ট্রাস্ট আইন ও সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইন সাজেশন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর। এল এল বি পরীক্ষা-২০২৪
ট্রাস্ট আইন ও সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইন সাজেশন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর। এল এল বি
পরীক্ষা-২০২৪
(ক)
স্বত্ত্বভোগী কারা?
(খ) বাংলাদেশের ট্রাস্ট এ্যাক্টে তাদের যে অধিকার ও দায়-দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আলোচনা
কর।
(গ) ট্রাস্ট ভংগের
জন্য
তাদের
কী
কী
প্রতিকার
আছে?
স্বত্ত্বভোগী কারা?
বাংলাদেশ ট্রাস্ট আইন,
১৮৮২
অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কল্যাণে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয় তাকে স্বত্ত্বভোগী (Beneficiary)
বলা
হয়।
ট্রাস্টের অধীনে
যে
সম্পত্তি (Trust Property) আছে তার
উপকার
ভোগ
করার
অধিকার
স্বত্ত্বভোগীর থাকে,
যদিও
সম্পত্তির আইনগত
মালিকানা ট্রাস্টির হাতে
থাকে।
যে
ব্যক্তি
বা
ব্যক্তিবর্গের
উপকারের
জন্য
ট্রাস্ট
সৃষ্টি
করা
হয়,
তাকে
স্বত্ত্বভোগী
(Beneficiary) বলা
হয়।
অর্থাৎ ট্রাস্টের অধীন সম্পত্তির আইনগত
মালিক
ট্রাস্টি হলেও, সেই সম্পত্তির বাস্তব
উপকার
বা
সুবিধা
যিনি
ভোগ
করেন
তিনিই
স্বত্ত্বভোগী।
বাংলাদেশের
ট্রাস্ট
অ্যাক্টে
স্বত্ত্বভোগীর
যে
অধিকার
রয়েছে
তা
বিস্তারিত
আলোচনা
করা
হলো।
ভূমিকা
ট্রাস্ট হলো এমন একটি আইনগত সম্পর্ক যেখানে একজন ব্যক্তি (ট্রাস্টি) অন্য একজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের (স্বত্ত্বভোগী)
কল্যাণের জন্য সম্পত্তি ধারণ ও পরিচালনা করেন।
বাংলাদেশের ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ স্বত্ত্বভোগীর স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধিকার প্রদান করেছে। মূলত ট্রাস্টির উপর আরোপিত দায়িত্বের বিপরীতে স্বত্ত্বভোগীর এই অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে।
স্বত্ত্বভোগীর অধিকারসমূহ
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর ধারা
৫৫
হতে
৬৯
পর্যন্ত স্বত্ত্বভোগীর অধিকারসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এগুলো নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
১. ট্রাস্ট যথাযথভাবে সম্পাদনের অধিকার (ধারা ৫৫)
স্বত্ত্বভোগীর অধিকার রয়েছে ট্রাস্টির নিকট থেকে দাবি করার যে, ট্রাস্টটি তার উদ্দেশ্য ও ট্রাস্ট দলিলের
শর্ত অনুযায়ী সঠিক ও ন্যায়সংগতভাবে বাস্তবায়িত
হবে। ট্রাস্টি যদি তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তবে স্বত্ত্বভোগী আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে পারে।
২. ট্রাস্ট সম্পত্তির উপকার ভোগের অধিকার (ধারা ৫৬)
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্ট দলিলে যেভাবে নির্ধারিত আছে সেভাবে ট্রাস্ট সম্পত্তির আয়, ভাড়া, মুনাফা ও অন্যান্য সুবিধা
ভোগ করার অধিকার রাখে। ট্রাস্টির এই উপকার ভোগে
কোনো বেআইনি বাধা দেওয়ার অধিকার নেই।
৩. হিসাব গ্রহণ ও তথ্য জানার
অধিকার (ধারা ৫৭)
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টির নিকট থেকে ট্রাস্ট সম্পত্তির পূর্ণ হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণ এবং ট্রাস্ট পরিচালনা সংক্রান্ত সকল তথ্য জানার অধিকার রাখে। এই অধিকার ট্রাস্টির
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত
করে।
৪. ট্রাস্ট দলিল ও কাগজপত্র পরিদর্শনের
অধিকার (ধারা ৫৮)
