বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন এর যুক্তরাজ্য অংশ এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫- পার্ট-২
বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন এর যুক্তরাজ্য অংশ এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫- পার্ট-২
1.
সাংবিধানিক রীতি
নীতি
বলতে
কী
বুঝ?
সাংবিধানিক
রীতি
নীতির
প্রধান
উদ্দেশ্য
হলো
বিদ্যমান
সাংবিধানিক
মূল্যবোধ
অথবা
সমকালীন
নীতিমালার
সাথে
সঙ্গতি
রেখে
যাতে
সংবিধানের
আইনগত
কাঠামো
কার্যকরী
হতে
পারে
তার
নিশ্চয়তা
বিধান
করা”–আলোচনা
কর
।
১.
সাংবিধানিক
রীতি-নীতি
(Constitutional Conventions) বলতে কী
বুঝ?
সংজ্ঞা:
·
সাংবিধানিক
রীতি-নীতি হলো লিখিত
সংবিধানের
অংশ
নয়,
তবে
শাসন
ব্যবস্থায়
অনুশীলন
ও
প্রথার
মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠিত
নিয়ম
বা
আচরণ,
যা সরকার, সংসদ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে অনুসরণ করতে
বাধ্য করে।
·
সংক্ষেপে,
এটি হলো সংবিধানের
“অলিখিত
নিয়ম”,
যা শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর রাখে।
প্রধান
বৈশিষ্ট্য:
1. আইনগত বাধ্যতা না থাকলেও মানা
হয়।
2. সাধারণত শাসকগোষ্ঠী, আদালত এবং জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা দ্বারা রক্ষা করা হয়।
3. সরকার পরিচালনা ও ক্ষমতার ব্যবহারকে
শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।
উদাহরণ:
·
ব্রিটেনে
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রথাগতভাবে হাউস অব কমন্সের সর্বাধিক
সংখ্যক সদস্য হতে হবে।
·
রাষ্ট্রপতি
ও সংসদে কিছু আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেও, প্রথাগতভাবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নীতিমালা
নির্ধারণ করে।
২.
প্রধান
উদ্দেশ্য
“সাংবিধানিক রীতি নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান সাংবিধানিক মূল্যবোধ অথবা সমকালীন নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে যাতে সংবিধানের আইনগত কাঠামো কার্যকরী হতে পারে তার নিশ্চয়তা বিধান করা।”
বিস্তারিত
ব্যাখ্যা:
1. সংবিধানের
কাঠামো
কার্যকর
করা:
o
লিখিত
সংবিধান অনেক সময় সকল
পরিস্থিতি
সম্পূর্ণভাবে
নির্ধারণ
করে
না।
o
রীতি-নীতি শাসন ব্যবস্থায় ফাঁক পূরণ করে এবং সংবিধানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।
2. সাংবিধানিক
মূল্যবোধ
রক্ষা:
o
যেমন
গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এসব মূলনীতি রীতির মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীকে মেনে চলতে প্ররোচিত করে।
3. সমকালীন
নীতিমালার
সঙ্গে
সঙ্গতি:
o
সমাজের
পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি-নির্দেশ পরিবর্তন হতে পারে।
o
রীতি-নীতি সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সংবিধানের
স্থিতিশীলতা
রক্ষা
করে।
4. রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা
নিশ্চিত
করা:
o
রীতি-নীতি শাসক ও সংসদকে বাধ্য
করে অবৈধ
বা
অপ্রথাগত
সিদ্ধান্ত
নেওয়া
থেকে
বিরত
রাখে।
. উপসংহার
·
সাংবিধানিক
রীতি-নীতি হলো সংবিধানের
কার্যকরী
বাস্তবায়নের
মূল
চালিকা
শক্তি,
যা লিখিত আইনের ফাঁক পূরণ করে।
·
এটি
নিশ্চিত করে যে, শাসকগোষ্ঠী
এবং
সরকার
সংবিধানের
মূল
মূল্যবোধ
মেনে
চলে,
এবং আইনগত কাঠামো কার্যকর থাকে।
6.লর্ডসভা কীভাবে
গঠিত
হয়?
তুমি
কি
মনে
কর
যে,
লর্ডসভার
মতো
একটি
কক্ষ
বাংলাদেশে
জাতীয়
সংসদে
থাকা
প্রয়োজন?
