হিন্দু আইন টিকা - এল এল বি পরীক্ষা -২০২৫ স্ত্রীধন, অনুমোদিত বিবাহ ,শ্রুতি,প্রথা,জীবনস্বত্ব,অনুলোম বিবাহ,প্রতিনিধিত্ব মতবাদ,
১৪ .স্ত্রীধন
(Stridhan)
হিন্দু আইনে স্ত্রীধন বলতে সেই সমস্ত সম্পত্তিকে বোঝায়, যা বিবাহিত স্ত্রী ব্যক্তিগত মালিকানা হিসেবে স্বত্বাধিকারী হয় এবং যা শুধুমাত্র তার
নিজের ব্যবহারের জন্য থাকে।
স্ত্রীধনের উদ্ভব
স্ত্রীধন বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে—
1. পিতৃবংশ বা পরিবার থেকে (উত্তরাধিকার বা দত্তক)
2. বর বা পরিবারের পক্ষ থেকে (দাতা বা গিফট)
3. স্ত্রী নিজে উপার্জিত (উদ্যোগ, পেশা বা বাণিজ্য)
4. উইল বা দানপত্রের মাধ্যমে
বৈশিষ্ট্য
·
স্ত্রীধন
সম্পূর্ণভাবে স্ত্রীর স্বত্বাধীন
·
স্ত্রীর
মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের পরও
আইনগতভাবে স্বত্ববলে থাকে
·
স্ত্রী
নিজে তা ব্যবহার, বিক্রয় বা দান করতে পারে
প্রয়োগ
·
দাম্পত্য
জীবনে স্বচ্ছতা ও আর্থিক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা
·
সন্তান
বা পরিবারের অন্যদের জন্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়
স্ত্রীধন
হিন্দু আইনে বিবাহিত স্ত্রীর স্বতন্ত্র সম্পত্তি, যা তার স্বাধীন
মালিকানা এবং ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করে।
১৫. অনুমোদিত বিবাহ (Valid Marriage) –
অনুমোদিত বিবাহ বলতে সেই বিবাহকে বোঝায়,
যা
আইন ও শাস্ত্রীয় শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হয়েছে এবং তাই বৈধ ও স্বীকৃত।
অনুমোদিত বিবাহের শর্ত (Hindu Marriage Act,
1955 অনুযায়ী)
1. উভয় পক্ষ জীবিত এবং অন্য কারও স্বামী বা স্ত্রী নয়
2. মানসিকভাবে বিবাহ সম্পাদনের যোগ্যতা থাকা
3. ন্যূনতম বয়স—বর 21 বছর, কনে 18 বছর
4. নিষিদ্ধ আত্মীয়তার মধ্যে বিবাহ না হওয়া
5. প্রযোজ্য ধর্মীয় বা সামাজিক রীতি অনুসারে বিবাহ সম্পন্ন হওয়া
আইনগত প্রভাব
·
স্বামী
ও স্ত্রীর বৈধ অধিকার সৃষ্টির জন্য
·
সন্তান
বৈধ বলে গণ্য হয়
·
উত্তরাধিকার
ও ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত হয়
যে বিবাহ আইন ও শাস্ত্রীয় শর্ত
পূরণ করে সম্পন্ন হয়, সেটিই অনুমোদিত বিবাহ এবং তা আইনত বৈধ।
১৬.শ্রুতি
(Shruti) –
হিন্দু ধর্মে শ্রুতি বলতে বোঝায় সেই ধর্মগ্রন্থকে,
যা ঋষিদের দ্বারা শোনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং যা অখণ্ড, আধ্যাত্মিক সত্য হিসেবে গণ্য। শ্রুতিকে হিন্দু ধর্মের প্রধানতম উৎস বলা হয়।
শ্রুতির বৈশিষ্ট্য
1. ঋষি সূত্র: প্রাচীন ঋষিরা শোনার মাধ্যমে এই গ্রন্থ প্রাপ্ত
2. অচ্যুত ও শাশ্বত: সময়ে পরিবর্তন হয় না
3. ধর্মীয় আইন ও আচারের মূল ভিত্তি: ধর্ম, আচার ও সামাজিক নিয়ম
নির্ধারণ
শ্রুতির উদাহরণ
·
বেদ
(Rigveda, Samaveda, Yajurveda, Atharvaveda)
·
ব্রাহ্মণ,
উপনিষদ
·
অরণ্যক
প্রয়োগ
·
