কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন এর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন অংশের টিকা সমূহ । এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৩। পার্ট-২
কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন এর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আইন অংশের টিকা সমূহ । এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৩। পার্ট-২
৯.চার্টার পার্টি
সংজ্ঞা: চার্টার
পার্টি হলো সমুদ্রপথে মাল পরিবহনের জন্য জাহাজ বা তার অংশ ভাড়া দেওয়ার জন্য মালিক এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে করা লিখিত চুক্তি।
সহজভাবে, জাহাজের মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে
একটি চুক্তি, যেখানে মাল বা পণ্য পরিবহনের
জন্য জাহাজের ব্যবহার নির্ধারিত হয়।
প্রকার
1. Time
Charter (টাইম
চার্টার):
ভাড়াটিয়া জাহাজটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করতে পারে। ভাড়া সাধারণত সময়ের ভিত্তিতে (দিন, সপ্তাহ বা মাস) দেওয়া
হয়।
2. Voyage
Charter (ভয়েজ
চার্টার):জাহাজটি একটি নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।ভাড়া সাধারণত যাত্রার জন্য নির্ধারিত।
3. Bareboat
Charter (বেরবোট
চার্টার):
ভাড়াটিয়া জাহাজ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব
নেয়।জাহাজের ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি দায়িত্বও ভাড়াটিয়ার।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. লিখিত চুক্তি যা মালিক ও ভাড়াটিয়ার অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে।
2. জাহাজের ব্যবহার, ভাড়া, সময়কাল এবং দায়দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
3. বাণিজ্যিক এবং আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
উদাহরণ: একটি
জাহাজ মালিক ভাড়াটিয়ার কাছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান পরিবহনের জন্য ৩ মাসের জন্য ভাড়া দেয়
→ Time Charter। একটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার বন্দরে মাল পরিবহনের জন্য ভাড়া
দেওয়া → Voyage Charter।
চার্টার পার্টি মূলত সমুদ্র বাণিজ্য ও পরিবহনে ব্যবহৃত চুক্তি, যা মাল পরিবহন
নিশ্চিত করে।এটি মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে
আইনি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
১০.বিল অব ল্যান্ডিং
সংজ্ঞা :বিল অব ল্যান্ডিং
হলো সমুদ্র বা জলপথে মাল পরিবহনের সময় জাহাজের মালিক বা তার এজেন্ট দ্বারা জারি করা একটি লিখিত দলিল,
যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে:
1. রিসিপ্ট (Receipt)
– মাল গ্রহণের প্রমাণ।
2. চুক্তি (Contract)
– মাল পরিবহনের জন্য জাহাজ মালিকের সঙ্গে চুক্তি।
3. মাল-হক চিহ্ন (Document of Title)
– মালের মালিকানা হস্তান্তর করা যায়।
সহজভাবে:এটি একটি আইনি দলিল, যা মাল পরিবহন,
মালিকানা এবং চুক্তি নিশ্চিত করে।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. রিসিপ্ট: জাহাজ মালিক/এজেন্ট মাল গ্রহণের প্রমাণ দেয়।
2. চুক্তি: মাল পরিবহনের জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলী বর্ণিত থাকে।
3. মাল-হক দলিল: B/L হস্তান্তরের মাধ্যমে মালের মালিকানা স্থানান্তর করা যায়।
4. ট্রেডেবল ডকুমেন্ট: প্রাপকের অধিকার দলিল দেখিয়ে দাবী করা যায়।
প্রকার
১.নির্দিষ্ট প্রাপক: শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানার জন্য।
২.অর্ডার বা ট্রেডেবল: হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা স্থানান্তরযোগ্য।
