Header Ads

Header ADS

চার্টার পার্টি’ ও ‘চালানি রসিদ’ বলতে কী বুঝ? একটি ‘বিল অব লেডিং’ এর কার্যাবলি আলোচনা কর। “বিল অব লেডিং সমুদ্র পথে মালামাল পরিবহনের চুক্তিপত্র না হলেও ইহা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চুক্তির একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।” -আলোচনা কর।

 

১১. () ‘চার্টার পার্টিচালানি রসিদবলতে কী বুঝ? একটিবিল অব লেডিংএর কার্যাবলি আলোচনা কর।বিল অব লেডিং সমুদ্র পথে মালামাল পরিবহনের চুক্তিপত্র না হলেও ইহা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চুক্তির একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।” -আলোচনা কর।


একটি সমুদ্রগামী জাহাজে মালামাল বহনের পর যদি মালে ঘাটতি দেখা যায় তবে ‘হেগ নিয়মাবলি’ অনুযায়ী কত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবেজাহাজ কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বপক্ষে কত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেইহা কি সীমিত করা যায়আলোচনা কর। চার্টার বাই ডিমাইস এবং চার্টার উইদাউট ডিমাইজ এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

চার্টার পার্টি

চার্টার পার্টি হলো একটি লিখিত চুক্তি যার মাধ্যমে জাহাজের মালিক (shipowner) তার জাহাজ নির্দিষ্ট সময় বা যাত্রার জন্য ভাড়া দিচ্ছেন, এবং চালানদাতা/চালক (charterer) সেই জাহাজে মালামাল পরিবহন করবে। সহজভাবে বলা যায়, এটি হলো জাহাজ ভাড়ার চুক্তিপত্র চার্টার পার্টি মূলত একটি চুক্তি। এতে জাহাজ ভাড়া দেওয়ার শর্তাবলী, মালামাল পরিবহনের নিয়ম এবং দায়-দায়িত্ব লেখা থাকে।

 

বিল অফ লেডিং (Bill of Lading – B/L)

সংজ্ঞা:
বিল অফ লেডিং হলো সমুদ্রপথে মালামাল পরিবহনের জন্য পরিবহনকারী (carrier) কর্তৃক ইস্যু করা দলিল/চুক্তিপত্র, যা একদিকে মালিকানার প্রমাণ এবং অন্যদিকে পরিবহনের শর্তাবলীর প্রমাণ।পরিবহনকারী যখন মালামাল গ্রহণ করে, তখন বিল অফ লেডিং ইস্যু করা হয়।এটি মালিককে নিশ্চিত করে যে পরিবহনকারী মালামাল গ্রহণ করেছে।

একটিবিল অব লেডিংএর কার্যাবলি আলোচনা কর।

 

বিল অফ লেডিং (B/L) সংজ্ঞা

বিল অফ লেডিং হলো সমুদ্রপথে মালামাল পরিবহনের জন্য পরিবহনকারী (carrier) কর্তৃক ইস্যু করা দলিল, যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে:

B/L-এর কার্যাবলি (Functions)

