Header Ads

Header ADS

স্বত্ত্বভোগী কারা? বাংলাদেশের ট্রাস্ট এ্যাক্টে তাদের যে অধিকার ও দায়-দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আলোচনা কর। ট্রাস্ট ভংগের জন্য তাদের কী কী প্রতিকার আছে?

 

(5) [স্বত্ত্বভোগী কারাবাংলাদেশের ট্রাস্ট এ্যাক্টে তাদের যে অধিকার  দায়-দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আলোচনা কর। ট্রাস্ট ভংগের জন্য তাদের কী কী প্রতিকার আছে?]

 

স্বত্ত্বভোগী হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যারা ট্রাস্ট সম্পদ থেকে উপকার পান বা লাভভোগী হন।

  • তারা লাভভোগী (Beneficial Owner); অর্থাৎ ট্রাস্টের সম্পদের আইনি মালিক না, কিন্তু উপকৃত হন।
  • তাদের সুবিধা ট্রাস্টের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
  • উদাহরণ:
    • একটি শিক্ষা ট্রাস্টে শিক্ষার্থীরা সুবিধাভোগী।
    • একটি চ্যারিটি ট্রাস্টে গরীব বা দরিদ্র মানুষরা সুবিধাভোগী।

 

 

স্বত্ত্বভোগীর অধিকার দায়-দায়িত্ব (Beneficiary’s Rights & Duties) – বাংলাদেশে ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী

 

. স্বত্ত্বভোগীর অধিকার (Rights of Beneficiary)

বাংলাদেশের Trusts Act, 1882 অনুযায়ী স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্ট সম্পদ থেকে উপকার পাওয়ার এবং Trustee-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের অধিকার রাখে। প্রধান অধিকারগুলো হলো:

1.      ট্রাস্ট সম্পদের সুবিধা পাওয়ার অধিকার (Right to Benefit from Trust Property)

o    স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সম্পদ বা আয় পাওয়ার অধিকার রাখে।

2.      Trustee-এর হিসাব চাওয়ার অধিকার (Right to Accounts/Inspection)

o    Trustee কিভাবে সম্পদ ব্যবহার করছেন, তা জানার অধিকার।

3.      Trustee-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার (Right to Enforce Trust)

o    Trustee কর্তৃক অবহেলা, fraud বা চরম ত্রুটির ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে মামলা করা।

4.      Trustee-এর অনৈতিক বা অবৈধ কাজ রোধের অধিকার (Right to Restrain Trustee)

o    Trustee যদি স্বার্থপর বা অবহেলাপূর্ণ কাজ করেন, তা বন্ধ করার অধিকার।

5.      Beneficial Interest হস্তান্তরের অধিকার (Right to Transfer Beneficial Interest)

o    Trust Deed অনুযায়ী স্বত্ত্বভোগী তার লাভের অংশ অন্যকে হস্তান্তর করতে পারে।

 

. স্বত্ত্বভোগীর দায় দায়িত্ব (Duties of Beneficiary)

স্বত্ত্বভোগীর দায় সীমিত এবং মূল দায়িত্ব Trustee-এর উপর। প্রধান দায়গুলো হলো:

1.      Trustee-এর যথাযথ কার্যক্রমে বাধা না দেওয়া

o    Trustee-এর কার্যক্রমে অবাঞ্ছিত বিঘ্ন সৃষ্টি না করা।

2.      Trust Deed অনুযায়ী আচরণ করা

o    Deed- নির্ধারিত শর্ত সীমা মেনে চলা।

স্বত্ত্বভোগী সাধারণত fiduciary নয়, তাই তাদের দায়িত্ব Trustee-এর মতো কঠোর নয়।

 

. স্বত্ত্বভোগী (Beneficiary) কে বলা হয়:

ট্রাস্টের ধারণায় স্বত্ত্বভোগী হলো সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যাদের জন্য ট্রাস্ট স্থাপিত হয় এবং যারা ট্রাস্টের সুবিধা বা সম্পদ থেকে লাভবান হয়।

বাংলাদেশে ট্রাস্ট আইন মূলত Indian Trusts Act, 1882-এর উপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে।

 

. স্বত্ত্বভোগীর অধিকার

ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী স্বত্ত্বভোগীদের প্রধান অধিকারগুলো হলো:

1.      লাভ পাওয়ার অধিকার

o    স্বত্ত্বভোগীদের অধিকার থাকে ট্রাস্টের সম্পদ বা আয় থেকে তাদের ভাগ পাওয়ার।

o    উদাহরণ: যদি ট্রাস্ট কোনো সম্পদ থেকে আয় অর্জন করে, স্বত্ত্বভোগী সেই আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য দাবি করতে পারে।