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্ট ডিড, হিসাবপুস্তক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট
দলিলাদি পরিদর্শন করতে পারে। এর মাধ্যমে ট্রাস্টির
কার্যক্রম আইনসম্মত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা
সম্ভব হয়।
৫. ট্রাস্ট সম্পত্তি সুরক্ষার অধিকার (ধারা ৫৯)
স্বত্ত্বভোগীর অধিকার রয়েছে ট্রাস্ট সম্পত্তিকে অপচয়, অবৈধ হস্তান্তর বা ক্ষতির হাত
থেকে রক্ষা করার। ট্রাস্টি কর্তৃক সম্পত্তি নষ্ট বা অপব্যবহার হলে
স্বত্ত্বভোগী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
৬. ট্রাস্টির ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের অধিকার (ধারা ৬০)
যদি ট্রাস্টি তার প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অসৎ উদ্দেশ্যে
কাজ করে, তবে স্বত্ত্বভোগী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সেই কার্যক্রম বন্ধ করাতে পারে।
৭. ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য প্রতিকার পাওয়ার অধিকার (ধারা ৬১)
ট্রাস্টি ট্রাস্ট ভঙ্গ করলে স্বত্ত্বভোগী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, ট্রাস্ট সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ট্রাস্টির কাছ থেকে হিসাব গ্রহণের অধিকার রাখে।
৮. ট্রাস্টি অপসারণের অধিকার (ধারা ৬২)
ট্রাস্টির অসদাচরণ, অযোগ্যতা, অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে
ব্যর্থতার কারণে স্বত্ত্বভোগী আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্টিকে অপসারণ করাতে পারে।
৯. নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের দাবি করার অধিকার (ধারা ৬৩)
ট্রাস্টের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজন হলে স্বত্ত্বভোগী আদালতের নিকট নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের আবেদন করতে পারে।
১০. নিষেধাজ্ঞা (Injunction) পাওয়ার অধিকার (ধারা ৬৪)
ট্রাস্টিকে কোনো বেআইনি বা ক্ষতিকর কাজ
থেকে বিরত রাখতে স্বত্ত্বভোগী আদালতের নিকট নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করতে পারে।
১১. ট্রাস্ট সম্পত্তি অনুসরণ করার অধিকার (ধারা ৬৫)
ট্রাস্ট সম্পত্তি যদি বেআইনিভাবে তৃতীয় ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং সে ব্যক্তি সৎ
ক্রেতা না হয়, তবে
স্বত্ত্বভোগী সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে।
১২. ট্রাস্ট ভঙ্গজনিত লাভ আদায়ের অধিকার (ধারা ৬৬)
ট্রাস্টি ট্রাস্ট ভঙ্গের মাধ্যমে যে কোনো লাভ
অর্জন করলে তা স্বত্ত্বভোগী দাবি
করতে পারে।
১৩. ভুলভাবে ব্যয়িত অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার (ধারা ৬৭)
ট্রাস্ট সম্পত্তি থেকে বেআইনি বা ভুলভাবে কোনো
ব্যয় করা হলে স্বত্ত্বভোগী তা ফেরত পাওয়ার
অধিকার রাখে।
১৪. একাধিক স্বত্ত্বভোগীর ক্ষেত্রে অধিকার প্রয়োগ (ধারা ৬৮–৬৯)
যেখানে একাধিক স্বত্ত্বভোগী রয়েছে, সেখানে তারা যৌথভাবে বা পৃথকভাবে তাদের
অধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং আদালত সকলের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ স্বত্ত্বভোগীর অধিকারসমূহকে সুস্পষ্ট ও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা
করেছে। ট্রাস্টির উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটলে স্বত্ত্বভোগী আদালতের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিকার লাভ করতে পারে। ফলে ট্রাস্ট ব্যবস্থায় স্বত্ত্বভোগীর অবস্থান আইন দ্বারা সুসংহত ও সুরক্ষিত।
বাংলাদেশের
ট্রাস্ট
অ্যাক্টে
স্বত্ত্বভোগীর
যে