তোমার
উত্তরের
সপক্ষে
যুক্তি
দাও
।]
১.
লর্ডসভা
(House of Lords) কীভাবে
গঠিত
হয়?
ব্রিটিশ
পার্লামেন্টে
দুটি
কক্ষ
রয়েছে:
1. হাউস
অব
কমন্স
– নির্বাচিত সদস্যদের কক্ষ
2. হাউস
অব
লর্ডস
– অভিজাত ও মনোনীত সদস্যদের
কক্ষ
লর্ডসভার
গঠন:
·
লর্ডস
টেম্পোরারি
বা
লাইফ
পিয়ার:
o
প্রধানমন্ত্রী
মনোনীত করে, জীবদ্দশায় কক্ষের সদস্য হয়।
·
হেরিডিটারি
লর্ডস
(উত্তরাধিকারভিত্তিক):
o
কিছু
পরিবার বা অভিজাত উপাধি
অনুযায়ী সদস্যত্ব।
o
আধুনিক
সময়ে সংখ্যা সীমিত এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কিছু হেরিডিটারি লর্ডস নির্বাচিত হয়।
·
অধ্যাপক
বা
বিশিষ্ট
ব্যক্তিরা:
o
সমাজের
বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত সদস্য।
·
কার্যত
প্রধান
কর্তৃত্ব
নয়,
বরং আইন
প্রণয়নে
পরামর্শ
ও
পর্যালোচনা
ভূমিকা
পালন করে।
সংক্ষেপে, হাউস অব লর্ডস হলো
মনোনীত
ও
কিছু
উত্তরাধিকারভিত্তিক
অভিজাতদের
কক্ষ,
যা আইনের গুণগত পর্যালোচনা এবং নীতিনির্ধারণে অংশ নেয়।
২.
বাংলাদেশে
লর্ডসভার
মতো
একটি
কক্ষ
প্রয়োজন
কি?
বাংলাদেশে
বর্তমানে
সংসদ
একক
কক্ষ
(unicameral) – জাতীয়
সংসদ।
সমর্থনের
যুক্তি:
1. আইন
প্রণয়নে
পর্যালোচনা:
o
লর্ডসভার
মতো দ্বিতীয় কক্ষ থাকলে, আইনের
মান,
গুণমান
এবং
প্রভাব
আরও ভালোভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব।
o
প্রাথমিক
কক্ষের তাড়াহুড়া বা রাজনৈতিক চাপ
কমানো যায়।
2. বিশেষজ্ঞ
ও
অভিজাতদের
অংশগ্রহণ:
o
সমাজের
বিশেষজ্ঞ,
শিক্ষাবিদ,
বিশিষ্ট
নাগরিক
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।
o
সমাজে
সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী নীতি
তৈরি সহজ হবে।
3. রাজনৈতিক
ভারসাম্য:
o
একক
কক্ষের তুলনায় দ্বিতীয় কক্ষ রাজনৈতিক
ও
আইনগত
ভারসাম্য
বজায়
রাখতে
সাহায্য
করে।
o
জনগণের
নির্বাচিত প্রতিনিধির দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রভাব সমন্বিত করা যায়।
বিরোধের
যুক্তি:
·
অতিরিক্ত
ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা।
·
দ্বিকক্ষ
ব্যবস্থা ধীরগতি সৃষ্টি করতে পারে।
·
বাংলাদেশে
এখনো প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন
বিশিষ্ট জন নেই।
কিন্তু, আইন
প্রণয়ন
ও
নীতি
বিশ্লেষণে
দ্বিতীয়
কক্ষের
ভূমিকা
গুরুত্বপূর্ণ,
বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী নীতি ও সংবিধান সংরক্ষণে।
উপসংহার
·
লর্ডসভা
হলো
অভিজাত
ও
মনোনীত
সদস্যদের
কক্ষ,
যা আইন প্রণয়ন ও নীতি বিশ্লেষণে
সাহায্য করে।
·
বাংলাদেশে
দ্বিতীয়
কক্ষের
মতো
একটি
কক্ষ
থাকা
উপকারী
হতে
পারে,
বিশেষ করে:
1. আইন প্রণয়নের গুণগত মান বৃদ্ধি
2. বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের
অংশগ্রহণ
3. রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা
7.রীট
বলতে কী বুঝ? ইহা
কত প্রকার? বিভিন্ন প্রকার রীটের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।
১.
