Header Ads

Header ADS

তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকারকে ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদানও করে”—ব্যাখ্যা কর। তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে বর্ণিত নির্দিষ্ট সময়ের পরে (i) দায়েরকৃত মামলা; (ii) দায়েরকৃত আপিল; (iii) দায়েরকৃত দরখাস্ত এর অবস্থা কী হবে?

 

২)  () তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকারকে ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদানও করে”—

ব্যাখ্যা কর। বিস্তারিত পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর

 () তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে বর্ণিত নির্দিষ্ট সময়ের পরে (i) দায়েরকৃত মামলা; (ii) দায়েরকৃত 

আপিল; (iii) দায়েরকৃত দরখাস্ত এর অবস্থা কী হবে?

 

 

তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকারকে ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদানও করে”—ব্যাখ্যা কর।

 

ভূমিকা

তামাদি আইন (Limitation Act) একটি প্রক্রিয়াগত আইন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দাখিল নিশ্চিত করা। সাধারণভাবে মনে করা হয় যে তামাদি আইন দাবিদারের অধিকার ধ্বংস করে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই আইন শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, বরং নানাভাবে পরোক্ষভাবে নতুন অধিকারও সৃষ্টি করে। এই কারণেই বলা হয়তামাদি আইন কেবল অধিকার ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদানও করে।

 

তামাদি আইন অধিকার ধ্বংস করেসংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের না করলে দাবিটি তামাদি দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়।
. তামাদি উত্তীর্ণ হলে আদালত মামলাটি গ্রহণ করতে পারে না।
. ফলে দাবিদারের আদালতে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার বিলুপ্ত হয়।

 

তামাদি আইন পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদান করেবিস্তারিত আলোচনা

. বিবাদীর পক্ষে দায়মুক্তির অধিকার সৃষ্টি

তামাদি মেয়াদ শেষ হলে বিবাদী বা দেনাদার দাবি পরিশোধ থেকে মুক্ত থাকার একটি আইনগত অধিকার অর্জন করে। এটি বিবাদীর জন্য একটি শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা।

. প্রতিরক্ষা অধিকার (Right of Defence) প্রদান

তামাদি আইন বিবাদীকে আদালতেতামাদির আপত্তিউত্থাপনের অধিকার দেয়, যা একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

. শান্তিপূর্ণ দখলের অধিকার সুরক্ষা

দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন শান্তিপূর্ণ ভোগদখলের ফলে দখলকারী ব্যক্তি তার দখল রক্ষার অধিকার লাভ করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি স্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

. আইনি স্থিতিশীলতা নিশ্চিততা সৃষ্টি

পুরনো, অবহেলিত অস্পষ্ট দাবি বাতিল হওয়ার ফলে সমাজে রাষ্ট্রে আইনগত স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়, যা একটি মৌলিক অধিকারসদৃশ সুবিধা।

. দেনাদারের ওপর অনিশ্চয়তা দূর হয়

তামাদি আইন দেনাদারকে আজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে না। নির্দিষ্ট সময় পর সে নিশ্চিন্তে তার সম্পদ ভোগ করতে পারে।

. জনস্বার্থ ন্যায়বিচার রক্ষা

তামাদি আইন অলস অসতর্ক দাবিদারকে নিরুৎসাহিত করে এবং সচেতন ব্যক্তিকে উৎসাহিত করেযা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

 

বিচারিক মতামত

আদালত বহু ক্ষেত্রে মন্তব্য করেছে যে, তামাদি আইন দাবি ধ্বংস করে না; বরং মামলা করার প্রতিকার নষ্ট করে এবং বিবাদীর পক্ষে একটি অধিকার সৃষ্টি করে।

 

উপসংহার

অতএব, বলা যায় যে তামাদি আইন বাহ্যিকভাবে অধিকার ধ্বংসকারী মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিবাদীর পক্ষে দায়মুক্তি, প্রতিরক্ষা স্থিতিশীলতার অধিকার সৃষ্টি করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বলা হয়তামাদি আইন কেবলমাত্র অধিকারকে ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে অধিকার প্রদানও করে।

 

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে বর্ণিত নির্দিষ্ট সময়ের পরে (i) দায়েরকৃত মামলা; (ii) দায়েরকৃত আপিল; (iii) দায়েরকৃত দরখাস্তএর অবস্থা কী হবে?

 

ভূমিকা

তামাদি আইন বিভিন্ন প্রকার মামলা, আপিল দরখাস্ত দায়েরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা প্রথম তফসিলে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। এই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করা হলে আইনগতভাবে তার বিশেষ পরিণতি ঘটে।

 

(i) নির্দিষ্ট সময়ের পরে দায়েরকৃত মামলা

তামাদি আইনের ধারা অনুযায়ী, প্রথম তফসিলে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে দায়েরকৃত কোনো মামলা অবশ্যই খারিজযোগ্য ক্ষেত্রে আদালত

  • বিবাদী তামাদির আপত্তি উত্থাপন করুক বা না করুক,
  • আদালত নিজ উদ্যোগে (suo motu) মামলাটি খারিজ করবে।

অতএব, সময়োত্তীর্ণ মামলা আদালতে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে কোনো ছাড় বা সময় মওকুফের সুযোগ নেই।

 

 

(ii) নির্দিষ্ট সময়ের পরে দায়েরকৃত আপিল

নির্ধারিত সময়ের পরে দায়েরকৃত আপিল সাধারণত অগ্রহণযোগ্য তবে তামাদি আইনের ধারা অনুযায়ী, যদি আপিলকারী যথোচিত কারণ (sufficient cause) প্রদর্শন করতে পারে, তাহলে

  • আদালত বিলম্ব ক্ষমা করে
  • আপিলটি গ্রহণ করতে পারে।

অতএব, আপিলের ক্ষেত্রে সময় মওকুফের সুযোগ রয়েছে।

 

(iii) নির্দিষ্ট সময়ের পরে দায়েরকৃত দরখাস্ত

নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে দায়েরকৃত দরখাস্ত সাধারণত খারিজযোগ্য তবে

  • যেসব দরখাস্তের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ধারা প্রযোজ্য,
  • সেখানে যথোচিত কারণ প্রমাণিত হলে আদালত বিলম্ব ক্ষমা করতে পারে।

তবে সব দরখাস্তের ক্ষেত্রে ধারা প্রযোজ্য নয়; আইনে যেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সময় মওকুফ সম্ভব নয়।

 

তুলনামূলক সারসংক্ষেপ (পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার জন্য উপযোগী)

বিষয়

নির্দিষ্ট সময়ের পরে অবস্থা

মামলা

অবশ্যই খারিজযোগ্য (ধারা )

আপিল

সাধারণত খারিজযোগ্য, তবে ধারা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে পারে

দরখাস্ত

সাধারণত খারিজযোগ্য, কিছু ক্ষেত্রে ধারা প্রযোজ্য

 

উপসংহার

সুতরাং, তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে নির্ধারিত সময়ের পরে দায়েরকৃত মামলা আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে খারিজযোগ্য হলেও, আপিল কিছু দরখাস্তের ক্ষেত্রে যথোচিত কারণ দেখাতে পারলে আদালত বিলম্ব ক্ষমা করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা গ্রহণ করতে পারে।

No comments

Powered by Blogger.