৩.ধারকের জন্য যে কেউ দলিল
দেখিয়ে মাল গ্রহণ করতে পারে।
উদাহরণ
একটি মালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার বন্দরে চাল বহন করে।জাহাজের মালিক বিল অব ল্যান্ডিং জারি করেন, যাতে প্রাপক মাল গ্রহণ করতে পারে। যদি মাল বিক্রি হয়, B/L হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা বদলানো যায়।
সমুদ্র বীমা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে B/L অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমুদ্র পরিবহনের জন্য আইনি প্রমাণ, মালিকানা দলিল ও চুক্তি হিসেবে তিনটির সংমিশ্রণ।
১১.প্রমিসরি নোট
সংজ্ঞা: প্রমিসরি
নোট হলো একটি লিখিত, স্পষ্ট এবং আনুষ্ঠানিক দলিল,
যেখানে একজন ব্যক্তি (প্রণেতা / Maker) নির্দিষ্ট তারিখে বা চাহিদা অনুযায়ী অন্য একজন ব্যক্তি (প্রাপক / Payee) কে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সহজভাবে, এটি একটি আইনি ঋণ চুক্তি, যেখানে লিখিতভাবে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি থাকে।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. লিখিত এবং স্বাক্ষরিত: প্রমিসরি নোট অবশ্যই লিখিত এবং প্রণেতার স্বাক্ষর থাকতে হবে।
2. নির্দিষ্ট অর্থের জন্য: প্রাপকের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
3. প্রদানের সময় নির্ধারিত: চাহিদা অনুযায়ী বা নির্দিষ্ট তারিখে
টাকা প্রদানের শর্ত থাকে।
4. স্বতঃসিদ্ধ ঋণ দলিল: এটি আইনিভাবে কার্যকর এবং আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
উদাহরণ
জন একজন প্রমিসরি নোটে লিখলেন:
“আমি, জন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে
মিয়া কে ৫০,০০০
টাকা পরিশোধ করব।”
এখানে জন = প্রণেতা (Maker), মিয়া = প্রাপক (Payee), ৫০,০০০ টাকা
= নির্দিষ্ট অর্থ, ৩ মাস = প্রদানের
সময়সীমা।
আইনি ভিত্তি: Negotiable Instruments Act,
1881 (বাংলাদেশ ও ভারতীয় আইন অনুযায়ী) – প্রমিসরি নোটের বৈধতা, উপাদান ও দায় নির্ধারণ।এটি
নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট,
অর্থাৎ চুক্তি বিক্রি বা স্থানান্তরযোগ্য হতে পারে।
চেক
ও বিল অফ এক্সচেঞ্জের মতোই
প্রমিসরি নোট আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ। প্রমিসরি নোটে
প্রণেতা নিজেই মূল দায়ভার বহন করে।
১২.দ্বৈত বীমা
(Double Insurance)
সংজ্ঞা : দ্বৈত
বীমা হলো একই মাল, সম্পত্তি বা অর্থের জন্য একাধিক বীমা কোম্পানিতে একই সময়ে বীমা করা।
সহজভাবে, একই
ঝুঁকির জন্য দুই বা ততোধিক বীমা
চুক্তি থাকলে তাকে দ্বৈত বীমা বলা হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. একই স্বত্ব / সম্পত্তি / ঝুঁকি: শুধুমাত্র একই বস্তু বা ঝুঁকির জন্য
প্রযোজ্য।
2. একাধিক বীমা চুক্তি: একাধিক বীমাকারীর সঙ্গে স্বতন্ত্র চুক্তি।
3. দায় সীমাবদ্ধতা: ক্ষতি ঘটলে মোট ক্ষতিপূরণ মোট ক্ষতির বেশি নয়।
4. বীমা কোম্পানীর অধিকার: প্রিমিয়াম অনুযায়ী অংশের অনুপাতিক ক্ষতিপূরণ দেয়।
উদাহরণ একজন
ব্যবসায়ী দোকানের মালবাহী স্টক ১০ লক্ষ টাকার জন্য দুটি কোম্পানিতে বীমা করলেন
–
কোম্পানি A: ৬ লক্ষ টাকা
o
কোম্পানি
B: ৪ লক্ষ টাকা
ক্ষতি ৫ লক্ষ টাকা
হলে:
o
কোম্পানি
A = (6/10) × 5,00,000 = 3,00,000 টাকা
o
কোম্পানি
B = (4/10) × 5,00,000 = 2,00,000 টাকা
আইনি ভিত্তি: Insurance Act, 1938 (বাংলাদেশ/ভারত অনুযায়ী) – দ্বৈত বীমার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ও দায় নির্ধারণ।
প্রিমিয়াম প্রদান করে দ্বৈত বীমা বৈধ, কিন্তু মোট ক্ষতির বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায় না।