রীট
(Writ) বলতে
কী
বুঝ?
সংজ্ঞা:
·
রীট
হলো আদালতের
একটি
আনুষ্ঠানিক
লিখিত
নির্দেশ,
যা কোনো
ব্যক্তি
বা
সংস্থাকে
কোনো
কাজ
করতে
বা
বন্ধ
করতে
বাধ্য
করে।
·
এটি
আদালতের
মূল
প্রয়োজনীয়
ক্ষমতার
(Judicial Authority) অংশ,
বিশেষত মৌলিক
অধিকার
রক্ষায়।
সংক্ষেপে: রীট হলো আদালতের নির্দেশ যা নাগরিক বা
প্রশাসনকে বাধ্য করে আইন অনুযায়ী কাজ করতে।
২.
রীট
কত
প্রকার?
সাধারণভাবে রীটগুলো মূলত
ছয়
প্রকারের:
1. হেবিয়াস
কোর্পাস
(Habeas Corpus)
2. মান্ডামাস
(Mandamus)
3. প্রহিবিশন
(Prohibition)
4. কুইয়াম
(Quo Warranto)
5. সার্টিয়ারি
(Certiorari)
6. রিটার্ন
(Rettinue / রিট
অফ
রিটার্ন)
– যদিও কিছু দেশে প্রধান ৫ প্রকারই ব্যবহৃত
হয়।
৩.
বিভিন্ন
রীটের
বৈশিষ্ট্য
|
রীটের নাম |
উদ্দেশ্য / বৈশিষ্ট্য |
উদাহরণ |
|
Habeas Corpus |
কারাবন্দি
ব্যক্তিকে আদালতের সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ। অবৈধ আটক রোধে ব্যবহার। |
পুলিশ
অবৈধভাবে কাউকে আটক করলে আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে তাকে আদালতের সামনে নিয়ে আসতে হবে। |
|
Mandamus |
সরকারী
কর্মকর্তা বা সংস্থাকে আইনমতো কর্তব্য পালন করতে বাধ্য করা। |
যদি
কোনো সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী ফলাফলের শংসাপত্র জারি না করে, আদালত তাকে বাধ্য করতে পারে। |
|
Prohibition |
তদারকি সংস্থা বা নিম্ন আদালতকে কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ, যদি তারা আইনবিরুদ্ধ কাজ করছে। |
ন্যায়পরায়ণ
না হওয়া আদালত কোনো মামলা পরিচালনা করলে উচ্চ আদালত প্রহিবিশন রীট জারি করতে পারে। |
|
Quo Warranto |
কাউকে কোনো পদ বা ক্ষমতা গ্রহণের অধিকার আছে কি না তা যাচাই। |
যদি
কেউ সরকারি পদ দখল করে যতোক্ষণ তার অধিকার নেই, আদালত তা বাতিল করতে পারে। |
|
Certiorari |
নিম্ন আদালত বা সংস্থার রায়/ফলাফল পর্যালোচনা ও বাতিল করার নির্দেশ। |
যদি
জেলা আদালতের রায় অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, উচ্চ আদালত এটি বাতিল করতে পারে। |
৪.
সারসংক্ষেপ
·
রীট
হলো
আদালতের
আদেশ,
যা
নাগরিকদের
অধিকার
রক্ষা
ও
সরকারের
কর্তব্য
নিশ্চিত
করে।
·
প্রধান
রীটগুলো:
Habeas Corpus, Mandamus, Prohibition, Quo Warranto, Certiorari।
·
এগুলোর
মাধ্যমে অবৈধ
বন্দী,
দায়িত্বহীন
সরকারি
কর্মকর্তা,
অবৈধ
আদালত,
সরকারি
পদ
দখল
ইত্যাদি
নিয়ন্ত্রণ
করা
যায়।
8.দেশ
শাসন করা ইংল্যান্ডের সংসদের কাজ নয়, বরং যারা দেশ শাসন করে তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ইহার কাজ" (গ্ল্যাডস্টোন)। উক্তিটি আলোচনা
কর।।
চল, ধাপে ধাপে উক্তিটির বিশ্লেষণ করি।
উক্তি:
“দেশ শাসন করা ইংল্যান্ডের সংসদের কাজ নয়, বরং যারা দেশ শাসন করে তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ইহার কাজ।” — গ্ল্যাডস্টোন
১.
