Header Ads

Header ADS

 

(১)   (ক)  ন্যায়পরায়ণতার নীতি বা ম্যাক্সিমসমূহ কীভাবে উৎপত্তি বিকাশ লাভ করে

ন্যায়পরায়ণতার নীতি বা Legal Maxims হলো আইনের মৌলিক নীতিবাক্য, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতকে পথনির্দেশ করে। এগুলোর উৎপত্তি বিকাশ নিম্নরূপ

. সামাজিক ন্যায়বোধ থেকে উৎপত্তি

মানুষের ন্যায়অন্যায় সম্পর্কে স্বাভাবিক ধারণা থেকেই এসব নীতির জন্ম হয়। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন থেকেই ম্যাক্সিমের উদ্ভব।

. প্রথা রীতিনীতি থেকে বিকাশ

প্রাচীনকালে লিখিত আইন না থাকায় সমাজের প্রচলিত রীতি প্রথার মাধ্যমে ন্যায়নীতি গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে ম্যাক্সিমে রূপ নেয়।

. বিচারিক সিদ্ধান্ত থেকে উদ্ভব

বিচারকরা বিভিন্ন মামলায় ন্যায়বিচার করতে গিয়ে কিছু সাধারণ নীতি প্রয়োগ করেন। এসব নীতি বারবার প্রয়োগের ফলে ম্যাক্সিম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

. রোমান আইনের প্রভাব

অধিকাংশ ম্যাক্সিমের উৎস রোমান আইন। রোমান আইনবিদরা ল্যাটিন ভাষায় সংক্ষিপ্ত সারগর্ভ নীতিবাক্য তৈরি করেন, যা আধুনিক আইনে গৃহীত হয়।

. আধুনিক আইনে পরিমার্জন

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ আইনের উন্নয়নের ফলে ম্যাক্সিমগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োগ আধুনিক রূপ লাভ করেছে।

উপসংহার

অতএব, ন্যায়পরায়ণতার নীতি বা ম্যাক্সিমসমূহ সামাজিক ন্যায়বোধ, প্রথা, বিচারিক সিদ্ধান্ত রোমান আইনের সমন্বয়ে উৎপত্তি লাভ করে এবং সময়ের সাথে বিকশিত হয়েছে।

 

 

 

 (খ) ন্যায়পরায়ণতা কখনো আইনের বিরুদ্ধে যায় না; বরং আইনকে অনুসরণ করেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে।

ন্যায়পরায়ণতা (Equity) আইনের বিকল্প নয়, বরং আইনের পরিপূরক। যেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগে অবিচার হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে ন্যায়পরায়ণতা আইনের মূল উদ্দেশ্য অনুসরণ করে সুবিচার নিশ্চিত করে। তবে ন্যায়পরায়ণতা কখনোই স্পষ্ট আইনকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।

অর্থাৎ, আইন যদি কোনো বিষয়ে পরিষ্কার নির্দিষ্ট নির্দেশ দেয়, তাহলে ন্যায়পরায়ণতা সেই আইনের বিরোধিতা করতে পারে না।

উদাহরণ

আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলে, কেবল ন্যায়পরায়ণতার অজুহাতে আদালত সেই আইন বাতিল করতে পারে না।

গুরুত্ব

·         আইন ন্যায়পরায়ণতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে

·         বিচারকের স্বেচ্ছাচার রোধ করে

·         আইনের শাসন (Rule of Law) নিশ্চিত করে

উপসংহার

অতএব, Aequitas sequitur legem ম্যাক্সিমটি প্রমাণ করে যে ন্যায়পরায়ণতা আইনকে সংশোধন করে না, বরং আইনকে অনুসরণ করেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

 

(গ) wb‡¤œv³ bxwZ ev g¨vw·gmg~n D`vniY mg~n e¨vL¨v Ki Equality is equity

(সমতাই ন্যায়পরায়ণতা)

এই ম্যাক্সিমের অর্থ হলো

ন্যায়পরায়ণতার মূল ভিত্তি হলো সমতা; সকলের প্রতি সমান আচরণ করাই ন্যায়পরায়ণতা।

ব্যাখ্যা

ন্যায়পরায়ণতা (Equity) এমন একটি ন্যায়নীতি, যা পক্ষগুলোর মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যেখানে পক্ষগুলোর অধিকার, অবস্থান পরিস্থিতি সমান, সেখানে ন্যায়পরায়ণতা সমান আচরণ নিশ্চিত করে।

তবে সমতা মানে সব ক্ষেত্রে একরকম আচরণ নয়; বরং ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টিতে যার অবস্থা যেমন, তার সাথে তেমন ন্যায্য আচরণ করাই প্রকৃত সমতা।

উদাহরণ

দুইজন ব্যক্তি একই পরিস্থিতিতে একই অধিকার ভোগ করলে, ন্যায়পরায়ণতার নীতি অনুযায়ী তাদের প্রতি সমান সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

উপসংহার

অতএব, Equality is equity ম্যাক্সিমটি বোঝায় যে সমতার ভিত্তিতেই ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ন্যায়বিচারের মূল লক্ষ্য হলো সকলের প্রতি ন্যায্য সমান আচরণ নিশ্চিত করা।

 

ন্যায়পরায়ণতা আইনকে অনুসরণ করে

(Equity follows the law)

এই ন্যায়পরায়ণতার ম্যাক্সিমের অর্থ হলোন্যায়পরায়ণতা কখনোই প্রযোজ্য আইনের বিরোধিতা করে না; বরং এটি আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে যেখানে আইন স্পষ্ট কার্যকর, সেখানে ন্যায়পরায়ণতা আইনের নিয়ম অনুসরণ করে এবং ভিন্ন কোনো প্রতিকার দেয় না।

এই নীতি নিশ্চিত করে যে ন্যায়পরায়ণতা যেন স্বেচ্ছাচারী না হয় এবং আইনের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে যেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগে অন্যায় সৃষ্টি হয় বা আইন নীরব থাকে, সেখানে ন্যায়পরায়ণতা ন্যায় সুবিচারের ভিত্তিতে প্রতিকার প্রদান করে।

অতএব, এই ম্যাক্সিম ন্যায়পরায়ণতা আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং সুবিচার নিশ্চিত করে।

No comments

Powered by Blogger.