Header Ads

Header ADS

রাজস্ব আইন চূড়ান্ত সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর ।এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা-২০২৪

 

 রাজস্ব আইন চূড়ান্ত সাজেশন  অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর ।এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা-২০২৪


৮. () কারা আয়ের বিবরণী দাখিল করতে বাধ্য?

() আবাসিক মর্যাদার অর্থ কী?

() আবাসিক মর্যাদা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

 ()আবাসিক মর্যাদা কীভাবে করদায়কে প্রভাবিত করে? |

কারা আয়ের বিবরণী দাখিল করতে বাধ্য?

কারা আয়ের বিবরণী (Income Tax Return) দাখিল করতে বাধ্য?

বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা বা প্রতিষ্ঠান আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে বাধ্য:

1.      ব্যক্তিগত করদাতা (Individuals)যে ব্যক্তি বা পরিবার আয়করযোগ্য আয় অর্জন করে।চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ইত্যাদি।যদি আয় আইনে নির্ধারিত করযোগ্য সীমার উপরে হয়।

2.      প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি (Companies/Entities)যেকোনো কোম্পানি, কর্পোরেশন, লিমিটেড কোম্পানি বা ফার্ম যা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে।যে কোম্পানির শাখা বা নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র বাংলাদেশে।

3.      স্বাধীন করদাতা শ্রেণি (Special categories) সরকারী আধা-সরকারী সংস্থা।বিদেশি সংস্থা বা প্রতিনিধি অফিস।যাদের আয় বিদেশ থেকে হলেও বাংলাদেশে আয়কর আইন অনুযায়ী রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক।

আবাসিক মর্যাদার অর্থ (Residential Status)

আবাসিক মর্যাদা হলো আয়কর আইনের একটি ধারণা যা নির্ধারণ করে যে:

কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন দেশেআবাসিকহিসেবে গণ্য হবে এবং সেই দেশের আয়কর আইনের আওতায় তার আয় কতটা করযোগ্য হবে।

সরাসরি বলতে গেলে, কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি কোন দেশে করদাতা হিসেবে বিবেচিত হবে সেটাই আবাসিক মর্যাদা।

 

মূল বৈশিষ্টষ্ট্য

  1. বসবাস বা অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারণব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের বাসস্থান/অবস্থানকাল নির্ধারণ করে আবাসিকতা।

উদাহরণ: বাংলাদেশে অর্থবছরে ১৮২ দিন বা তার বেশি থাকলে ব্যক্তিআবাসিকহিসেবে গণ্য হয়।

  1. করযোগ্য আয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণআবাসিক মর্যাদা নির্ধারণ করে যে আয় সর্বত্র (worldwide) করযোগ্য হবে নাকি শুধু দেশের মধ্যে অর্জিত আয় করযোগ্য হবে।
  2. আইনগত প্রশাসনিক গুরুত্ব

করদাতা কোন সুবিধা বা রিবেট পাবে কিনা তা আবাসিকতা নির্ধারণ করে।আন্তর্জাতিক আয় বা বিদেশি বিনিয়োগে কর প্রয়োগের ক্ষেত্রে আবাসিকতা বিশেষ ভূমিকা রাখে


 

আবাসিক মর্যাদা নির্ধারণের নিয়ম (Determination of Residential Status)

আয়কর আইনের মতে, ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়ম ভিন্ন

 

. ব্যক্তির (Individual) জন্য আবাসিক মর্যাদা

ব্যক্তি আবাসিক হিসেবে গণ্য হবে যদি:

  1. সাধারণ নিয়ম (Basic Rule)

একজন ব্যক্তি একটি অর্থবছরে (1 July – 30 June) বাংলাদেশে ১৮২ দিন বা তার বেশি বসবাস করেন।যেমন, যদি কোনো ব্যক্তি জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাসের বেশি বাংলাদেশে থাকে, তিনি আবাসিক।

  1. উপ-নিয়ম (Additional Rule)

আগের বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৯০ দিন বসবাসের হিসাব বিবেচনা করা হতে পারে (যদি আইনে উল্লেখ থাকে)।এটি সাধারণত আয়কর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এবং ব্যক্তির মোট আবাসিকতা নির্ধারণে সহায়ক।

যদি ব্যক্তি ১৮২ দিনের কম থাকে, তবে তিনি অবিবাসিক (Non-Resident)

 

. কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান (Company/Entity) জন্য আবাসিক মর্যাদা

কোম্পানি বা ফার্ম আবাসিক হিসেবে গণ্য হবে যদি:

  1. নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র (Place of Effective Management)কোম্পানির মুখ্য কার্যক্রম বা পরিচালনার কেন্দ্র বাংলাদেশে থাকে।অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালনা ব্যবসার মূল কাজ বাংলাদেশ থেকে হয়।
  2. অফিস বা শাখা (Branch/Office)দেশের মধ্যে স্থায়ী অফিস বা শাখা থাকলে কোম্পানি আংশিক বা পূর্ণত আবাসিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অবিবাসিক প্রতিষ্ঠান

3.      যদি কোম্পানির মূল কার্যক্রম বা নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে হয়, তবে এটি Non-Resident এই অবস্থায় শুধুমাত্র বাংলাদেশে অর্জিত আয়করযোগ্য।

 

4. বিশেষ বিবেচনা

সময়কাল গণনা (Days of Stay)শুধুমাত্র বাংলাদেশে বাস করা দিন গণনা করা হয়।অনলাইনে বা প্রমাণসহ রিপোর্টিংব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথি দিয়ে নিজের আবাসিক মর্যাদা প্রমাণ করতে হয়।

আবাসিক মর্যাদার প্রভাব করদায়ের ওপর (Detailed Explanation)

বাংলাদেশের আয়কর আইন অনুযায়ী করদায় নির্ধারণে আবাসিক মর্যাদা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর।

. করযোগ্য আয়ের পরিধি (Scope of Taxable Income)

আবাসিক মর্যাদা সরাসরি নির্ধারণ করে কোন আয় করযোগ্য হবে।

ধরণ

করযোগ্য আয়

আবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান

বিশ্বব্যাপী আয়করযোগ্য। অর্থাৎ, বাংলাদেশে + বিদেশে অর্জিত সব আয় করের আওতায় আসে।

'অনাবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান

শুধুমাত্র বাংলাদেশে অর্জিত আয় করযোগ্য। বিদেশে অর্জিত আয় বাংলাদেশে করযোগ্য নয়।

উদাহরণ:

·         আবাসিক ব্যক্তি: চাকরি (বাংলাদেশ), ব্যাংক সুদ (বিদেশ), রিয়েল এস্টেট থেকে ভাড়া (বিদেশ) → সব আয় বাংলাদেশে করযোগ্য।

·         'অনাবাসিক ব্যক্তি: বাংলাদেশে ভাড়া আয়, কিন্তু বিদেশে ব্যবসার আয়শুধুমাত্র বাংলাদেশে অর্জিত আয় করযোগ্য।

অর্থাৎ, আবাসিক মর্যাদা আয়করযোগ্য আয়ের পরিধি নির্ধারণ করে।


. কর হার এবং কর সুবিধা (Tax Rates and Benefits)

·         আবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান:

o    সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কর হার প্রযোজ্য।

o    বিভিন্ন ছাড়, রিবেট, এবং অন্যান্য কর সুবিধা পাওয়া যায়।

o    যেমন, ব্যক্তিগত মিটিং, নির্দিষ্ট আয় পর্যন্ত কর অব্যাহতি।

·         'অনাবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান:

o    সীমিত বা কখনও কখনও উচ্চতর কর হার প্রযোজ্য।

o    অনেক সুবিধা, যেমন নির্দিষ্ট রিবেট বা ছাড়, প্রযোজ্য নয়।

অর্থাৎ, আবাসিকরা করদায়ে সুবিধাভোগী; অবিবাসিকরা সীমিত সুবিধা পায়।


. আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রভাব (Impact on Filing Return)

·         আবাসিক:

o    বিশ্বব্যাপী আয়ের রিপোর্ট করতে হবে।

o    বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

'অনাবাসিক শুধুমাত্র বাংলাদেশে অর্জিত আয় রিপোর্ট করতে হবে।

o    বিদেশে অর্জিত আয় রিপোর্ট করার প্রয়োজন নেই।

অর্থাৎ, আবাসিকদের জন্য রিটার্ন প্রস্তুতি এবং তথ্য সংগ্রহ বেশি।


. আন্তর্জাতিক লেনদেন উৎস কর (International Transactions & Source Tax)

·         আবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান:

o    বিদেশ থেকে আয় হলেও বাংলাদেশে কর দিতে হবে।

o    তবে, ডাবল ট্যাক্স এগ্রিমেন্ট (DTA) অনুযায়ী বিদেশে প্রদত্ত কর ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হতে পারে।

·         'অনাবাসিক ব্যক্তি / প্রতিষ্ঠান:

o    বাংলাদেশে উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় করযোগ্য।

o    বিদেশে অর্জিত আয় বাংলাদেশে করযোগ্য নয়।

o    DTA সুবিধা সীমিত।

অর্থাৎ, আবাসিক মর্যাদা আন্তর্জাতিক আয়কর দায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

 

. করদায়ের চূড়ান্ত প্রভাব (Summary of Tax Impact)

