ইকুইটি আইন ও হিন্দু আইন সংক্ষিপ্ত সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর এল এল বি পরীক্ষা-২০২৪
(ক) ন্যায়পরায়ণতার নীতি বা ম্যাক্সিম সমূহ
কীভাবে উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ
করে
(খ) নিমোক্ত নীতি বা ম্যাক্সিমসমূহ উদাহরণ
সমূহ ব্যাখ্যা কর
(i) সমতাই ন্যায়পরতা
(ii)
ন্যায়পরতা আইন কে অনুসরন করে।
প্রশ্ন:
(ক)
ন্যায়পরায়ণতার
নীতি
বা
ম্যাক্সিম
সমূহ
কীভাবে
উৎপত্তি
ও
বিকাশ
লাভ
করে?
বিস্তারিত
আলোচনা
করুন।
ভূমিকা
ন্যায়পরায়ণতার বা ইকুইটি
(Equity) হল
একটি আইনি সিস্টেম, যা কমন
ল
(Common Law)-এর
বিরুদ্ধে ন্যায় ও সুবিচারের ভিত্তিতে
তৈরি হয়েছে। ন্যায়পরায়ণতার
নীতি
বা ম্যাক্সিম
সমূহ
(Maxims of Equity) মূলত
সেই সাধারণ বিধানসমূহ, যা ইকুইটি
আইন
দ্বারা পরিচালিত হয়। এগুলি কমন
ল-এর শাসনকে সংশোধন এবং ন্যায়বিচারের
উন্নয়ন
ঘটানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইকুইটি (Equity) হলো আইনপ্রণেতা বা আদালতের দৃষ্টিকোণ
থেকে সুস্থ
নৈতিকতার
ভিত্তিতে যে বিচার প্রক্রিয়া
পরিচালিত হয়, তা যেন কমন
ল-এর যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে,
তা পরিপূরক হতে পারে এবং ঐতিহ্যবাহী কোর্টের সিদ্ধান্তগুলোকে ন্যায়পরায়ণতা বা নৈতিকতা দ্বারা
সঙ্গতিপূর্ণ করা যায়। এই নীতির মধ্যে
সামাজিক
ন্যায়,
ন্যায়বিচার,
এবং বিশ্বাসের
প্রতি
সৎ
থাকার
বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত।
ন্যায়পরায়ণতার নীতি বা ম্যাক্সিম সমূহের
উৎপত্তি এবং বিকাশ
১. ইকুইটির উৎপত্তি
ইকুইটি ধারণাটি মূলত ইংল্যান্ডের কমন
ল
আদালতগুলোর
সীমাবদ্ধতা এবং জটিলতা থেকে উদ্ভূত।
·
ইংল্যান্ডের
কমন
ল
আদালতগুলো প্রধানত আইন এবং শরীরী
দিক
বিবেচনায় রাখে, যা অনেক সময়
সামাজিক বা নৈতিক দৃষ্টিতে
ন্যায়সঙ্গত নয়।
·
কমন
ল-এর বিধিগুলি শুধু আইনি
অধিকার
এবং প্রমাণসমূহের
ভিত্তিতে
সিদ্ধান্ত দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক সময় ইন্সটিটিউশানাল
ও
সামাজিক
ন্যায়
রক্ষা হয় না।
·
এই
পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে, রাজা বা বিশেষ
চ্যান্সেলর
আদালত
সৃষ্টি হয়। চ্যান্সেলরের আদালত কমন ল আদালতগুলির সিদ্ধান্তের
পরিপূরক হিসেবে কাজ করত এবং ন্যায়বিচারের
(Justice) প্রতি
বেশি মনোযোগ দিত। এই ধারাটিই ইকুইটি আইন বা ন্যায়পরায়ণতার
আইন
হিসেবে বিকশিত হয়।
২. ইকুইটির বিকাশ এবং ম্যাক্সিমের উদ্ভব
যেহেতু ইকুইটি
আদালত
মূলত ন্যায়বিচার এবং সামাজিক
ন্যায়
রক্ষা করতে চেয়েছিল, তাই এর মাধ্যমে কিছু
নতুন
নীতি
গড়ে উঠে। এ নীতিগুলোই ম্যাক্সিমস অফ
ইকুইটি
(Maxims of Equity) হিসেবে
পরিচিতি লাভ করে।
·
নির্দিষ্ট
সিদ্ধান্তের
পরিবর্তে
নীতিমালা:
কমন ল আদালত যে
নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করত, ইকুইটি আদালত সেগুলির পরিবর্তে কিছু সাধারিত নীতি বা ম্যাক্সিম প্রণয়ন
করে।
·
ম্যাক্সিমগুলোর
মধ্যে আইনগত
সঠিকতা,
ন্যায়, বিশ্বাসের
প্রতি
সৎ
থাকার
নীতি
ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৩. ইকুইটির মৌলিক নীতি বা ম্যাক্সিম সমূহের উদ্ভব
ইকুইটি আদালত, বিশ্বস্ততা এবং ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে এমন কিছু মৌলিক ম্যাক্সিম বা নীতির বিকাশ
ঘটায় যা এর বিচার
ব্যবস্থাকে পূর্ণতা দেয়। এই ম্যাক্সিমগুলোর মধ্য
দিয়ে মূলত সামাজিক
ন্যায়,
বিশ্বাসের
সুরক্ষা,
এবং মর্যাদা
রক্ষা
করা হয়।
এখানে কিছু মৌলিক ম্যাক্সিম উল্লেখ করা হলো:
1. "He
who comes to equity must come with clean hands"
o
যে
ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটি আদালতের
শরণাপন্ন হতে চায়, তাকে অবশ্যই সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার
সাথে
তার দাবি উপস্থাপন করতে হবে।
o
অর্থাৎ,
কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বেআইনি বা অসত আচরণে
লিপ্ত থাকে, তাহলে সে ইকুইটির
অধিকারী
হতে
পারে
না।
2. "Equity
will not suffer a wrong to be without a remedy"
o
ইকুইটি
এমন একটি আইনি
সিস্টেম,
যা অন্যায় বা অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রদান করে।
o
এখানে
আদালত ঐতিহ্যবাহী
আইনগত
সীমাবদ্ধতার
বাইরে গিয়ে ন্যায়বিচার প্রদান করতে পারে।
3. "Equity
follows the law"
o
ইকুইটি
সাধারণত কমন
ল
(Common Law) এর
অনুসরণ করলেও, এটি কিছু
ক্ষেত্রে
কমন
ল
এর
সীমাবদ্ধতা
কাটিয়ে
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
o
এটি
একটি সমন্বয় নীতি যা আইন এবং
ন্যায়বিচারকে একত্রে সম্পাদন করে।