দায়–দায়িত্ব
প্রদান
করা
হয়েছে
তা
বিস্তারিত
আলোচনা
কর।
ভূমিকা
ট্রাস্ট হলো একটি বিশ্বাসভিত্তিক আইনগত সম্পর্ক যেখানে ট্রাস্টি স্বত্ত্বভোগীর কল্যাণে সম্পত্তি ধারণ ও পরিচালনা করেন।
যদিও ট্রাস্ট অ্যাক্টে ট্রাস্টির দায়িত্ব অধিকভাবে আলোচিত হয়েছে, তথাপি স্বত্ত্বভোগীর উপরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়–দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। এসব দায়–দায়িত্ব ট্রাস্ট ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনা ও ন্যায়সংগত ভারসাম্য
রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
স্বত্ত্বভোগীর দায়–দায়িত্বসমূহ
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২-এ স্বত্ত্বভোগীর দায়–দায়িত্ব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উল্লেখ
করা হয়েছে। সেগুলো নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
১. ট্রাস্টির বৈধ ব্যয় বহনের দায়িত্ব
ট্রাস্ট পরিচালনা, ট্রাস্ট সম্পত্তি রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য
ট্রাস্টি যে সকল বৈধ
ও
ন্যায়সঙ্গত
ব্যয়
করে থাকেন, স্বত্ত্বভোগীর দায়িত্ব হলো সেই ব্যয় পরিশোধ বা ফেরত দেওয়া।
কারণ এসব ব্যয় স্বত্ত্বভোগীর স্বার্থেই করা হয়।
২. ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষতির জন্য দায় বহন
স্বত্ত্বভোগীর কোনো কাজ বা অবহেলার কারণে
যদি ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষতি হয়, তবে সেই ক্ষতির দায় স্বত্ত্বভোগীকেই বহন করতে হবে। স্বত্ত্বভোগী নিজের স্বার্থে সম্পত্তির ক্ষতি করতে পারে না।
৩. ট্রাস্ট দলিলের শর্ত মান্য করার দায়িত্ব
স্বত্ত্বভোগীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ট্রাস্ট ডিডে উল্লিখিত শর্তাবলি মেনে চলা। ট্রাস্টের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কোনো দাবি বা আচরণ করা
তার জন্য নিষিদ্ধ।
৪. ট্রাস্টির কাজে অযথা হস্তক্ষেপ না করার দায়িত্ব
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টির দৈনন্দিন পরিচালনায় অযথা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ট্রাস্টির আইনগত ক্ষমতা ও স্বাধীনতা রক্ষা
করাও স্বত্ত্বভোগীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
৫. ট্রাস্টির প্রতি সহযোগিতা ও সদাচরণের দায়িত্ব
ট্রাস্টের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য স্বত্ত্বভোগীকে ট্রাস্টির সাথে সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হবে। অসহযোগিতা বা অসদাচরণ ট্রাস্টের
উদ্দেশ্য ব্যাহত করতে পারে।
৬. অন্য স্বত্ত্বভোগীর অধিকার ক্ষুণ্ণ না করার দায়িত্ব
যেখানে একাধিক স্বত্ত্বভোগী থাকে, সেখানে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্য স্বত্ত্বভোগীর অধিকার ও স্বার্থ সম্মান
করা। একজন স্বত্ত্বভোগী অন্যের অংশ বা সুবিধা আত্মসাৎ
করতে পারে না।
৭. বেআইনি বা অনৈতিক সুবিধা
গ্রহণ না করার দায়িত্ব
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্ট সম্পত্তি থেকে কোনো বেআইনি বা অনৈতিক সুবিধা
গ্রহণ করতে পারে না। যদি এমন সুবিধা গ্রহণ করা হয়, তবে তা ফেরত দেওয়ার
বাধ্যবাধকতা থাকে।
৮. ট্রাস্ট সম্পত্তি সংরক্ষণে সতর্ক থাকার দায়িত্ব
স্বত্ত্বভোগীর দায়িত্ব হলো ট্রাস্ট সম্পত্তি যেন অপচয়, অবহেলা বা অবৈধ ব্যবহারের
শিকার না হয়—এ
বিষয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে ট্রাস্টিকে অবহিত করা।
৯. ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মিথ্যা বা অসৎ দাবি