দ্বৈত বীমা বীমা গ্রহীতাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু বেশি লাভের উদ্দেশ্যে করা যায় না। ক্ষতিপূরণ মোট ক্ষতির অনুপাত অনুযায়ী বন্টন করা হয়।
১৩. হস্তান্তরযোগ্য দলিল
সংজ্ঞা: হস্তান্তরযোগ্য দলিল হলো
একটি লিখিত দলিল, যা আইনি ক্ষমতা সহ অর্থ প্রদান, দাবী বা অধিকার হস্তান্তরের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির কাছে স্থানান্তরযোগ্য।
সহজভাবে, এটি
একটি আইনি চেক, প্রমিসরি নোট বা বিল অফ এক্সচেঞ্জ যার অধিকার অন্যকে হস্তান্তর করা যায়।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. লিখিত দলিল: অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
2. পরিশোধযোগ্য অর্থ: নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
3. হস্তান্তরযোগ্যতা:
দলিল দেখিয়ে বা লিখিত হস্তান্তরের
মাধ্যমে অন্যের কাছে অধিকার স্থানান্তরযোগ্য।
4. আইনি প্রমাণ: আদালতে দাবী বা দাবির প্রমাণ
হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
প্রকার
1. চেক (Cheque): ব্যাংক থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য।
2. প্রমিসরি নোট (Promissory Note):
নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
3. বিল অফ এক্সচেঞ্জ (Bill of
Exchange): তৃতীয়
পক্ষকে অর্থ প্রদানের আদেশ।
উদাহরণ: জন
একটি প্রমিসরি নোট
লিখলেন মিয়া কে ৫০,০০০
টাকা প্রদানের জন্য। মিয়া এই নোট রাহুলকে হস্তান্তর করলেন।
এখন রাহুল নোট দেখিয়ে ৫০,০০০ টাকা
দাবি করতে পারে।
আইনি ভিত্তি: Negotiable Instruments Act,
1881 (বাংলাদেশ/ভারত অনুযায়ী) – দলিলের বৈধতা, হস্তান্তরযোগ্যতা ও দায় নির্ধারণ।
হস্তান্তরযোগ্য দলিল ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ।এর মাধ্যমে অর্থপ্রদানের দাবী ও মালিকানা স্থানান্তর আইনিভাবে সহজ হয়।
১৪.প্রতিস্থাপন
নীতি
(Indemnity Principle)
সংজ্ঞা :প্রতিস্থাপন
নীতি হলো বীমার মূল নীতি,
যার অধীনে বীমা কোম্পানি ক্ষতির পরিমাণের সমতুল্য অর্থ প্রদান করে, যাতে বীমাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্ষতির চেয়ে বেশি লাভ না করে।
সহজভাবে,বীমা পেয়ারিকে তার ক্ষতির পরিমাণের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, কিন্তু অতিরিক্ত লাভ করা যাবে না।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. ক্ষতির সমতুল্য ক্ষতিপূরণ: বীমা শুধুমাত্র ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়।
2. অতিরিক্ত অর্থ প্রদান নিষিদ্ধ: বীমা গ্রহীতাকে ক্ষতির চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হয় না।
3. বিমার উদ্দেশ্য: আর্থিক সুরক্ষা, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত ক্ষতি
মোকাবিলা।
4. প্রযোজ্য: মূলত সাধারণ বীমা (General Insurance /
Property Insurance) এ।
উদাহরণ একজন ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন ধরে ১,০০,০০০
টাকার মাল নষ্ট হয়। দোকানের মাল ১,০০,০০০
টাকার জন্য বীমা করা আছে। বীমা কোম্পানি ১,০০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিবে, কিন্তু ব্যবসায়ী ১,২০,০০০
টাকা দাবি করতে পারবে না।
আইনি ভিত্তি :Insurance Act, 1938
(Bangladesh / India) – ক্ষতিপূরণের
পরিমাণ ও নীতি নির্ধারণ।
Subrogation Principle:
বীমাকারী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর, ক্ষতির জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে দাবি দায়িত্ব নিতে পারে।
প্রতিস্থাপন নীতি বীমার মৌলিক নীতি। এর মাধ্যমে বীমাপ্রাপ্তিকে ক্ষতির চেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়।
১৫.অফিসিয়াল রিসিভার
(Official Receiver)
সংজ্ঞা: অফিসিয়াল
