শ্রম আইন এল এল বি ১ম বর্ষ -২০২৪ পরীক্ষা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) ও প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা সম্পর্কিত পরীক্ষায় কমন হওয়ার মতো প্রশ্ন গুলো সহজ ও সাবলীল আলোচনা
১৯.
যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) বলতে কী বুঝ? কীভাবে
যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) নির্বাচিত হন? শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা
কর।
(ক) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA) বলতে কী বুঝ?
যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (Collective
Bargaining Agent, CBA) হলো—
একটি বৈধভাবে নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধি সংস্থা বা ট্রেড ইউনিয়ন,
যা নিয়োগকর্তার সাথে চাকরি, মজুরি, সুবিধা ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত যৌথ দরকষাকষি (Collective
Bargaining) পরিচালনা
করে।
মূল উদ্দেশ্য: শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
(খ) কীভাবে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA) নির্বাচিত হন?
নির্বাচনের ধাপসমূহ—
1. যোগ্য ইউনিয়ন চিহ্নিতকরণ
o
শ্রমিকদের
মধ্যে নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন যারা CBA হওয়ার জন্য যোগ্য
o
সাধারণত
শ্রমিকদের ৫০% বা তার বেশি
সদস্য থাকা ইউনিয়ন
2. মনোনয়ন প্রক্রিয়া
o
শ্রমিকরা
স্বতঃসিদ্ধভাবে ভোট প্রদান
o
নির্বাচন
শ্রমিকদের মধ্যে সরাসরি ও গোপনে অনুষ্ঠিত
হয়
3. নির্বাচিত ইউনিয়নকে স্বীকৃতি প্রদান
o
নিয়োগকর্তা
স্বীকৃতি প্রদান করে
o
নির্বাচনকৃত
ইউনিয়ন CBA হিসেবে যৌথ দরকষাকষি পরিচালনার অধিকারী
(গ) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলি
১. ক্ষমতা
CBA-র প্রধান ক্ষমতাসমূহ হলো—
1. মজুরি, বোনাস ও সুবিধা নির্ধারণে দরকষাকষি করা
2. চাকরি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ
o
চাকরিতে
নিয়োগ, ছাঁটাই, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি
3. শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান করা
4. শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রম আদালতে পেশ হওয়া
5. শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা
২. কার্যাবলি
1. নিয়মিত সভা ও আলোচনা পরিচালনা
2. নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তি (Collective
Bargaining Agreement) প্রস্তুত
ও চূড়ান্ত করা
3. শ্রমিকদের অভিযোগ ও দাবি সংগ্রহ করা
4. যৌথ দরকষাকষির সময় শান্তিপূর্ণ সমাধান ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ সমাধান
5. শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান ও আইনানুগ কার্যক্রম
পালন
উপসংহার
যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (CBA) হলো শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রধান প্রতিনিধি সংস্থা, যা নিয়োগকর্তার সাথে
শান্তিপূর্ণ দরকষাকষি ও বিরোধ সমাধান নিশ্চিত করে। CBA-র ক্ষমতা ও
কার্যাবলি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, মজুরি ও সুবিধা নির্ধারণ,
এবং শিল্পক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০.
(ক) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পরিশোধ সংক্রান্ত পদ্ধতিগুলো সংক্ষেপে আলোচনা কর। মহিলার মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদানের নিয়মাবলি কী কী? (খ)
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর অধীনে শ্রমিকদের
কল্যাণমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধানাবলি সংক্ষেপে আলোচনা কর।
নিচে প্রশ্ন নং–২০ এর
উভয় অংশ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী পরিষ্কার ও পরীক্ষায় উপযোগীভাবে
উপস্থাপন করা হলো—
(ক) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা (Maternity Benefits)
এবং প্রদানের পদ্ধতি
১. প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা কী?
প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা হলো মহিলার গর্ভধারণ, প্রসব ও সন্তান লালন-পালনে শ্রমিককে আইন দ্বারা প্রদত্ত আর্থিক ও সুযোগ-সুবিধা।
উদ্দেশ্য:
মহিলাদের গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানকালীন
আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা
প্রদান।
২. সুবিধা প্রদানের পদ্ধতি
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী—
1. মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave)
o
সাধারণত
১৬ সপ্তাহ (৪ মাস)
o
অন্তত
৮ সপ্তাহ ছুটি সন্তান জন্মের আগে এবং বাকি ছুটি জন্মের পরে
2. মজুরি ও ভাতা প্রদান
o
সম্পূর্ণ
মজুরি বা নির্ধারিত প্রসূতি ভাতা ছুটির সময় প্রদান
o
কাজ
না করার পরও শ্রমিক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত
3. চিকিৎসা ও হাসপাতাল ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
o
গর্ভকালীন
বা প্রসবকালীন চিকিৎসা সুবিধা
৩. মহিলার মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা
মহিলা শ্রমিক প্রসবকালে মারা গেলে—
1. মৃত শ্রমিকের সন্তানদের জন্য সুবিধা
o
মজুরি
বা প্রসূতি ভাতা অধিকারী উত্তরাধিকারী বা অভিভাবক
2. অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য অর্থ প্রদান
o
আইন
বা নিয়োগকর্তার বিধান অনুযায়ী সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ
অর্থাৎ, সুবিধা শ্রমিকের মৃত্যু হলেও সংরক্ষিত থাকে এবং প্রাপ্য ব্যক্তি বা পরিবারকে প্রদান
করা হয়।
(খ) শ্রমিকদের কল্যাণমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধানাবলি
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের কল্যাণমূলক অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করেছে। সংক্ষেপে উল্লেখযোগ্য বিধানাবলি—
১. সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুবিধা
·
মাতৃত্বকালীন
ছুটি
ও ভাতা
·
শিশু
জন্ম ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত
সুযোগ
·
স্যানিটেশন
ও বিশ্রামের ব্যবস্থা (মহিলা শ্রমিকের জন্য)
২. আর্থিক ও প্রাপ্য সুবিধা
·
মজুরি
ও ওভারটাইম সুবিধা
·
বোনাস
ও উৎসব ভাতা
·
ছুটি
ও ছুটির ভাতা (সাধারণ ও বিনা অনুমতিতে)
৩. নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ
·
নিরাপদ
ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ
·
যন্ত্রপাতি
ও কেমিক্যাল ব্যবহারে সুরক্ষা
·
অগ্নি
নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা
৪. শিশু ও কিশোর শ্রমিকদের
বিশেষ ব্যবস্থা
·
শিশু
ও কিশোরদের কাজের সীমা ও সময় নির্ধারণ
·
শিক্ষা
ও বিশ্রাম নিশ্চিত
৫. শ্রমিকের পরিবার ও সমবায় সুবিধা
·
প্রসাধন,
খাদ্য
ও বিশ্রাম সুবিধা
·
পরিবার
কল্যাণ
কার্যক্রম
যেমন শিশু ও পরিবার সহায়তা
উপসংহার
·
প্রসূতি
কল্যাণ সুবিধা মহিলাদের গর্ভকালীন ও সন্তান জন্মদানকালীন
আর্থিক ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা
নিশ্চিত করে।
·
শ্রমিকদের
কল্যাণমূলক ব্যবস্থা শুধু মজুরি নয়, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবার ও সামাজিক সুরক্ষাসহ ব্যাপকভাবে প্রয়োগ
হয়।
No comments