  1. মালামাল গ্রহণের প্রমাণ (Receipt of Goods):যখন পরিবহনকারী মালামাল গ্রহণ করে, তখন B/L ইস্যু করা হয়।এটি প্রমাণ করে যে পরিবহনকারী মালামাল পেয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্তে পরিবহন করবে।উদাহরণ:বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরক মালামাল সরবরাহ করলে, পরিবহনকারী B/L ইস্যু করে যা প্রমাণ দেয় মালামাল তাদের হাতে এসেছে।
  2. পরিবহনের চুক্তি (Evidence of Contract of Carriage): B/L হলো মালিক এবং পরিবহনকারীর মধ্যে মালামাল পরিবহনের চুক্তি-এর প্রমাণ। যদিও এটি নিজে চুক্তি নয়, তবুও আদালতে বা বাণিজ্যিক লেনদেনে চুক্তির প্রমাণপত্র হিসেবে কাজ করে। এতে উল্লেখ থাকে: গন্তব্য, মালামালের ধরন, পরিমাণ, পরিবহন শর্ত ইত্যাদি।
  3. মালিকানার প্রমাণ (Document of Title / Ownership): B/L হস্তান্তরযোগ্য (Negotiable) হতে পারে।যার কাছে B/L থাকবে, সেই মালিকানা দাবি করতে পারবে।এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিক্রি বা ঋণের নিরাপত্তা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: A কোম্পানি মালামাল বিক্রি করে B কোম্পানিকে। মালামাল এখনও সমুদ্রে আছে। B কোম্পানি B/L-এর মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করতে পারে।
  4. বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবহারে সুবিধা: B/L ব্যবহার করে ব্যাংক লেটার অফ ক্রেডিট (L/C) অনুযায়ী পেমেন্ট নিশ্চিত করা যায়।মালিকানা হস্তান্তর লেনদেন সহজ হয়।

 


 

বিল অব লেডিং সমুদ্র পথে মালামাল পরিবহনের চুক্তিপত্র না হলেও ইহা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চুক্তির একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।” -আলোচনা কর।

 

উক্তি:

বিল অব লেডিং সমুদ্র পথে মালামাল পরিবহনের চুক্তিপত্র না হলেও ইহা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চুক্তির একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

 

. বিল অব লেডিং চুক্তি কি নয়?

চুক্তিপত্র নয়:মূল চুক্তি হলো মালিক পরিবহনকারীর মধ্যে মালামাল পরিবহনের চুক্তি B/L নিজে চুক্তি নয়; এটি ডকুমেন্টারি প্রমাণ অর্থাৎ, চুক্তির শর্তগুলো ইতিমধ্যেই চার্টার পার্টি বা অন্যান্য চুক্তি দ্বারা নির্ধারিত থাকে।তবে কেন বলা হয় চুক্তি নয়:B/L শুধুমাত্র মালামাল গ্রহণ এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। এটি চুক্তির সৃষ্টি করে না, কেবল প্রমাণ দেয় যে চুক্তি কার্যকর হয়েছে।

 

. কেন এটি চুক্তির উৎকৃষ্ট প্রমাণ?

B/L- থাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

1.      মালামাল গ্রহণের প্রমাণ (Receipt of Goods):পরিবহনকারী মালামাল গ্রহণ করেছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছে।আদালতে বা বাণিজ্যিক লেনদেনে এটি চুক্তির বাস্তবায়নের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

2.      পরিবহন শর্তের উল্লেখ (Evidence of Contract of Carriage): B/L- গন্তব্য, পরিবহনকারীর দায়-দায়িত্ব, মালামালের ধরন পরিমাণ উল্লেখ থাকে। ফলে এটি মালিক এবং পরিবহনকারীর চুক্তির শর্তাবলীর প্রমাণ দেয়। মালিকানা বা Title Document হিসেবে ব্যবহার (Document of Title)B/L হস্তান্তরযোগ্য হলে, যার হাতে B/L, সেই মালিকানা দাবি করতে পারে।এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চুক্তি পূরণের প্রমাণ এবং লেনদেনের নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে।

 

. উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা

A কোম্পানি চীন থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করছে।পরিবহনকারী মালামাল গ্রহণের পরে B/L ইস্যু করে।মালামাল সমুদ্রে থাকাকালীন B কোম্পানি মালামাল ক্রয় করে।B কোম্পানি B/L-এর মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করতে পারে।

B/L নিজে চুক্তি নয়, কিন্তু মালিকানা পরিবহন শর্তাবলীর প্রমাণ হিসেবে চুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করছে।

 

