Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন - এল এল বি শর্ট সাজেশন-২০২৫ উত্তর

 

প্রশ্ন :  সাংবিধানিক প্রাধান্য বলতে কী বুঝায়? সংবিধানকে কেন একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়? বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি কী সংসদকে সংবিধান সংশোধনের একক ক্ষমতা প্রদান করেছে? তোমার বিজ্ঞ মতামত দাও

১) সাংবিধানিক প্রাধান্য বলতে বোঝায়একটি রাষ্ট্রে সংবিধানের অবস্থান সব আইন, বিধি, আদেশ সরকারি কর্মকাণ্ডের ঊর্ধ্বে থাকা। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানই চূড়ান্ত কর্তৃত্বের উৎস, এবং সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত বৈধ বলে গণ্য হয় না।

সংবিধানকে কেন একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়?

সংবিধানকে সর্বোচ্চ আইন বলা হয় কারণ

  1. রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করে
    সংবিধান রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, ক্ষমতার বিভাজন (আইনসভা, নির্বাহী বিচার বিভাগ) এবং তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে।
  2. নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে
    নাগরিকের অধিকার স্বাধীনতা সংবিধানের মাধ্যমেই স্বীকৃত সুরক্ষিত হয়।
  3. সব আইন সংবিধানের অধীন
    সংসদ বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যে আইন প্রণয়ন করে, তা অবশ্যই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সংবিধানবিরোধী আইন বাতিলযোগ্য।
  4. রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস
    সরকারের সব ক্ষমতা সংবিধান থেকেই আসে। সংবিধান ছাড়া কোনো ক্ষমতার বৈধতা নেই।
  5. বিচারিক তত্ত্বাবধানের ভিত্তি
    আদালত সংবিধানের আলোকে আইন সরকারি কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করে।

সংক্ষেপে, সংবিধান রাষ্ট্রের ভিত্তি দিকনির্দেশক হওয়ায় একে একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন বলা হয়।

 

 

বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লিখিত সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি সংসদকে একক সীমাহীন ক্ষমতা প্রদান করে নাএটাই যুক্তিসংগত গ্রহণযোগ্য মতামত।

ব্যাখ্যা যুক্তি:

বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত। তবে এই ক্ষমতা শর্তহীন বা একক নয়, বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার অধীন।

1.      বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত
সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি সম্ভব নয়।

2.      গণভোটের বাধ্যবাধকতা (কিছু ক্ষেত্রে)
রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়যেমন

o    রাষ্ট্রের সীমানা

o    রাষ্ট্রের নাম

o    জাতীয় পতাকা

o    জাতীয় সংগীত

o    সংবিধানের প্রাধান্য
এসব বিষয়ে সংশোধনের জন্য সংসদের পাশাপাশী গণভোটে জনগণের সম্মতি আবশ্যক। এতে প্রমাণ হয় সংসদ একক কর্তৃপক্ষ নয়।

3.      সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব
বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী (যেমন: ৮ম সংশোধনী মামলা), সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করতে পারে না।
অর্থাৎ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদি মৌলিক বিষয় সংশোধনের নামে বিলুপ্ত করা যাবে না।

4.      বিচারিক পর্যালোচনা (Judicial Review)
কোনো সংশোধনী যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হয়, তবে আদালত তা বাতিল করতে পারে এতে সংসদের ক্ষমতার ওপর বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপসংহার:

অতএব বলা যায়, বাংলাদেশ সংবিধান সংসদকে সংবিধান সংশোধনের প্রধান ক্ষমতা দিলেও তা একক, চূড়ান্ত বা সীমাহীন ক্ষমতা নয় জনগণ বিচার বিভাগের অংশগ্রহণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সুরক্ষার মাধ্যমে এই ক্ষমতা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত।

 

 

২) প্রশ্ন: মৌলিক অধিকার বলতে কী বুঝ? যে সমস্ত মৌলিক অধিকারগুলো শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকগণই ভোগ করতে পারে তা আলোচনা কর কোন কোন মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে আইনসভা কোনোরূপ বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে না? কেন সুপ্রীম কোর্টকে মৌলিক অধিকারের অভিভাবক বলা হয়? বাংলাদেশ সংবিধানে যে সকল মৌলিক অধিকার উল্লেখ আছে তা বর্ণনা কর মৌলিক অধিকার মানবাধিকার এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

 

 

. মৌলিক অধিকার বলতে কী বুঝ?