1.      কত আয়কর দিতে হবে:

o    আবাসিকবিশ্বব্যাপী আয়, বেশি করদায়

o    'অনাবাসিকসীমিত আয়, কম বা ভিন্ন করদায়

2.      কর সুবিধা:

o    আবাসিকপূর্ণ সুবিধা ছাড়

o    'অনাবাসিকসীমিত সুবিধা

3.      রিটার্ন বাধ্যবাধকতা:

o    আবাসিকসম্পূর্ণ আয় রিপোর্ট

o    'অনাবাসিকদেশীয় আয় রিপোর্ট

4.      আন্তর্জাতিক লেনদেন:

o    আবাসিক → DTA সুবিধা প্রয়োগ করে দ্বিগুণ কর এড়ানো যায়

o    'অনাবাসিকসীমিত সুবিধা

 

(ক) কর নির্ধারণ কী?

() কর নির্ধারণী চক্রের ধাপগুলো আলোচনা কর

() নিম্নোক্ত বিষয়ের কর নির্ধারণ কীভাবে করা হয়? (i) মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে (ii) ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে (iii) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে।

 

() কর নির্ধারণ কী? (What is Tax Assessment?)

কর নির্ধারণ (Tax Assessment) হলো:

সরকার বা কর কর্তৃপক্ষ দ্বারা করদাতার আয়, ব্যবসা বা সম্পদের উপর প্রযোজ্য আয়কর, সম্পদ কর বা অন্যান্য করের পরিমাণ নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া।

মূল ধারণা:

·         এটি করদাতার আয় খরচের ভিত্তিতে কর ধার্য করা

·         কর নির্ধারণের সময় আইন অনুযায়ী কর হারের প্রয়োগ, ছাড়/রিবেট বিবেচনা, এবং যথাযথ হিসাব করা হয়।

উদাহরণ:

1.      একজন ব্যবসায়ী বছরে ১০ লাখ টাকার আয় করেছেন। কর হার ১০%

o    কর নির্ধারণ = ১০ লাখ × ১০% = ,০০,০০০ টাকা।

2.      যেখানে আয় কিছু ছাড় বা বিনিয়োগের সুবিধা আছে, তা বাদ দিয়ে নির্ধারিত কর কমানো হয়।

 

() কর নির্ধারণী চক্রের ধাপ (Steps of Tax Assessment Cycle)

কর নির্ধারণ একটি প্রক্রিয়াগত চক্র। এর ধাপগুলো নিম্নরূপ:

. রিটার্ন দাখিল (Filing of Tax Return)

করদাতা বা ব্যবসায়ী আয়ের বিবরণী (Income Tax Return) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দেয়।রিটার্নে উল্লেখ থাকে: আয়, খরচ, ছাড়, রিবেট, বিনিয়োগ ইত্যাদি।

উদাহরণ:

একজন ব্যবসায়ী তার বাৎসরিক আয়, ব্যয়, এবং অন্যান্য লেনদেনের বিবরণ রিটার্নে দাখিল করেন।

 

. প্রাথমিক যাচাই (Preliminary Verification)

·         কর কর্তৃপক্ষ রিটার্ন যাচাই করে।

·         যদি আয়, ব্যয় বা দাখিলকৃত তথ্য সঠিক এবং পূর্ণ হয়, তাহলে প্রাথমিক নির্ধারণ করা হয়।

 

. প্রয়োজনীয় তথ্য/দলিল সংগ্রহ (Information Collection)

·         প্রয়োজন অনুযায়ী কর অফিসার অতিরিক্ত দলিল বা তথ্য চাইতে পারে।যেমন: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খরচের রশিদ, ব্যবসায়িক নথি।

 

. নির্ধারণ/মূল্যায়ন (Assessment / Evaluation)

সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কর অফিসার করদাতার আয় এবং খরচ যাচাই করে কর নির্ধারণ করেন।

·         Step-by-Step:

1.      মোট আয় নির্ধারণ

2.      যোগ্য খরচ, বিনিয়োগ, ছাড় বাদ

3.      অবশিষ্ট আয়ের উপর নির্ধারিত কর হার প্রয়োগ

4.      কর নির্ধারণের পরিমাণ চূড়ান্ত করা

 

. চূড়ান্ত রায় (Final Assessment / Tax Demand Notice)

·         কর অফিসার চূড়ান্ত রায় জারি করেন।করদাতাকে জানান পরিশোধযোগ্য কর, জরিমানা সুদের তথ্য।

 

. আপীলের সুযোগ (Appeal)

·         যদি করদাতা অসন্তুষ্ট হন, তিনি কেন্দ্রীয় আয়কর কমিশনার বা ITAT-এর কাছে আপীল করতে পারেন।চূড়ান্ত রায় না হলে পরবর্তী আদালতের কাছে অভিযোগ করা যায়।

 

() বিশেষ পরিস্থিতিতে কর নির্ধারণ (Special Cases)

