Header Ads

Header ADS

হিন্দু বিবাহ কত প্রকার ও কী কী? বৈধ হিন্দু বিবাহের অপরিহার্য উপাদানসমূহ বর্ণনা করুন । “হিন্দু বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চুক্তি নয়”—ব্যাখ্যা করুন । দেবোত্তর সম্পত্তি কাকে বলে?বিগ্রহ আইনের চোখে ব্যক্তি কিনা? দেবোত্তর সম্পত্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কী? “দেবোত্তর সৃষ্টির জন্য প্রকৃত অর্থে দেবতার উদ্দেশ্যেই সম্পত্তি উৎসর্গীকৃত হতে হবে —ব্যাখ্যা করুন ।

 

() হিন্দু বিবাহ কত প্রকার কী কীবৈধ হিন্দু বিবাহের অপরিহার্য উপাদানসমূহ বর্ণনা করুন হিন্দু বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চুক্তি নয়”—ব্যাখ্যা করুন
(
) দেবোত্তর সম্পত্তি কাকে বলে? দেবোত্তর সম্পত্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ কী কীদেবোত্তর সৃষ্টির জন্য প্রকৃত অর্থে দেবতার উদ্দেশ্যেই সম্পত্তি উৎসর্গীকৃত হতে হবেব্যাখ্যা করুন
(
) বিগ্রহ আইনের চোখে ব্যক্তি কিনা?
(
) হিন্দু বিবাহ
হিন্দু বিবাহ কত প্রকার?

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ মূলত প্রকার

রাজসামন্ত্য (Rajasamanta) – রাজা বা ধনীদের মধ্যে শোভনীয় বিবাহ

দৈব (Daiva) – পুরোহিত বা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ইচ্ছানুযায়ী বিবাহ

গাহন (Gahana) – দাম্পত্যের জন্য যৌক্তিক বিবাহ

আর্স (Arsha) – পিতার উপহার বা বিনিময়ে বিবাহ

পান্ধন (Prajapatya) – সামাজিক স্বীকৃতিসাপেক্ষ বিবাহ

সৈত্য (Swayamvara) – কন্যা নিজের পছন্দমতো বর নির্বাচন

অশ্রম (Asura) – বর কন্যার পরিবারের প্রতি উপহার প্রদান করে বিবাহ গ্রহণ

পেশবিক (Rakshasa) – জোরপূর্বক বা যুদ্ধের মাধ্যমে বিবাহ

আধুনিক হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র বৈধ বিবাহের শর্ত পূরণ করলে বিবাহ স্বীকৃত হয়।

বৈধ হিন্দু বিবাহের অপরিহার্য উপাদানসমূহ

উভয় পক্ষের যোগ্যতা

বয়স (পুরুষ ≥ 21, নারী ≥ 18)

মানসিক সক্ষমতা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি

পিতামাতার অনুমতি (যদি প্রযোজ্য)

ছোটবয়সী কন্যার ক্ষেত্রে

ঋতু সামাজিক বিধি

একই কুল/নিষিদ্ধ সম্পর্ক এড়ানো

ধর্মীয় বিধি অনুসরণ

উভয় পক্ষের সম্মতি

জোর বা প্রলোভন দ্বারা সম্মতি গ্রহণযোগ্য নয়

ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিবাহের নিয়মাবলী পালন

যজ্ঞ, কনের হাত ধরা, সমিতি প্রভৃতি

হিন্দু বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, চুক্তি নয়”—ব্যাখ্যা

হিন্দু বিবাহ ধর্মীয় সামাজিক বন্ধন।

এটি কোনো বাণিজ্যিক বা আইনি চুক্তি নয়।

বিবাহের উদ্দেশ্য ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, পরিবার সন্তান জন্ম।

আইন শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বৈধতা স্বীকৃতির জন্য।

(
) দেবোত্তর সম্পত্তি
দেবোত্তর সম্পত্তি কাকে বলে?

দেবোত্তর সম্পত্তি হলো

যে কোনো সম্পত্তি কোনো দেবতা বা মূর্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়, এবং যার আয় ধর্মীয় কাজে, পূজা সেবায় ব্যয় হয়।

দেবোত্তর সম্পত্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ

দেবতার মালিকানাদেবতা আইনগত ব্যক্তিসত্তা হিসেবে মালিক।

ধর্মীয় উদ্দেশ্যপূজা, উৎসব, দান ইত্যাদিতে ব্যয়।

অপরিবর্তনীয়তাএকবার উৎসর্গ হলে সাধারণত প্রত্যাহারযোগ্য নয়।

সেবায়েত নিয়ন্ত্রণদেবতার প্রতিনিধি হিসেবে সেবায়েত সম্পত্তি পরিচালনা করে।

স্বতন্ত্র আইনি পরিচয়ব্যক্তি বা পরিবার নয়, শুধুই ধর্মীয় উদ্দেশ্য।

দেবোত্তর সৃষ্টির জন্য প্রকৃত অর্থে দেবতার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি উৎসর্গীকৃত হতে হবে”—ব্যাখ্যা

অর্থাৎ উপহার, দান বা হস্তান্তর দেবতার জন্য স্পষ্টভাবে হওয়া উচিত।

ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বা শর্তাধীন দান দেবোত্তর হবে না।

উদাহরণ: মন্দিরে জমি দানদেবতার উদ্দেশ্য; পরিবারের জন্য দানদেবোত্তর নয়।

(
) বিগ্রহ আইনের চোখে ব্যক্তি কিনা?

বিগ্রহ আইন বলতে আমরা সাধারণত Hindu Personal Law-এর অন্তর্গত আইনের ব্যক্তিসত্তার ধারণা বুঝি।

ব্যক্তি (Person) বলতে সেই মানুষকে বোঝায়, যিনি আইনগত অধিকার দায়িত্ব রাখে।

হিন্দু আইনে

জন্মসূত্রে ব্যক্তি আইনগত অধিকার রাখে

সম্পত্তি অধিকার চুক্তি করার যোগ্যতা রাখে

আইনগত কাজকর্মে সক্ষম

সংক্ষেপে, বিগ্রহ আইনের চোখে ব্যক্তি হলো সেই সাব্যস্ত আইনি সত্তা, যিনি অধিকার দায়িত্ব পালন করতে পারে।

 

No comments

Powered by Blogger.