মৌলিক অধিকার হলো সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত নিশ্চিত এমন কিছু অপরিহার্য অধিকার, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ, স্বাধীন জীবনযাপন এবং মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশে এই অধিকারগুলো সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ২৬৪৭ক)- লিপিবদ্ধ আছে এবং রাষ্ট্র এগুলো রক্ষা করতে বাধ্য।


. যে সমস্ত মৌলিক অধিকার শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকগণ ভোগ করতে পারে

বাংলাদেশ সংবিধানে কিছু মৌলিক অধিকার শুধুমাত্র নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সেগুলো হলো

1.      আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭)

2.      চাকরিতে সমান সুযোগ (অনুচ্ছেদ ২৯)

3.      আইনের দ্বারা প্রদত্ত সুরক্ষা (অনুচ্ছেদ ৩১)

4.      জীবন ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২)

5.      গ্রেপ্তার আটক সংক্রান্ত সুরক্ষা (অনুচ্ছেদ ৩৩)

6.      চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬)

7.      সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭)

8.      সংগঠনের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮)

9.      চিন্তা, বিবেক বাকস্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯)

10.  পেশা ব্যবসার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০)

11.  ধর্ম পালনের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১)

 

. কোন কোন মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে আইনসভা কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে না?

কিছু মৌলিক অধিকার আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে অবারিত, অর্থাৎ আইনসভা ইচ্ছামতো বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে না। যেমন

1.      আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭)

2.      জীবন ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২)

3.      জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ (অনুচ্ছেদ ৩৪)

4.      ধর্মের স্বাধীনতার মূল অংশ (অনুচ্ছেদ ৪১)

 

. কেন সুপ্রীম কোর্টকে মৌলিক অধিকারের অভিভাবক বলা হয়?

বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্ট-কে মৌলিক অধিকারের অভিভাবক বলা হয় কারণ

·         সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে যে কেউ হাইকোর্ট বিভাগে রিট করতে পারে

·         আদালত সংবিধানবিরোধী আইন বাতিল করতে পারে

·         সরকার বা প্রশাসনের অন্যায় কর্মকাণ্ড রোধ করতে পারে

·         মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে

·          তাই মৌলিক অধিকার রক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্ব সুপ্রীম কোর্টের ওপর ন্যস্ত।

 

. বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারসমূহ

বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার উল্লেখ আছে, যেমন

1.      আইনের দৃষ্টিতে সমতা

2.      বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ

3.      চাকরিতে সমান সুযোগ

4.      আইনের দ্বারা সুরক্ষা

5.      জীবন ব্যক্তিস্বাধীনতা

6.      গ্রেপ্তার আটক সংক্রান্ত সুরক্ষা

7.      জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ

8.      চলাফেরার স্বাধীনতা

9.      সমাবেশের স্বাধীনতা

10.  সংগঠনের স্বাধীনতা

11.  চিন্তা বাকস্বাধীনতা

12.  পেশা ব্যবসার স্বাধীনতা

13.  ধর্মীয় স্বাধীনতা

14.  সম্পত্তির অধিকার

15.  গৃহ যোগাযোগের গোপনীয়তা

16.  সংবিধান অনুযায়ী প্রতিকার লাভের অধিকার
(এছাড়া অনুচ্ছেদ ২৬৪৭ক এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য অধিকার)

. মৌলিক অধিকার মানবাধিকার এর মধ্যে পার্থক্য

বিষয়

মৌলিক অধিকার

মানবাধিকার

সংজ্ঞা

সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত অধিকার

মানুষ হিসেবে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অধিকার

প্রযোজ্যতা

নির্দিষ্ট রাষ্ট্রভিত্তিক

সার্বজনীন

আইনি ভিত্তি

জাতীয় সংবিধান

আন্তর্জাতিক আইন সনদ

প্রয়োগকারী সংস্থা

জাতীয় আদালত

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সংস্থা

পরিবর্তনযোগ্যতা

সংবিধান সংশোধনে পরিবর্তন হতে পারে

পরিবর্তনযোগ্য নয়


উপসংহার

মৌলিক অধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণ। এগুলো নাগরিকদের স্বাধীনতা মর্যাদা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রকে স্বেচ্ছাচারিতা থেকে বিরত রাখে।

 

প্রশ্ন:    নিরোধক আটক' বলতে কী বুঝায়? কিভাবে এটা শাস্তিমূলক আটক থেকে ভিন্নতর? কেন বলা হয়ে থাকে যে, ‘নিরোধক আটক ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বহন করে'? বাংলাদেশের সংবিধানে নিরোধক আটক সম্পর্কিত আইনগত রক্ষাকবচের বিধানাবলির বর্ণনা কর ]

 

. ‘নিরোধক আটকবলতে কী বুঝায়?