(i) মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে (Deceased Person)

·         মৃত ব্যক্তির আয়কর মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

·         নির্ধারণের প্রক্রিয়া:

1.      করদাতার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারী বা প্রাপক/Executor আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।

2.      মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্ববর্তী আয় এবং ব্যয় যাচাই করা হয়।

3.      Executor বা উত্তরাধিকারী চূড়ান্ত কর পরিশোধ করে।

·         উদাহরণ:

o    ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৬০ লাখ টাকা। মৃত্যু তারিখে ১৮ লাখ টাকা আয় অর্জিত।

o    Executor ১৮ লাখ টাকা ভিত্তিতে কর নির্ধারণ পরিশোধ করেন।

 

(ii) ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে (Business Closure)

·         ব্যবসা বন্ধ হলে শেষ বা সাম্প্রতিক হিসাবের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হয়।

·         ধাপ:

1.      ব্যবসার শেষ দিনের হিসাব প্রস্তুত করা।

2.      আয় ব্যয় নিরূপণ করা।

3.      সমস্ত লিকুইডেশন/মূলধন/অ্যাসেট বিক্রয় বিবেচনা করে আয় নির্ধারণ।

4.      ব্যবসার বন্ধ হওয়ার পরবর্তী কর অফিসার চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করেন।

উদাহরণ:

·         ব্যবসা বন্ধের সময় মোট আয় লাখ, ব্যয় লাখ। অবশিষ্ট আয় লাখ × কর হার = চূড়ান্ত কর।

 

(iii) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে (Hindu Undivided Family – HUF)

·         HUF একটি স্বতন্ত্র করদাতা হিসেবে গণ্য হয়।

·         কর্মক্ষেত্রে কর নির্ধারণের ধাপ:

1.      HUF-এর ব্যবসা, সম্পদ, বিনিয়োগ থেকে আয় নির্ধারণ।

2.      সকল বৈধ খরচ ছাড় বাদ।

3.      অবশিষ্ট আয়নির্ধারিত কর হার প্রয়োগ।

·         উদাহরণ:

o    HUF-এর ব্যবসায়িক আয় ১০ লাখ।

o    বৈধ ব্যয় ছাড় বাদঅবশিষ্ট আয় লাখ।

o    নির্ধারিত কর হারের ভিত্তিতে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ।


 

৮।() সংক্ষেপে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর বর্ণনা দাও।

() সংক্ষেপে কর আইনের উপাদানগুলো বর্ণনা কর, যেগুলো অত্র আইনের উৎস হিসেবে গণ্য

() কর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন একজন উপকর কমিশনার  তার ক্ষমতা কার্যাবলি আলোচনা কর।

 

 

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ (Income Tax Ordinance, 1984)

সংজ্ঞা:

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ হলো বাংলাদেশে আয়কর ধার্য আদায়ের মূল আইন। এটি করদাতা, কর নির্ধারণ, কর হার, রিটার্ন, কর ছাড় শাস্তি-সহ আয়কর সম্পর্কিত সকল নিয়ম নির্ধারণ করে।

 

. প্রেক্ষাপট (Background)

·         ১৯৮৪ সালে প্রবর্তিত।এর উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে আয়কর ব্যবস্থা মানকীকরণ প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর করা।পূর্বের আয়কর আইনগুলোর পরিবর্তে আধুনিক, একীকৃত আইন।

 

. লক্ষ্য উদ্দেশ্য (Objectives)

1.      আয়কর ধার্য সংগ্রহ:

ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, ফার্ম ট্রাস্টের আয় সম্পদের উপর সঠিক কর ধার্য।

2.      করযোগ্য আয় নির্ধারণ:

আয়কে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে:

§  বেতন/সেলারি

§  ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়

§  সম্পত্তি থেকে আয় (ভাড়া, লিজ ইত্যাদি)

§  পুঁজি অন্যান্য আয় (লভ্যাংশ, সুদ, লাভ-ক্ষতি)

3.      কর হার সুবিধা:

o    আয় অনুযায়ী কর হার প্রয়োগ।

o    বিনিয়োগ, দান অন্যান্য ক্ষেত্রে কর ছাড় বা রিবেট।

4.      রিটার্ন দাখিল কর নির্ধারণ:

o    করদাতা সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন।

o    কর অফিসার আয় যাচাই করে প্রাথমিক বা চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করবেন।

5.      শাস্তি জরিমানা:

o    রিটার্ন না দাখিল বা ভুল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে জরিমানা এবং সুদের বিধান।

6.      আপীল উচ্চতর আদালতের নিয়ম:

o    করদাতা আপীল করতে পারবেন, চূড়ান্ত রায় না হলে উচ্চতর ট্রাইব্যুনাল বা কমিশনারের কাছে অভিযোগ করা যাবে।

 

