Header Ads

Header ADS

২০০৬ সালের বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযাযী প্রধান পরিদর্শক কে? প্রধান পরিদর্শক এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর। প্রধান পরিদর্শকের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল পদ্ধতি কী?

 

() ২০০৬ সালের বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযাযী প্রধান পরিদর্শক কে? প্রধান পরিদর্শক এর ক্ষমতা কার্যাবলি আলোচনা কর।

নিম্নে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রধান পরিদর্শক, তাঁর পরিচয়, ক্ষমতা কার্যাবলি আলোচনা করা হলো

 

প্রধান পরিদর্শক কে?

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাইপ্রধান পরিদর্শক” (Chief Inspector)
তিনি শ্রম আইন বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ তদারকি নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা।

 

প্রধান পরিদর্শকের ক্ষমতা কার্যাবলি

) পরিদর্শন সংক্রান্ত ক্ষমতা

প্রধান পরিদর্শক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক

·         যে কোনো সময় কারখানা বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারেন

·         কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য শ্রমিক কল্যাণ পরিস্থিতি পরীক্ষা করতে পারেন

·         যন্ত্রপাতি, নথিপত্র রেজিস্টার পর্যালোচনা করতে পারেন

 

) নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা

·         শ্রম আইন লঙ্ঘন হলে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারেন

·         ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কারখানা বা যন্ত্র আংশিক/সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন

·         শ্রমিকের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারেন

 

) তথ্য নথি চাওয়ার ক্ষমতা

·         নিয়োগকর্তার কাছ থেকে শ্রমিকসংক্রান্ত তথ্য, মজুরি রেকর্ড, কর্মঘণ্টা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজপত্র চাইতে পারেন

·         প্রয়োজনে শ্রমিক বা মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন

 

) আইন প্রয়োগ মামলা দায়ের

·         শ্রম আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের অনুমোদন বা উদ্যোগ নিতে পারেন

·         পরিদর্শকদের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে পারেন

 

) বিধি প্রণয়নে সহায়তা

·         সরকারকে শ্রম আইন বাস্তবায়নসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করেন

·         শ্রম আইন সম্পর্কিত বিধিমালা নির্দেশিকা প্রণয়নে সহায়তা করেন

 

) পরিদর্শকদের তদারকি

·         অধীনস্থ পরিদর্শকদের কাজ তদারকি নিয়ন্ত্রণ করেন

·         পরিদর্শনের মান কার্যকারিতা নিশ্চিত করেন

 

উপসংহার

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রধান পরিদর্শক শ্রম আইন বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর ক্ষমতা কার্যাবলির মাধ্যমে শ্রমিকের নিরাপত্তা, অধিকার সংরক্ষণ এবং শিল্পখাতে আইনানুগ শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়

() প্রধান পরিদর্শকের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল পদ্ধতি কী?

নিম্নে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রধান পরিদর্শকের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল পদ্ধতি সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো

 

প্রধান পরিদর্শকের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল পদ্ধতি

1.      আপিল করার অধিকার
প্রধান পরিদর্শক (Chief Inspector) কর্তৃক জারিকৃত কোনো আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপিল করতে পারে।

2.      আপিল কর্তৃপক্ষ
আপিল করতে হবে সরকার বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট
(সাধারণত শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ)

3.      সময়সীমা

o    আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে সাধারণত ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে।

o    যুক্তিসংগত কারণে বিলম্ব হলে কর্তৃপক্ষ বিলম্ব মঞ্জুর করতে পারে।

4.      আপিলের পদ্ধতি

o    নির্ধারিত ফরমে লিখিত আপিল আবেদন দাখিল করতে হবে।

o    আপিল আবেদনে আপিলের কারণ যুক্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

o    প্রধান পরিদর্শকের আদেশের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।

5.      শুনানি সিদ্ধান্ত

o    আপিল কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করবে।

o    প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাইতে পারে।

o    শুনানি শেষে আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।

6.      আপিল নিষ্পত্তির চূড়ান্ততা

o    আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সাধারণত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ থাকে।

 

উপসংহার

প্রধান পরিদর্শকের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান শ্রম আইন বাস্তবায়নে ন্যায়বিচার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনগত প্রতিকার লাভের সুযোগ প্রদান করে।

No comments

Powered by Blogger.