) একটি সমুদ্রগামী জাহাজে মালামাল বহনের পর যদি মালে ঘাটতি দেখা যায় তবেহেগ নিয়মাবলিঅনুযায়ী কত দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে? জাহাজ কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বপক্ষে কত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে? ইহা কি সীমিত করা যায়? আলোচনা কর। চার্টার বাই ডিমাইস এবং চার্টার উইদাউট ডিমাইজ এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

 

() সমুদ্রপথে মালামাল বহনের সমস্যা: হেগ নিয়মাবলি অনুযায়ী

. ‘হেগ নিয়মাবলি’ (Hague Rules) সংক্ষেপে

Hague Rules হলো সমুদ্রপথে মালামাল পরিবহন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি।এটি মূলতবিল অফ লেডিংবা সমুদ্র পরিবহন চুক্তিতে প্রযোজ্য। নিয়মাবলি নির্ধারণ করে পরিবহনকারীর দায়-দায়িত্ব এবং মালিকের অধিকার।

 

. মামলার সময়সীমা

যদি মালে মালামাল ঘাটতি বা ক্ষতি দেখা দেয়,Hague Rules অনুযায়ী: মালিককে 1 বছর (12 মাস) এর মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।এটি ধারা 3 এবং ধারা 5 অনুযায়ী নির্ধারিত। সাধারণত মামলার শুরু তারিখ গণনা হয় মালামাল ডেলিভারি হওয়ার দিন থেকে

 

. ক্ষতিপূরণের সীমা

Hague Rules ধারা 4 অনুযায়ী:জাহাজ কর্তৃপক্ষ (carrier) ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সীমিত করতে পারে।সাধারণভাবে এটি মালামালের ওজন বা ইউনিটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।উদাহরণ: প্রতি কেজি বা প্রতি পাউন্ড মালামালের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার।

সীমাবদ্ধকরণ:চুক্তির মাধ্যমে carrier এই সীমা কার্যকর করতে পারে। তবে, carrier কর্তৃক দুর্দান্ত অসাবধানতা বা জাহাজের ইচ্ছাকৃত অবহেলা থাকলে সীমা প্রযোজ্য হবে না।

জাহাজ কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বপক্ষে কত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে? ইহা কি সীমিত করা যায়? আলোচনা কর।

 

. জাহাজ কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরণের সীমা (Liability Limit)

Hague Rules ধারা 4 অনুযায়ী:

Carrier (পরিবহনকারী বা জাহাজ কর্তৃপক্ষ) মালামালের ক্ষতি বা ঘাটতির জন্য দায়ী।তবে তাদের দায় সীমিত থাকে, অর্থাৎ মালিক পুরো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না।সাধারণ সীমা হলো:100 মার্কিন ডলার প্রতি নেট টন মালামালের জন্য (বা আন্তর্জাতিকভাবে প্রযোজ্য স্থানীয় মুদ্রার সমমান)। এর মাধ্যমে carrier তাদের অর্থনৈতিক দায় সীমিত রাখতে পারে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

Carrier সাধারণ দায়ভার বহন করে যদি:তারা মালামাল গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে।Carrier দায়ভার দুর্দান্ত অসাবধানতা বা ইচ্ছাকৃত ক্ষতির ক্ষেত্রে বহাল থাকবে না।অর্থাৎ, যদি জাহাজ কর্তৃপক্ষ বা চরম লাপরসতায় ক্ষতি করে, সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।

 

. ক্ষতিপূরণ সীমিত করা যায় কি?