না করার দায়িত্ব
স্বত্ত্বভোগী কোনো ভিত্তিহীন বা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
অভিযোগ এনে ট্রাস্টির সম্মান বা কার্যক্রম ক্ষুণ্ণ
করতে পারে না।
১০. আদালতের আদেশ ও নির্দেশ মান্য
করার দায়িত্ব
ট্রাস্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত যদি কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদান
করে, তবে স্বত্ত্বভোগী সেই আদেশ মান্য করতে বাধ্য।
উপসংহার
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ স্বত্ত্বভোগীর উপর যেসব দায়–দায়িত্ব আরোপ করেছে, সেগুলো ট্রাস্ট ব্যবস্থার ভারসাম্য ও ন্যায়সংগততা নিশ্চিত
করে। স্বত্ত্বভোগী যদি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তবে ট্রাস্টের উদ্দেশ্য সাফল্যের সাথে বাস্তবায়িত হয়। তাই ট্রাস্ট ব্যবস্থায় স্বত্ত্বভোগীর দায়–দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাস্ট
ভঙ্গের
জন্য
স্বত্ত্বভোগীর
কী
কী
প্রতিকার
আছে—বিস্তারিত
আলোচনা
কর।
ভূমিকা
ট্রাস্ট একটি বিশ্বাসভিত্তিক আইনগত সম্পর্ক যেখানে ট্রাস্টি স্বত্ত্বভোগীর কল্যাণে ট্রাস্ট সম্পত্তি ধারণ ও পরিচালনা করেন।
কিন্তু ট্রাস্টি যদি তার উপর আরোপিত দায়িত্ব লঙ্ঘন করে, অসততা, অবহেলা বা ক্ষমতার অপব্যবহার
করে, তবে তাকে ট্রাস্ট ভঙ্গ (Breach of Trust) বলা হয়। বাংলাদেশের ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ স্বত্ত্বভোগীর স্বার্থ রক্ষার্থে ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকর প্রতিকার প্রদান করেছে।
ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য স্বত্ত্বভোগীর প্রতিকারসমূহ
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ অনুযায়ী ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে স্বত্ত্বভোগী নিম্নলিখিত প্রতিকারসমূহ গ্রহণ করতে পারে—
১. ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রতিকার
ট্রাস্ট ভঙ্গের ফলে স্বত্ত্বভোগীর যে আর্থিক ক্ষতি
হয়েছে, ট্রাস্টি সেই ক্ষতির জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। স্বত্ত্বভোগী আদালতের মাধ্যমে ট্রাস্টির নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে।
২. ট্রাস্ট সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের প্রতিকার
যদি ট্রাস্টি ট্রাস্ট সম্পত্তি বেআইনিভাবে নিজের নামে বা অন্য কারো
নিকট হস্তান্তর করে এবং সেই ব্যক্তি সৎ ক্রেতা না
হয়, তবে স্বত্ত্বভোগী সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি করতে পারে।
৩. হিসাব গ্রহণের প্রতিকার (Account)
স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টির কাছ থেকে ট্রাস্ট সম্পত্তির পূর্ণ হিসাব, আয়–ব্যয়ের বিবরণ এবং ট্রাস্ট ভঙ্গজনিত ক্ষতির হিসাব দাবি করতে পারে।
৪. ট্রাস্ট ভঙ্গজনিত লাভ আদায়ের প্রতিকার
ট্রাস্টি ট্রাস্ট ভঙ্গের মাধ্যমে যে কোনো লাভ
বা সুবিধা অর্জন করলে, তা স্বত্ত্বভোগীর প্রাপ্য
হিসেবে গণ্য হবে। ট্রাস্টি ব্যক্তিগতভাবে সেই লাভ ভোগ করতে পারে না।
৫. নিষেধাজ্ঞা (Injunction) পাওয়ার প্রতিকার
ট্রাস্টি যেন ট্রাস্ট সম্পত্তির বেআইনি হস্তান্তর, অপচয় বা ক্ষমতার অপব্যবহার
না করতে পারে, সে জন্য স্বত্ত্বভোগী
আদালতের নিকট নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করতে পারে।
৬. ট্রাস্টি অপসারণের প্রতিকার
ট্রাস্টির গুরুতর অসদাচরণ, অবহেলা, অযোগ্যতা বা বিশ্বাসভঙ্গ প্রমাণিত
হলে আদালত তাকে অপসারণ করতে পারে।
৭. নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের প্রতিকার
