Header Ads

Header ADS

যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবন্দীদের তত্তাববধান সম্পর্কে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে কী বিধান রয়েছে তা আলোচনা কর।

 

২. যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবন্দীদের তত্তাববধান সম্পর্কে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে কী বিধান রয়েছে তা আলোচনা কর।

 

. জেনেভা কনভেনশন (১৯৪৯) – প্রেক্ষাপট

প্রতিষ্ঠা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চারটি জেনেভা কনভেনশন গৃহীত হয়।

উদ্দেশ্য:

    1. যুদ্ধের সময় মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা
    2. নিরীহ মানুষ যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা
    3. আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ নিয়ন্ত্রণ

চারটি কনভেনশন:

    1. প্রথম কনভেনশন: আহত অসুস্থ সৈন্যদের সুরক্ষা।
    2. দ্বিতীয় কনভেনশন: সমুদ্রযুদ্ধের আহত অসুস্থ সৈন্য।
    3. তৃতীয় কনভেনশন: যুদ্ধবন্দীদের তত্তাবধান সুরক্ষা
    4. চতুর্থ কনভেনশন: বেসামরিক জনসাধারণের নিরাপত্তা

 

. যুদ্ধবন্দীদের তত্তাবধান (তৃতীয় কনভেনশন)

প্রধান বিধানসমূহ

  1. যুদ্ধবন্দীর সংজ্ঞা: সেনা, কমান্ডার বা যুদ্ধে সক্রিয় থাকা যেকোনো ব্যক্তি, যাকে শত্রু পক্ষ আটক করেছে
  2. মানবিক আচরণ:বন্দীদের শারীরিক মানসিকভাবে নিরাপদ রাখা। নির্যাতন, নিপীড়ন, অপমান বা যৌন নির্যাতন নিষিদ্ধ।
  3. স্বাস্থ্য চিকিৎসা:পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি, ওষুধ চিকিৎসা প্রদান বাধ্যতামূলক।
  4. আবাসন জীবনযাপন: যুদ্ধবন্দীদের থাকার জন্য নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করা। মৌলিক জীবনের সুবিধা, যেমন ঘুম, বিশ্রাম, পোষাক।
  5. শ্রম কাজ: বন্দীদেরকে কাজ করানো যেতে পারে, তবে বেহায়া, বিপজ্জনক বা যুদ্ধসংক্রান্ত কাজে বাধ্য করা যাবে না। শ্রমের ক্ষেত্রে বয়স, স্বাস্থ্য সামর্থ্য বিবেচনা করতে হবে।
  6. আইনি প্রক্রিয়া: বন্দীকে যে কোনো শাস্তি বা বিচার দেওয়ার আগে ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মৃত্যুদণ্ড বা সাজা দেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক আইন ট্রাইব্যুনালের নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
  7. যোগাযোগ তথ্য: যুদ্ধবন্দীদের পরিবার আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। যেমন: আন্তর্জাতিক লাল ক্রস বা হিউম্যানিটেরিয়ান সংস্থা।

 

বেসামরিক জনসাধারণের সুরক্ষা (চতুর্থ কনভেনশন)

প্রধান বিধানসমূহ

  1. সরাসরি আক্রমণ থেকে সুরক্ষা: যুদ্ধকালীন সময়ে নিরীহ নাগরিক, শিশু, নারী বয়স্কদের উপর সরাসরি আক্রমণ নিষিদ্ধ। নগরী বসতি স্থাপনাকে অযৌক্তিক ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে হবে।
  2. জোরপূর্বক স্থানান্তর নিষেধ: নাগরিকদের বাধ্যতামূলক স্থানান্তর (forced displacement) সীমিত নিয়মিত হতে হবে।
  3. খাদ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা: নাগরিকদের খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য সেবা আশ্রয় প্রদান বাধ্যতামূলক।
  4. মানবিক আচরণ: নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন মানসিক নিপীড়ন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পরিবার সম্প্রদায় ভাঙার কাজ করা যাবে না।
  5. আবাসন নিরাপদ অঞ্চল: নাগরিকদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল (safe zones) স্থাপন করা যেতে পারে। শিশু নারীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  6. শরণার্থী বন্দী নাগরিকদের সুরক্ষা: শরণার্থী শিবির বা ক্যাম্পে বেসামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুদ্ধবন্দী বেসামরিকদের পৃথক রাখার বাধ্যবাধকতা।

 

উপসংহার:
১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধকালীন মানবিক আচরণ নিশ্চিত করে। যুদ্ধবন্দী বেসামরিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ, মানবাধিকার সংরক্ষণ শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

 

 

No comments

Powered by Blogger.