উক্তির
অর্থ
·
গ্ল্যাডস্টোন
মূলত বলেছেন যে, সংসদ
বা
আইনসভা
সরাসরি
দেশের
প্রশাসন
চালায়
না।
·
সংসদের
প্রধান কাজ হলো:
1. সরকারের
ওপর
নজরদারি
করা
2. শাসকদের
দায়িত্ব
ও
জবাবদিহি
নিশ্চিত
করা
·
অর্থাৎ,
সংসদ হলো নিয়ন্ত্রণকারী
ও
তত্ত্বাবধানকারী
সংস্থা,
প্রশাসন চালানোর জন্য নয়।
সংক্ষেপে, সংসদ হলো শাসকগোষ্ঠীর
জবাবদিহি
নিশ্চিত
করার
কাঠামো,
সরাসরি প্রশাসনের হাতিয়ার নয়।
২.
বিশ্লেষণ
ক. সংসদের ভূমিকা
1. আইন
প্রণয়ন:
o
আইন
প্রণয়ন করে সাধারণ নিয়মকানুন স্থাপন করে।
2. সরকারি
তদারকি:
o
বাজেট
অনুমোদন, নীতি সমালোচনা ও প্রশ্ন-উত্তর
সেশনের মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড তদারকি করে।
3. শাসকদের
জবাবদিহি:
o
সংসদ
সদস্যরা সরকারের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী
ও
মন্ত্রিসভার
প্রতি
দায়িত্বশীল।
খ. বাস্তব উদাহরণ
·
প্রধানমন্ত্রী
বা মন্ত্রীরা সংসদে
ব্যাখ্যা
দেয়।
·
যদি
কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বহীনতা করে, সংসদ
তাদের
জবাবদিহি
চায়।
·
ইংল্যান্ডের
প্রধানমন্ত্রী
ও
মন্ত্রিসভা
সংসদের
প্রতি
দায়িত্বশীল,
আর সংসদ তা নিশ্চিত করে।
গ. গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ
·
এটি
সংসদের
গুরুত্বকে
নিপুণভাবে
চিহ্নিত
করে।
·
সরকার
জনগণের
প্রতিনিধি
সংসদকে
রিপোর্ট
করে,
সুতরাং জনগণ বা তাদের প্রতিনিধি
শাসকের
ওপর
নিয়ন্ত্রণ
রাখে।
৩.
উপসংহার
·
গ্ল্যাডস্টোনের
উক্তি সংক্ষেপে বোঝায় যে, সংসদ
দেশের
প্রশাসন
পরিচালনা
করে
না,
বরং শাসকদের
জবাবদিহি
নিশ্চিত
করে।
·
এটি
গণতন্ত্রের
মূল
নীতি:
সরকার জনগণের
নিয়ন্ত্রণে
থাকে এবং সংসদ তার হাতিয়ার।
·
এর
মাধ্যমে শাসক
ও
নাগরিকের
মধ্যে
ভারসাম্য
বজায়
থাকে।
9. ব্রিটিশ
কেবিনেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর। ব্রিটেনের মন্ত্রী পরিষদ ও কেবিনেটের মধ্যে
পার্থক্যগুলো উল্লেখ কর। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি বর্ণনা কর।
১.
ব্রিটিশ
কেবিনেট
ব্যবস্থার
বৈশিষ্ট্য
ব্রিটিশ কেবিনেট হলো প্রধানমন্ত্রী
নেতৃত্বাধীন
সরকারী
মন্ত্রিসভা,
যা দেশের প্রশাসন পরিচালনা করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
1. প্রধানমন্ত্রীর
নেতৃত্বে
কেন্দ্রীভূত:
o
প্রধানমন্ত্রী
কেবিনেটের নেতা এবং নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী।
2. সমষ্টিগত
দায়িত্ব
(Collective Responsibility):
o
কেবিনেটের
সকল মন্ত্রী সরকারের
নীতির
জন্য
সমষ্টিগতভাবে
দায়ী।
o
সিদ্ধান্ত
নেওয়ার পরে সবাই তা সমর্থন করতে
বাধ্য।
3. ব্যক্তিগত
দায়িত্ব
(Individual Responsibility):
o
প্রতিটি
মন্ত্রী নিজের
দপ্তরের
কাজের
জন্য
দায়ী।
o
কর্মকর্তাদের
ত্রুটি বা অনিয়ম ঘটলে
পদত্যাগ বা শাস্তির সুযোগ
রয়েছে।
4. গোপন
বৈঠক:
o
কেবিনেট
বৈঠক গোপনভাবে হয়, যাতে মুক্ত আলোচনা সম্ভব।
5. দ্বিকক্ষ
পার্লামেন্টের
সাথে
সম্পর্ক:
o
কেবিনেট
হাউস অব কমন্স ও
হাউস অব লর্ডসের নীতিনির্ধারণে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
o
হাউস
অব কমন্সে সরকার ক্ষমতাসীন থাকায় বাজেট ও আইন প্রণয়ন
সহজ হয়।
২.