নিরোধক আটক (Preventive Detention) বলতে বোঝায়
কোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের পূর্বেই, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারেএই আশঙ্কায় তাকে বিনা বিচারে আটক রাখা

 অর্থাৎ এটি শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং অপরাধ প্রতিরোধের জন্য করা হয়।

 

. নিরোধক আটক শাস্তিমূলক আটক-এর মধ্যে পার্থক্য

বিষয়

নিরোধক আটক

শাস্তিমূলক আটক

উদ্দেশ্য

ভবিষ্যৎ অপরাধ প্রতিরোধ

সংঘটিত অপরাধের শাস্তি

সময়

অপরাধের পূর্বে

অপরাধ সংঘটনের পরে

বিচার

বিচার ছাড়াই আটক

আদালতের রায়ের মাধ্যমে

আইনি প্রক্রিয়া

নির্বাহী আদেশে

ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায়

প্রকৃতি

প্রতিরোধমূলক

দণ্ডমূলক


. কেন বলা হয় নিরোধক আটক ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বহন করে?

নিরোধক আটক ক্ষমতাকে অপব্যবহারযোগ্য বলা হয় কারণ

1.      বিচার ছাড়াই আটক করা হয়, ফলে ব্যক্তির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়

2.      রাজনৈতিক বিরোধী বা ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা যেতে পারে

3.      প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তে আটক সম্ভব

4.      অনেক সময় প্রকৃত কারণ গোপন রাখা হয়

5.      দীর্ঘ সময় বিনা বিচারে আটক থাকার আশঙ্কা থাকে

 তাই এটি গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত।

. বাংলাদেশের সংবিধানে নিরোধক আটক সম্পর্কিত আইনগত রক্ষাকবচ

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩- নিরোধক আটক সংক্রান্ত রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়েছে

() আটকের কারণ জানানো

·         আটক ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আটকের কারণ জানাতে হবে

() আইনগত প্রতিকার

·         আটক ব্যক্তি তার আটকের বিরুদ্ধে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে

() উপদেষ্টা বোর্ড

·         মাসের বেশি আটক রাখতে হলে একটি উপদেষ্টা বোর্ডের অনুমোদন আবশ্যক

() বোর্ডের গঠন

·         উপদেষ্টা বোর্ডে সুপ্রীম কোর্টের বিচারক বা যোগ্য ব্যক্তি থাকতে হবে

() নির্দিষ্ট সময়সীমা

·         বোর্ডের মতামত ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি আটক অবৈধ

উপসংহার

নিরোধক আটক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, এটি যেন স্বেচ্ছাচারিতার হাতিয়ার না হয়, সে জন্য সংবিধান আইনগত রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। ব্যক্তি স্বাধীনতা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এর মূল উদ্দেশ্য।

 

 

4.   প্রশ্ন:    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ? আমাদের দেশে বিচার বিভাগ কী স্বাধীন? উক্ত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলে মনে কর? উত্তরের সমর্থনে যুক্তি দাও

 

. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ?

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায়
বিচার বিভাগ যেন কার্যনির্বাহী আইন বিভাগের প্রভাব, চাপ বা হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে সংবিধান আইনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ, নির্ভীক ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে

অর্থাৎ

·         বিচারকরা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকবেন

·         রায় প্রদানে স্বাধীনতা থাকবে

·         ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে


. আমাদের দেশে বিচার বিভাগ কি স্বাধীন?

() সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে

বাংলাদেশ সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্বীকৃত

·         অনুচ্ছেদ ২২: রাষ্ট্র বিচার বিভাগকে কার্যনির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করবে

·         অনুচ্ছেদ ৯৪(): সুপ্রীম কোর্ট বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগে স্বাধীন

·         অনুচ্ছেদ ১১৬ক: বিচারকদের স্বাধীনতা নিরাপত্তা নিশ্চিত

👉 সংবিধানগতভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন

() বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে

বাস্তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়

·         নিম্ন আদালতের প্রশাসনিক বিষয় এখনো আংশিকভাবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবাধীন

·         বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি শৃঙ্খলা প্রশ্নে সরকারি প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে

·         মামলার দীর্ঘসূত্রিতা অবকাঠামোগত দুর্বলতা বিচার বিভাগের কার্যকারিতা কমায়

👉 তাই বলা যায়, স্বাধীনতা আংশিকভাবে বাস্তবায়িত


. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি?

