বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট সংবিধান শর্ট সাজেশন এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫- পার্ট-৪
বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট সংবিধান শর্ট সাজেশন এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫- পার্ট-৪
15সংবিধানকে
কেন একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়? বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি কি সংসদকে সংবিধান
সংশোধনের একক ক্ষমতা প্রদান করেছে? তোমার বিজ্ঞ মতামত দাও ।]
চল, ধাপে ধাপে বিষয়টি ব্যাখ্যা করি।
১. সংবিধানকে কেন সর্বোচ্চ আইন বলা হয়?
বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশে সংবিধানকে
“সর্বোচ্চ
আইন”
(Supreme Law of the Land) বলা
হয়, কারণ:
1. অত্যাধুনিক
কাঠামো
নির্ধারণ
করে:
o
রাষ্ট্রের
শাসনব্যবস্থা, শাসক ও নাগরিকের অধিকার-দায়িত্ব সব সংবিধানেই উল্লেখ
থাকে।
o
সংবিধান
ছাড়া কোনো আইন বৈধতা পায় না।
2. অন্য
সব
আইন
সংবিধানের
অধীন:
o
সংসদ
বা সরকারের কোনো আইন সংবিধানের সাথে বিরোধী হলে তা অবৈধ।
o
উদাহরণ:
যদি কোনো আইন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে, তা আদালত বাতিল
করতে পারে।
3. রাষ্ট্র
পরিচালনার
সর্বোচ্চ
নির্দেশিকা:
o
সংবিধান
নির্ধারণ করে কে ক্ষমতায় থাকবে,
ক্ষমতার সীমা কী, এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার কী।
সংক্ষেপে, সংবিধান হলো সেই আইন
যার
উপর
অন্য
সব
আইন
ও
প্রশাসন
নির্ভর
করে।
২. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি এবং সংসদের ক্ষমতা
বাংলাদেশ সংবিধানে সংবিধান
সংশোধনী
ধারা:
১৭১(১)
এবং
১৭১(২)।
মূল
দিকগুলো:
1. সংসদে
প্রস্তাব:
o
সংবিধান
সংশোধনের জন্য সংসদে
প্রস্তাব
আনা
হয়।
2. সংসদে
ভোট:
o
সংশোধনী
পাশ করার জন্য প্রয়োজন ২/৩
সংখ্যাগরিষ্ঠ
ভোট।
o
সাধারণ
আইন পাশ করার প্রক্রিয়ার চেয়ে কঠোর।
3. সংসদ
এককভাবে
ক্ষমতা
পায়নি:
o
যদিও
সংসদ সংশোধনী প্রস্তাব ও অনুমোদন করতে
পারে, মৌলিক
কাঠামো
রক্ষা
করতে
হবে।
o
আনোয়ার
হোসেন
চৌধুরী
বনাম
বাংলাদেশ
(১৯৮৯)
মামলায় আদালত স্থির করেছিল যে, মৌলিক কাঠামোকে লঙ্ঘন করা সংশোধনী শূন্য
ও
অবৈধ।
অর্থাৎ, সংসদের
ক্ষমতা
সীমিত। তারা সবকিছু
পরিবর্তন করতে পারে না, মৌলিক কাঠামো, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের
স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত (বিজ্ঞ) মতামত
আমার দৃষ্টিতে:
·
সংবিধানকে
সর্বোচ্চ
আইন
বলা
যুক্তিসঙ্গত,
কারণ এটি দেশের মৌলিক নীতি, শাসন কাঠামো ও নাগরিকের অধিকার
নির্ধারণ করে।
·
সংসদকে
একক
ক্ষমতা
বলা
ভুল,
কারণ তারা সংবিধান সংশোধন করতে পারলেও মৌলিক
কাঠামোকে
অটুট
রাখতে
বাধ্য।
·
এটি
নাগরিক
ও
রাষ্ট্রকে
সুরক্ষা
দেয়,
যাতে কোনো একক সরকার বা সংস্থা সংবিধানের
মূল চরিত্র ধ্বংস করতে না পারে।