. বৈশিষ্ট্য (Key Features)

1.      সাধারণ প্রযোজ্যতা:

o    আইনটি সব ধরনের করদাতার জন্য প্রযোজ্য (ব্যক্তি, কোম্পানি, ফার্ম, HUF)

2.      আয় শ্রেণিবিন্যাস:

o    আয়কে উৎস অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে কর নির্ধারণ সহজ।

3.      আবাসিকতা ভিত্তিক কর ব্যবস্থা:

o    আবাসিক বা অনাবাসিক ব্যক্তির আয় এবং করযোগ্যতা আলাদা।

4.      সরাসরি প্রকাশ্য বিধান:

o    কর নির্ধারণ, রিটার্ন দাখিল শাস্তি সবই স্পষ্টভাবে উল্লেখ।

 

 

কর আইনের উপাদান (Components of Tax Law) – বাংলাদেশে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী

সংজ্ঞা:

কর আইন কার্যকর হওয়ার জন্য যেসব উপাদান বা ভিত্তি থাকে, সেগুলোকে কর আইনের উপাদান বলা হয়। এগুলোই আইন প্রণয়ন প্রয়োগের উৎস হিসেবে গণ্য হয়।

 

. করযোগ্য আয় (Taxable Income)

·         সংজ্ঞা: যে আয় কর যোগ্য এবং আইনের আওতায় পড়ে।

·         উৎস:

1.      ব্যক্তিগত আয়: বেতন, ভাতা, বোনাস ইত্যাদি।

2.      ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়: লাভ, পরিষেবা থেকে আয়।

3.      সম্পত্তি থেকে আয়: ভাড়া, লিজ, রিয়েল এস্টেট বা অন্যান্য সম্পত্তি।

4.      পুঁজি/অন্যান্য আয়: সুদ, লভ্যাংশ, বিক্রয় লাভ।

উদাহরণ: একজন চাকরিজীবীর বেতন, ব্যাংক সুদ, রিয়েল এস্টেট ভাড়া সবই করযোগ্য।

 

. কর হার (Tax Rates)

·         সংজ্ঞা: আয়ের উপর প্রয়োগকৃত হার, যা আয়কর ধার্য করার জন্য মূল ভিত্তি।

·         প্রকার:

o    ব্যক্তিগত কর হার: ব্যক্তি আবাসিক নাগরিকের জন্য আলাদা।

o    কোম্পানি কর হার: কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ফার্ম অবিভক্ত পরিবার (HUF)

o    অনাবাসিক কর হার: বিদেশে বসবাসকারী বা বিদেশী সংস্থার জন্য।

উদাহরণ: আয় ১০ লাখ, কর হার ১০% → কর = লাখ।

 

. কর ছাড়, রিবেট অব্যাহতি (Exemptions and Rebates)

·         সংজ্ঞা: আইনের আওতায় এমন আয় বা বিনিয়োগ যেটির ওপর কর প্রযোজ্য হয় না বা হ্রাস করা হয়।

·         উদাহরণ:

o    দাতব্য তহবিলে দান করা অর্থ।

o    শিক্ষাবৃত্তি বা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ।

o    নির্দিষ্ট সীমার আয় পর্যন্ত কর অব্যাহতি।

কর আইন এই সুযোগগুলো দিয়ে করদাতাকে সুবিধা দেয়।

 

. আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return)

·         সংজ্ঞা: করদাতার আয়, ব্যয়, ছাড় এবং অন্যান্য তথ্যের বিবরণ যা নিয়মিতভাবে জমা দিতে হয়।

·         উদ্দেশ্য:

1.      আয় যাচাই করা।

2.      কর নির্ধারণের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা।

3.      সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহ।

রিটার্ন হল কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মূল উৎস।

 

. কর নির্ধারণ (Assessment of Tax)

·         সংজ্ঞা: কর অফিসার কর্তৃক আয়, খরচ এবং সুবিধা যাচাই করে কর ধার্য করার প্রক্রিয়া।

·         ধাপ:

1.      রিটার্ন যাচাই

2.      প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ

3.      আয়-ব্যয় যাচাই

4.      কর নির্ধারণ চূড়ান্ত রায় জারি

কর নির্ধারণ হল আইন প্রয়োগের প্রধান ধাপ।

 

. শাস্তি জরিমানা (Penalties and Fines)

·         সংজ্ঞা: রিটার্ন না দেওয়া, ভুল তথ্য দেওয়া বা কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য আইনের বিধান।

·         উদ্দেশ্য: আইন অমান্যকারীদের দমন কর আদায় নিশ্চিত করা।

উদাহরণ: রিটার্ন দাখিল না করলে সুদ বা জরিমানা প্রযোজ্য।

 

. আপীল উচ্চতর কর্তৃপক্ষ (Appeals and Higher Authorities)