ট্রাস্টির অপসারণ, মৃত্যু বা অক্ষমতার কারণে
ট্রাস্ট পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হলে আদালত নতুন ট্রাস্টি নিয়োগ করতে পারে।
৮. ভুল বা বেআইনি ব্যয়
ফেরত পাওয়ার প্রতিকার
ট্রাস্টি যদি ট্রাস্ট সম্পত্তি থেকে বেআইনি বা অননুমোদিত ব্যয়
করে, তবে স্বত্ত্বভোগী সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখে।
৯. ট্রাস্ট সম্পত্তি অনুসরণ করার প্রতিকার (Tracing)
ট্রাস্ট সম্পত্তি অন্য কোনো সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হলেও স্বত্ত্বভোগী সেই সম্পত্তিতে নিজের অধিকার দাবি করতে পারে।
১০. আদালতের ন্যায়বিচারমূলক অন্যান্য প্রতিকার
প্রয়োজনে আদালত ট্রাস্টের শর্ত পরিবর্তন, বিশেষ নির্দেশ জারি বা স্বত্ত্বভোগীর স্বার্থ
রক্ষায় উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে স্বত্ত্বভোগীকে ব্যাপক ও কার্যকর প্রতিকার
প্রদান করেছে। ক্ষতিপূরণ থেকে শুরু করে ট্রাস্টি অপসারণ পর্যন্ত এই প্রতিকারসমূহ ট্রাস্ট
ব্যবস্থায় স্বত্ত্বভোগীর স্বার্থ সুরক্ষিত করে এবং ট্রাস্টিকে দায়িত্বশীল আচরণে বাধ্য করে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন
এসআর এ্যাক্ট এর
৯
ধারার
অধীনে
ইকুইটির
পরিসর
কতখানি?
স্থাবর
সম্পত্তির
দখল
পুনরুদ্ধারের
ক্ষেত্রে
এসআর
এ্যাক্টের
৮
ধারার
বিধান
আলোচনা
কর
।]
এস.আর.
অ্যাক্ট
(Specific Relief Act) এর
৯
ধারার
অধীনে
ইকুইটির
পরিসর
কতখানি—
ভূমিকা
এস.আর.
অ্যাক্ট,
১৮৭৭
(Specific Relief Act, 1877) বাংলাদেশে
১৮৭৭ সালের ভারতীয় আইন অনুসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যার উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিকার প্রদান করা, যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, বিশেষ প্রতিকার, বা আইনগত দাবির
বাস্তবায়ন। এই আইনের ধারা
৯-এ বিশেষভাবে "অবৈধ উৎখাত"
বা "দখল পুনরুদ্ধারের" বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে ইকুইটির পরিসর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ধারা ৯ মূলত ইকুইটেবল
প্রিন্সিপল অনুসরণ করে, তবে এর ইকুইটেবল
পরিসর
অত্যন্ত
সীমিত
এবং এটি কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবহৃত হয়। এই ধারাটি ইকুইটি
বা ন্যায়ের পক্ষ থেকে ট্র্যাডিশনাল কোর্ট পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা এবং উদারতা কমিয়ে দেয়, যেখানে ইকুইটেবল রিলিফের বিষয়টি অন্যভাবে প্রয়োগ হয়।
ধারা ৯ এর সংক্ষিপ্ত
বিশ্লেষণ
ধারা ৯ অনুযায়ী, যখন
কোনো ব্যক্তি তার পূর্বের দখলকৃত স্থাবর সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে উৎখাত হয়, তখন সেই ব্যক্তি ৬
মাসের
মধ্যে
আদালতে
মামলা
করে তার দখল পুনরুদ্ধারের দাবি করতে পারে। এখানে নামমাত্র
মালিকানা
বা আইনি
শিরোনাম
কোনো বিষয় নয়, বরং পূর্ব
দখল
এবং অবৈধ
উৎখাত
প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধারা ৯ এর মৌলিক
শর্তসমূহ:
·
অবৈধ
উৎখাত:
আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করা যায় কেবলমাত্র যখন অবৈধ
উৎখাত
ঘটেছে।
·
কেবল
দখল
পুনরুদ্ধার:
এই ধারার অধীনে মালিকানা বা আইনি
অধিকার
প্রশ্নে কোনো আলোচনা নেই।
·
৬
মাসের
মধ্যে
মামলা:
দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য ৬ মাসের মধ্যে
মামলা দায়ের করতে হবে।
·
কোনো
ইকুইটেবল
রিলিফ
নেই:
এখানে ইকুইটি বা ন্যায়ের পূর্ণ
বিস্তার প্রযোজ্য নয়, কারণ আদালত কেবল অবৈধ উৎখাতের প্রতিকার দেয়।
ইকুইটির পরিসর কীভাবে সীমিত?