2.      ট্রাস্টি কর্তৃক দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা

o    স্বত্ত্বভোগীরা ট্রাস্টির (trustee) কার্যক্রমের উপর নজরদারি করতে পারে।

o    তারা দেখতে পারে যে ট্রাস্টি সম্পদের সঠিক ব্যবহার করছে কিনা এবং আইন অনুসারে দায়িত্ব পালন করছে কিনা।

3.      তথ্য হিসাব পাওয়ার অধিকার

o    স্বত্ত্বভোগীরা ট্রাস্টির কাছ থেকে ট্রাস্টের সম্পদের হিসাব বা আর্থিক বিবরণী চাইতে পারে।

o    এটি তাদেরকে নিশ্চিত করে যে সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

4.      দায়িত্বহীনতার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা

o    যদি ট্রাস্টি তাদের দায়িত্ব পালন না করে বা অবহেলা করে, স্বত্ত্বভোগীরা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

5.      ট্রাস্টের শর্ত পরিবর্তন বা অবৈধ কার্যক্রম রোধের অধিকার

o    ট্রাস্টের উদ্দেশ্য বা নিয়ম লঙ্ঘন হলে স্বত্ত্বভোগীরা আইনানুগভাবে বিরোধ তুলে ধরতে পারে।

 

. স্বত্ত্বভোগীর দায়-দায়িত্ব

স্বত্ত্বভোগীদের দায়-দায়িত্ব সাধারণত সীমিত, তবে কিছু ক্ষেত্রে থাকতে পারে:

1.      ট্রাস্টের সম্পদের রক্ষা করা

o    যদি স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টের সম্পদ ব্যবহারে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হয়, তাহলে তার কিছু দায়িত্ব থাকতে পারে।

2.      নিয়ম মেনে চলা

o    ট্রাস্টির নির্দেশনা এবং ট্রাস্টের উদ্দেশ্য অনুসারে সম্পদ ব্যবহার করা।

সাধারণত স্বত্ত্বভোগীর দায়-দায়িত্ব সীমিত থাকে, কারণ মূল দায়িত্ব থাকে ট্রাস্টির উপর।

বাংলাদেশের ট্রাস্ট আইন (Trusts Act, 1882) অনুযায়ী, স্বত্ত্বভোগীরা যখন ট্রাস্ট ভঙ্গ বা লঙ্ঘনের সম্মুখীন হন, তখন তাদের জন্য কিছু আইনগত প্রতিকার (remedies) রয়েছে। এই প্রতিকার মূলত ট্রাস্টির দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে স্বত্ত্বভোগীর সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রযোজ্য। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছি।

 

. আদালতের কাছে দায়ী ট্রাস্টি বা পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা

·         যদি ট্রাস্টি তাদের দায়িত্ব পালন না করে (যেমন: সম্পদের অবৈধ ব্যবহার, অবহেলা বা আত্মসাৎ), স্বত্ত্বভোগীরা সিভিল আদালতে মামলা করতে পারে

·         আদালত ট্রাস্টিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বা নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারে।

 

. ক্ষতিপূরণ (Compensation) দাবি করা

·         স্বত্ত্বভোগীরা ট্রাস্টির অবহেলা বা প্রতারণার কারণে হতে থাকা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে

·         উদাহরণ:

o    ট্রাস্টি সম্পদ আত্মসাৎ করলে তার সম্পদ ফেরত চাওয়া।

o    ট্রাস্টি সম্পদের ব্যবস্থাপনা ভুল করলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা।

 

. ট্রাস্টির অপসারণ (Removal of Trustee)

·         যদি ট্রাস্টি গুরুতরভাবে দায়িত্ব পালন না করে বা অবিশ্বাস্য হয়ে ওঠে, আদালত স্বত্ত্বভোগীর আবেদনমতে ট্রাস্টিকে অপসারণ করতে পারে

·         নতুন ট্রাস্টি নিয়োগ দেওয়া হয় ট্রাস্টের উদ্দেশ্য বজায় রাখতে।

 

. নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ (Specific Performance)

·         আদালত ট্রাস্টিকে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য নির্দেশ দিতে পারে।

·         যেমন: সম্পদ নির্দিষ্টভাবে স্বত্ত্বভোগীর জন্য ব্যবহার করা।

 

. অশান্তি বা অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা (Injunction)

·         ট্রাস্টি বা অন্য কেউ ট্রাস্টের শর্ত লঙ্ঘন করলে, স্বত্ত্বভোগী অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য আদালতে নিষেধাজ্ঞা (injunction) চাইতে পারে

 

. হিসাব-নিকাশের দাবি (Account of Trust Property)

·         স্বত্ত্বভোগী ট্রাস্টির কাছ থেকে সম্পদের হিসাব-নিকাশ চাইতে পারে

·         যদি ট্রাস্টি হিসাব না দেয় বা ভুল হিসাব দেয়, আদালত হিসাব-নিকাশে সাহায্য করে।

 

 

No comments

Powered by Blogger.