হিন্দু আইন টিকা পরীক্ষা - ২০২৫ -সেবায়েত,গন্ধর্ব বিবাহ,কর্তা, অবিভাজ্য সম্পত্তি,উইল,দেবোত্তর সম্পত্তি, সপিণ্ড,প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
৭. সেবায়েত
হিন্দু আইনে সেবায়েত
বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি দেবতার সম্পত্তি ও পূজা-অর্চনার
দায়িত্ব পালন করেন। হিন্দু
আইনে দেবতাকে একটি আইনগত ব্যক্তি (Juristic Person) হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেবায়েত হলেন সেই দেবতার প্রতিনিধি ও ব্যবস্থাপক।
সেবায়েতের বৈশিষ্ট্য
·
সেবায়েত
দেবতার সম্পত্তির পরিচালক ও রক্ষক
·
তিনি
দেবতার পক্ষে মামলা করতে ও মোকাবিলা করতে
পারেন
·
সেবায়েতের
পদ সম্পত্তিগত অধিকার ও দায়িত্বের মিশ্রণ
সেবায়েতের অধিকার
·
দেবতার
পূজা ও সেবার অধিকার
·
দেবোত্তর
সম্পত্তি পরিচালনার অধিকার
·
নির্দিষ্ট
ক্ষেত্রে সম্মানী বা ভোগ পাওয়ার
অধিকার
সীমাবদ্ধতা
·
সেবায়েত
দেবতার সম্পত্তির মালিক নন
·
দেবতার
স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করতে পারেন না
·
সম্পত্তি
হস্তান্তর সাধারণত নিষিদ্ধ
উত্তরাধিকার
·
সেবায়েতের
পদ সাধারণত উত্তরাধিকারসূত্রে চলে
·
প্রতিষ্ঠাতার
ইচ্ছা অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়
·
সেবায়েত
হিন্দু আইনে দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি ও পূজা-অর্চনা
সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।
৮. গন্ধর্ব বিবাহ
হিন্দু শাস্ত্রে গন্ধর্ব বিবাহ বলতে বোঝায়— যখন বর ও কনে
প্রেমমতে একে অপরকে স্বীকার করে এবং সামাজিক বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা
ছাড়াই বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন করে। অর্থাৎ, এটি মূলত স্মরণীয় রীতি ও সংস্থান ছাড়া ব্যক্তিগত সম্মতির বিবাহ।
বৈশিষ্ট্য
1. কোন ধর্মীয় পূজা বা উপনয়ন অনুষ্ঠান
প্রয়োজন নেই
2. সামাজিক বা পারিবারিক অনুমোদন
বাধ্যতামূলক নয়
3. স্বীকৃতি মূলত বর ও কনের সম্মতিতে
4. সাধারণত প্রেমভিত্তিক বিবাহ
আইনগত স্বীকৃতি
·
Hindu Marriage Act, 1955 অনুযায়ী
o
শুধুমাত্র
পূর্ণবয়স্ক (বর ≥ 21, কনে ≥ 18) ব্যক্তি
o
বিনা
বাধায় বিবাহে স্বীকৃতি পায়
·
দেবতা
বা পরিবার দ্বারা অনুমোদিত নয়, কিন্তু বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য হতে পারে
উপসংহার
গন্ধর্ব বিবাহ হলো হিন্দু শাস্ত্রে স্বীকৃত প্রেমমতে সম্পন্ন বিবাহ, যা সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা
ছাড়া হলেও বৈধ বিবাহের ধারা অনুসারে গণ্য হতে পারে।
৯. কর্তা (Karta)
অর্থ:
হিন্দু যৌথ পরিবারে কর্তা হলো সেই ব্যক্তি, যিনি
যৌথ পরিবার ও পরিবারের সম্পত্তির
প্রধান প্রশাসক ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। কর্তা সাধারণত
পিতৃপুরুষ বা পরিবারের সবচেয়ে বৃদ্ধ পুরুষ সদস্য।
কর্তার বৈশিষ্ট্য