১. মালিকানা বিষয়ক ইকুইটি প্রয়োগ হয় না
ধারা ৯-এর অধীনে
ইকুইটির
পরিসর
খুবই সংকীর্ণ, কারণ এটি কেবল
দখল
পুনরুদ্ধারের
বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।
·
মালিকানা
বা শিরোনাম
(title) এখানে
প্রশ্নে আসে না।
·
আইনি
অধিকার
বা স্বত্ব এখানে প্রভাবিত হয় না, বরং কেবল অবৈধভাবে উৎখাত হওয়ার ভিত্তিতে দখল ফিরে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ,
যেহেতু আদালত আইনি
বা
ন্যায়মুখী
বিবেচনায় প্রবেশ না করে, তাই
ইকুইটির সাধারণ প্রয়োগ সীমিত থাকে।
২. ইকুইটির স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থায় স্থান নেই
সাধারণত, ইকুইটি প্রিন্সিপল অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির অসৎ
বিশ্বাস
বা অনুমতি
ছাড়া
আচরণ
যদি তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তবে তাকে ইকুইটেবল
রিলিফ
প্রদান করা হয়। তবে ধারা
৯-এর অধীনে এই
প্রিন্সিপল বা বিচার ব্যবস্থার
জন্য কোনো বিশেষ স্থান নেই।
·
Estoppel
বা Acquiescence
ইত্যাদি ইকুইটেবল
ডিফেন্স
এখানে ব্যবহার করা যায় না।
·
নির্বিচারে
দখল
পুনরুদ্ধার
কেবল অবৈধ উৎখাতের জন্য দেয়া হয়, এখানে
ইকুইটি
ছাড়ানো
হয়।
৩. কালক্ষেপণের ধারণা (Laches) ও ইকুইটি প্রয়োগ
সাধারণ ইকুইটেবল প্রতিকারে কালক্ষেপণ বা Laches
পর্যালোচনা করা হয়—অথাৎ যদি এক ব্যক্তি খুব
দীর্ঘ সময় পর তার অধিকারের
দাবি করে, তবে আদালত তাকে প্রতিকার দিতে দ্বিধা করতে পারে। তবে ধারা
৯-এর ক্ষেত্রে ৬
মাসের মধ্যে মামলা দায়ের না করলে, তার
দখল পুনরুদ্ধার অস্বীকার করা হবে।
এটি
একটি শর্তসাপেক্ষ
প্রতিকার,
যেখানে আদালত কোনো ইকুইটেবল প্রতিরোধ বিবেচনায় আনে না।
৪. জবরদখলকারী ও সৎ ক্রেতার অধিকার
ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি
অবৈধ
উৎখাতকারী
সৎ ক্রেতা বা ন্যায়মুখী ব্যক্তি
হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ইকুইটেবল
ডিফেন্স
মঞ্জুর করা হবে না।সাধারণত, ইকুইটি এধরনের প্রেক্ষাপটে সৎ ক্রেতাকে রক্ষা
করে, কিন্তু ধারা ৯ তা প্রযোজ্য
করে না।
৫. অ্যাডভান্সড ন্যায়িক প্রতিকার (Equitable Relief) প্রযোজ্য নয়
এস.আর. অ্যাক্টের ধারা ৯–এ ইকুইটি
প্রিন্সিপল অনুযায়ী অধিক জটিল
বা
সার্বিক
প্রতিকার
(যেমন: দখল ছাড়া মালিকানা দাবি) প্রযোজ্য নয়।ক্ষতিপূরণ বা বিশেষ
প্রতিকার
এবং ইনজাঙ্কশন বা নিষেধাজ্ঞা এখানে প্রযোজ্য নয়।
উপসংহার
এস.আর.