হ্যাঁ, আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন

যুক্তিসমূহ

1.      ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে
স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।

2.      আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়
বিচার বিভাগ দুর্বল হলে নির্বাহী বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে।

3.      মৌলিক অধিকার রক্ষায়
নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ।

4.      গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়
রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য।


. স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

1.      নিম্ন আদালতের সম্পূর্ণ প্রশাসনিক আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা

2.      বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি বদলিতে স্বচ্ছ স্বাধীন কমিশন গঠন

3.      রাজনৈতিক প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা

4.      বিচার বিভাগের অবকাঠামো জনবল বৃদ্ধি

5.      মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার


উপসংহার

বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাংবিধানিক ভিত্তি থাকলেও, তা পুরোপুরি কার্যকর নয়। গণতন্ত্র, মানবাধিকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও দৃঢ় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

 

5. প্রশ্ন:     ) বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। () সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনার উপযোগিতা কী? () বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা কী সংশোধনযোগ্য? প্রখ্যাত মামলাসমূহের রায়ের আলোকে আলোচনা কর ]

() বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার গুরুত্ব

সংবিধানের প্রস্তাবনা হলো সংবিধানের আত্মা দর্শন। এটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্য, আদর্শ রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করে।

প্রস্তাবনার গুরুত্ব

1.      রাষ্ট্রের আদর্শ ঘোষণা করে
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতার অঙ্গীকার তুলে ধরে।

2.      জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়
— “আমরা বাংলাদেশের জনগণকথার মাধ্যমে জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস।

3.      মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে
স্বাধীনতা সংগ্রাম আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ভিত্তি প্রকাশ করে।

4.      সংবিধানের দিকনির্দেশক
সংবিধানের অন্যান্য বিধানের ব্যাখ্যা প্রয়োগে পথনির্দেশ দেয়।

5.      সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ভিত্তি
প্রস্তাবনায় বর্ণিত আদর্শসমূহ সংবিধানের Basic Structure হিসেবে স্বীকৃত।

 তাই প্রস্তাবনা সংবিধানের অলংকার নয়, বরং তার প্রাণসত্তা।

 

() সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনার উপযোগিতা

প্রস্তাবনা সংবিধানের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপযোগিতা

1.      অস্পষ্ট বিধানের ব্যাখ্যায় সহায়ক
কোনো অনুচ্ছেদের অর্থ অস্পষ্ট হলে প্রস্তাবনার আলোকে তা ব্যাখ্যা করা হয়।

2.      আইনের উদ্দেশ্য নির্ধারণে সাহায্য করে
আইনপ্রণেতার অভিপ্রায় বুঝতে প্রস্তাবনা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

3.      মৌলিক কাঠামো নির্ধারণে সহায়ক
কোন সংশোধন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নষ্ট করছে কি না, তা নির্ধারণে প্রস্তাবনা ব্যবহৃত হয়।

4.      আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তে দিকনির্দেশনা দেয়
সুপ্রীম কোর্ট বহু রায়ে প্রস্তাবনার নীতিকে অনুসরণ করেছে।

যদিও প্রস্তাবনা নিজে আইনগত অধিকার সৃষ্টি করে না, তবে এটি ব্যাখ্যার শক্তিশালী সহায়ক দলিল

 

() বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা কি সংশোধনযোগ্য?

প্রখ্যাত মামলার রায়ের আলোকে আলোচনা

. প্রস্তাবনা কি সংবিধানের অংশ?

হ্যাঁ।
Anwar Hossain Chowdhury v. Bangladesh (৮ম সংশোধনী মামলা)- আপিল বিভাগ রায় দেয়

প্রস্তাবনা সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

. প্রস্তাবনা কি সংশোধনযোগ্য?

এই বিষয়ে আদালতের অবস্থান হলো

 প্রস্তাবনা সংশোধনযোগ্য,
কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস হয়

 

. ৫ম সংশোধনী মামলা

Bangladesh Italian Marble Works Ltd. v. Government of Bangladesh

এই মামলায় আদালত বলেন

·         সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য (গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ধর্মনিরপেক্ষতা, জনগণের সার্বভৌমত্ব) পরিবর্তন বা বিলোপ করা যাবে না

·         প্রস্তাবনায় ঘোষিত আদর্শগুলোই মৌলিক কাঠামোর অংশ

👉 অতএব, প্রস্তাবনায় সংশোধন করা গেলেও তা মৌলিক দর্শনের পরিপন্থী হলে অবৈধ হবে

 