ব্রিটেনের
মন্ত্রী
পরিষদ
বনাম
কেবিনেটের
পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্য |
মন্ত্রী পরিষদ (Ministry /
Council of Ministers) |
কেবিনেট (Cabinet) |
|
সদস্য |
সমস্ত
মন্ত্রী, সহকারী মন্ত্রী ও লর্ডসভার সদস্য |
প্রধানমন্ত্রীর
নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রধাণ মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা |
|
আকার |
বড়
(50+ সদস্য) |
ছোট
(২০–২৫ সদস্য),
মূল নীতি নির্ধারক |
|
ভূমিকা |
প্রশাসনের
বিভিন্ন দপ্তর পরিচালনা |
নীতি
নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
|
বৈঠক |
নিয়মিত
হলেও বৃহৎ ও কম গোপন |
সীমিত,
গোপন এবং কার্যকরী আলোচনা হয় |
|
দায়িত্ব |
ব্যক্তিগত
ও দপ্তরভিত্তিক |
সমষ্টিগত
দায়িত্ব ও নীতি অনুমোদন |
সংক্ষেপে: কেবিনেট
হলো
মন্ত্রিসভার
“মূল
শক্তি
কেন্দ্র”,
যেখানে নীতি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।
৩.
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রীর
সাংবিধানিক
মর্যাদা
এবং
কার্যাবলি
মর্যাদা
1. সরকার
প্রধান:
কেবিনেটের নেতা এবং মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
2. সংসদের
প্রতি
দায়িত্বশীল:
হাউস অব কমন্সে সংসদ
সদস্যদের কাছে জবাবদিহি।
3. রাজপক্ষের
সঙ্গে
সম্পর্ক:
আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি/রাজা-রানীর প্রতি দায়িত্বশীল, কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক কর্তৃত্বে পরিচালিত।
গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি
1. কেবিনেট
গঠন
ও
নেতৃত্ব:
o
মন্ত্রী
নির্বাচন ও পদোন্নতি।
2. নীতি
নির্ধারণ:
o
দেশের
নীতি ও বাজেট প্রণয়নে
প্রধান ভূমিকা।
3. সংসদে
নেতৃত্ব:
o
সংসদে
সরকারের নীতি উপস্থাপন এবং প্রতিপক্ষের প্রশ্নের জবাব।
4. বিদেশনীতি
ও
নিরাপত্তা:
o
আন্তর্জাতিক
চুক্তি অনুমোদন এবং প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণ।
5. জবাবদিহি
নিশ্চিত
করা:
o
সরকারের
কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের জন্য
কেবিনেট ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব
নিশ্চিত করা।
উপসংহার
·
কেবিনেট
হলো
ব্রিটিশ
সরকার
ব্যবস্থার
মূল
নীতি-নির্ধারক
কেন্দ্র।
·
মন্ত্রী
পরিষদ
ও
কেবিনেটের
পার্থক্য:
কেবিনেট ছোট, কার্যকর এবং নীতি নির্ধারণে কেন্দ্রীভূত।
·
প্রধানমন্ত্রী:
সরকার প্রধান হিসেবে কেবিনেট ও সংসদে নেতৃত্ব
দেন, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত
করেন।
10.ব্রিটিশ
কেবিনেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর। ব্রিটেনের মন্ত্রী পরিষদ ও কেবিনেটের মধ্যে
পার্থক্যগুলো উল্লেখ কর। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি বর্ণনা কর।
১.
