3. আদালত প্রধান রায় দেওয়ার সময় উপ-বিষয়ও সমাধান
করতে পারে।
উদাহরণ:
·
ঋণ
আদায়ের মামলা → ঋণ + সুদ + আদালতের খরচ
·
ক্ষতিপূরণ
মামলা → ক্ষতির মূল পরিমাণ + শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ
কোন
কোন বিষয়ের ভিত্তিতে একটি মামলার বিচার্য বিষয় প্রণীত হয়
ঠিক আছে। আমি প্রশ্নটি বিস্তারিতভাবে, পরীক্ষার জন্য উপযোগীভাবে ব্যাখ্যা করছি।
মামলার
বিচার্য বিষয় প্রণীত হওয়ার ভিত্তি
মামলার বিচার্য বিষয় (Cause of Action) হলো মামলার মূল কারণ বা ভিত্তি, যা দেখায় কেন
মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি সাধারণত নিচের বিষয়গুলির ভিত্তিতে প্রণীত হয়।
(ক) আইনি অধিকার বা আইন লঙ্ঘন
মামলার বিচার্য বিষয় প্রায়শই আইনি অধিকার লঙ্ঘন বা আইনগত দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে তৈরি হয়।যদি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা আইন
অনুযায়ী
অন্যের
অধিকার
লঙ্ঘন
করে,
তখন সেই লঙ্ঘনই বিচার্য বিষয়ের ভিত্তি হয়।
উদাহরণ:
·
চুক্তি
লঙ্ঘন → ঋণ আদায়ের মামলা
·
সম্পত্তি
অধিকার লঙ্ঘন → জমি ফেরত দাবি
·
শ্রম
আইন লঙ্ঘন → ক্ষতিপূরণ দাবি
(খ) বাস্তব ঘটনা / ঘটনার শৃঙ্খল
·
মামলার
জন্য একটি ঘটনার ক্রম বা শৃঙ্খল থাকা আবশ্যক, যা দাবির ভিত্তি
তৈরি করে।
·
এটি
দেখায় কেন, কবে এবং কীভাবে মামলার প্রয়োজন হয়েছে।
উদাহরণ:
·
বিবাদী
নির্দিষ্ট তারিখে ঋণ পরিশোধ করেনি
→ ঋণ আদায়ের মামলা
·
কোনো
ব্যক্তি সম্পত্তি দখল করেছে → জমি ফেরতের মামলা
(গ) দাবির প্রকৃতি ও বিষয়
·
মামলার
বিচার্য বিষয় প্রণয়নের ক্ষেত্রে দাবির ধরন, পরিমাণ বা প্রকৃতি বিবেচনা করা হয়।
·
দাবিটি
অর্থনৈতিক, সামাজিক, সম্পত্তি বা জনস্বার্থ সংক্রান্ত
হতে পারে।
উদাহরণ:
·
ক্ষতিপূরণ
দাবি → দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতি
·
টাকা
আদায় → ঋণ বা চুক্তি
লঙ্ঘন
·
পরিবেশ
মামলা → নদী বা বন ধ্বংসের
কারণে জনস্বার্থ ক্ষতি
(ঘ) আইনি প্রয়োজনীয়তা ও সময়সীমা
·
মামলার
বিচার্য বিষয় প্রণীত হয় আইন অনুযায়ী, যেমন:
o
মামলা
দায়েরের সময়সীমা (Limitation) মেনে চলা
o
প্রয়োজনীয়
নোটিশ বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
সম্পন্ন করা
সংক্ষেপে
মামলার বিচার্য বিষয় প্রণীত হয় মূলত তিনটি ভিত্তিতে:
1. আইনি অধিকার লঙ্ঘন → কোন আইন বা অধিকার লঙ্ঘন
হয়েছে
2. বাস্তব ঘটনা / ঘটনার শৃঙ্খল → কখন, কীভাবে ঘটনা ঘটেছে
3. দাবির প্রকৃতি ও বিষয় → অর্থনৈতিক, সম্পত্তি, সামাজিক বা জনস্বার্থ সম্পর্কিত
বিচার্য
বিষয় সংশোধন ও বাদ দেয়ার
ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা বর্ণনা কর।
বিচার্য বিষয় সংশোধন (Amendment of Cause
of Action)
(ক) সংজ্ঞা
মামলার চলাকালীন সময়ে আদালত মামলার বিচার্য বিষয় বা দাবির কিছু অংশ পরিবর্তন বা সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে।সাধারণত এটি মামলা সমাধানে প্রয়োজনীয় এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য করা হয়।
(খ) আদালতের ক্ষমতা
1. আদালত যদি মনে করে সংশোধন মামলা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়, অনুমতি দিতে পারে।
2. সংশোধন করার সময় প্রতিপক্ষের ন্যায্য সুযোগ ক্ষুণ্ণ হতে পারবে না, অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দিতে
হবে।
3. সংশোধনের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
o
মূল
দাবি বা পরিমাণ বৃদ্ধি/হ্রাস
o
সুদের
হার সংশোধন
o
নতুন
বা অতিরিক্ত ঘটনা যুক্ত করা
উদাহরণ:
·
ঋণ
আদায়ের মামলা → মামলার পরিমাণে সুদ বা জরিমানা যুক্ত
করা
·
ক্ষতিপূরণ
মামলা → ক্ষতির পরিমাণ পরিবর্তন
বিচার্য
বিষয় বাদ দেয়া (Striking out /
Rejection of Cause of Action)
(ক) সংজ্ঞা
·
আদালত
যদি মনে করে কোনো অংশ বা পুরো মামলা বিচার্য নয়, তবে তা বাদ দিতে
পারে।
·
অর্থাৎ,
মামলা গ্রহণযোগ্য না হলে আদালত
সেই মামলা বা বিষয়টি বাদ
দিতে পারে।
(খ) আদালতের ক্ষমতা ও শর্ত
1. বাধ্যতামূলক না হওয়া মামলা
o
মামলা
আইনি বা বাস্তব কারণে
গ্রহণযোগ্য নয় → বাদ দিতে পারে।
2. সময়সীমা অতিক্রান্ত
o
Limitation Act অনুযায়ী
মামলা দায়েরের সময় শেষ হয়ে গেলে
3. আদালতের ক্ষমতার বাইরে থাকা
o
মামলা
আদালতের এখতিয়ারের বাইরে হলে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
4. প্রতিরক্ষা ও ন্যায্যতা
o
আদালত
নিশ্চিত করে যে, বাদ দেওয়া হলেও প্রতিপক্ষের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না।
উদাহরণ:
·
সময়সীমা
অতিক্রান্ত হওয়া মামলার বিচার্য বিষয় → বাদ
·
মামলা
আদালতের এখতিয়ারের বাইরে → বাদ
No comments