হ্যাঁ, সীমাবদ্ধ করা যায়।Carrier চুক্তির মাধ্যমে B/L- বা চার্টার পার্টিতে দায়ভার সীমিত করতে পারে।সীমাবদ্ধতা সাধারণত প্রতি ইউনিট বা প্রতি কেজি/পাউন্ডের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। উদাহরণ: কেজি মালামালের জন্য সর্বোচ্চ $10 ক্ষতিপূরণ।

সীমাবদ্ধতার শর্ত:

1.      Carrier দুর্দান্ত অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ক্ষতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা কার্যকর হবে না।

2.      মালিককে ক্ষতির পূর্ণ প্রমাণ দিতে হবে।

চার্টার বাই ডিমাইস এবং চার্টার উইদাউট ডিমাইজ এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও

সংজ্ঞা:
চার্টার বাই ডিমাইস হলো সেই চুক্তি যার মাধ্যমে জাহাজের মালিক সম্পূর্ণ জাহাজ ভাড়া নেওয়ার পক্ষের হাতে হস্তান্তর করে, এবং ভাড়া নেওয়ার পক্ষ জাহাজের দৈনন্দিন কার্যক্রম, ক্রু নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

 

চার্টার উইদাউট ডিমাইজ (Charter without Demise / Time/Voyage Charter)

সংজ্ঞা:
চার্টার উইদাউট ডিমাইজ হলো সেই চুক্তি যেখানে জাহাজের মালিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, এবং ভাড়া নেওয়ার পক্ষ কেবল মালামাল পরিবহন বা নির্দিষ্ট সময় বা নির্দিষ্ট যাত্রার জন্য জাহাজ ব্যবহার করতে পারে।

চার্টার বাই ডিমাইস বনাম উইদাউট ডিমাইজমূল পার্থক্য

বিষয়

চার্টার বাই ডিমাইস (By Demise / Bareboat)

চার্টার উইদাউট ডিমাইজ (Without Demise / Time/Voyage)

জাহাজের নিয়ন্ত্রণ

সম্পূর্ণ ভাড়া নেওয়ার পক্ষের হাতে

মালিকের হাতে থাকে

 

 

 

দায়িত্ব

সব দায়িত্ব ( যাত্রা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা) ভাড়া নেওয়ার পক্ষের

মালিক দায়ী; ভাড়া নেওয়া পক্ষ কেবল মালামাল পরিবহন বা সময়ভিত্তিক ব্যবহার করে

মালিকের ভূমিকা

শুধু মালিক, দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না

মালিক কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখে

সময়কাল

সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি

সংক্ষিপ্তমেয়াদি / নির্দিষ্ট যাত্রা

চুক্তির উদ্দেশ্য

ভাড়া নেওয়ার পক্ষ পুরো জাহাজ পরিচালনা করতে চায়

ভাড়া নেওয়ার পক্ষ নির্দিষ্ট সময় বা যাত্রার জন্য জাহাজ ব্যবহার করে

উদাহরণ

বছরের জন্য মালবাহী জাহাজ ভাড়া

একবারের যাত্রার জন্য মালামাল পরিবহন

 

গ)কখন একটি বিমা কোম্পানি কোনো ব্যক্তির বরাবরে অগ্নি বিমা প্রদান করার সময়এভারেজ ক্লজঅন্তর্গত করে থাকে? ইহার আইনগত ফলাফল কী? যিনি আপনার নিকট আত্মীয় নয় এমন ব্যক্তির জীবন বিমা কি আপনি করতে পারেন? যদি পারেন, তবে কেন? জীবন বিমার চুক্তি কি ক্ষতিপূরণের চুক্তি? বিমা কোম্পানি কি এই অজুহাতে তার দায়িত্ব এড়াতে পারেন যে, বিমা গ্রহণকারী আত্মহত্যা করেছে এবং বিমা গ্রহণকারীর বয়স সঠিক নয়?

অগ্নি বিমায়এভারেজ ক্লজকখন অন্তর্গত হয়?