ব্রিটিশ
কেবিনেট
ব্যবস্থার
বৈশিষ্ট্য
ব্রিটিশ কেবিনেট হলো প্রধানমন্ত্রী
নেতৃত্বাধীন
সরকারী
মন্ত্রিসভা,
যা দেশের প্রশাসন পরিচালনা করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো:
1. প্রধানমন্ত্রীর
নেতৃত্বে
কেন্দ্রীভূত:
o
প্রধানমন্ত্রী
কেবিনেটের নেতা এবং নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী।
2. সমষ্টিগত
দায়িত্ব
(Collective Responsibility):
o
কেবিনেটের
সকল মন্ত্রী সরকারের
নীতির
জন্য
সমষ্টিগতভাবে
দায়ী।
o
সিদ্ধান্ত
নেওয়ার পরে সবাই তা সমর্থন করতে
বাধ্য।
3. ব্যক্তিগত
দায়িত্ব
(Individual Responsibility):
o
প্রতিটি
মন্ত্রী নিজের
দপ্তরের
কাজের
জন্য
দায়ী।
o
কর্মকর্তাদের
ত্রুটি বা অনিয়ম ঘটলে
পদত্যাগ বা শাস্তির সুযোগ
রয়েছে।
4. গোপন
বৈঠক:
o
কেবিনেট
বৈঠক গোপনভাবে হয়, যাতে মুক্ত আলোচনা সম্ভব।
5. দ্বিকক্ষ
পার্লামেন্টের
সাথে
সম্পর্ক:
o
কেবিনেট
হাউস অব কমন্স ও
হাউস অব লর্ডসের নীতিনির্ধারণে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
o
হাউস
অব কমন্সে সরকার ক্ষমতাসীন থাকায় বাজেট ও আইন প্রণয়ন
সহজ হয়।
২.
ব্রিটেনের
মন্ত্রী
পরিষদ
বনাম
কেবিনেটের
পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্য |
মন্ত্রী পরিষদ (Ministry /
Council of Ministers) |
কেবিনেট (Cabinet) |
|
সদস্য |
সমস্ত
মন্ত্রী, সহকারী মন্ত্রী ও লর্ডসভার সদস্য |
প্রধানমন্ত্রীর
নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রধাণ মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা |
|
আকার |
বড়
(50+ সদস্য) |
ছোট
(২০–২৫ সদস্য),
মূল নীতি নির্ধারক |
|
ভূমিকা |
প্রশাসনের
বিভিন্ন দপ্তর পরিচালনা |
নীতি
নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
|
বৈঠক |
নিয়মিত
হলেও বৃহৎ ও কম গোপন |
সীমিত,
গোপন এবং কার্যকরী আলোচনা হয় |
|
দায়িত্ব |
ব্যক্তিগত
ও দপ্তরভিত্তিক |
সমষ্টিগত
দায়িত্ব ও নীতি অনুমোদন |
সংক্ষেপে: কেবিনেট
হলো
মন্ত্রিসভার
“মূল
শক্তি
কেন্দ্র”,
যেখানে নীতি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়।
৩.
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রীর
সাংবিধানিক
মর্যাদা
এবং
কার্যাবলি
মর্যাদা
1. সরকার
প্রধান:
কেবিনেটের নেতা এবং মন্ত্রিসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
2. সংসদের
প্রতি
দায়িত্বশীল:
হাউস অব কমন্সে সংসদ
সদস্যদের কাছে জবাবদিহি।
3. রাজপক্ষের
সঙ্গে
সম্পর্ক:
আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি/রাজা-রানীর প্রতি দায়িত্বশীল, কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক কর্তৃত্বে পরিচালিত।
গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি
1. কেবিনেট
গঠন
ও
নেতৃত্ব:
o
মন্ত্রী
নির্বাচন ও পদোন্নতি।
2. নীতি
নির্ধারণ:
o
দেশের
নীতি ও বাজেট প্রণয়নে
প্রধান ভূমিকা।
3. সংসদে
নেতৃত্ব:
o
সংসদে
সরকারের নীতি উপস্থাপন এবং প্রতিপক্ষের প্রশ্নের জবাব।
4. বিদেশনীতি
ও
নিরাপত্তা:
o
আন্তর্জাতিক
চুক্তি অনুমোদন এবং প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণ।
5. জবাবদিহি
নিশ্চিত
করা:
o
সরকারের
কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের জন্য
কেবিনেট ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব
নিশ্চিত করা।
৪. উপসংহার
·
কেবিনেট
হলো
ব্রিটিশ
সরকার
ব্যবস্থার
মূল
নীতি-নির্ধারক
কেন্দ্র।
·
মন্ত্রী
পরিষদ
ও
কেবিনেটের
পার্থক্য:
কেবিনেট ছোট, কার্যকর এবং নীতি নির্ধারণে কেন্দ্রীভূত।
·
প্রধানমন্ত্রী:
সরকার প্রধান হিসেবে কেবিনেট ও সংসদে নেতৃত্ব
দেন, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত
করেন।
11. সংসদ
হলো যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আইনি কর্তৃপক্ষ।”—সাংসদীয় সার্বভৌমত্বের আলোকে আলোচনা কর।]
১.