4. "Equity
looks to the intent rather than the form"
o
ইকুইটি
দ্বারাবান্ধব
(technicalities)-এর দিকে না তাকিয়ে বিশ্বস্ততা
ও
উদ্দেশ্যের
দিকে
বেশি নজর দেয়।
o
অর্থাৎ,
যে কোনও আইনগত সঙ্কটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট
ফরম
বা প্রকৃতি ছাড়াও, মূল উদ্দেশ্য এবং ন্যায়কে গুরুত্ব দেয়।
5. "Where
there is equal equity, the law will prevail"
o
যদি
কোনো ইকুইটেবল রিলিফ একই
স্তরের
আইনি
অধিকার
দ্বারা বিরোধিত হয়, তবে আইনি অধিকারকে অগ্রাধিকার
দেয়া
হবে।
o
এই
নীতিটি কমন
ল
এর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যাতে আইনি
ক্ষমতা
কখনও ন্যায়বিচারের প্রতিপাদ্য হতে না পারে।
ন্যায়পরায়ণতার নীতির বিকাশ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট
ইকুইটি (Equity) এবং এর ম্যাক্সিমসমূহের উন্নয়ন বর্তমানে
একটি ব্যাপক
আইনি
এবং সামাজিক
প্রেক্ষাপটে
প্রতিফলিত হয়। আধুনিক আইনে, কমন ল এবং ইকুইটি
আদালত একত্রিত হয়ে একক
আদালত
ব্যবস্থা
গঠন করেছে, যেমন ইউকে এবং যুক্তরাষ্ট্র-এ দেখা যায়।
কিন্তু, বর্তমানেও ইকুইটি ও ম্যাক্সিমসমূহ আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
·
বিচারের
ন্যায়পরায়ণতা:
আধুনিক সমাজে, ইকুইটি আদালত এখনও সামাজিক ন্যায়, পারিবারিক অধিকার এবং অল্পসংখ্যক ক্ষুদ্র জনগণের জন্য আইনি পরামর্শ দেয়।
·
আইন
এবং
ইকুইটির
সমন্বয়:
আজকাল, আইনগত সিস্টেমে, ইকুইটি আইনের
শাসন
নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচারের জন্য বিশেষ
প্রতিকার
নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
উপসংহার
ইকুইটির ম্যাক্সিম বা ন্যায়পরায়ণতার
নীতি
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা কমন
ল-এর সীমাবদ্ধতা দূর
করে এবং ন্যায়বিচারের
উন্নয়ন
ঘটায়। এই নীতিগুলোর মাধ্যমে
বিশ্বাসের
প্রতি
সম্মান,
বিশ্বস্ততা,
এবং ন্যায়বিচারের
প্রতিষ্ঠা
করা হয়। বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় ইকুইটির ম্যাক্সিমসমূহ কমন
ল
এর সম্পূরক হিসেবে কাজ করছে এবং আইন
ও
ন্যায়
এর মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করছে।
সমতাই ন্যায়পরতা
সমতাই
ন্যায়পরতা
হলো ইকুইটির একটি মূল নীতি বা ম্যাক্সিম। এর
অর্থ হলো:
“যা
করা
উচিত,
তা
ইতিমধ্যেই
করা
হয়েছে
বলে
ন্যায়বিচার
বিবেচনা
করা
হয়।”এই নীতি আইনগত
ফর্মালিটি
বা
আনুষ্ঠানিকতার
চেয়ে
ন্যায়
ও
উদ্দেশ্যকে
প্রাধান্য
দেয়।আদালত এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে যা
ন্যায়সঙ্গত
বা
চুক্তি
অনুযায়ী
হওয়া
উচিত,
তা
ইতিমধ্যেই
হয়েছে
বলে
গণ্য
করা
হয়।মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার
ও
সৎ
প্রতিকার
নিশ্চিত
করা।
২. উৎপত্তি
এই
নীতি উদ্ভূত হয়েছে ইংল্যান্ডের চ্যান্সেলর
আদালত
থেকে।কমন ল আদালত কঠোরভাবে
আইন ও ফরমালিটি অনুসরণ
করলেও, অনেক সময় সত্যিকার
ন্যায়বিচার
সম্ভব
হতো
না।সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতে ইকুইটি আদালত ফর্মালিটি
ছাড়াই
চুক্তি,
দায়
বা
হস্তান্তরের
উদ্দেশ্য
অনুযায়ী
বিচার
করতে
শুরু
করে।
৩. প্রয়োগ
এই
নীতি সাধারণত চুক্তি,
সম্পত্তি
হস্তান্তর,
উত্তরাধিকার,
ঋণ
বা
দায়
সংক্রান্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।আদালত ফর্মাল
দেরি
বা
কাগজপত্রের
অভাবে
ন্যায়বিচার
বন্ধ
না
করে,
সঠিক
প্রতিকার
প্রদান
করে।
৪. উদাহরণ
1. চুক্তি
অনুযায়ী
হস্তান্তর:
o
A, B-কে
তার জমি বিক্রি করার লিখিত চুক্তি করেছে। কিন্তু হস্তান্তর কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়নি।আদালত
সমতাই
ন্যায়পরতা
অনুযায়ী
বলবে:
“জমি ইতিমধ্যেই B-এর হয়েছে।”অর্থাৎ,
ফরমাল হস্তান্তর না হলেও আদালত
চূড়ান্ত
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করবে।
2. উত্তরাধিকারী
ক্ষেত্রে:
o
একজন
পিতা তার ছেলে C-কে জমি দেবে
বলে চুক্তি করেছেন। কিন্তু পিতার মৃত্যু হওয়ার আগে দস্তাবেজে
হস্তান্তর
হয়নি।ইকুইটি আদালত বলবে: “সমতাই ন্যায়পরতা অনুযায়ী জমি ইতিমধ্যেই C-এর।”
৫. মূল বৈশিষ্ট্য
1. ফর্মালিটি
অগ্রাহ্য:
আদালত কেবল উদ্দেশ্য ও ন্যায় বিবেচনা
করে।
2. ন্যায়
ও
সততা
প্রধান্য
পায়:
যা করা উচিত তা ইতিমধ্যেই হয়েছে
বলে গণ্য করা হয়।
3. প্রতিকার
প্রদান:
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত বিশেষ
প্রতিকার
(specific relief) দিতে
পারে।
৬. উপসংহার
সমতাই
ন্যায়পরতা
ইকুইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা আইনের
ফরমাল
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠা
করে।এটি চুক্তি,
হস্তান্তর
বা
দায়
সংক্রান্ত
মামলায়
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।আদালত ফর্মাল
দেরি
বা
কাগজপত্রে
অসম্পূর্ণতা
থাকলেও, ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূর্ণ করতে এই নীতিকে প্রয়োগ
করে।
ন্যায়পরায়ণতা আইনকে অনুসরন করে
উত্তর:
“Equity follows the law”
বা ন্যায়পরায়ণতা
আইনকে
অনুসরন
করে
হলো ইকুইটির একটি মূল নীতি বা ম্যাক্সিম।এর অর্থ
হলো: ইকুইটি
আদালত
সাধারণ
আইন
বা
কমন
ল-এর
নিয়ম
অনুসরণ
করে।তবে প্রয়োজনে, আইনের
সীমাবদ্ধতা
বা
ফাঁক
থাকলে ইকুইটি আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ
প্রতিকার
দিতে পারে।অর্থাৎ, ইকুইটি আইনের
শাসনকে
অগ্রাহ্য
করে
না,
বরং আইনের
সীমানার
মধ্যে
থেকে
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করে।
২. উৎপত্তি
এই নীতি ইংল্যান্ডের চ্যান্সেলর
আদালত
থেকে উদ্ভূত।ইকুইটি আদালত তখন কমন
ল
আদালতের
সীমাবদ্ধতা
কাটিয়ে
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করত।এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইন
ও
ন্যায়ের
মধ্যে
সমন্বয়
স্থাপন
করা।
৩. প্রয়োগ
·
এই
নীতি প্রযোজ্য হয় এমন ক্ষেত্রে যেখানে কমন
ল-এর
নিয়ম
ও
ইকুইটির
ন্যায়বিচারের
চাহিদা
একসাথে থাকে।উদাহরণস্বরূপ: চুক্তি বা দায় সম্পর্কিত
মামলা, যেখানে আইনগত
শর্তাবলী
পূরণ
হয়নি। ইকুইটি আদালত
আইনের
শৃঙ্খলা
অনুসরণ
করে,
তবে ন্যায়বিচারের
জন্য
প্রতিকার
প্রদান
করে।
৪. উদাহরণ
1. চুক্তি
ফর্মাল
নয়,
তবে
ন্যায়বিচারের
দাবি:
A এবং
B এর মধ্যে চুক্তি হয়েছে, কিন্তু তা ফর্মালভাবে
বৈধ
নয়,
তাই কমন ল অনুযায়ী A-এর
অধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়। ইকুইটি আদালত বলতে পারে: “আমরা আইন অনুসরণ করি, তবে ন্যায়বিচারের জন্য A-কে প্রতিকার প্রদান
করা হবে।”
2. প্রত্যাহার
(Rescission of contract) বা
প্রতারণা:একজন ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। কমন ল অনুযায়ী চুক্তি
বৈধ।ইকুইটি আদালত চুক্তি বাতিলের আদেশ দিতে পারে যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়।
৫. মূল বৈশিষ্ট্য
1. আইনের
শাসন
মানা
হয়:
ইকুইটি আদালত কমন ল-এর নিয়ম
অনুসরণ করে।
2. ন্যায়বিচারের
জন্য
বিশেষ
প্রতিকার:
আইনের সীমাবদ্ধতা থাকলে ইকুইটি ন্যায়বিচারকে
অগ্রাধিকার
দেয়।
3. আইন
ও
ন্যায়ের
সমন্বয়:
এটি নিশ্চিত করে যে, আইনকেই
পুরোপুরি
উপেক্ষা
না
করে,
ন্যায়বিচার দেওয়া হচ্ছে।
৬. উপসংহার
“Equity follows the law” নীতি ইকুইটির
গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।এটি আইন
ও
ন্যায়ের
মধ্যে
সুষম
সমন্বয়
স্থাপন করে।আদালত কমন
ল
মান্য
করে,
তবে প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের
জন্য
বিশেষ
প্রতিকার
প্রদান করে।এই নীতি নিশ্চিত করে যে, আইন
শৃঙ্খলা
বজায়
থাকে
এবং
ন্যায়বিচারও
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
‘‘ন্যায়পরতা এখতিয়ার’এবং আইন ও ন্যায়পরতা একত্রী করন ব্যাখ্যা কর। বাংলাদেশের আদালত সমূহে ন্যায়পরতা কী ভাবে কার্যকর হয় ব্যাখ্যা কর। ন্যায়পরনতার অধিকাংশ মূল নীতিই বাংলাদেশের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ আইনে সন্নিবেশিত হইয়াছে - আপনি কী একমত ব্যাখ্যা করুন।
‘‘ন্যায়পরতা এখতিয়ার’এবং আইন ও ন্যায়পরতা একত্রী করন ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকা:
ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটি আইন
হলো আইনশাস্ত্রে এমন একটি শাখা, যা কমন
লের
কঠোর
নিয়ম
এবং
সীমাবদ্ধতার
বাইরে
গিয়ে
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করে।
ইকুইটি আদালতের ক্ষমতা
বা
এখতিয়ার
হলো “ন্যায়পরায়ণতার
এখতিয়ার”
(Equitable Jurisdiction), যার
মাধ্যমে তারা যেখানে
সাধারণ
আইন
যথেষ্ট
প্রতিকার
দিতে
পারবে
না,
সেখানে
বিশেষ
ন্যায়বিচার
এবং
প্রতিকার
প্রদান
করতে
পারে।
১. ন্যায়পরায়ণতার এখতিয়ার (Equitable Jurisdiction)
ইকুইটি আদালতের এখতিয়ার হলো কমন
লের
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
প্রদানের
ক্ষমতা।এর মাধ্যমে আদালত
বিশেষ
প্রতিকার
(specific performance), injunction, rescission, rectification ইত্যাদি প্রদান করতে পারে।অর্থাৎ, যেখানে
সাধারণ
আইন
(common law) ক্ষতিপূরণ
দিতে
ব্যর্থ,
সেখানে
ইকুইটি
আদালত
ন্যায়
নিশ্চিত
করে।
উদাহরণ:
A চুক্তি অনুযায়ী B-এর জমি কিনেছে
কিন্তু ফর্মাল হস্তান্তর হয়নি। কমন ল অনুযায়ী B-এর
অধিকার প্রতিষ্ঠিত নয়।
·
ইকুইটি
আদালত ন্যায়পরায়ণ
প্রতিকার
