শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন পদ্ধতি আলোচনা কর, শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন পদ্ধতি আলোচনা কর, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী “শিশু" ও "কিশোর" এর সংজ্ঞা প্রদান করুন। বাংলাদেশে কিশোর শ্রমিক নিয়োগের বিধি-বিধানগুলো আলোচনা করুন।
৭।
(ক) শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল
ট্রাইব্যুনালের গঠন পদ্ধতি আলোচনা কর । (খ) শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন পদ্ধতি আলোচনা কর ।
নিচে প্রশ্নের উভয় অংশের সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আলোচনা দেওয়া হলো—
(ক) শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল
ট্রাইব্যুনালের গঠন পদ্ধতি
১. শ্রম আদালতের গঠন
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক
শ্রম আদালত স্থাপন করতে পারে।
শ্রম
আদালতের
গঠনপদ্ধতি—
শ্রম আদালত সাধারণত ৩
(তিন)
জন
সদস্য
নিয়ে গঠিত, যথা—
1. একজন
চেয়ারম্যান
o
তিনি
জেলা জজ বা অতিরিক্ত
জেলা জজ বা সমমর্যাদার
বিচারক হন।
2. একজন
শ্রমিক
প্রতিনিধি
o
শ্রমিকদের
মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক মনোনীত।
3. একজন
মালিক
প্রতিনিধি
o
মালিকদের
মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক মনোনীত।
চেয়ারম্যান আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২. শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন
শ্রম আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে
আপিল শুনানির জন্য সরকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
গঠনপদ্ধতি—
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল সাধারণত গঠিত হয়—
1. একজন
চেয়ারম্যান
o
তিনি
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি
হন।
2. এক
বা
একাধিক
সদস্য
(প্রয়োজনে)
চেয়ারম্যান এককভাবে অথবা সদস্যদের সহায়তায় আপিল নিষ্পত্তি করতে পারেন।
(খ) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
১. অপরাধ বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আদালত নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের বিচার করতে পারে—
·
শ্রমিকের
মজুরি পরিশোধে ব্যর্থতা
·
অবৈধ
ছাঁটাই বা বরখাস্ত
·
নিরাপত্তা
ও স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন
·
শিশু
শ্রম সংক্রান্ত অপরাধ
·
ট্রেড
ইউনিয়ন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন
শ্রম আদালত এসব অপরাধে জরিমানা
ও
কারাদণ্ড
প্রদান করতে পারে।
২. কার্যাবলি
শ্রম আদালতের প্রধান কার্যাবলি হলো—
1. শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ ও বিচার করা
2. সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রমাণ মূল্যায়ন
করা
3. দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করা
4. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া
5. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান
উপসংহার
শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল
ট্রাইব্যুনাল শ্রমিক ও মালিক উভয়ের
স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান শ্রম সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও অপরাধ বিচার
নিশ্চিত করে শিল্পক্ষেত্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায়
রাখে।
৮.
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী “শিশু" ও "কিশোর" এর সংজ্ঞা প্রদান
করুন। বাংলাদেশে কিশোর শ্রমিক নিয়োগের বিধি-বিধানগুলো আলোচনা করুন।
(ক) “শিশু” ও “কিশোর” এর
সংজ্ঞা
১. শিশু (Child)
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২(৬৩) অনুযায়ী—
যে ব্যক্তি ১৪ (চৌদ্দ) বছর বয়স পূর্ণ করেনি, তাকে শিশু বলা হয়।
২. কিশোর (Adolescent)
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২(৮) অনুযায়ী—
যে ব্যক্তি ১৪ বছর পূর্ণ করেছে কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ করেনি, তাকে কিশোর বলা হয়।
(খ) বাংলাদেশে কিশোর শ্রমিক নিয়োগের বিধি-বিধান
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও নির্দিষ্ট শর্তে কিশোর শ্রমিক নিয়োগ বৈধ। বিধি-বিধানগুলো
নিচে আলোচনা করা হলো—
১. চিকিৎসা সনদ বাধ্যতামূলক
কিশোর শ্রমিককে নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই—
·
সরকার
অনুমোদিত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকতে হবে
·
সার্টিফিকেটে
উল্লেখ থাকবে যে সে কাজের
জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত
২. ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ
কিশোরকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—
·
বিপজ্জনক
বা ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে
·
ভারী
যন্ত্রপাতি সংবলিত কাজে
·
খনি,
রাসায়নিক, আগুন বা বিস্ফোরক সংক্রান্ত
কাজে
৩. কর্মঘণ্টা সীমাবদ্ধতা
কিশোর শ্রমিকের জন্য—
·
দৈনিক
ও সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা সীমিত
·
রাতের
বেলা কাজ করানো নিষিদ্ধ
·
পর্যাপ্ত
বিশ্রাম ও ছুটির ব্যবস্থা
রাখতে হবে
৪. পরিচয়পত্র ও রেজিস্টার সংরক্ষণ
নিয়োগকর্তাকে—
·
কিশোর
শ্রমিকের নাম, বয়স ও কাজের বিবরণসহ
রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে
·
প্রয়োজনে
শ্রম পরিদর্শকের কাছে তা প্রদর্শন করতে
হবে
৫. শিক্ষা ও কল্যাণের প্রতি
গুরুত্ব
কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রে—
·
এমন
কাজ দিতে হবে যাতে তার শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ
ব্যাহত না হয়
·
স্বাস্থ্য,
নিরাপত্তা ও নৈতিক উন্নয়ন
নিশ্চিত করতে হবে
৬. আইন লঙ্ঘনের শাস্তি
উক্ত বিধি লঙ্ঘন করলে—
·
নিয়োগকর্তার
বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে
উপসংহার
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শিশু শ্রম নিষিদ্ধ করে এবং কিশোর শ্রমিক নিয়োগকে কঠোর নিয়মের আওতায় এনেছে। এর উদ্দেশ্য হলো
কিশোরদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা
নিশ্চিত করা এবং মানবিক শ্রম পরিবেশ গড়ে তোলা।
No comments