হিন্দু
আইনে বিবাহ, উত্তরাধিকার ও সামাজিক আচারের
নিয়মের উৎস হিসেবে শ্রুতি ব্যবহার করা হয়
·
ধর্মশাস্ত্রীয়
নৈতিকতা ও আচরণ নির্ধারণ
শ্রুতি
হলো হিন্দু ধর্মের সেই প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ, যা শোনার মাধ্যমে
প্রাপ্ত এবং ধর্ম, আইন ও আচার-অনুষ্ঠানের
মূল ভিত্তি।
১৭. প্রথা
(Custom)
অর্থ:
হিন্দু আইনে প্রথা বলতে বোঝায় সেই সামাজিক আচরণ বা রীতি-নীতি,
যা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এবং যা কখনও কখনও
আইন বা শাস্ত্রের সমর্থন পায়।
বৈশিষ্ট্য
1. দীর্ঘকাল চালু: সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োগ হয়ে আসা
2. আইনসম্মত: আইন বা ধর্মশাস্ত্র দ্বারা
স্বীকৃত হলে বৈধতা পায়
3. স্থানভিত্তিক বা সম্প্রদায়ভিত্তিক:
নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সম্প্রদায়ে প্রযোজ্য
উদাহরণ
·
উত্তরাধিকার
বা সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম
·
বিবাহ,
পূজা বা আচার-অনুষ্ঠান
·
সামাজিক
আচরণ ও নৈতিক নিয়ম
প্রথা
হলো হিন্দু আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা সমাজে দীর্ঘদিন
ধরে প্রয়োগ হয়ে আসছে এবং আইন ও শাস্ত্রের সাথে
মিলিয়ে বিচার ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।
১৮. জীবনস্বত্ব
জীবনস্বত্ব
হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার, যার
মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের জীবন রক্ষার, নিরাপদে বাঁচার ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করার অধিকার রাখে। হিন্দু আইন ও সংবিধান উভয়
ক্ষেত্রেই জীবনস্বত্বের ধারণা প্রযোজ্য, যদিও হিন্দু আইন মূলত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের
ক্ষেত্রে এর প্রভাব রাখে।
বৈশিষ্ট্য
1. মৌলিক অধিকার: জীবন রক্ষা ও নিরাপদ জীবনের
নিশ্চয়তা
2. নিষ্ঠুরতা ও অন্যায় থেকে সুরক্ষা: অকারণ হত্যা, নির্যাতন ও অবৈধ হস্তক্ষেপ
থেকে রক্ষা
3. সম্মান ও মর্যাদা: জীবন শুধুমাত্র বাঁচার নয়, মর্যাদাপূর্ণভাবে বাঁচার অধিকার
প্রয়োগ
·
পারিবারিক
দ্বন্দ্বে, হিংসা বা দায়িত্বের ক্ষেত্রে
জীবন রক্ষা
·
হিন্দু
আইন অনুসারে, পিতামাতার, অভিভাবকের বা পরিবারের অন্য
সদস্যের ন্যায়বিচার
·
সাধারণ
আইনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা
উপসংহার
জীবনস্বত্ব
হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার, যা তার জীবন
রক্ষা, নিরাপদ বাঁচা এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দেয়।
১৯. অনুলোম বিবাহ
হিন্দু ধর্মে অনুলোম বিবাহ বলতে বোঝায় সেই বিবাহকে, যেখানে বর কন্যার সামাজিক বা আধ্যাত্মিক স্তরের চেয়ে নিম্নপদবীর, অর্থাৎ বর স্ত্রীর তুলনায় নীচপদে থাকে না, এবং পরিবার ও সমাজ এই