প্রদান
করে
B-এর কাছে জমি হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।
২. আইন ও ন্যায়পরায়ণতার একত্রিকরণ (Fusion of Law and Equity)
পূর্বে কমন
ল
এবং
ইকুইটি
আদালত
পৃথক
ছিল,
তাই একই মামলায় দুটি আদালতে যেতে হতো।বর্তমানে আইন
ও
ন্যায়পরায়ণতা
একত্রিত
হয়েছে,
যার ফলে একই
আদালতে
আইনগত
এবং
ন্যায়বিচারগত
প্রতিকার
পাওয়া
সম্ভব।এটি নিশ্চিত করে যে, আদালত দ্রুত,
পূর্ণাঙ্গ
ও
ন্যায়সঙ্গত
প্রতিকার
প্রদান করতে পারে।
উদাহরণ:
·
A চুক্তি
অনুযায়ী জমি কিনেছে কিন্তু ফর্মাল হস্তান্তর হয়নি।
·
এখন
একই আদালত আইন
অনুযায়ী
ক্ষতিপূরণ
এবং
ন্যায়বিচার
অনুযায়ী
বিশেষ
প্রতিকার
(specific performance) উভয়
প্রদান করতে পারে।
৩. সুবিধা
1. দ্রুত ন্যায়বিচার এবং প্রতিকার পাওয়া যায়।
2. আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
3. আইন ও ন্যায়ের মধ্যে
সমন্বয় নিশ্চিত হয়।
4. একই মামলায় আইনগত
এবং
ন্যায়বিচারগত
প্রতিকার
পাওয়া সম্ভব।
উপসংহার:
ন্যায়পরায়ণতার
এখতিয়ার
ইকুইটি আদালতের ক্ষমতা, যা কমন ল
এর সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।আইন
ও
ন্যায়পরায়ণতার
একত্রিকরণ
আধুনিক আদালতকে ক্ষমতাবান করেছে যাতে একই
স্থানে
আইনগত
এবং
ন্যায়বিচারগত
প্রতিকার
প্রদান সম্ভব হয়।এটি দ্রুত,
পূর্ণাঙ্গ
এবং
ন্যায়সঙ্গত
প্রতিকার
নিশ্চিত
করার
মূল
ভিত্তি।
বাংলাদেশের
আদালত
সমূহে
ন্যায়পরায়ণতা
কীভাবে
কার্যকর
হয়
ব্যাখ্যা
করুন।
উত্তর:
১. ভূমিকা
ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটি হলো
এমন একটি শাখা, যা আইনের
ফর্মাল
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করে।
বাংলাদেশের আদালতসমূহে ন্যায়পরায়ণতা বিশেষত
চুক্তি,
সম্পত্তি
হস্তান্তর,
উত্তরাধিকার
এবং
দায়
সংক্রান্ত
ক্ষেত্রে
কার্যকর
হয়।
২. কার্যকরির মূল উপায়
(ক) বিশেষ প্রতিকার প্রদান
·
আদালত
কমন ল এর ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে ন্যায়পরায়ণ বিশেষ প্রতিকার দিতে পারে।
·
উদাহরণ:
1. Specific
Performance (নির্দিষ্ট
কার্য
সম্পাদন):
চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি বা পণ্য হস্তান্তরের
আদেশ।
2. Injunction
(প্রতিরোধক
আদেশ):
অন্য কাউকে কিছু করা বা বন্ধ করার
নির্দেশ।
3. Rescission
(চুক্তি
বাতিল):
প্রতারণা বা চাপের কারণে
চুক্তি বাতিল করা।
(খ) উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করা
কমন
ল আদালত ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতি পূরণের
প্রয়োজনীয় প্রতিকার দিতে পারলেও, ইকুইটি আদালত ন্যায়
এবং
সৎ
উদ্দেশ্য
অনুযায়ী
প্রতিকার
নিশ্চিত করে।উদাহরণ: A চুক্তি অনুযায়ী জমি কিনেছে, ফর্মাল হস্তান্তর হয়নি। আদালত B-এর কাছে জমি
হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।
(গ) আইন ও ন্যায়ের সমন্বয়
বাংলাদেশে
আদালতসমূহ আইন
(Common Law) এবং
ন্যায়
(Equity) উভয়কে
একত্রিতভাবে
কার্যকর
করে।একই মামলায় আইনগত
প্রতিকার
এবং
ন্যায়বিচারগত
প্রতিকার
একসাথে দেওয়া হয়।
(ঘ) সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের মূলনীতি প্রয়োগ
·
আদালত
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্যাটিসফ্যাকশন,
সততা,
আস্থা
ও
ন্যায়ের
মানদণ্ড
ব্যবহার করে।উদাহরণ: ট্রাস্ট বা ফিদুশিয়ারি দায়ের
ক্ষেত্রে, ট্রাস্টি যদি দায়িত্ব পালন না করে, আদালত
ট্রাস্টিকে দায়ী ঘোষণা করে এবং স্বত্ত্বভোগীর অধিকার পুনরুদ্ধার করে।
৩. উদাহরণ
1. চুক্তি
হস্তান্তর:
একজন ব্যক্তি চুক্তি অনুযায়ী জমি কিনেছে, কিন্তু হস্তান্তর হয়নি।আদালত Specific
Performance এর
মাধ্যমে ন্যায় নিশ্চিত করে।
2. ইনজাঙ্কশন:
কেউ অন্যের সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক স্বার্থ
ক্ষুণ্ণ করছে।আদালত Injunction
জারি করে ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
3. ট্রাস্ট
সংক্রান্ত
মামলা:
ট্রাস্টি নিজের দায়িত্ব পালন করছে না।আদালত ট্রাস্টিকে দায়ী ঘোষণা করে এবং স্বত্ত্বভোগীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়।
৪. উপসংহার
বাংলাদেশের আদালতসমূহে ন্যায়পরায়ণতা
কার্যকর
হয়—বিশেষ
প্রতিকার
প্রদানের
মাধ্যমে,আইন ও
ন্যায়ের
সমন্বয়
ঘটিয়ে,
সত্যনিষ্ঠা ও
ন্যায়বিচারের
মূলনীতি
প্রয়োগ
করে।
ফলস্বরূপ, ন্যায়পরায়ণতা
নিশ্চিত
করে
যে,
আদালত
শুধুমাত্র
আইনগত
ফর্মালিটি
নয়,
বরং
ন্যায়
ও
উদ্দেশ্য
অনুযায়ী
সঠিক
প্রতিকার
প্রদান
করছে।
ন্যায়পরায়ণতার
অধিকাংশ
মূল
নীতিই
বাংলাদেশের
বিভিন্ন
বিধিবদ্ধ
আইনে
সন্নিবেশিত
হয়েছে—আপনি
কি
একমত?