. উপসংহার ( অংশের)

·         প্রস্তাবনা সংবিধানের অংশ

·         তা সংশোধনযোগ্য

·         তবে সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক কাঠামো আদর্শ বিনষ্ট করা যাবে না

উপসংহার

বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা হলো রাষ্ট্রের আদর্শিক ঘোষণা, ব্যাখ্যার দিকনির্দেশক এবং মৌলিক কাঠামোর ভিত্তি। সুপ্রীম কোর্টের বিভিন্ন ঐতিহাসিক রায়ে এটি সংবিধানের অংশ মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ধারক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। তাই প্রস্তাবনা সংশোধনযোগ্য হলেও তা সীমাহীন নয়

 

6. প্রশ্ন:     একটি সংসদীয় সরকার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যগুলো কী? সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর পর প্রধানমন্ত্রী এখন কী কী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন তা উল্লেখ কর। তুমি কি মনে কর যে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং  দেশের  আইনে শাসন  প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধক। তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

. একটি সংসদীয় সরকার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ

সংসদীয় সরকার পদ্ধতি হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে আইনসভা নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

1.      দ্বৈত নির্বাহী ব্যবস্থা

o    নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি)

o    প্রকৃত নির্বাহী (প্রধানমন্ত্রী)

2.      মন্ত্রীসভা সংসদের নিকট দায়বদ্ধ

o    সংসদের আস্থা হারালে সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য

3.      সমষ্টিগত দায়িত্বের নীতি

o    মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী

4.      প্রধানমন্ত্রীর প্রাধান্য

o    প্রধানমন্ত্রী সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি

5.      আইনসভা থেকে নির্বাহী গঠিত

o    মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই হন

6.      সংসদ ভাঙার ক্ষমতা

o    প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন

7.      নমনীয় সংবিধানিক সম্পর্ক

o    আইনসভা নির্বাহীর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ন্ত্রণ


. দ্বাদশ সংশোধনীর পর প্রধানমন্ত্রী কী কী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?

১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাসমূহ

1.      সরকারপ্রধান হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ

o    রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণ

2.      মন্ত্রীসভা গঠন পুনর্গঠন

o    মন্ত্রী নিয়োগ, পদত্যাগ গ্রহণ অপসারণ

3.      রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান

o    রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য

4.      সংসদের কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান

o    আইন প্রণয়ন সংসদ পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা

5.      জাতীয় নীতি নির্ধারণ

o    অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

6.      সংসদ ভাঙার সুপারিশ

o    প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির নিকট সংসদ ভাঙার পরামর্শ

7.      দলীয় নেতৃত্ব সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ন্ত্রণ

👉 ফলে প্রধানমন্ত্রী কার্যত রাষ্ট্রের সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি


. তুমি কি মনে কর যে, সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধক?

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

👉 হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে এটি আইনের শাসনের পথে প্রতিবন্ধক।


সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদের মূল কথা

·         কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন বা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যান, তবে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে


কেন এটি আইনের শাসনের পথে প্রতিবন্ধকযুক্তি

1.      সংসদ সদস্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে

o    জনগণের প্রতিনিধি হয়েও স্বাধীনভাবে মত দিতে পারেন না

2.      সংসদের নজরদারি ক্ষমতা দুর্বল করে

o    সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরোধিতা সম্ভব হয় না

3.      প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত করে

o    নির্বাহী বিভাগ কার্যত সংসদের উপর প্রাধান্য পায়

4.      গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত করে

o    সংসদরাবার স্ট্যাম্প’- পরিণত হওয়ার আশঙ্কা

5.      আইনের শাসনের মূল নীতি লঙ্ঘন করে

o    জবাবদিহিতা স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়


বিপরীত যুক্তি (সংক্ষেপে)

·         সরকারকে স্থিতিশীল রাখার জন্য অনুচ্ছেদ ৭০ প্রয়োজন

·         দল ভাঙন ঘন ঘন সরকার পতন রোধ করে

👉 তবে স্থিতিশীলতার বিনিময়ে যদি গণতন্ত্র আইনের শাসন দুর্বল হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়।


উপসংহার

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় শক্তিশালী সংসদ জবাবদিহিমূলক নির্বাহী অপরিহার্য। দ্বাদশ সংশোধনীর পর প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী হলেও, সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ সেই ক্ষমতার ওপর সংসদীয় নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করেছে। তাই আইনের শাসন সুসংহত করতে এই অনুচ্ছেদের সংস্কার বা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

No comments

Powered by Blogger.