অ্যাক্ট,
১৮৭৭-এর ধারা
৯
অনুযায়ী ইকুইটির পরিসর খুবই সীমিত। এখানে মালিকানা
বা
শিরোনাম
কোনো বিষয় নয়, কেবল অবৈধ
উৎখাত
এবং পূর্ব
দখল
পুনরুদ্ধার
করা হয়। ইকুইটি বা ন্যায়ের স্বাভাবিক
বিচার ব্যবস্থার প্রয়োগ এই ধারায় প্রযোজ্য
নয়, কারণ এটি কেবল সংক্ষিপ্ত
ও
সাময়িক
প্রতিকার
হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে বলা যায়, ধারা ৯ ইকুইটির
সুগম
পরিসরের
বাইরে
থাকে এবং আইনি
অধিকার
প্রতিষ্ঠা
নয় বরং দখল
পুনরুদ্ধারের
উদ্দেশ্যে
প্রযোজ্য।
স্থাবর
সম্পত্তির
দখল
পুনরুদ্ধারের
ক্ষেত্রে
এস.আর.
অ্যাক্টের
৮
ধারার
বিধান
আলোচনা
করুন।
ভূমিকা
এস.আর.
অ্যাক্ট,
১৮৭৭
(Specific Relief Act, 1877) বাংলাদেশে
১৮৭৭ সালের ভারতীয় আইন অনুসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যার উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিকার প্রদান করা, যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, বিশেষ প্রতিকার, বা আইনগত দাবির
বাস্তবায়ন। এস.আর. অ্যাক্টের
ধারা
৮-এর অধীনে স্থাবর
সম্পত্তির
দখল
পুনরুদ্ধারের
ব্যাপারে বিশেষ বিধান রয়েছে।
এটি প্রযোজ্য হয় যখন কোনো ব্যক্তি তার পূর্ব
দখল
থেকে অবৈধভাবে
উৎখাত
হয় এবং সেই ব্যক্তি দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়। এই ধারাটি স্বচ্ছভাবে
নির্দেশনা দেয় যে, দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কোন
ধরনের
আইনগত
ব্যবস্থা
নেওয়া হবে এবং কী
শর্ত
বা প্রতিবন্ধকতা প্রযোজ্য।
এস.আর. অ্যাক্টের ৮ ধারা — বিধান
৮ ধারা: স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার
ধারা ৮ অনুযায়ী, স্থিত স্থাবর
সম্পত্তির
দখল
পুনরুদ্ধারের
জন্য
আদালত
যে
প্রতিকার
প্রদান
করবে
তা নির্ধারণের জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ প্রযোজ্য:
·
অবৈধ
উৎখাত:
যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে তার পূর্ব দখল থেকে উৎখাত হয়, তবে তার দখল
পুনরুদ্ধারের
জন্য আদালত প্রতিকার প্রদান করবে। এই ক্ষেত্রে, আদালতকে
একমাত্র "অবৈধ
উৎখাত"
প্রমাণিত হলে প্রতিকার দিতে হবে।
·
পূর্ব
দখল
(Previous Possession):
দখল
পুনরুদ্ধার
কেবল সেই ব্যক্তির জন্য সম্ভব যিনি পূর্বে বৈধভাবে
বা
অবৈধভাবে
দখলে ছিলেন।আইনি
বা
অপরাধমূলক
দখল—এটি বিবেচ্য নয়, বরং পূর্ব
দখল
শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষে পুনরুদ্ধারযোগ্য।
·
দখল
পুনরুদ্ধারের
আদেশ:
আদালত প্রতিকার প্রদান করতে পারে এবং নির্দেশ দিতে পারে যে পূর্ব
দখলকারী
অবিলম্বে তার দখল ফিরে পাবে। এখানে, আদালত সাময়িক আদেশ (Interim orders) দিতে পারে, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী
সময়ানুবর্তী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
·
শর্ত
বা
অঙ্গীকার:
যদি আদালত মনে করে যে, পুনরুদ্ধারের সময় স্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তবে আদালত শর্তসাপেক্ষে বা নির্দিষ্ট