ব্যাখ্যা
করুন।
উত্তর:
১. ভূমিকা
ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটি হলো
আইনের এমন একটি শাখা, যা কমন
লের
ফর্মাল
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
ও
সঠিক
প্রতিকার
নিশ্চিত
করে।ইকুইটির মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায় এবং সততার ভিত্তিতে আদালতের
প্রতিকার
প্রদান
করা
যেখানে সাধারণ আইন যথেষ্ট প্রতিকার দিতে ব্যর্থ।বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থা মূলত কমন
ল
র প্রভাবিত, তবে বিভিন্ন
বিধিবদ্ধ
আইন
(Codified Law) ও
আদালতের
প্র্যাকটিসে
ন্যায়পরায়ণতার
নীতি
অন্তর্ভুক্ত
হয়েছে।
২. ন্যায়পরায়ণতার মূল নীতির অন্তর্ভুক্তি
বাংলাদেশে ন্যায়পরায়ণতার অধিকাংশ নীতি বিভিন্ন বিধিবদ্ধ
আইনে
সন্নিবেশিত হয়েছে। এর উদাহরণ:
1. Specific
Relief Act, 1877
o
আদালতকে
ক্ষমতা দেয় special
performance, injunction ইত্যাদি ন্যায়পরায়ণ প্রতিকার প্রদান করার।উদাহরণ: A চুক্তি অনুযায়ী B-এর জমি কিনেছে,
হস্তান্তর হয়নি। আদালত specific
performance এর
মাধ্যমে ন্যায় নিশ্চিত করে।
2. Trust
Act, 1882ট্রাস্টি
যদি তার দায়িত্ব পালন না করে, আদালত
স্বত্ত্বভোগীর
অধিকার
পুনরুদ্ধার
করতে পারে। উদাহরণ: ট্রাস্টি তহবিল অবৈধভাবে ব্যবহার করলে আদালত তাকে দায়ী ঘোষণা করে।
3. Contract
Act, 1872
o
প্রতারণা,
চাপ বা অন্যায় প্রভাবিত
চুক্তি বাতিল করার ব্যবস্থা।উদাহরণ: চাপের চুক্তি বা Fraudulent Agreement বাতিল করা যায়, যা ন্যায়বিচারের মূলনীতি।
4. Code
of Civil Procedure (CPC), 1908
o
আদালতকে
injunction, declaratory relief, specific performance
দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।এটি ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োগকে দ্রুত
ও
কার্যকরী
করে
তোলে।
৩. ব্যাখ্যা
আইনের
ফর্মাল
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করার
মূল
নীতিগুলো
আজ বাংলাদেশের আদালতসমূহে বিধিবদ্ধ
আইনের
মাধ্যমে
প্রয়োগযোগ্য।আদালতরা এখন কেবল
আইনগত
ফর্মালিটি
নয়,
বরং ন্যায়
ও
উদ্দেশ্য
অনুযায়ী
প্রতিকার
প্রদান করে।এটি প্রমাণ করে যে, ন্যায়পরায়ণতার মূল নীতি শুধুমাত্র সাধারণ আইনকে পূরক নয়, বরং আইনের
মধ্যেই
সমন্বিত
হয়েছে।
৪. সুবিধা ও প্রভাব
1. আদালত দ্রুত ন্যায়বিচার
ও
বিশেষ
প্রতিকার
নিশ্চিত করতে পারে।
2. আইন ও ন্যায়ের মধ্যে
সমন্বয়
ও
স্থায়িত্ব
বৃদ্ধি পায়।
3. সাধারণ মানুষ আইনের
প্রতি
আস্থা
ও
বিশ্বাস
বজায় রাখে।
4. সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের
ন্যায়সঙ্গত সমাধান সহজ হয়।
৫. উপসংহার
আমি
একমত যে, ন্যায়পরায়ণতার
অধিকাংশ
মূল
নীতিই
বাংলাদেশের
বিধিবদ্ধ
আইনে
সন্নিবেশিত
হয়েছে।এর ফলে আদালতরা
আইন
ও
ন্যায়ের
সমন্বয়ে,
ফর্মাল
সীমাবদ্ধতা
অতিক্রম
করে
ন্যায়বিচার
প্রদান
করতে সক্ষম।এটি বাংলাদেশে আইনের
কার্যকারিতা,
ন্যায়সঙ্গতা
ও
সামাজিক
বিশ্বাসযোগ্যতা
বৃদ্ধি করেছে।
ক)
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের সাধারণ নীতিসমূহ আলোচনা কর ।
(খ) দায়ভাগ
মতানুসারে হিন্দু আইনে কারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
(গ)
একজন হিন্দু ‘ক’ তার বিধবা
স্ত্রী ‘খ’ ভাই ‘গ'
এক পুত্র ‘ঘ’ এবং এক
পূর্বে মৃত পুত্রের পুত্র ‘ঙ’ কে রেখে
মারা যায়। হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুসারে 'ক' এর সম্পত্তি
কে কী পরিমাণে পাবে
এবং কেন পাবে? ব্যাখ্যা কর । দায়ভাগ আইনে
বন্টন কি? বন্টনে কারা অংশ দাবী করতে পারে?