1. প্রশাসনিক কর্তৃত্ব: পরিবার ও যৌথ সম্পত্তি
পরিচালনা
2. ধার্য্য ক্ষমতা: পরিবারের ঋণ, সম্পত্তি কেনাবেচা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ
3. আইনগত অধিকার: পরিবারকে মামলা-মোকদ্দমায় প্রতিনিধি করা
4. নির্ধারক ব্যক্তি: পরিবারকে কোনো আইনি বা সামাজিক বাধ্যবাধকতা
থেকে মুক্ত রাখতে পারে
কর্তার কর্তব্য
·
পরিবারের
সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা
·
যৌথ
সম্পত্তি সংরক্ষণ ও পরিচালনা
·
পরিবারের
ঋণ ও দায় নির্ধারণ
সীমাবদ্ধতা
·
নিজের
স্বার্থে সম্পত্তি অপব্যবহার করা যাবে না
·
পরিবারের
স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না
হিন্দু যৌথ পরিবারে কর্তা হলেন সেই কেন্দ্রীয় ব্যক্তি, যিনি পরিবারের প্রশাসন ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা
করেন এবং পরিবারের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
১০. অবিভাজ্য সম্পত্তি (Undivided
Property)
হিন্দু আইনে অবিভাজ্য সম্পত্তি বলতে সেই যৌথ পরিবারের সম্পত্তিকে বোঝায়, যা
সব সদস্যের যৌথ অধিকারাধীন, এবং যা বিনা ভাগাভাগি বা পার্টিশন ছাড়া পৃথক করা যায় না।
বৈশিষ্ট্য
1. যৌথ অধিকার: সমস্ত সহ-অংশীদারের যৌথ
অধিকার থাকে
2. বিনা পার্টিশন অবিভাজ্য: অবশিষ্ট অংশদাররা সম্মত না হওয়া পর্যন্ত
ভাগ করা যায় না
3. কর্তার প্রশাসন: কর্তা সম্পত্তি পরিচালনা করেন, তবে ব্যক্তিগত মালিকানা নয়
4. উত্তরাধিকার: জন্মসূত্রে পরিবার সদস্যরা অংশ পায়
উদাহরণ
·
পিতৃপুরুষের
থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি
·
পরিবারে
যৌথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা আয়বৃদ্ধি সম্পত্তি
অবিভাজ্য সম্পত্তি হিন্দু যৌথ পরিবারের মূল ভিত্তি, যা সকল সদস্যের যৌথ অধিকার রক্ষা করে এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
উইল (Will) – হিন্দু আইন
অর্থ:
উইল
হলো কোনো ব্যক্তির লিখিত ইচ্ছাপত্র, যার
মাধ্যমে সে নিজের মৃত্যুর
পর সম্পত্তি বা অধিকার কীভাবে বিতরণ হবে তা নির্ধারণ করে।
বৈশিষ্ট্য
1. স্বেচ্ছামূলক: উইল শুধুমাত্র উইলকারীর ইচ্ছানুযায়ী প্রণীত
2. মৃত্যুর পর কার্যকর: উইল শুধুমাত্র উইলকারীর মৃত্যুর পর বৈধ হয়
3. লিখিত ও সাক্ষ্য প্রমাণিত: সাধারণত লিখিত হতে হয় এবং স্বাক্ষী থাকা বাধ্যতামূলক
4. পূর্বনির্ধারিত সীমাবদ্ধতা: উইলে নির্ধারিত অংশ বাদে বৈধ উত্তরাধিকারিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় না
প্রয়োগ
·
ব্যক্তিগত
সম্পত্তি বণ্টন
·
দাতা
বা কৃপণীয় সম্পত্তির দান
·
পরিবারের
সদস্যদের জন্য নির্দেশনা
উইল হলো হিন্দু আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দলিল, যা ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের ইচ্ছা আইনগতভাবে কার্যকর করে।
১১. দেবোত্তর সম্পত্তি
দেবোত্তর সম্পত্তি বলতে সেই সম্পত্তিকে বোঝায়, যা
