Header Ads

Header ADS

হিন্দু আইন টিকা। এল এল বি পরীক্ষা -২০২৫ -১

 

১. হিন্দু আইনে দেশান্তরগমন

 হিন্দু শাস্ত্রীয় আইনে দেশান্তরগমন বলতে বোঝায় নিজের দেশ বা সমাজ ছেড়ে বিদেশে গমন করা, বিশেষ করে সমুদ্রযাত্রা (কালাপানি অতিক্রম) প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, দেশান্তরগমনকে অনেক সময় ধর্মবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য করা হতো।

শাস্ত্রীয় অবস্থান:
মনুস্মৃতি অন্যান্য ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, সমুদ্রযাত্রা করলে ব্যক্তি তার বর্ণ সামাজিক মর্যাদা হারাতে পারে। এর ফলস্বরূপ

·         জাতিচ্যুতি ঘটতে পারত,

·         সামাজিক ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ হতো,

·         উত্তরাধিকার ধর্মীয় আচার পালনে বাধা আসত।

এই ধারণার পেছনে ছিল সমাজরীতি ধর্মীয় শুদ্ধতার ধারণা।

আধুনিক আইনগত অবস্থান:
ব্রিটিশ আমলে এবং পরবর্তীকালে এই কঠোর ধারণা বাতিল করা হয়। বিশেষভাবে

পরিশেষে শাস্ত্রীয় হিন্দু আইনে দেশান্তরগমনকে ধর্মবিরোধী সামাজিক অপরাধ হিসেবে দেখা হলেও, আধুনিক হিন্দু আইন সংবিধান অনুযায়ী দেশান্তরগমনের কারণে কোনো ব্যক্তি তার আইনগত, সামাজিক বা সম্পত্তিগত অধিকার হারায় না।

২. ফ্যাকটাম ভ্যালেট (Factum Valet)
Factum Valet
একটি ল্যাটিন সূত্র। এর অর্থযা কার্য সম্পন্ন হয়ে গেছে, তা কার্যকর হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ কোনো কাজ শাস্ত্রীয় বিধান পুরোপুরি মেনে না হলেও, যদি তা বাস্তবে সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

হিন্দু আইনে নীতির তাৎপর্য:  হিন্দু আইনে এই নীতির উদ্দেশ্য হলোঅতিরিক্ত শাস্ত্রীয় কঠোরতা পরিহার করা , সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা ,বাস্তব পরিস্থিতিকে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা

প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি সাধারণত প্রযোজ্য

১. বিবাহের ক্ষেত্রে
২. দত্তক গ্রহণে
৩.ধর্মীয় আচার সংস্কারে
সীমাবদ্ধতাএই নীতি প্রযোজ্য নয় যখন কাজটি আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ (Void)এবং স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে ওযখন কাজটি জনস্বার্থ বা নৈতিকতার বিরুদ্ধে

অর্থাৎ, এটি অনিয়মিত (Irregular) কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অবৈধ (Illegal) কাজের ক্ষেত্রে নয়।

ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি হিন্দু আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যা বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সামাজিক শান্তি বজায় রাখে। তবে এটি আইনবিরোধী কাজকে বৈধ করার জন্য প্রযোজ্য নয়।

 

৩. গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
হিন্দু আইনে গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ বলতে বোঝায়
 
কোনো ব্যক্তি উত্তরাধিকার খুলবার আগেই মারা গেলে, তার সন্তানরা উত্তরাধিকার বিষয়ে সেই ব্যক্তির স্থানে দাঁড়িয়ে সম্পত্তি লাভ করে। অর্থাৎ, মৃত পূর্বপুরুষের অধিকার তার বংশধরের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে কার্যকর হয়।

প্রয়োগ

এই মতবাদ প্রধানত প্রযোজ্য

  • মিতাক্ষরা যৌথ পরিবারে
  • পিতা জীবিত থাকাকালে পুত্র মারা গেলে
  • পুত্রের সন্তানরা পিতার অংশে অধিকার পায়

উদ্দেশ্য

  • বংশের অধিকার সংরক্ষণ
  • ন্যায়সঙ্গত সম্পত্তি বণ্টন নিশ্চিত করা
  • উত্তরাধিকার থেকে বংশধরকে বঞ্চিত না করা

