হিন্দু কে? হিন্দু আইনের উৎস হিসেবে প্রথার ভূমিকা নির্ধারণ করুন।দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী? ইহাদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করুন ।
1. (ক) হিন্দু
কে? হিন্দু আইনের উৎস হিসেবে প্রথার ভূমিকা নির্ধারণ করুন ।
(খ)
দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো কী? ইহাদের মধ্যে পার্থক্য
আলোচনা
করুন ।
হিন্দু কে ? আইনের
দৃষ্টিতে
হিন্দু
বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়— যিনি
হিন্দু ধর্মাবলম্বী, এবং যিনি মুসলমান, খ্রিষ্টান, পারসি বা ইহুদি নন এবং পারিবারিকভাবে হিন্দু রীতি–নীতি অনুসরণ করেন, অথবা হিন্দু
পিতামাতার
সন্তান,
যদি সে অন্য কোনো
ধর্ম গ্রহণ না করে।
হিন্দু আইনের উৎস হিসেবে প্রথার ভূমিকা
হিন্দু
আইনের
অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ ও
প্রাচীন উৎস
হলো
প্রথা (Custom)। সমাজে
দীর্ঘদিন ধরে
অনুসৃত
আচরণ
ও
রীতিনীতি আইনের
স্বীকৃতি পেয়ে
হিন্দু
আইনের
অংশে
পরিণত
হয়েছে।
প্রথা কী?
প্রথা
বলতে
বোঝায়—
সমাজে
দীর্ঘকাল ধরে
নিরবচ্ছিন্নভাবে পালিত
এমন
আচরণ
বা
নিয়ম,
যা
আইনগত
স্বীকৃতি পেয়েছে।
হিন্দু আইনে প্রথার ভূমিকা
১. আইনের প্রধান উৎস
শ্রুতি
ও
স্মৃতির পর
প্রথা
হিন্দু
আইনের
একটি
গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
অনেক
ক্ষেত্রে প্রথার
উপরই
আইনের
ভিত্তি
গড়ে
উঠেছে।
২. শাস্ত্রের ওপর প্রাধান্য
কোনো
ক্ষেত্রে শাস্ত্রের সঙ্গে
প্রথার
বিরোধ
হলে
প্রথাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়— “Custom overrides law”।
৩. সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন
প্রথা
সমাজের
বাস্তব
জীবন,
আচরণ
ও
প্রয়োজনের প্রতিফলন ঘটায়
এবং
আইনকে
বাস্তবমুখী করে
তোলে।
৪. আঞ্চলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য রক্ষা
ভিন্ন
ভিন্ন
অঞ্চল,
জাতি
ও
পরিবারের নিজস্ব
প্রথা
হিন্দু
আইনে
স্বীকৃত, যা
সমাজের
বৈচিত্র্য রক্ষা
করে।
৫. আইনের বিকাশে সহায়ক
নতুন
সামাজিক পরিস্থিতিতে শাস্ত্রে স্পষ্ট
বিধান
না
থাকলে
প্রথা
আইন
প্রণয়নে সহায়তা করে।
বৈধ প্রথার শর্তসমূহ
একটি
প্রথা
আইনের
উৎস
হিসেবে
স্বীকৃতি পেতে
হলে—
- প্রাচীন
হতে হবে
- নিরবচ্ছিন্নভাবে
পালিত হতে হবে
- যুক্তিসঙ্গত
হতে হবে
- নৈতিকতা
ও জননীতির পরিপন্থী নয়
- বিদ্যমান
আইনের বিরুদ্ধে নয়
প্রথার প্রকারভেদ
- স্থানীয়
প্রথা
- জাতিগত
বা সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রথা
- পারিবারিক
প্রথা
উপসংহার
প্রথা হিন্দু
আইনের
একটি
জীবন্ত
ও
গতিশীল
উৎস।
এটি
সমাজের
পরিবর্তনের সঙ্গে
আইনকে
অভিযোজিত করে
এবং
হিন্দু
আইনের
বাস্তব
ও
মানবিক
দিককে
শক্তিশালী করে।