ক) বাংলাদেশে
প্রচলিত হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের সাধারণ নীতিসমূহ আলোচনা কর ।
ভূমিকা
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকারের বিষয়টি মূলত Hindu
Succession Act, 1956 দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত।উত্তরাধিকারের
নীতি হলো স্বত্ত্ব
এবং
সম্পত্তি
একজন
মৃত
ব্যক্তির
মৃত্যুর
পর
তার
উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
বিতরণের
নিয়মাবলী।এই আইনে হিন্দুদের
জন্য সম্পত্তির
বন্টন,
অগ্রাধিকারের
ক্রম
এবং
যৌক্তিক
ন্যায়বিচার
নিশ্চিত
করার
মূলনীতি
নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. সাধারণ নীতিসমূহ
(ক) প্রাথমিকভাবে স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানরা উত্তরাধিকারী
·
মৃত
ব্যক্তির সন্তানরা
এবং
স্ত্রীরা
মূল উত্তরাধিকারী। ছেলে-মেয়েরা সমান ভাগের অধিকারী।উদাহরণ: বাবা মারা গেলে তার সন্তানরা
সমান
ভাগে
সম্পত্তি
উত্তরাধিকারী
হয়।
(খ) মৃত ব্যক্তির পিতামাতার অধিকার
·
সন্তানদের
অনুপস্থিতিতে, মৃত ব্যক্তির পিতা
ও
মাতা
উত্তরাধিকারী হন।তারা সম্পত্তি সমানভাবে ভাগাভাগি করতে পারে।
(গ) অন্য নিকটাত্মীয়দের অধিকার
যদি
মৃত ব্যক্তির সন্তান,
স্ত্রী
ও
পিতামাতা
না
থাকে,
তাহলে ভাই,
বোন,
ভাইবোনের
সন্তান
ইত্যাদি
উত্তরাধিকারী হয়।
নিকটাত্মীয়রাও
বংশক্রম
অনুসারে
সম্পত্তি ভাগ করতে পারে।
(ঘ) কন্যাদের অধিকার
প্রথাগত
নিয়মের পরিবর্তে বর্তমান
আইন
অনুসারে
ছেলে-মেয়েরা
সমান
অধিকারী।কন্যারা সমানভাবে
সম্পত্তি
উত্তরাধিকারী
হন।
(ঙ) বিবাহিত সন্তানের অধিকার
সন্তানদের
বিবাহের আগে বা পরে জন্ম
বা বিবাহিত হওয়ার কারণে কোনো পার্থক্য নেই।সকল সন্তান সমানভাবে
সম্পত্তি
উত্তরাধিকারী।
(চ) স্বামী/স্ত্রীর অংশ
মৃত
স্ত্রী বা স্বামীর সন্তানের উপস্থিতিতে
স্বামী/স্ত্রী
সম্পত্তির
অংশ
পাওয়ার
অধিকারী।উদাহরণ: স্ত্রী মারা গেলে স্বামী ন্যায়বিচারের
ভিত্তিতে
তার
অংশ
পাওয়ার
অধিকারী।
(ছ) সম্প্রদায়ভেদে প্রয়োগ
হিন্দু
আইনের উত্তরাধিকার শুধুমাত্র
হিন্দু,
বৌদ্ধ,
জৈন
ও
শিখ
সম্প্রদায়ের
ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য।অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে নিয়ম
ভিন্ন
বা
সাধারণ
আইন
প্রযোজ্য।
৩. সাধারণ নীতির মূল বৈশিষ্ট্য
1. সন্তান-কেন্দ্রিক
নীতি:
সন্তানরা মূল উত্তরাধিকারী।
2. সমান
বণ্টন:
ছেলে-মেয়ে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ পায়।
3. নিকটাত্মীয়দের
অংশ:
প্রাথমিক উত্তরাধিকারীর অনুপস্থিতিতে অন্য আত্মীয়রা অধিকারী।
4. বৈবাহিক
অংশ:
স্ত্রী/স্বামী যথাযথ অংশে অধিকারী।
5. আইনগত
সমতা:
সকল সন্তান, ছেলে-মেয়ে, বিবাহিত ও অবিবাহিত সমানভাবে
অধিকারী।
৪. উপসংহার
বাংলাদেশে
প্রচলিত হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের সাধারণ নীতিসমূহ ন্যায়বিচার,
সমতা
এবং
বংশক্রমের
ধারাবাহিকতা
নিশ্চিত
করে।এর মাধ্যমে সন্তান-কেন্দ্রিক,
সমান
বণ্টন
এবং
বৈবাহিক
অংশের
ন্যায্যতা
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।বর্তমান আইন পুরুষ
ও
মহিলা
সমান
অধিকার
নিশ্চিত
করে,
যা সামাজিক ন্যায় ও আইনের সামঞ্জস্য
বজায় রাখে।
(খ) দায়ভাগ
মতানুসারে
হিন্দু
আইনে
কারা
উত্তরাধিকারের
থেকে
বঞ্চিত
হয়?
