Header Ads

Header ADS

শ্রম আইন এল এল বি পরীক্ষা ১ম বর্ষ ক্ষতিপূরণ ও মুজুরী সংক্রান্ত পরীক্ষায় কমন হওয়ার মতো প্রশ্ন উত্তর

২১. () কীভাবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়? ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তির কি নিবন্ধন প্রয়োজন? এর অভাবে কি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়? () কর্মরত অবস্থায় বিল্ডিং এর ছাদ থেকে পড়ে এক শ্রমিক মৃত্যুবরণ করল। তার স্ত্রী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে কী না এবং বিল্ডিং এর মালিকের প্রতি তোমার পরামর্শ কী?



() ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি

. ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হয়?

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী

1.      শ্রমিক বা তার প্রতিনিধি অভিযোগ দায়ের করেন

o    নিয়োগকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ বা নোটিশ প্রদান

2.      পরিষ্কারভাবে আলোচনা সমঝোতা

o    নিয়োগকর্তা শ্রমিক যৌথভাবে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে

3.      শ্রম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি

o    যদি সমাধান না হয়, শ্রমিক শ্রম আদালতে মামলা করতে পারেন

o    আদালত তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেয়

4.      আদেশ বাস্তবায়ন

o    আদালতের রায় অনুযায়ী শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক


. ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তির নিবন্ধন প্রয়োজন কি?

·         হ্যাঁ, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তি (Compensation Agreement) শ্রম আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

·         নিবন্ধন না করলে

1.      চুক্তি আইনসম্মত ধারা হিসেবে কার্যকর হবে না

2.      শ্রমিক চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবী করতে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারেন

3.      আইনগত জটিলতা বিরোধের সৃষ্টি হয়


. নিবন্ধনহীন চুক্তির সমস্যা

·         চুক্তির শর্ত প্রমাণ করা কঠিন

·         শ্রমিকের অধিকার সীমিত বা অনিশ্চিত

·         নিয়োগকর্তা শ্রমিক উভয়ের জন্য আইনি ঝুঁকি


() শ্রমিকের মৃত্যু: ক্ষতিপূরণের অধিকার

. ঘটনার বিবরণ

·         কর্মরত অবস্থায় বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিক মারা গেছে

·         এটি শ্রমিক দুর্ঘটনা (Occupational Accident) হিসেবে গণ্য হয়।


. স্ত্রী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে কি না?

·         হ্যাঁ, স্ত্রী বা অবলম্বনযোগ্য ব্যক্তি শ্রমিকের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবেন

·         আইন অনুযায়ী

1.      মৃত্যুকালে বছরের বেতন ক্ষতিপূরণ প্রদান

2.      মেডিকেল, হাসপাতাল শেষকৃত্য সংক্রান্ত খরচ অন্তর্ভুক্ত


. বিল্ডিং মালিকের প্রতি পরামর্শ

1.      ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা

o    শ্রম আদালতের আদেশ অনুযায়ী বা চুক্তি অনুযায়ী প্রদান

2.      ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা

o    নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা

o    ছাদ অন্যান্য উচ্চস্থানে নিরাপত্তা বাধা, সুরক্ষা সরঞ্জাম

3.      আইন মেনে রেকর্ড নোটিশ সংরক্ষণ

o    শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আইনি মান বজায় রাখা


উপসংহার

1.      ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ শ্রম আদালত বা বৈধ চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হয়।

2.      চুক্তি নিবন্ধন না করলে বিরোধ আইনি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

3.      কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে শ্রমিকের অবলম্বনযোগ্য ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে

4.      নিয়োগকর্তা বা মালিকের কর্তব্যআইনানুগ ক্ষতিপূরণ প্রদান নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা

২২. মজুরি কে সংজ্ঞায়িত কর। মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি কে? মজুরি পরিশোধের সময় সংক্রান্ত বিধানাবলি কী কী? মজুরি থেকে কী কী বিষয় কর্তন করা যায়?

নিচে প্রশ্ন নং২২ এর অংশগুলো বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরিষ্কার, সংক্ষিপ্ত পরীক্ষায় উপযোগীভাবে আলোচনা করা হলো


. মজুরি সংজ্ঞা

মজুরি (Wages) বলতে বোঝায়

শ্রমিককে তার কাজের বিনিময়ে নিয়োগকর্তা প্রদত্ত নগদ অর্থ, ভাতা বা সুবিধা, যা নিয়মিত ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।

মজুরির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

·         মূল বেতন (Basic Pay)

·         ওভারটাইম, কমিশন, বোনাস

·         খাবার বা বাসাবাড়ির সুবিধা (যদি নগদায়নযোগ্য হয়)


. মজুরি পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি

·         সাধারণত নিয়োগকর্তা (Employer) দায়ী।

·         যদি নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধি নিয়োগ করে, যেমন ব্যবস্থাপক বা হিসাব রক্ষক, তাহলে সেই প্রতিনিধি নিয়োগকর্তার প্রতিনিধিত্বে মজুরি প্রদান করতে পারে।


. মজুরি পরিশোধের সময় সংক্রান্ত বিধানাবলি

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী

1.      মজুরি সময়সীমা

o    মজুরি নিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়ে প্রদান করতে হবে

o    সাধারণত সাপ্তাহিক, দ্বি-মাসিক বা মাসিক ভিত্তিতে

2.      দ্রুততম সময়

o    শ্রমিককে কোনো ধরনের দেরি বা বিলম্ব ছাড়া মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক

3.      লিখিত রসিদ

o    মজুরি প্রদান করলে লিখিত রসিদ বা বিবরণী প্রদান করতে হবে

o    এতে কাজের দিন, ঘণ্টা, অতিরিক্ত সময়, কর্তন ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে


. মজুরি থেকে কর্তনযোগ্য বিষয়সমূহ

বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, মজুরি থেকে কিছু বিষয় আইনসঙ্গতভাবে কর্তন (Deduction) করা যায়

1.      আয়কর বা অন্যান্য আইনত বাধ্যতামূলক কর

2.      সামরিক, সরকারি বা সামাজিক নিরাপত্তা ফান্ডে বিধি অনুযায়ী কর্তন

3.      শ্রমিকের স্বীকৃত ঋণ বা বকেয়া

4.      প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্ষতি বা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত ক্ষতি (শর্তমাফিক)

5.      মজুরি পূর্বে স্বীকৃত চুক্তি বা নীতিমালা অনুযায়ী কর্তন

তবে, আইন বা চুক্তি ছাড়া অযাচিত কর্তন বেআইনি এবং শ্রমিক শ্রম আদালতে দাবি করতে পারে।

 

উপসংহার

1.      মজুরি হলো শ্রমিকের কাজের বিনিময়ে নগদ বা সুবিধা।

2.      নিয়োগকর্তা দায়ী মজুরি পরিশোধের জন্য।

3.      মজুরি নিয়মিত সময়মতো প্রদান করতে হবে, রসিদসহ।

4.      মজুরি থেকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়সমূহ ছাড়া অন্য কোনও কর্তন বেআইনি।

 


No comments

Powered by Blogger.