অতএব, হিন্দু
আইনের
উৎস
হিসেবে
প্রথার
ভূমিকা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও
অপরিহার্য।
(খ) দায়ভাগ
ও মিতাক্ষরা মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য
হিন্দু
উত্তরাধিকার আইনের
ক্ষেত্রে মিতাক্ষরা ও
দায়ভাগ হলো
দুইটি
প্রধান
মতবাদ
(Schools of Hindu Law)।
নিচে
এদের
বৈশিষ্ট্য ও
পার্থক্য আলোচনা
করা
হলো—
১. মিতাক্ষরা মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- জন্মসূত্রে
অধিকার
পুত্র জন্মের সঙ্গে সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকার অর্জন করে। - যৌথ
পরিবার ব্যবস্থা (Joint Family System)
যৌথ হিন্দু পরিবার এই মতবাদের প্রধান ভিত্তি। - কোপারসেনারি
(Coparcenary) ব্যবস্থা
পিতা, পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র কোপারসেনার। - সম্পত্তি
ভোগের সীমাবদ্ধতা
কোপারসেনাররা নির্দিষ্ট অংশ ভোগ করে না, বরং যৌথভাবে ভোগ করে। - পিতার
ক্ষমতা সীমিত
পিতা ইচ্ছামতো পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।
২. দায়ভাগ মতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- মৃত্যুর
পর অধিকার
উত্তরাধিকারীর অধিকার মালিকের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হয়। - জন্মসূত্রে
অধিকার নেই
পুত্র জন্মমাত্রই সম্পত্তির অধিকারী হয় না। - যৌথ
পরিবার ভিন্নধর্মী
দায়ভাগে যৌথ পরিবার থাকলেও কোপারসেনারি ব্যবস্থা নেই। - নির্দিষ্ট
অংশের মালিকানা
উত্তরাধিকারীরা নির্দিষ্ট অংশের মালিক হয়। - পিতার
পূর্ণ ক্ষমতা
পিতা জীবদ্দশায় সম্পত্তি ইচ্ছামতো হস্তান্তর করতে পারেন।
|
|
|
|
|||
|
|
|
|
|||
|
দায়ভাগ
ও মিতাক্ষরার মধ্যে পার্থক্য |
|
|
|||
|
|
|
|
|||
|
|
|
|
|||
|
বিষয় |
মিতাক্ষরা |
দায়ভাগ |
|||
|
অধিকার
সৃষ্টির সময় |
জন্মের
সঙ্গে সঙ্গে |
মালিকের
মৃত্যুর পর |
|||
|
কোপারসেনারি |
আছে |
নেই |
|||
|
যৌথ
পরিবারের ধরন |
দৃঢ়
যৌথ পরিবার |
শিথিল
যৌথ পরিবার |
|||
|
পিতার
ক্ষমতা |
সীমিত |
পূর্ণ |
|||
|
সম্পত্তি
বণ্টন |
জীবদ্দশায়
নয় |
মৃত্যুর
পর বণ্টন |
|||
|
উত্তরাধিকার
ভিত্তি |
রক্ত
সম্পর্ক |
আধ্যাত্মিক
কল্যাণ (পিণ্ডদান) |
|||
|
প্রচলিত
অঞ্চল |
ভারতের
অধিকাংশ অঞ্চল |
প্রধানত
পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম |
|||
উপসংহার:
মিতাক্ষরা মতবাদ
যৌথ পরিবার ও জন্মসূত্রে অধিকারের
উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, আর দায়ভাগ মতবাদ
মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারের ধারণাকে
গুরুত্ব দেয়। এই মৌলিক পার্থক্যই
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে তাদের পৃথক পরিচয় নির্ধারণ করেছে।
No comments