Header Ads

Header ADS

মানবাধিকার আইনের বিকাশ মূল্যায়ন কর। কীসের সমন্বয়ে মানবাধিকার আন্তর্জাতিক বিল গঠিত? বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টকে কেন মৌলিক অধিকারের অভিভাবক ও নিশ্চয়তাদানকারী বলা হয়?

 

৫. মানবাধিকার আইনের বিকাশ মূল্যায়ন কর। কীসের সমন্বয়ে মানবাধিকার আন্তর্জাতিক বিল গঠিত? বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টকে কেন মৌলিক অধিকারের অভিভাবক নিশ্চয়তাদানকারী বলা হয়?

 

মানবাধিকার আইনের বিকাশের মূল্যায়ন

মানবাধিকার আইনের বিকাশের মূল দিকগুলো:

1.      প্রাথমিক যুগ:

প্রাচীন সভ্যতা ধর্মীয় গ্রন্থে মানবের ন্যায়, স্বাধীনতা মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। উদাহরণ: মহাভারত, বাইল, কোরআন, আইনের প্রাচীন গ্রন্থসমূহে মৌলিক ন্যায় মানব মর্যাদা রক্ষার উল্লেখ।

2.      আধুনিক যুগের সূচনা: ১৭শ ১৮শ শতকে ইউরোপে মধ্যযুগীয় অনাচার রাজতান্ত্রিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন শাসন ব্যবস্থা বিকশিত হয়। উদাহরণ: ইংল্যান্ডের বিল অফ রাইটস (1689), ফ্রান্সের মানব নাগরিক অধিকার ঘোষণা (1789)

3.      আন্তর্জাতিক পর্যায়:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবাধিকারের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR) প্রণয়ন করে।এর পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি কনভেনশন (যেমন, জেনেভা কনভেনশন, শিশুর অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি) মানবাধিকার আইনকে সুনিশ্চিত করে।

পরিশেষে

মানবাধিকার আইন ধীরে ধীরে স্থানীয়, জাতীয় আন্তর্জাতিক স্তরে বিকশিত হয়েছে। এটি সামাজিক ন্যায়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা মর্যাদার সুরক্ষার একটি আইনি ভিত্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

 

কীসের সমন্বয়ে মানবাধিকার আন্তর্জাতিক বিল গঠিত?

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিল মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত:

 

. সর্বজনীন নীতি (Universal Principles)

মানব মর্যাদা, জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, সমতা ইত্যাদির অধিকার নিশ্চিত করা।উদাহরণ: সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR, 1948)-এর মৌলিক নীতি।

. আন্তর্জাতিক চুক্তি কনভেনশন (Treaties & Conventions)

রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক আইনসমূহ। উদাহরণ:

১.জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশন (1951)

২.শিশু অধিকার কনভেনশন (1989)

৩.জাতিগত বৈষম্য নির্মূল চুক্তি (ICERD)

.আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম (UN & International Bodies’ Mechanisms)

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত, পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ। উদাহরণ: বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়র, ওয়ার্কিং গ্রুপ, মানবাধিকার কমিশন মানবাধিকার পরিষদ।

 

বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টকে কেন মৌলিক অধিকারের অভিভাবক নিশ্চয়তাদানকারী বলা হয়?

বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টকে মৌলিক অধিকারের অভিভাবক নিশ্চয়তাদানকারী বলা হয় এর কারণগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ

 

. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের জীবন, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা সমতার অধিকার সুপ্রীমকোর্ট রক্ষা করে।

. রক্ষামূলক নির্দেশ জারি করার ক্ষমতাসুপ্রীমকোর্ট Writ (যেমন হাবিয়াস কোরপাস, ম্যান্ডামাস, প্রিহিবিশন, কোয়ার্টো) জারি করে অবৈধ বন্দীকরণ বা অন্যায় কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারে

. সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে চূড়ান্ত রক্ষক :সুপ্রীমকোর্ট হলো নাগরিকদের শেষ প্রতিকার সর্বোচ্চ রক্ষক, যারা তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করে।

. আইনের শাসন নিশ্চিত করা

সুপ্রীমকোর্ট সরকারি কর্মকাণ্ড আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা যাচাই করে। এটি নাগরিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সরকারের কর্মকাণ্ডকে দায়িত্বশীল রাখে।

 

 পরিশেষে সুপ্রীমকোর্ট হলো বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার রক্ষার সর্বোচ্চ রক্ষক আইনগত অভিভাবক, কারণ এটি অধিকার সংরক্ষণ, রক্ষামূলক নির্দেশ প্রদান এবং শেষ প্রতিকার নিশ্চিত করে।

No comments

Powered by Blogger.