(২) (K) b¨vqcivqYZv ej‡Z Kx eyS? Bswjk AvBb e¨e¯’vq Bnvi weKvk weeiY `vI|
ন্যায়পরতা বলিতে কী বুঝায়? ইংল্যান্ডে সাধারণ আইন আদালত থাকা সত্ত্বেও কেন ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল?
ন্যায়পরায়ণতা বলতে কী বুঝ?
ন্যায়পরায়ণতা (Equity) হলো এমন এক ন্যায়নীতি, যা আইনের কঠোরতা ও ত্রুটি সংশোধন করে সুবিচার নিশ্চিত করে। যেখানে সাধারণ আইন (Common Law) প্রয়োগে অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ন্যায়পরায়ণতা নৈতিকতা, বিবেক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিকার প্রদান করে।
সাধারণ
আইন
(Common Law) অনেক
সময়
তার
কঠোরতা
ও
সীমাবদ্ধতার কারণে
প্রকৃত
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে
ব্যর্থ
হয়।
এই
ঘাটতি
পূরণের
জন্য
যে
ন্যায়বিচারমূলক নীতিসমূহ বিকশিত
হয়েছে,
তাকেই
ন্যায়পরায়ণতা (Equity) বলা হয়।
ন্যায়পরায়ণতা হলো
এমন
এক
ন্যায়বিচার ব্যবস্থা যা
আইনের
ত্রুটি,
কঠোরতা
ও
অসম্পূর্ণতা সংশোধন
করে
ন্যায়
ও
সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।
Definitions
by Jurists (আইনবিদদের মতে)
· অ্যারিস্টটল (Aristotle):
ন্যায়পরায়ণতা হলো
আইনের
কঠোরতা
যেখানে
অন্যায়
সৃষ্টি
করে,
সেখানে
ন্যায়
প্রতিষ্ঠার জন্য
আইনকে
সংশোধন
বা
পরিমার্জন করা।
· স্যালমন্ড (Salmond):
ন্যায়পরায়ণতা হলো
এমন
এক
নীতিমালা যা
আইনের
ঘাটতি
পূরণ
করে
এবং
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
· মেইটল্যান্ড (Maitland):
ন্যায়পরায়ণতা হলো
আইনকে
মানবিক
ও
নৈতিক
মূল্যবোধের সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ করার
একটি
ব্যবস্থা।
· স্টোরি (Story):
ন্যায়পরায়ণতা হলো
সেই
নৈতিক
নীতি
যার
মাধ্যমে আইন
প্রয়োগে ন্যায়
ও
সুবিচার নিশ্চিত করা
হয়।
সুতরাং
বলা
যায়,
ন্যায়পরায়ণতা সাধারণ
আইনের
বিরোধী
নয়;
বরং
এটি
সাধারণ
আইনকে
অনুসরণ
করে,
তার
কঠোরতা
লাঘব
করে
এবং
ন্যায়
ও
বিবেকের ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করে।
ইংলিশ আইন ব্যবস্থায় ন্যায়পরায়ণতার বিকাশ
প্রথমদিকে ইংল্যান্ডে কেবল সাধারণ আইন আদালত (Common Law Courts) ছিল। এগুলো ছিল—
· King’s Bench
· Common Pleas
· Exchequer
এই আদালতগুলোতে আইন অত্যন্ত কঠোর, প্রক্রিয়া জটিল এবং প্রতিকার সীমিত ছিল। ফলে বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত ন্যায়বিচার পাওয়া যেত না।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা রাজা (King)-এর নিকট আবেদন করত। রাজা এসব আবেদন তাঁর বিবেকের রক্ষক Lord Chancellor-এর নিকট প্রেরণ করতেন। Lord Chancellor ন্যায়, বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতেন। এভাবেই ন্যায়পরায়ণতার নীতির বিকাশ ঘটে।
পরবর্তীতে Lord Chancellor-এর আদালত আলাদা রূপ পেয়ে Court of Chancery নামে পরিচিত হয়, যা ইকুইটি আদালত হিসেবে কাজ করত।
ইংল্যান্ডে সাধারণ আইন আদালত থাকা সত্ত্বেও ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রয়োজন কেন দেখা দিয়েছিল?
ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রধান কারণসমূহ—
১. সাধারণ আইনের কঠোরতা
সাধারণ আইন ছিল অত্যন্ত অনমনীয় ও কারিগরি নির্ভর। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সুবিচার সম্ভব হতো না।
২. প্রতিকারের সীমাবদ্ধতা
সাধারণ আইনে প্রধানত ক্ষতিপূরণ (Damages) দেওয়া হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট ছিল না। ইকুইটি আদালত Injunction, Specific Performance ইত্যাদি প্রতিকার দেয়।
৩. রিট পদ্ধতির জটিলতা
সাধারণ আইনে নির্দিষ্ট রিট ছাড়া মামলা করা যেত না। ফলে অনেক ন্যায্য দাবি বিচার পেত না।
৪. সময় ও ব্যয়ের সমস্যা
সাধারণ আইন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল।
৫. নৈতিক ও বিবেকভিত্তিক বিচার
সাধারণ আইন নৈতিকতা বিবেচনা করত না; ইকুইটি আদালত বিবেক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার করত।
উপসংহার
অতএব, সাধারণ আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই ইংরেজ আইন ব্যবস্থায় ন্যায়পরায়ণতার বিকাশ ঘটে এবং ইকুইটি আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরবর্তীতে Judicature Acts-এর মাধ্যমে সাধারণ
আইন ও ইকুইটি একত্রিত
হলেও ন্যায়পরায়ণতার নীতিগুলো আজও কার্যকর রয়েছে।
No comments