·         সংজ্ঞা: করদাতার অধিকার, যদি কর নির্ধারণে কোনো অসন্তোষ থাকে, তিনি আপীল করতে পারবেন।

·         উচ্চতর কর্তৃপক্ষ:

o    কেন্দ্রীয় আয়কর কমিশনার

o    আপীল ট্রাইব্যুনাল

o    সুপ্রীম কোর্ট (চূড়ান্ত রায়)

এটি করদাতার জন্য ন্যায্যতা আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

উপকর কমিশনারের ক্ষমতা (Powers of Assistant Commissioner of Taxes)

সংজ্ঞা:

উপকর কমিশনার হলেন আয়কর আইন অনুযায়ী প্রাথমিক কর নির্ধারণ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনাকারী কর্মকর্তা, যার কাছে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে কর আইন বাস্তবায়নের জন্য।

 

. রিটার্ন যাচাই মূল্যায়ন ক্ষমতা

·         করদাতার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন যাচাই করা।

·         আয়, ব্যয়, ছাড় করযোগ্য সুবিধা যাচাই করে প্রাথমিক বা চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা।

 

. কর নির্ধারণ আদায় ক্ষমতা

·         কর নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ সম্পাদন করা।

·         নির্ধারিত কর, জরিমানা সুদ আদায় নিশ্চিত করা।

·         সরকারকে সঠিক সময়মতো কর প্রদান নিশ্চিত করা।

 

. তথ্য দলিল সংগ্রহের ক্ষমতা

·         ব্যাংক, ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্য চাওয়ার অধিকার।

·         ব্যবসায়িক নথি, চালান, রশিদ বা অন্যান্য দলিল সংগ্রহ করে কর যাচাই করা।

 

. প্রাথমিক আপীল গ্রহণ ক্ষমতা

·         করদাতার অভিযোগ বা আপীল গ্রহণ।

·         আপীল যাচাই প্রাথমিক রায় প্রদান।

·         চূড়ান্ত রায়ের আগে করদাতাকে ন্যায্য সুযোগ প্রদান।

 

. বিশেষ পরিস্থিতিতে কর নির্ধারণ ক্ষমতা

·         মৃত ব্যক্তির আয়কর নির্ধারণ।

·         ব্যবসা বন্ধ বা লিকুইডেশন পরিস্থিতিতে কর নির্ধারণ।

·         হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (HUF) আয়কর নির্ধারণ।

 

. তদন্ত অনিয়ম শনাক্ত করার ক্ষমতা

·         সন্দেহজনক বা অসম্পূর্ণ রিটার্নের ক্ষেত্রে তদন্ত।

·         কর ফাঁকি বা তথ্য লুকানোর চেষ্টা শনাক্ত করা।

·         প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া।

উপকর কমিশনারের কার্যাবলি (Functions / Responsibilities)

উপকর কমিশনার আয়কর প্রশাসনে প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কার্যাবলি মূলত কর নির্ধারণ, রিটার্ন যাচাই, কর আদায়, তথ্য সংগ্রহ প্রাথমিক আপীল প্রক্রিয়া কেন্দ্রিক।

 

. রিটার্ন যাচাই মূল্যায়ন (Verification of Returns)

·         করদাতার দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন পরীক্ষা করা।

·         আয়, ব্যয়, ছাড় করযোগ্য সুবিধা যাচাই করা।

·         রিটার্নে ভুল, অসম্পূর্ণ বা অনিয়ম থাকলে নোটিশ জারি করা।

উদাহরণ: একজন ব্যবসায়ী আয়করের হিসাব ভুলে বেশি ছাড় দাবি করলে, কমিশনার তা যাচাই করেন।

 

. কর নির্ধারণ (Assessment of Tax)

·         প্রাথমিক বা চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা।

·         আয় যাচাই করে ব্যয় বাদ, কর হার প্রয়োগ।

·         প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে করদাতাকে কর পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া।

উদাহরণ: একজন চাকরিজীবীর বেতন + ভাতা যাচাই করে কর ধার্য করা।

 

. কর আদায় সুদ নির্ধারণ (Collection of Tax & Interest)

·         নির্ধারিত কর, জরিমানা সুদ আদায় নিশ্চিত করা।

·         সময়মতো কর না দেওয়া হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।

উদাহরণ: রিটার্ন দাখিল না করলে সুদ বা জরিমানা ধার্য করা।

 

. তথ্য দলিল সংগ্রহ (Information & Document Collection)

·         ব্যাংক, ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া।

·         ব্যবসায়িক নথি, চালান, রশিদ বা অন্যান্য দলিল সংগ্রহ।

·         সন্দেহজনক বা অসম্পূর্ণ রিটার্নের ক্ষেত্রে তদন্ত।

উদাহরণ: সন্দেহ হলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যবসায়িক হিসাব চাইতে পারেন।