16. (ক)
“সংসদীয় প্রাধান্য” এবং “সাংবিধানিক প্রাধান্য” বলতে কী বুঝ? বাংলাদেশে
কোন ধরনের প্রাধান্য বিদ্যমান? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
১. সংসদীয় প্রাধান্য (Parliamentary Supremacy / Sovereignty of
Parliament)
সংজ্ঞা:
সংসদীয় প্রাধান্য বলতে বোঝায় যে, সংসদে
প্রণীত
আইন
সর্বোচ্চ
এবং
বিচারালয়
বা
অন্য
কোনো
সংস্থা
তা
বাতিল
করতে
পারবে
না।
মূল
বৈশিষ্ট্য:
1. সংসদ যে আইন প্রণয়ন
করে, তা অবিলম্বে
বৈধ
এবং
বাধ্যতামূলক।
2. কোনো আদালত বা প্রশাসনিক সংস্থা
সেই আইনকে সংবিধানের
সঙ্গে
বিরোধপূর্ণ
হলে
ও
বাতিল
করতে
পারে
না।
3. প্রায়শই যুক্তরাজ্যের সংবিধান ব্যবস্থা এই ধরনের প্রাধান্য
মেনে চলে।
উদাহরণ: ব্রিটেনে সংসদ সব আইন প্রণয়ন
করতে পারে এবং আদালত তা চ্যালেঞ্জ করতে
পারবে না।
২. সাংবিধানিক প্রাধান্য (Constitutional Supremacy)
সংজ্ঞা:
সাংবিধানিক প্রাধান্য বলতে বোঝায় যে, সংবিধান
দেশের
সর্বোচ্চ
আইন
এবং
সংসদ
বা
সরকারসহ
সব
সংস্থা
সংবিধানের
নিয়ম
মেনে
চলবে।
মূল
বৈশিষ্ট্য:
1. সংবিধানই সর্বোচ্চ এবং অন্যান্য সব আইন তার
অধীন।
2. সংসদ যে আইন প্রণয়ন
করলেও, যদি তা সংবিধানের সাথে
বিরোধপূর্ণ হয়, আদালত
তা
বাতিল
করতে
পারে।
3. উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, বাংলাদেশ—সব দেশে সাংবিধানিক
প্রাধান্য বিদ্যমান।
সংক্ষেপে: সংবিধান “মাস্টার ল’” এবং সংসদ তার অধীনে।
৩. বাংলাদেশে কোন ধরনের প্রাধান্য বিদ্যমান?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী “সাংবিধানিক
প্রাধান্য”
বিদ্যমান।
যুক্তি:
1. সংবিধানের
৭
এর
ধারার
ইতিহাস:
o
১৯৭২
সালের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক প্রাধান্য দেয়।
2. আদালতের
বিচার:
o
আনোয়ার
হোসেন
চৌধুরী
বনাম
বাংলাদেশ
(১৯৮৯)
মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে যে, মৌলিক
কাঠামো
রক্ষা
করা
সংবিধানের
শর্ত।
o
সংসদ
যদি কোনো আইন প্রণয়ন করে যা মৌলিক কাঠামো
বা সংবিধানের মূলনীতি লঙ্ঘন করে, তা বাতিল
হবে।
3. সংবিধান
সংশোধন
প্রক্রিয়া:
o
সংসদকে
সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মৌলিক
কাঠামো
অটুট
রাখতে
হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশে সংসদীয়
প্রাধান্য
নেই,
সাংবিধানিক প্রাধান্যই প্রযোজ্য।
৪. সংক্ষেপে তুলনামূলক ব্যাখ্যা
|
বিষয় |
সংসদীয় প্রাধান্য |
সাংবিধানিক প্রাধান্য |
|
সর্বোচ্চ
ক্ষমতা |
সংসদ |
সংবিধান |
|
আদালতের
ক্ষমতা |
বাতিল
করতে পারবে না |
বিরোধী
আইন বাতিল করতে পারবে |
|
উদাহরণ |
যুক্তরাজ্য |
বাংলাদেশ,
ভারত, যুক্তরাষ্ট্র |
বাংলাদেশে সাংবিধানই
সর্বোচ্চ,
তাই সংসদও তা মেনে চলতে
বাধ্য।
17. (ক)
“এন্টি ডিসেপশন ল” বা “ফ্লোর
ক্রসিং” কী? এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের আইনগুলো কী?