বিবাহকে গ্রহণযোগ্য বা স্বীকৃত বলে। অনুলোম বিবাহ সাধারণত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য হয়।
বৈশিষ্ট্য
1. শাস্ত্রীয় অনুমোদিত: ধর্ম ও সমাজের চোখে
গ্রহণযোগ্য
2. বংশধরের স্বীকৃতি: সন্তান বৈধ ও উত্তরাধিকারী হিসেবে
স্বীকৃত
3. স্তরানুকূলতা: বর ও কন্যার
সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্তর
সমন্বয় বজায় থাকে
পার্থক্য
·
অনুলোম:
বর উচ্চপদে বা সমতুল্য স্তরে,
কন্যার নীচে নয়
·
প্রতিলোম:
বর নিম্নপদে, কন্যার চেয়ে নিচে (শাস্ত্রীয়ভাবে কম অনুমোদিত)
·
উপসংহার
অনুলোম বিবাহ হলো হিন্দু শাস্ত্রে অনুমোদিত সেই বিবাহ, যেখানে বর ও কন্যার
স্তরানুকূলতা বজায় থাকে এবং সন্তান বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
20. প্রতিনিধিত্ব
মতবাদ
প্রতিনিধিত্ব
মতবাদ
বলতে বোঝায়— যদি
কোনো উত্তরাধিকারী মৃত্যুর আগে মৃত্যুব্যাপী সম্পত্তির অধিকার প্রাপ্তির সময়ের আগে মারা যায়, তাহলে তার সন্তান বা বংশধর তার স্থানে উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার লাভ করে।অর্থাৎ, মৃত পূর্বপুরুষের অধিকার তার বংশধরের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
প্রয়োগ
1. পিতা বা পুর্বপুরুষ মারা
গেলে তার সন্তানরা তার অংশে উত্তরাধিকারী হয়ে যায়
2. মৃত উত্তরাধিকারীর সন্তানরা তার স্থান নেয়
3. যৌথ পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি
উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
উদ্দেশ্য
·
বংশের
অধিকার সংরক্ষণ
·
ন্যায়সঙ্গত
সম্পত্তি বণ্টন নিশ্চিত করা
·
উত্তরাধিকার
থেকে বংশধরকে বঞ্চিত না করা
প্রতিনিধিত্ব
মতবাদ
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা মৃত ব্যক্তির
অধিকার তার বংশধরের মাধ্যমে বজায় রাখে।
২১. বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান
বিজ্ঞানলব্ধ
জ্ঞান
বলতে সেই জ্ঞানকে বোঝায় যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞানের বৈশিষ্ট্য
·
প্রমাণভিত্তিক:
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ
থাকে
·
পরীক্ষাযোগ্য
ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য:
একই শর্তে পরীক্ষা করলে একই ফল পাওয়া যায়
·
যুক্তিনির্ভর:
কারণ–কার্য সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা যায়
·
পরিবর্তনশীল:
নতুন প্রমাণ এলে পুরোনো ধারণা সংশোধিত হতে পারে
·
সর্বজনীন:
ব্যক্তি বা সংস্কৃতিভেদে বদলায়
না
উদাহরণ
·
পৃথিবী
সূর্যের চারদিকে ঘোরে
·
পানি
১০০° সেলসিয়াসে ফুটে (স্বাভাবিক চাপে)
·
ব্যাকটেরিয়া
রোগ সৃষ্টি করতে পারে
·
বিদ্যুৎ
প্রবাহের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে (ওহমের সূত্র)
সংক্ষেপে, যে জ্ঞান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিই বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান।
No comments