শর্ত
পূরণের মাধ্যমে আদেশ দিতে পারে।
৮ ধারার অধীনে দখল পুনরুদ্ধারের শর্তসমূহ
১. অবৈধ উৎখাত:
এটি ধারা
৮-এর মূল ভিত্তি।
কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে অন্য একজনকে তার পূর্ব দখল থেকে উৎখাত করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি দখল পুনরুদ্ধারের
জন্য
মামলা
করতে
পারে। অর্থাৎ, আইনি দখল
ও
অবৈধ
উৎখাত
বিচারক দ্বারা মূল্যায়ন করা হয়।
২. পূর্ব দখলের অস্তিত্ব:
আদালত সেই ব্যক্তিকে দখল পুনরুদ্ধার করতে অনুমতি দেবে যে ব্যক্তি পূর্বে (even if unlawfully) দখল
করে
ছিল। এখানে শিরোনাম বা মালিকানা শর্তের কোনো প্রয়োজন নেই, বরং কেবল পূর্ব
দখল
পুনরুদ্ধারের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।
৩. দখলকারীর অবস্থান:
প্রতিকার প্রদান করতে আদালত ঐতিহ্যগতভাবে পূর্ব
দখলকারী
বা অবৈধভাবে
উৎখাত
হওয়া
ব্যক্তির অধিকারের প্রতি সদয় হয়, যদি তার দখল অযথা বিচ্ছিন্ন না হয় এবং
যদি তার কাছে অবৈধ উৎখাতের যথাযথ প্রমাণ থাকে।
৪. আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ:
এছাড়া, প্রতিকার প্রদান করার আগে আদালত আইনানুগ
প্রক্রিয়া
অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে। আদালত পূর্ব
দখলকারী
কর্তৃক আইনগত বা বেআইনি দখলের আঙ্গিকের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করতে পারে।
দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত
১. ইনজাঙ্কশন আদেশ:
এটি সাময়িক
আদেশ
হিসেবে দেওয়া হতে পারে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা যায়।
এছাড়া, স্থাবর
সম্পত্তি
মর্মে অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে ইনজাঙ্কশন আদেশ জারি করা যেতে পারে।
২. দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয়:
যদি কোনো ব্যক্তি তার দখল
পুনরুদ্ধার
করতে
চায়,
তবে সেই ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ব্যয় বা শর্তসাপেক্ষে আদালত
থেকে অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
৩. বিপক্ষের আদালতের প্রতিরক্ষা:
কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করতে চায়, তবে তাকে শর্তসাপেক্ষে বা পূর্ব
দখলকারী
বিরুদ্ধে আদালতের কোনো আপত্তি বা বাধা প্রত্যাহার
করা সম্ভব হতে পারে।
উপসংহার
এস.আর.
অ্যাক্ট,
১৮৭৭-এর ধারা
৮-এর অধীনে স্থাবর
সম্পত্তির
দখল
পুনরুদ্ধারের
বিধান
কার্যকরভাবে অবৈধ
উৎখাত
থেকে পুনরুদ্ধার করে এবং পূর্ব
দখলকারীর অধিকারের অধীনে
তার দখল ফিরে পেতে সাহায্য করে। এই বিধান কেবল
অবৈধ
উৎখাত
না হয়ে, আইনি
শর্ত
এবং পূর্ব
দখল
উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে ধারা
৮
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের
প্রতিকারব্যবস্থা নিশ্চিত করে, যা আদালতের মাধ্যমে
সঠিকভাবে পালিত হয়।
No comments