(খ)
তুমি কি মনে কর
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধক? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।]
১৭(ক) “এন্টি-ডিসেপশন ল” বা “ফ্লোর ক্রসিং” কি?
সংজ্ঞা:
·
ফ্লোর
ক্রসিং
বলতে বোঝায় যে কোনো সংসদ
সদস্য পক্ষ
পরিবর্তন
করে
বিরোধী
দলের
প্রতি
ভোট
দেয়,
অর্থাৎ যেই দলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিল, তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে অন্য দলকে সমর্থন করা।
·
এন্টি-ডিসেপশন
আইন
হলো সেই আইন যা এই
ধরনের
ফ্লোর
ক্রসিং
বা
দলবদলকে
দণ্ডনীয়
করে।
বাংলাদেশে
প্রযোজ্য
আইন:
·
সংবিধানের
৭০
নং
ধারা
এই বিধান দেয়।
·
মূল
কথা:
1. সংসদ সদস্য যদি নির্বাচিত হওয়ার পরে পক্ষ
পরিবর্তন
করে
ভোট
দেয়
বা
দল
ত্যাগ
করে,
তাহলে তার
আসন
শূন্য
হয়ে
যাবে।
2. এই ধারা “ফ্লোর
ক্রসিং” প্রতিরোধ করে, যাতে নির্বাচিত সদস্যরা নির্বাচিত
দলের
প্রতি
দায়বদ্ধ
থাকে।
সংক্ষেপে, এটি নির্বাচিত
সদস্যদের
দলীয়
শৃঙ্খলা
বজায়
রাখতে
প্রয়োগ করা হয়।
১৭(খ) ৭০ নং ধারা কি আইনের শাসনের পথে প্রতিবন্ধক?
৭০
নং
ধারা:
·
সংসদ
সদস্যকে পক্ষ
পরিবর্তন
বা
বিরোধী
দলকে
সমর্থন
করলে
আসন
হারাতে
হবে।
সমালোচনার
দৃষ্টিকোণ:
1. পক্ষের
প্রতি
অতিরিক্ত
বাধ্যবাধকতা:
o
এটি
সংসদ সদস্যকে নিজের
মতামত
বা
স্বাধীন
ভোটাধিকারে
বাধা
দেয়।
2. আইনের
শাসনের
ওপর
প্রভাব:
o
সংসদ
সদস্য যদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সঠিক
সিদ্ধান্ত
নিতে
চায়,
তবে ভয়
পায়
আসন
হারানোর।
o
ফলে,
সরকার বা দল প্রায়শই
অন্তরায়হীন
ক্ষমতা
পায়।
3. নাগরিকের
প্রতিনিধি
হিসেবে
কার্যকারিতা
হ্রাস:
o
সংসদ
সদস্য হয়তো জনগণের জন্য ভোট দিতে চায়, কিন্তু দলীয়
শৃঙ্খলা
কারণে
করতে
পারবে
না।
সুরক্ষা
ও
উদ্দেশ্য:
·
ধারা
৭০ মূলত দলবদল
প্রতিরোধ
এবং
নির্বাচনের
মোরাল
বজায়
রাখার
জন্য।
·
কিন্তু
বাস্তবে এটি নির্বাচিত
প্রতিনিধিদের
স্বাধীনতা
হ্রাস
করে,
যা আইনের
শাসন
ও
গণতান্ত্রিক
প্রক্রিয়ার
জন্য
বাধা।
উপসংহার:
·
সংবিধান
৭০ নং ধারা ফ্লোর
ক্রসিং
প্রতিরোধে
কার্যকর,
তবে আইনের
শাসন
প্রতিষ্ঠার
পথে
প্রতিবন্ধক
হিসেবে
দেখা
যায়,
কারণ এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলে।
No comments