 

. প্রাথমিক আপীল গ্রহণ (Preliminary Appeal Handling)

·         করদাতার আপীল গ্রহণ প্রাথমিক মূল্যায়ন।

·         চূড়ান্ত রায়ের আগে ন্যায্য সুযোগ দেওয়া।

উদাহরণ: করদাতা মনে করেন তার আয় ভুলভাবে নির্ধারণ হয়েছেউপকর কমিশনার আপীল শুনবেন।

 

. বিশেষ পরিস্থিতিতে কর নির্ধারণ (Special Cases Handling)

·         মৃত ব্যক্তির আয়কর নির্ধারণ।

·         ব্যবসা বন্ধ বা লিকুইডেশন পরিস্থিতিতে কর নির্ধারণ।

·         হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) বা অন্যান্য বিশেষ আয়কর নির্ধারণ।

উদাহরণ: মৃত ব্যক্তির শেষ আয়কর বা বন্ধ হওয়া ব্যবসার কর হিসাব করা।

 

. করদাতাকে পরামর্শ নির্দেশনা (Guidance to Taxpayers)

·         রিটার্ন দাখিল, কর নির্ধারণ শাস্তি সম্পর্কিত প্রাথমিক পরামর্শ।

·         করদাতার আইন মেনে চলার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান।

৮ ক) কর অবকাশ বলতে কী বুঝ? বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কী কী খাতে কী কী শর্তে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হয়?

() তুমি কি মনে কর, কর অবকাশ পদ্ধতি বাংলাদেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কোনো সুফল বয়ে আনবে? তোমার ধারণা বর্ণনা কর

 

কর অবকাশ বলতে কী বুঝ

কর অবকাশ বলতে বোঝায় আইনগতভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয়কর বা করের কিছু অংশ থেকে করদাতাকে পূর্ণ বা আংশিক অব্যাহতি দেওয়া, যাতে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা যায়। অর্থাৎ, করদাতা নির্দিষ্ট শর্তে লাভ বা আয়ের উপর কর দায়বদ্ধতা থেকে সাময়িক মুক্তি পায়।

 

কর অবকাশের আওতায় খাত শর্তসমূহ (Income Tax Ordinance অনুযায়ী)

বাংলাদেশে কর অবকাশ সুবিধা মূলত নতুন বিনিয়োগ শিল্পায়ন উৎসাহিত করার জন্য প্রদত্ত হয়। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এবং সংশোধনী আইন অনুসারে বিভিন্ন খাত শর্ত নির্ধারিত।

 

. নতুন শিল্প উৎপাদন খাত (New Industrial Units)

উদ্দেশ্য: নতুন শিল্পায়ন, উৎপাদন সম্প্রসারণ, বিদেশি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ আকর্ষণ।

কর অবকাশ সুবিধা:

·         প্রাথমিক কয়েক বছরের (সাধারণত ১০ বছর) আয়কর অব্যাহতি।

·         বিনিয়োগের পরই সুবিধা প্রযোজ্য।

শর্তাবলী:

1.      শিল্প/প্রতিষ্ঠান নতুন হতে হবে। পূর্বে স্থাপিত প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।

2.      প্রয়োজনীয় লাইসেন্স অনুমোদন থাকতে হবে।

3.      উৎপাদন/সেবা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

4.      সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেদন অডিট জমা দিতে হবে।

 

. রপ্তানিমুখী শিল্প (Export-Oriented Industries)

উদ্দেশ্য: রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।

কর অবকাশ সুবিধা:

·         রপ্তানি আয় থেকে আয়কর অব্যাহতি।

·         নতুন রপ্তানিমুখী শিল্পকে প্রথম কয়েক বছরের জন্য করমুক্ত রাখা।

শর্তাবলী:

1.      রপ্তানি-উদ্দেশ্যে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

2.      নির্দিষ্ট পরিমাণ বা মানদণ্ড অনুযায়ী রপ্তানি করতে হবে।

3.      সরকারী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

 

. প্রযুক্তি নির্ভর বা উদ্ভাবনী শিল্প (Technology or Innovation-Based Industries)

উদ্দেশ্য: নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তন দক্ষ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি।

কর অবকাশ সুবিধা:

·         নতুন প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনী শিল্পের আয়কর থেকে অব্যাহতি।

·         বিদেশী বিনিয়োগ বা যৌথ উদ্যোগে সুবিধা বেশি।

শর্তাবলী:

1.      নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন ব্যবহার করতে হবে।

2.      নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর অবকাশ।

3.      উৎপাদন/পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করা আবশ্যক।

 

. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল / ইপিজেড (Special Economic Zones / EPZ)

উদ্দেশ্য: বিশেষ অঞ্চলে শিল্পায়ন রপ্তানি বৃদ্ধি।

কর অবকাশ সুবিধা:

·         ইপিজেডে স্থাপিত নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রথম কয়েক বছরের আয়কর অব্যাহতি।

শর্তাবলী:

1.      ইপিজেড বা বিশেষ অঞ্চল সরকারের অনুমোদিত হতে হবে।

2.      নতুন শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা।

3.      উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

 

. হালকা শিল্প ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (Small or Cottage Industries)

উদ্দেশ্য: ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা।

কর অবকাশ সুবিধা:

·         ছোট বা নতুন ব্যবসার আয়কর থেকে আংশিক বা পূর্ণ অব্যাহতি।

·         সময়সীমা বছর সাধারণত।

শর্তাবলী:

1.      নতুন বা সম্প্রসারিত ক্ষুদ্র শিল্প।

2.      সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলা।

(খ) তুমি কি মনে কর, কর অবকাশ পদ্ধতি বাংলাদেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কোনো সুফল বয়ে আনবে? তোমার ধারণা বর্ণনা কর বিস্তারিত

 

কর অবকাশ এবং বাংলাদেশের শিল্পায়ন

কর অবকাশ (Tax Holiday) হলো একটি নীতি যার মাধ্যমে সরকার কিছু নির্দিষ্ট শিল্প, প্রকল্প বা বিনিয়োগকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করমুক্ত রাখে, যাতে নতুন শিল্পায়ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা যায়। এটি প্রায়শই আয়কর (Corporate Income Tax) ছাড়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, কর অবকাশ বিশেষভাবে নতুন শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর খাত এবং পুনর্বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য প্রযোজ্য।

 

কর অবকাশের সম্ভাব্য সুফল বাংলাদেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে

1.      নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কর অবকাশের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন শিল্প স্থাপন বা বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারণে উৎসাহিত হয়।

o    উদাহরণ: রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস বা আইটি খাতে কর অবকাশ দিলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী হবে।

2.      চাকরি সৃষ্টি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
নতুন শিল্পায়নের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের প্রয়োজন হয়, ফলে শহর গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়ে।

o    এটি সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়ক।

3.      প্রযুক্তি দক্ষতা স্থানান্তর
বিদেশি বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী শিল্পগুলি কর অবকাশ পেলে তাদের দেশে নতুন প্রযুক্তি আনা সহজ হয়।

o    স্থানীয় শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ হয়।

o    উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পায়ন টেকসই হয়।

4.      রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন
রপ্তানিমুখী শিল্পকে কর অবকাশ দিলে তারা বিদেশে পণ্য বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।

o    এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

5.      শিল্পায়ন অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি
কর অবকাশ নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিতে চূড়ান্ত প্রভাব ফেলে।

o    স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।

o    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

 

সীমাবদ্ধতা ঝুঁকি

1.      সরকারের রাজস্ব ক্ষতি
কর অবকাশ চলাকালীন সময়ে আয়কর আয় কমে যায়।

o    দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজেটের ওপর চাপ ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা সফল না হয়।

2.      অসাম্যপূর্ণ সুবিধা
বড় বা বিদেশি কোম্পানিগুলি কর অবকাশ থেকে বেশি লাভবান হয়।

o    ক্ষুদ্র স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তুলনায় তারা সুবিধা পায় বেশি।

3.      দীর্ঘমেয়াদে স্থায়িত্বের সমস্যা
কর অবকাশ শেষ হলে কিছু শিল্প টেকসইভাবে চলতে নাও পারে।

o    শিল্প স্থানান্তর বা কার্যক্রম কমাতে পারে।

4.      শুধু কর অবকাশে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়

o    অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ শ্রমশক্তি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বাজার সম্প্রসারণএগুলো ছাড়া কর অবকাশ অল্পকালীন সুবিধা দেয়।

 

উপসংহার আমার ধারণা

কর অবকাশ বাংলাদেশে শিল্পায়নের জন্য প্রাথমিক প্রণোদনা হিসেবে কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে নতুন শিল্প, রপ্তানিমুখী খাত প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে।

তবে এটি স্বতন্ত্র নীতি হিসেবে নয়, সমন্বিত নীতি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। অর্থাৎ:

·         কর অবকাশের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ শ্রমিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে হবে।

·         শুধুমাত্র কর অবকাশ দিলে শিল্পায়ন অল্পমেয়াদী সুবিধা দেয়, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শিল্পায়ন নিশ্চিত হয় না।

পরিশেষে কর অবকাশ একটি উৎসাহমূলক হাতিয়ার, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শিল্পায়নের প্রাথমিক ধাক্কা দিতে পারে, কিন্তু টেকসই সবল শিল্পায়নের জন্য এটি একাই যথেষ্ট নয়।

 

No comments

Powered by Blogger.