উত্তর:
১. ভূমিকা
হিন্দু উত্তরাধিকারে দায়ভাগ
(Disqualification for Succession) বলতে বোঝায়
সেই নিয়ম বা শর্ত, যার
ফলে কোনো ব্যক্তি মৃত
ব্যক্তির
সম্পত্তির
উত্তরাধিকারী
হওয়ার
অধিকার
হারায়।
Hindu Succession Act, 1956 এ
কিছু ব্যক্তিকে দায়ভাগের
কারণে
সম্পত্তি
উত্তরাধিকারের
বাইরে
রাখা
হয়েছে।
২. দায়ভাগ অনুযায়ী বঞ্চিতদের শ্রেণী
(ক) অপরাধমূলক বা হত্যার ক্ষেত্রে যুক্ত ব্যক্তি
যদি
কেউ মৃত
ব্যক্তির
হত্যা
বা
মৃত্যুর
জন্য
দায়ী
হয়,
সে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে
পারে
না।উদাহরণ: সন্তান যদি পিতাকে হত্যা করে, সে উত্তরাধিকারী
হবেনা।
(খ) দায়িত্ব বা আস্থা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি
·
ট্রাস্টি
বা ফিদুশিয়ারি দায়িত্বে অবহেলা করলে, আদালত তাকে উত্তরাধিকারের
অধিকার
থেকে
বঞ্চিত
করতে
পারে।উদাহরণ: একজন ট্রাস্টি নিজের সুবিধার জন্য সম্পত্তি ব্যবহার করলে।
(গ) আইনগত অযোগ্যতা
মানসিক
অক্ষমতা,
অপরিণত
বয়স
কিছু ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনা করে, তবে সাধারণত আইন এমন ব্যক্তির জন্য প্রত্যেক
বয়সে
অংশ
প্রদান
করে,
যদি
না
অন্য
শর্ত
থাকে।
(ঘ) ধর্মীয় বা সম্প্রদায়ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা
হিন্দু আইন শুধুমাত্র হিন্দু,
বৌদ্ধ,
জৈন
ও
শিখ
সম্প্রদায়ের
মানুষদের
জন্য
প্রযোজ্য।অন্য সম্প্রদায়ের ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে উত্তরাধিকারী
হতে
পারে
না।
৩. মূল নীতি
1. অপরাধীদের
বঞ্চনা:
যিনি মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন, তিনি উত্তরাধিকারী হবেন না।
2. সৎ
ও
বিশ্বাসযোগ্য
ব্যক্তির
অধিকার:
দায়িত্ব ও আস্থার লঙ্ঘনকারী
ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা হয়।
3. সমাজ
ও
আইন
অনুযায়ী
অযোগ্যতা:
সম্প্রদায়, ধর্ম, আইনগত যোগ্যতার অভাব থাকলে উত্তরাধিকারী নয়।
৪. উপসংহার
হিন্দু আইনে দায়ভাগ অনুযায়ী মৃত
ব্যক্তির
হত্যা
বা
অপরাধমূলক
কাজের
সাথে
যুক্ত
ব্যক্তি,
আস্থা
লঙ্ঘনকারী
এবং
আইনগতভাবে
অযোগ্য
ব্যক্তি
উত্তরাধিকারী হতে পারে না।এটি নিশ্চিত করে যে, উত্তরাধিকারের
প্রক্রিয়া
ন্যায়,
সততা
ও
আইনসম্মত
থাকে।
(গ) একজন হিন্দু ‘ক’
তার বিধবা স্ত্রী ‘খ’
ভাই ‘গ' এক পুত্র
‘ঘ’
এবং এক পূর্বে মৃত
পুত্রের পুত্র ‘ঙ’
কে রেখে মারা যায়। হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুসারে 'ক' এর সম্পত্তি
কে কী পরিমাণে পাবে
এবং কেন পাবে? ব্যাখ্যা কর ।
. ভূমিকা
হিন্দু উত্তরাধিকারের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত
ব্যক্তির
সম্পত্তি
তার
উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
ন্যায়সঙ্গতভাবে
বিতরণ
করা।আইন অনুযায়ী সন্তানরা
প্রধান
উত্তরাধিকারী,
এবং মৃত
সন্তানের
সন্তানরা
তার
স্থলাভিষিক্ত
হিসেবে
অংশ
পায়।বিধবা স্ত্রীও অংশের জন্য অধিকারী, তবে জীবিত
সন্তানের
উপস্থিতিতে
সম্পূর্ণ
মালিকানা
পায়
না,
বরং usufruct বা life interest পায়।অন্যান্য নিকটাত্মীয় যেমন ভাই-ভাবি সন্তান
ও
স্ত্রী
উপস্থিতিতে
অংশ
পায়
না।
উত্তরাধিকারীর বিশ্লেষণ
(ক) পুত্র ‘ঘ’
·
জীবিত
পুত্র হওয়ায় সে মূল
উত্তরাধিকারী।মৃত পুত্রের সন্তান ‘ঙ’-এর সাথে
সমান
ভাগে
সম্পত্তি পাবে।
(খ) মৃত পুত্রের পুত্র ‘ঙ’
Representation বা
স্থলাভিষিক্ত নীতি অনুযায়ী, মৃত পুত্রের সন্তান তার পিতার
অংশ
গ্রহণকারী
হিসেবে
সম্পত্তির অংশ পাবে।
(গ) বিধবা স্ত্রী ‘খ’
·
হিন্দু
আইন অনুযায়ী, স্ত্রীকে usufruct
বা
life interest দেওয়া
হয়।অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির মালিক নন, তবে সম্পত্তি
ব্যবহার
করতে
পারবে
বা
আয়
উপার্জন
করতে
পারবে।স্ত্রী সম্পত্তির মূল
অংশ
ভাগে
পায় না, যতক্ষণ সন্তানরা উপস্থিত।
(ঘ) ভাই ‘গ’
·
ভাই
এখানে উত্তরাধিকারী
নয়,
কারণ প্রাথমিক উত্তরাধিকারী (সন্তান ও স্ত্রী) উপস্থিত।ভাই
শুধুমাত্র সন্তান ও স্ত্রী অনুপস্থিত
হলে উত্তরাধিকারী হতে পারতেন।
অংশের হিসাব
|
উত্তরাধিকারী |
অংশ |
কারণ |
|
পুত্র
‘ঘ’ |
50% |