দেবতার নামে নিবেদিত এবং শুধুমাত্র ধর্মীয় বা পুণ্য কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়।
বৈশিষ্ট্য
1. নিয়োগ: ব্যক্তিগত বা দান সূত্রে
দেবতার নামে নিবেদিত
2. ব্যবহার: শুধুমাত্র পূজা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা দানের কাজে
3. উত্তরাধিকার: সাধারণত পরিবার বা সেবায়েতরা পরিচালনা
করে
4. আইনগত দায়িত্ব: সেবায়েত বা প্রার্থীর দায়িত্ব
যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা
উদাহরণ
·
মন্দিরের
জমি বা ধন
·
পূজা
বা ধর্মীয় কাজের জন্য দত্ত নগদ বা সম্পত্তি
দেবোত্তর সম্পত্তি হলো হিন্দু আইনে এমন একটি ধর্মীয় সম্পত্তি, যা দেবতার কল্যাণ
এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য নিবেদিত, এবং সেবায়েত বা অনুমোদিত ব্যক্তির
দ্বারা পরিচালিত হয়।
১২. সপিণ্ড
(Sapinda) – হিন্দু আইন
হিন্দু আইন অনুযায়ী সপিণ্ড বলতে সেই আত্মীয়কে বোঝায়, যার সাথে রক্ত সম্পর্ক বা বিবাহ সূত্রে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। সপিণ্ড সম্পর্ক প্রধানত বিবাহে নিষিদ্ধ সম্পর্ক নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
সপিণ্ড সম্পর্কের সীমা
1. পিতামাতার দিক থেকে:
o
সাধারণত
৫ তম বা ৭
তম পীড় পর্যন্ত (Hindu Marriage
Act অনুযায়ী)
2. মাতামাতার দিক থেকে:
o
সাধারণত
৫ তম বা ৭
তম পীড় পর্যন্ত
3. বিবাহ নিষিদ্ধ:
o
একই
সপিণ্ড পরিসরের মধ্যে থাকা ব্যক্তি একে অপরের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহ করতে পারে না
উদাহরণ
·
ভাই
ও বোন, পিতামাতার চাচাত ভাই বা কাকা-কাকিমা
·
মাতামাতার
চাচা বা কাকা-কাকিমা
সপিণ্ড
হলো হিন্দু আইনে একটি নির্দিষ্ট আত্মীয় সম্পর্কের ধারা, যা মূলত বিবাহে
নিষিদ্ধ
সম্পর্ক
নির্ধারণে
ব্যবহৃত হয়।
১৩. প্রতিনিধিত্ব
মতবাদ (Doctrine of
Representation) – হিন্দু
আইন
হিন্দু আইনে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ বলতে বোঝায়— যদি কোনো উত্তরাধিকারী মৃত্যুর আগে মৃত্যুব্যাপী সম্পত্তির অধিকার প্রাপ্তির সময়ের আগে মারা যায়, তাহলে তার সন্তান বা বংশধর তার স্থলে উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার লাভ করে।
অর্থাৎ, মৃত পূর্বপুরুষের অধিকার তার বংশধরের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
প্রয়োগ
1. পিতা বা পুর্বপুরুষ মারা
গেলে তার সন্তানরা তার অংশে উত্তরাধিকারী হয়ে যায়
2. মৃত উত্তরাধিকারীর সন্তানরা তার স্থান নেয়
3. যৌথ পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি
উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
উদ্দেশ্য
·
বংশের
অধিকার সংরক্ষণ
·
ন্যায়সঙ্গত
সম্পত্তি বণ্টন নিশ্চিত করা
·
উত্তরাধিকার
থেকে বংশধরকে বঞ্চিত না করা
প্রতিনিধিত্ব
মতবাদ
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা মৃত ব্যক্তির
অধিকার তার বংশধরের মাধ্যমে বজায় রাখে।
No comments