একজন পরিচালকের কর্তব্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ কখও পরস্পরের পরিপন্থি হবে না। -এ নীতিটি আলোচনা কর। একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পূর্বে ও পরে প্রবর্তকের কী কাজ ও দায় থাকে বর্ণনা কর।
৯. একজন পরিচালকের কর্তব্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ কখও পরস্পরের পরিপন্থি হবে না। -এ নীতিটি আলোচনা
কর। একটি কোম্পানি নিবন্ধনের পূর্বে ও পরে প্রবর্তকের
কী কাজ ও দায় থাকে
বর্ণনা কর।
নীতি:
“একজন পরিচালকের কর্তব্য এবং
ব্যক্তিগত স্বার্থ কখনও
পরস্পরের পরিপন্থি হবে
না।”
অর্থ:
- একজন পরিচালক
(Director) কোম্পানির fiduciary duty পালন করেন।
- তিনি কোম্পানির
স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
- তার ব্যক্তিগত
স্বার্থ কখনো কোম্পানির স্বার্থের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারবে না।
- যদি কোনো পরিস্থিতিতে
ব্যক্তিগত স্বার্থ কোম্পানির স্বার্থের সাথে বিপরীতমুখী হয়, তবে পরিচালককে conflict of interest এড়িয়ে চলতে হবে বা কোম্পানির
অনুমোদন নিতে হবে।
পরিচালকের
কর্তব্য
ও ব্যক্তিগত স্বার্থ
- কর্তব্যের
স্বভাব (Fiduciary Duty)
- পরিচালককে
সততা ও সতর্কতার সাথে কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
- কোম্পানির
সম্পদ ও সুযোগকে নিজের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
- ব্যক্তিগত
স্বার্থ এবং কোম্পানির স্বার্থের সংঘাত
- উদাহরণ: পরিচালক
যদি নিজ কোম্পানির সরবরাহ চুক্তি নিজের পরিবারের ব্যবসার সাথে করে, এতে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে।
- নীতি অনুযায়ী,
পরিচালককে এটা রিপোর্ট করতে হবে এবং অনুমোদন নিতে হবে।
- প্রয়োজনীয়তা
- কোম্পানির
স্বার্থ সবসময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে প্রাধান্য পাবে।
- এটি নিশ্চিত
করে কোম্পানির সম্পদ ও সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
উদাহরণ
- একজন পরিচালক একটি কোম্পানির
জন্য বড় পরিমাণ সরবরাহ চুক্তি করতে যাচ্ছেন। যদি তিনি এই চুক্তি নিজের ব্যক্তিগত কোম্পানির মাধ্যমে সম্পন্ন করেন → স্বার্থ সংঘাত।
- সঠিক পথ: চুক্তি অন্য উৎস থেকে করা বা কোম্পানির
বোর্ডকে বিষয়টি জানিয়ে অনুমোদন নেওয়া।
মূল দিক:
·
ব্যক্তিগত
স্বার্থ কখনো কোম্পানির স্বার্থের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারবে না।
·
প্রয়োজনে
conflict of interest প্রকাশ
করতে হবে এবং কোম্পানির অনুমোদন নিতে হবে।
প্রবর্তক
(Promoter) কে
বলা
হয়?
প্রবর্তক হলো সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দল
যারা কোম্পানি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেন, নিবন্ধন সম্পন্ন করেন এবং প্রাথমিক ব্যবসায়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রবর্তক কোম্পানির “জন্মদাতা” এবং কোম্পানির স্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রবর্তকের দায়িত্বকে আমরা নিবন্ধনের পূর্বে এবং নিবন্ধনের পরে ভাগ করতে পারি।
১. কোম্পানি নিবন্ধনের পূর্বে প্রবর্তকের কাজ ও দায়
কাজসমূহ:
1. নাম নির্বাচন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করা
o
কোম্পানির
জন্য অনন্য নাম নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে নাম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা।
2. কোম্পানির সংবিধি (MoA & AoA) তৈরি করা
o
MoA (Memorandum of Association):
কোম্পানির উদ্দেশ্য, সদস্যদের দায়ের সীমা ইত্যাদি উল্লেখ করা।
o
AoA (Articles of Association): কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও পরিচালনার নিয়মাবলি
নির্ধারণ করা।
3. প্রাথমিক চুক্তি ও শেয়ার সাবস্ক্রিপশন
o
প্রাথমিক
বিনিয়োগকারীদের
(subscribers) শেয়ার
কিনতে উৎসাহিত করা।
o
কোম্পানির
শুরুতে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা।
4. নিবন্ধনের জন্য আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা
o
সমস্ত
আইনি নথি যথাযথভাবে প্রস্তুত করা।
o
সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া।
5. কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নির্ধারণ
o
কোম্পানির
ব্যবসা, লক্ষ্য ও বাজারের জন্য
প্রাথমিক রোডম্যাপ তৈরি করা।
দায়সমূহ:
·
প্রবর্তককে
নিশ্চিত করতে হবে যে সব তথ্য সঠিক ও সত্য।
·
প্রতারণা
বা ভুল তথ্য দিলে প্রবর্তক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবে।
·
যদি
কোনো প্রাক-নিবন্ধন চুক্তি বা ব্যবসায়িক লেনদেনে
ত্রুটি থাকে → প্রবর্তককে দায়ভার নিতে হবে।
সংক্ষেপে:
নিবন্ধনের আগে প্রবর্তকের কাজ = কোম্পানি তৈরির প্রাথমিক সব ব্যবস্থা; দায়
= তথ্যের সত্যতা, প্রতারণা এড়ানো, এবং চুক্তির জন্য ব্যক্তিগত দায়।
২. কোম্পানি নিবন্ধনের পরে প্রবর্তকের কাজ ও দায়
কাজসমূহ:
1. প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার ও সদস্যদের চুক্তি সম্পন্ন করা
o
শেয়ার
সাবস্ক্রিপশন নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক সদস্য তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা।
2. প্রাথমিক পুঁজি সংযোজন ও শেয়ার বিতরণ
o
কোম্পানির
শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে শেয়ার বিতরণ করা এবং প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহ করা।
3. প্রথম পরিচালনা পর্ষদ গঠন
o
পরিচালনা
পর্ষদে পরিচালকদের নির্বাচন এবং দায়িত্বভার প্রদান।
4. প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও সরকারি নথি নিশ্চিত করা
o
কোম্পানি
পরিচালনার জন্য যে লাইসেন্স ও
অনুমোদনের প্রয়োজন তা সংগ্রহ করা।
5. প্রাথমিক চুক্তি ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু
o
কোম্পানির
কার্যক্রম, চুক্তি ও ব্যবসায়িক লেনদেন
শুরু করা।
দায়সমূহ:
·
নিবন্ধনের
পরে কোম্পানির জন্য করা চুক্তি আইনসম্মত কিনা তা নিশ্চিত করা।
·
প্রবর্তক
যদি কোম্পানির স্বার্থ ক্ষতি করে বা প্রতারণামূলক চুক্তি
করে → ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হতে পারে।
·
কোম্পানির
সম্পদ, মূলধন ও পুঁজিকে নিরাপদভাবে
পরিচালনা করা।
No comments