জীবিত
সন্তান, সমান ভাগে অংশী |
|
মৃত
পুত্রের পুত্র ‘ঙ’ |
50% |
Representation নীতি
অনুযায়ী মৃত পুত্রের স্থলাভিষিক্ত |
|
স্ত্রী
‘খ’ |
usufruct / life interest |
সন্তানের
উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ মালিকানা নয়, শুধুমাত্র ব্যবহার ও আয় করার অধিকার |
|
ভাই
‘গ’ |
0% |
প্রাথমিক
উত্তরাধিকারী উপস্থিত থাকায় অংশ পাবেন না |
ব্যাখ্যা
1. Hindu
Succession Act, 1956 অনুযায়ী,
মৃত সন্তানের সন্তান তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অংশ পায়।
2. স্ত্রী সন্তানের উপস্থিতিতে সম্পত্তির মালিক হন না, তবে
life interest বা usufruct অধিকারী।
3. ভাই বা অন্য নিকটাত্মীয়
শুধুমাত্র প্রাথমিক
উত্তরাধিকারী
অনুপস্থিত
হলে
অংশ নিতে পারে।
উপসংহার
সন্তানরা
প্রথম
এবং
প্রধান
উত্তরাধিকারী।মৃত সন্তানের সন্তান তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অংশ পায়।স্ত্রী সন্তানের
উপস্থিতিতে
সম্পূর্ণ
মালিকানা
পায়
না,
তবে life
interest / usufruct পাওয়া
যায়।ভাই বা অন্যান্য নিকটাত্মীয়
অংশ পাবেন না যখন সন্তান
বা স্ত্রী উপস্থিত।সুতরাং, ‘ক’-এর সম্পত্তি
প্রধানত
পুত্র
‘ঘ’
ও
মৃত
পুত্রের
পুত্র
‘ঙ’-এর
মধ্যে
সমান
ভাগে
বিতরণ
হবে,
এবং স্ত্রী usufruct অধিকার ভোগ করবে, ভাই সম্পত্তি পাবেন না।
দায়ভাগ
আইনে
বন্টন
কী?
বন্টনে
কারা
অংশ
দাবী
করতে
পারে?
১. ভূমিকা
দায়ভাগ বা succession/distribution
বলতে বোঝায় মৃত
ব্যক্তির
সম্পত্তি
তার
উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
আইন
অনুযায়ী
বিতরণ
করা।হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী বন্টনের উদ্দেশ্য হলো উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
ন্যায়সঙ্গত
এবং
সমান
ভাগে
সম্পত্তি
বিতরণ
নিশ্চিত
করা।বন্টন সম্পন্ন হয় Hindu
Succession Act, 1956-এর
নিয়ম
অনুসারে।
২. বন্টনের সাধারণ নীতি
1. প্রাথমিকভাবে
সন্তানরা
অংশ
পায়
o
জীবিত
ছেলে-মেয়ে সমানভাবে ভাগাভাগি করে।
o
মৃত
সন্তানের সন্তান (পুত্রবংশ) তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভাগ পায়।
2. বিধবা
স্ত্রী
/ বিধবা
স্বামী
অংশ
পায়
o
স্ত্রী
(বা স্বামী) usufruct / life
interest পায়।
o
অর্থাৎ
সম্পত্তির মালিকানা না, তবে ব্যবহার
বা
আয়ের
অধিকার
থাকে।
3. পিতা-মাতা
এবং
অন্যান্য
নিকটাত্মীয়
o
সন্তান
ও স্ত্রী অনুপস্থিত হলে, পিতা-মাতা এবং তারপর ভাইবোনরা অংশ গ্রহণ করতে পারে।
৩. বন্টনে অংশীদার হওয়ার যোগ্যতা
(ক) যাদের অংশ পাওয়ার অধিকার আছে
1. জীবিত
সন্তানরা
– প্রধান এবং সমান ভাগে অংশীদার।
2. মৃত
সন্তানের
সন্তানরা
(Representation principle) – মৃত
পুত্র/কন্যার অংশ গ্রহণ করে।
3. বিধবা
স্ত্রী
/ স্বামী
– usufruct / life interest পায়।
4. পিতা-মাতা – সন্তান না থাকলে অংশ
পাওয়ার অধিকারী।
5. নিকটাত্মীয়
(ভাই,
বোন,
ভাইবোনের
সন্তান)
– যদি প্রাথমিক উত্তরাধিকারী অনুপস্থিত।
(খ) যাদের অংশ পাওয়া যায় না
1. অপরাধমূলক
কাজের
সঙ্গে
যুক্ত
ব্যক্তি
– মৃত ব্যক্তির হত্যা বা অন্যায় করলে
অংশ হারায়।
2. আইনগতভাবে
অযোগ্য
ব্যক্তি
– ধর্ম, সম্প্রদায় বা বিচারিক নিষেধাজ্ঞার
কারণে।
৪. উদাহরণ
·
একজন
হিন্দু মারা যান এবং তিনি একটি
পুত্র,
একটি
বিধবা
স্ত্রী
এবং
একজন
মৃত
পুত্রের
সন্তান
রেখে যান।
·
বন্টন:
জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের সন্তান সমান ভাগে ভাগ পাবে; স্ত্রী usufruct বা life interest পাবে।
·
ভাই
বা অন্য নিকটাত্মীয় অংশ পাবে না, কারণ প্রাথমিক উত্তরাধিকারী উপস্থিত।
পরিশেষে
·
দায়ভাগ
= মৃত
ব্যক্তির
সম্পত্তি
উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
ন্যায়সঙ্গতভাবে
বিতরণ।
·
বন্টনে
অংশ
পাওয়া
যায়:
জীবিত সন্তান, মৃত সন্তানের সন্তান, বিধবা স্ত্রী/স্বামী, পিতা-মাতা, এবং প্রয়োজনে নিকটাত্মীয়রা।
·
অযোগ্য
ব্যক্তিরা
বঞ্চিত
হয়,
যেমন অপরাধী বা আইনগতভাবে অযোগ্য।
·
হিন্দু
দায়ভাগ আইন নিশ্চিত করে উত্তরাধিকারীদের
মধ্যে
সমান,
ন্যায়সঙ্গত
এবং
বংশক্রমগত
No comments