সংসদীয়
সার্বভৌমত্ব
(Parliamentary Sovereignty) কী?
সংজ্ঞা:
·
সংসদীয়
সার্বভৌমত্ব বলতে বোঝায় যে সংসদই
সর্বোচ্চ
আইন
প্রণয়নকারী
কর্তৃপক্ষ,
এবং অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি তার
আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।
·
এটি
যুক্তরাজ্যের
সংবিধানের
মূল
ভিত্তি।
মূল
বৈশিষ্ট্য:
1. সীমাহীন
আইন
প্রণয়ন
ক্ষমতা:
o
সংসদ
যেকোনো বিষয়ের উপর আইন করতে পারে।
2. আইন
বাতিল
করার
ক্ষমতা:
o
পূর্ববর্তী
কোনো আইন বাতিল বা পরিবর্তন করার
ক্ষমতা সংসদের আছে।
3. কোনও
আদালত
সংসদের
আইনকে
বাতিল
করতে
পারে
না।
o
আদালত
সংসদের আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে বা অসাংবিধানিক ঘোষণা
করতে পারে না।
২.
সংসদকে
সর্বোচ্চ
আইনি
কর্তৃপক্ষ
বলা
কেন?
·
সরাসরি
জনগণ
নির্বাচিত
না
হলেও:
সংসদ সরকার ও রাজা-রানীর
ওপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ রাখে।
·
আইন
প্রণয়ন
ও
পরিবর্তন:
o
বাজেট
অনুমোদন, কর ব্যবস্থা, নাগরিক
অধিকার—all সংসদ নির্ধারণ করে।
·
কোনও
প্রতিষ্ঠান
বা
আদালত
সংসদের
আইন
বাতিল
করতে
পারে
না,
তাই এটি সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী।
৩.
সাংবিধানিক
ও
বাস্তব
প্রেক্ষাপট
ক. সংবিধানিক দিক
·
যুক্তরাজ্যে
লিখিত সংবিধান নেই; আইন, রীতি-নীতি ও বিচার প্রথা
মিলিতভাবে শাসন ব্যবস্থা গঠন করে।
·
সংসদ
শীর্ষে,
কারণ:
1. রাজা/মন্ত্রিসভা সংসদে দায়বদ্ধ।
2. সংসদই আইন প্রণয়ন ও অনুমোদনের শেষ
কর্তৃপক্ষ।
খ. সীমাবদ্ধতা
·
গণতান্ত্রিক
চাপ: জনগণ নির্বাচন মাধ্যমে সংসদকে নিয়ন্ত্রণ করে।
·
আন্তর্জাতিক
চুক্তি ও ইউরোপীয় আইনের
প্রভাব (যদি প্রযোজ্য হয়) কিছু সীমা আনতে পারে।
·
তবে
মূলত আইনের
প্রাধান্য
ও
বাতিল
ক্ষমতা
সংসদের
হাতে।
৪.
উপসংহার
·
“সংসদ
হলো যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আইনি কর্তৃপক্ষ”—এটি সংসদীয়
সার্বভৌমত্বের
সরল
প্রকাশ।
·
সংসদ
সর্বোচ্চ কারণ:
1. আইন প্রণয়ন, বাতিল ও পরিবর্তনের ক্ষমতা
আছে।
2. অন্য কোনও সংস্থা তার আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।
·
এটি
যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক
ও
সংবিধানিক
স্থিতিশীলতার
মূল
ভিত্তি
No comments