সীমাবদ্ধতা

  • দায়াভাগা আইনে এই মতবাদ প্রযোজ্য নয়
  • প্রতিনিধিত্ব নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ

গো প্রতিনিধিত্ব মতবাদ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির অধিকার তার বংশধরদের মাধ্যমে বজায় থাকে।


 

৪ .সহ-অংশীদার


হিন্দু আইনে সহ-অংশীদার বলতে মিতাক্ষরা যৌথ হিন্দু পরিবারে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়,
 
যে জন্মসূত্রে যৌথ পারিবারিক সম্পত্তিতে অংশের অধিকার লাভ করে।

কারা সহ-অংশীদার

বর্তমানে (Hindu Succession Act, 1956 সংশোধনী, 2005 অনুযায়ী)—

  • পুত্র
  • কন্যা
  • পুত্রের পুত্র
  • পুত্রের পুত্রের পুত্র

সহ-অংশীদারের অধিকার

  • যৌথ সম্পত্তিতে অংশ দাবি করার অধিকার
  • বণ্টন (Partition) চাওয়ার অধিকার
  • সম্পত্তির যৌথ ভোগের অধিকার

সীমাবদ্ধতা

  • দায়াভাগা আইনে সহ-অংশীদার ধারণা নেই
  • সহ-অংশীদারের অধিকার জন্মসূত্রে হলেও তা যৌথ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ

সহ-অংশীদার হিন্দু যৌথ পরিবারের একটি মূল ধারণা, যার মাধ্যমে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরা যৌথ সম্পত্তিতে জন্মসূত্রে অধিকার লাভ করে।

৫. অনুমোদিত বিবাহ

অর্থ:
হিন্দু আইনে অনুমোদিত বিবাহ বলতে সেই বিবাহকে বোঝায়,
যা আইন শাস্ত্রসম্মত সকল শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনত বৈধ।

অনুমোদিত বিবাহের শর্ত

Hindu Marriage Act, 1955 অনুযায়ী অনুমোদিত বিবাহের জন্য

  1. উভয় পক্ষের জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকা চলবে না
  2. উভয় পক্ষ মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে
  3. ন্যূনতম বয়স
    • বর: ২১ বছর
    • কনে: ১৮ বছর
  4. নিষিদ্ধ আত্মীয়তার মধ্যে বিবাহ হবে না
  5. প্রযোজ্য রীতিতে বিবাহ সম্পন্ন হতে হবে
    (
    যেমন: সপ্তপদী)

আইনগত প্রভাব

  • স্বামী-স্ত্রীর পূর্ণ বৈবাহিক অধিকার সৃষ্টি হয়
  • সন্তান বৈধ বলে গণ্য হয়
  • উত্তরাধিকার ভরণপোষণের অধিকার জন্মায়

যে বিবাহ হিন্দু বিবাহ আইনের সকল শর্ত পূরণ করে সম্পন্ন হয়, সেটিই অনুমোদিত বিবাহ এবং তা আইনত সম্পূর্ণ

 

৬ .নাবালকের অভিভাবক


হিন্দু আইনে নাবালকের অভিভাবক বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায়, যে নাবালকের ব্যক্তি সম্পত্তির দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আইনত গ্রহণ করে।

নাবালকের অভিভাবকের প্রকারভেদ

হিন্দু আইনে অভিভাবক প্রধানত চার প্রকার

1.      স্বাভাবিক অভিভাবক (Natural Guardian)

o    পিতা

o    পিতার অবর্তমানে মাতা

o    অবৈধ সন্তানের ক্ষেত্রে প্রথমে মাতা

2.      নিযুক্ত অভিভাবক (Testamentary Guardian)

o    উইল দ্বারা নিযুক্ত অভিভাবক

3.      আদালত নিযুক্ত অভিভাবক (Guardian appointed by Court)

o    আদালত কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত

4.      বাস্তব অভিভাবক (De facto Guardian)

o    বাস্তবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি
(বর্তমানে আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়)


অভিভাবকের ক্ষমতা দায়িত্ব

·         নাবালকের কল্যাণ নিশ্চিত করা

·         সম্পত্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা

·         নাবালকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ না করা

নাবালকের অভিভাবক হিন্দু আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান উদ্দেশ্য নাবালকের ব্যক্তি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

No comments

Powered by Blogger.