রিসিভার হলো অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক দেউলিয়ার ক্ষেত্রে আদালতের নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা,
যিনি দেউলিয়াপ্রার্থী ব্যক্তির সম্পদ পরিচালনা ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করেন।
সহজভাবে, একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি দেউলিয়ার প্রক্রিয়ায় দেউলিয়াপ্রার্থীর সম্পদ সুরক্ষা, দেনাদারের প্রতি বন্টন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
মূল দায়িত্ব
1. সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ: দেউলিয়াপ্রার্থীর সম্পদ তালিকাভুক্ত ও রক্ষা করা।
2. দায় এবং দেনাদারের হিসাব প্রস্তুত: সম্পদ ও দেনার অনুপাত
নির্ধারণ।
3. কোর্টের সহায়ক: দেউলিয়া মামলা বা আদালতের আদেশ
বাস্তবায়নে সহযোগিতা।
4. বিক্রয় ও বিতরণ: সম্পদ বিক্রি করে যথাযথভাবে দেনাদারের মধ্যে বিতরণ করা।
আইনি ভিত্তি: Bangladesh Bankruptcy Act,
1997 – অফিসিয়াল
রিসিভারের নিয়োগ, ক্ষমতা ও দায় নির্ধারণ।
আদালত দেউলিয়াপ্রার্থীর সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দেনাদারের স্বার্থ রক্ষা করতে এই কর্মকর্তা নিয়োগ
করে।
উদাহরণ
1. একটি কোম্পানি দেউলিয়া ঘোষণা করলে, আদালত অফিসিয়াল রিসিভারকে কোম্পানির সম্পদ তালিকা তৈরি ও বিক্রয়ের জন্য নিয়োগ করে।
2. রিসিভার সম্পদ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দেনাদারের মধ্যে অনুপাতিকভাবে বিতরণ করেন।
অফিসিয়াল রিসিভার হলো দেউলিয়ার প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যা দেউলিয়া ব্যক্তির
আর্থিক সুরক্ষা ও দেনাদারের অধিকার
নিশ্চিত করে। এর ভূমিকা আইনি,
প্রশাসনিক
এবং
আর্থিক
ত্রয়ী।
১৬. জাহাজ ভাড়া
সংজ্ঞা :জাহাজ
ভাড়া হলো জাহাজের মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি,
যার মাধ্যমে ভাড়াটিয়া নির্দিষ্ট সময় বা যাত্রার জন্য জাহাজ ব্যবহার করার অধিকার পায়।
সহজভাবেএটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জাহাজের ব্যবহার ও মাল পরিবহনের জন্য ভাড়া নেওয়া বা দেওয়ার চুক্তি।
প্রকার
1. Time
Charter (টাইম
চার্টার):
জাহাজ একটি নির্দিষ্ট সময়কাল (দিন, সপ্তাহ, মাস) ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া সময়কাল অনুযায়ী পরিশোধ।
2. Voyage
Charter (ভয়েজ
চার্টার):জাহাজকে একটি নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়া যাত্রার পরিমাণ বা গন্তব্য অনুযায়ী।
3. Bareboat
Charter (বেরবোট
চার্টার):
ভাড়াটিয়া জাহাজের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ক্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা ভাড়াটিয়ার দায়িত্ব।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. লিখিত চুক্তি যা মালিক ও ভাড়াটিয়ার অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে।
2. ভাড়া, ব্যবহার সময়, গন্তব্য ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে
উল্লেখ থাকে।
3. বাণিজ্যিক এবং আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
উদাহরণ
1. একটি জাহাজ মালিক ৩ মাসের জন্য
ভাড়াটিয়ার কাছে ধান বা অন্যান্য মাল পরিবহনের জন্য ভাড়া দেন
2. একটি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার বন্দরে মাল পরিবহনের জন্য একটি নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য ভাড়া
জাহাজ ভাড়া সমুদ্র বাণিজ্য ও পরিবহনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এটি মাল পরিবহন নিশ্চিত করে এবং আইনি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়ক।
No comments