Header Ads

Header ADS

জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৮৯ সনের শিশু সনদ গ্রহণের প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। শিশু অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে এই সনদে পক্ষ রাষ্ট্রসমূহকে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

 

৭.জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৮৯ সনের শিশু সনদ গ্রহণের প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। শিশু অধিকার সংরক্ষণ উন্নয়নে এই সনদে পক্ষ রাষ্ট্রসমূহকে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে? প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

 

. শিশু অধিকার সংরক্ষণে ১৯৮৯ সালের শিশু সনদের প্রেক্ষাপট

১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ “Convention on the Rights of the Child (CRC)”, অর্থাৎ শিশু অধিকার সংরক্ষণ সনদ গ্রহণ করে। এর প্রেক্ষাপটকে বোঝার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:

  1. বিশ্বব্যাপী শিশুদের অবস্থা:
    ১৯শশতকের শেষদিকে ২০শশতকের মধ্যভাগে শিশুদের শ্রম, নিপীড়ন, বাল্যবিবাহ, শিক্ষা থেকে বঞ্চনা এবং স্বাস্থ্যহীন পরিস্থিতি অনেক দেশে সাধারণ ছিল। শিশুদের উন্নয়ন সুরক্ষা প্রায় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পর্যাপ্তভাবে সংরক্ষিত ছিল না।
  2. মানবাধিকার আন্দোলন:
    ১৯৪৮ সালে মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণা এবং ১৯৬৬ সালে অন্তর্জাতিক নাগরিক রাজনৈতিক অধিকার অর্থনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি শিশুদের অধিকারকে আংশিকভাবে উল্লেখ করলেও, স্বতন্ত্রভাবে শিশুদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজন ছিল।
  3. বিশ্ব সংস্থার উদ্যোগ:
    জাতিসংঘ শিশু তহবিল (UNICEF) শিশুদের কল্যাণ উন্নয়নের জন্য কাজ করছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেমন ১৯৭৯ সালে শিশুদের দশকের ঘোষণা এবং ১৯৮৯ সালে CRC গ্রহণ শিশুদের অধিকারকে আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি দেয়।

পরিশেষে
শিশু সনদ শিশুদেরনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা অংশগ্রহণের অধিকারনিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান তৈরি করে। এটি শিশুদের সর্বাধিকারিক সুরক্ষা উন্নয়নের একটি ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে।

 

পক্ষ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ব্যবস্থা গ্রহণের ধাপ

শিশু সনদে রাষ্ট্রসমূহকে মূলত নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালন করতে বলা হয়েছে:

  1. আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ:শিশু অধিকার লঙ্ঘন রোধে সংবিধান, আইন নিয়মাবলি তৈরি প্রয়োগ করা। শিশুর শোষণ, শ্রম, সহিংসতা বাল্যবিবাহ বন্ধ করা।
  2. সেবা সুরক্ষা নিশ্চিত করা:স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি মানসিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া।
  3. অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়ন:দারিদ্র্য, অসঙ্গতি সামাজিক বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া। বিশেষ প্রয়োজনের শিশুদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা করা।
  4. শিশুর অংশগ্রহণের অধিকার: শিশুদের মতামত অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। পরিবার, স্কুল সমাজে শিশুদের অধিকার মতামত সমুন্নত রাখা।
  5. প্রগতিশীল রিপোর্টিং: প্রতি বছরে জাতিসংঘের কাছে শিশু অধিকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি রিপোর্ট করা।

 

বাংলাদেশের অবস্থান উদ্যোগ

বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে শিশু সনদে যোগদান করে। এর পর থেকে সরকার শিশু অধিকার সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে:

  1. আইন নীতি প্রণয়ন: শিশু আইন ২০১৩: শিশুদের নিরাপত্তা, শিশু শ্রম নিপীড়ন রোধের জন্য। শিশু অধিকার সংরক্ষণ নীতি: শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
  2. শিশু সুরক্ষা উন্নয়ন প্রোগ্রাম: স্বাস্থ্য পুষ্টি, শিক্ষা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ। শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ।
  3. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: UNICEF, Save the Children ইত্যাদির সাথে সমন্বিত প্রকল্প। শিশু অধিকার রিপোর্টিং: জাতিসংঘে অগ্রগতি রিপোর্ট পাঠানো।
  4. চ্যালেঞ্জ: দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, মানসিক শারীরিক শোষণ এখনও পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হয়নি। গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্য সেবা সীমিত।

পরিশেষে বাংলাদেশ শিশু অধিকার সংরক্ষণে আইনগত নীতি-উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সামাজিক সচেতনতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও কাজ বাকি রয়েছে।

 

No comments

Powered by Blogger.