সংজ্ঞা:

এভারেজ ক্লজ (Average Clause) হলো অগ্নি বিমার একটি ধারা যা বলে:

যদি সম্পত্তির পূর্ণ মূল্য অনুযায়ী বিমা করা না হয়, ক্ষতির ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ বিমাকৃত মূল্য সম্পত্তির পূর্ণ মূল্য অনুপাতে প্রদান করবে।

কবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়:

যখন বিমা কোম্পানি দেখে যে, সম্পত্তির পূর্ণ মূল্য অনুযায়ী বিমা করা হয়নি। উদাহরণ: একটি বাড়ির বাজার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা, কিন্তু লক্ষ টাকার জন্যই বিমা করা হয়েছে।

আইনগত ফলাফল:

যদি সম্পূর্ণ মূল্য অনুযায়ী বিমা না করা হয়, বিমা কোম্পানি পুরো ক্ষতির জন্য দায়ী নয়।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে:

ক্ষতিপূরণ=ক্ষতি×বিমাকৃত মূল্য/পূর্ণ মূল্য

এতে বিমা গ্রাহককে সম্পূর্ণ মূল্য অনুযায়ী বিমা করানোর প্রণোদনা দেওয়া হয়।বিমা গ্রাহক যদি আংশিক বিমা করে, ক্ষতিপূরণ কমে যাবে।

 

. অপরিচিত ব্যক্তির জীবন বিমা করা যায় কি?

আইনি দিক:

হ্যাঁ, আপনি কোনো ব্যক্তির জীবন বিমা করতে পারেন যদি নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ হয়:বিমা গ্রহণকারী (insured) সম্পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেছে। বিমা গ্রহণকারী বা বিমাকারীর কাছে insurable interest থাকতে হবে।

অর্থাৎ, বিমাকারীর আর্থিক বা অন্য কোনো ক্ষতি ঘটবে যদি বিমা গ্রহণকারী মারা যায়।

উদাহরণ:ব্যাংক ঋণগ্রহীতার জীবন বিমা করতে পারে কারণ ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হবে।কোম্পানি তার কর্মচারীর জীবন বিমা করতে পারে কারণ কর্মচারীর মৃত্যুতে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

আত্মীয় না হলেও আইনি অনুমোদন insurable interest থাকলে জীবন বিমা করা যায়।

 

. জীবন বিমার চুক্তি কি ক্ষতিপূরণের চুক্তি?

হ্যা। জীবন বিমা একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি (Contract of Indemnity)।অর্থাৎ, বিমার শর্ত পূরণে (মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা) বিমা কোম্পানি নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করবে।বিমা কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক ক্ষতি প্রতিপূরণ করা, যাতে নিকটজন বা সুবিধাভোগী অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

বৈশিষ্ট্য:

·         ক্ষতিপূরণ সীমিত থাকে, যেমন বিমার চুক্তিতে উল্লেখিত “sum insured”

·         বিমা চুক্তি সামান্য আর্থিক ক্ষতির জন্য করা হয়, মুনাফার উদ্দেশ্যে নয়।

 

. আত্মহত্যা বয়স ভুয়া হলে বিমা কোম্পানির দায়

(i) আত্মহত্যা

জীবন বিমায় বেশিরভাগ চুক্তিতে বলা থাকে: প্রথম - বছর (policy term) আত্মহত্যার জন্য বিমা কোম্পানি দায় এড়াতে পারে।সময়সীমা শেষ হলে, আত্মহত্যা হলেও কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।অর্থাৎ, আত্মহত্যা শর্তসাপেক্ষে দায় এড়ানো সম্ভব।

(ii) বয়স ভুয়া (Misstatement of Age)

বিমা গ্রহণকারী যদি বয়স ভুল উল্লেখ করে, তবে বিমা কোম্পানি: ক্ষতিপূরণ সংশোধন করতে পারে (বয়স অনুযায়ী প্রিমিয়াম sum insured ঠিক করা হবে)।চুক্তি বাতিল করা সম্ভব, যদি ভুল তথ্য গুরুতর এবং জ্ঞানবশত দেওয়া হয়।

আত্মহত্যা বা বয়স ভুয়া থাকলে কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী সীমিত দায় নিতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

No comments

Powered by Blogger.