Header Ads

Header ADS

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন-এর প্রতিষ্ঠা, গঠন এবং কার্যাবলি সংক্ষেপে আলোচনা কর। এই সংগঠনটির দুর্বলতাগুলো কী কী?

 

৩. মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন-এর প্রতিষ্ঠা, গঠন এবং কার্যাবলি সংক্ষেপে আলোচনা কর। এই সংগঠনটির দুর্বলতাগুলো কী কী?

প্রতিষ্ঠাঃ

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (UN Commission on Human Rights) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে

এটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)-এর অধীন একটি সহায়ক সংস্থা হিসেবে গঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন প্রচার করা। এই কমিশনের তত্ত্বাবধানেই পরবর্তীতে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (১৯৪৮) প্রণীত হয়।

 

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (UN Commission on Human Rights)-এর গঠন সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো

কমিশনটি গঠিত ছিল মোট ৫৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে।সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক সামাজিক পরিষদ (ECOSOC) নির্বাচন করত।সদস্যদের মেয়াদ ছিল সাধারণত বছর। সদস্য নির্বাচন করা হতো ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে, যাতে সব অঞ্চল থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।কমিশনটি প্রতি বছর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিয়মিত অধিবেশন করত।কমিশনের অধীনে বিভিন্ন উপ-কমিশন, বিশেষ ্যাপোর্টিয়র, ওয়ার্কিং গ্রুপ বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করত।

 

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (UN Commission on Human Rights)-এর কার্যাবলি সংক্ষেপে নিম্নরূপ

 

. মানবাধিকার নীতি দলিল প্রণয়ন

কমিশনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নীতিমালা তৈরি পর্যালোচনা করত। গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যেমন সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR, 1948)-এর প্রণয়নে সহায়তা করেছিল

. মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত

বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়র এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়োগ করে বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা

. আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি

মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড চালানো

. জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর পরামর্শ

সাধারণ পরিষদ ECOSOC-কে মানবাধিকার সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান

. নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের পর্যবেক্ষণ

মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রস্তাব সুপারিশ প্রদান

 

পরিশেষে কমিশনের মূল কার্যাবলি ছিল মানবাধিকার সংরক্ষণ, লঙ্ঘনের তদন্ত, নীতি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধি


 

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন এই সংগঠনটির দুর্বলতাগুলো কী কী?

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (UN Commission on Human Rights)এর মূল দুর্বলতাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ

 

রাজনৈতিক প্রভাব

অনেক সময় মানবাধিকার বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষমতার প্রভাব প্রধান হয়ে দাঁড়াত। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো নিজের স্বার্থ অনুযায়ী কমিশনের কাজ প্রভাবিত করত।

২. লঙ্ঘনকারী রাষ্ট্রের সদস্যপদ

কমিশনের অনেক সদস্যই নিজেরাই মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত রাষ্ট্র ছিল। এতে কমিশনের নিরপেক্ষতা বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হত।

৩.কার্যকর শাস্তিমূলক ক্ষমতার অভাব

কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো বাধ্যতামূলক নয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব ছিল না।

দ্বৈত মানদণ্ড (Double Standard)

কিছু দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আবার অন্য দেশের ক্ষেত্রে নীরবতা। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতো।

ধীর অকার্যকর প্রক্রিয়া

সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ জটিল জরুরি মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা নিতে অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হত।

উপসংহার:
এই দুর্বলতার কারণে ২০০৬ সালে কমিশনটি বিলুপ্ত করে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (UN Human Rights Council) প্রতিষ্ঠা করা হয়, যাতে আরও কার্যকর, দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব হয়।

 

 

No comments

Powered by Blogger.