বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট সংবিধান শর্ট সাজেশন এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫- পার্ট-২
বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন ও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট সংবিধান শর্ট সাজেশন এল এল বি পরীক্ষা ২০২৫-2
7. (ক)
প্রতিরোধমূলক
আটক
বলতে
তুমি
কী
বুঝ?
(খ) প্রতিরোধমূলক
আটক
ও
শাস্তিমূলক
আটকের
মধ্যে
পার্থক্য
কর।
(গ) বাংলাদেশের
সংবিধানের
সংশোধিত
অনুচ্ছেদ-৩৩
প্রতিরোধমূলক
আটক
আইনের
অধীনে
গ্রেফতারকৃত
ব্যক্তি
সম্পর্কে
আলোচনা
কর
।
(ক)
প্রতিরোধমূলক আটক বলতে কী বুঝ?
প্রতিরোধমূলক
আটক
(Preventive Detention) বলতে
বোঝায়—
কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত
করতে পারে—এই আশঙ্কার
ভিত্তিতে,
সে ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটন করার পূর্বেই তাকে বিনা
বিচারে
আটক
রাখা।
👉 এর
উদ্দেশ্য শাস্তি প্রদান নয়, বরং সম্ভাব্য
অপরাধ
প্রতিরোধ
করা।
(খ) প্রতিরোধমূলক আটক ও শাস্তিমূলক আটকের
মধ্যে পার্থক্য
|
বিষয় |
প্রতিরোধমূলক আটক |
শাস্তিমূলক আটক |
|
উদ্দেশ্য |
ভবিষ্যৎ
অপরাধ প্রতিরোধ |
সংঘটিত
অপরাধের শাস্তি |
|
সময় |
অপরাধ
সংঘটনের আগে |
অপরাধ
সংঘটনের পরে |
|
বিচার |
বিচার
ছাড়াই আটক |
আদালতের
বিচারের পর |
|
কর্তৃপক্ষ |
নির্বাহী
আদেশে |
আদালতের
রায়ে |
|
প্রকৃতি |
প্রতিরোধমূলক |
দণ্ডমূলক |
|
প্রমাণের
প্রয়োজন |
সন্দেহ
বা আশঙ্কা |
প্রমাণ
অপরিহার্য |
(গ) বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধিত অনুচ্ছেদ-৩৩ অনুযায়ী
প্রতিরোধমূলক আটক আইনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অবস্থান ও রক্ষাকবচ
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ
৩৩
প্রতিরোধমূলক আটক সংক্রান্ত বিধান ও আইনগত সুরক্ষা
নির্ধারণ করেছে। যদিও সাধারণ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অধিক সুরক্ষা রয়েছে, প্রতিরোধমূলক আটক ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য।
অনুচ্ছেদ ৩৩-এর গুরুত্বপূর্ণ
বিধানসমূহ—
১. সাধারণ সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়
·
প্রতিরোধমূলক
আটক আইনে আটক ব্যক্তির ক্ষেত্রে
o
২৪
ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বাধ্যবাধকতা নেই
o
আইনজীবীর
সঙ্গে পরামর্শের অধিকার সীমিত হতে পারে
২. আটকের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক
·
আটক
ব্যক্তিকে যত
দ্রুত
সম্ভব
আটকের কারণ জানাতে হবে
·
তবে
রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে সব
তথ্য
প্রকাশ
না
করলেও
চলবে
৩. প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার
·
আটক
ব্যক্তি তার আটকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের
নিকট
আবেদন
(Representation) করতে
পারবে
৪. উপদেষ্টা বোর্ডের বিধান
·
৩
মাসের বেশি আটক রাখতে হলে
o
একটি
উপদেষ্টা
বোর্ডে
বিষয়টি পাঠাতে হবে
·
বোর্ডে
থাকবেন—
o
সুপ্রীম
কোর্টের বিচারক বা বিচারক হওয়ার
যোগ্য ব্যক্তি
৫. বোর্ডের মতামত বাধ্যতামূলক
·
উপদেষ্টা
বোর্ড যদি আটককে অযৌক্তিক বলে মত দেয়
o
তবে
আটক অব্যাহত রাখা যাবে না
উপসংহার
প্রতিরোধমূলক আটক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার একটি বিশেষ ব্যবস্থা হলেও, এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণেই সংবিধানের
সংশোধিত অনুচ্ছেদ-৩৩ প্রতিরোধমূলক আটককে
সম্পূর্ণ
স্বেচ্ছাচারী
না
করে
কিছু
গুরুত্বপূর্ণ
আইনগত
রক্ষাকবচ
প্রদান করেছে, যাতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য
বজায় থাকে।
8.. জরুরি
অবস্থা
কী?
সংবিধান
অনুযায়ী
কোন
কোন
পরিস্থিতিতে
জরুরি
অবস্থা
ঘোষণা
করা
যায়?
জরুরি
অবস্থা
ঘোষণা
সম্পর্কিত
বাংলাদেশে
সংবিধানের
বিধানগুলো
সমালোচনা
সহকারে
আলোচনা
কর
১. জরুরি অবস্থা বলতে কী বুঝ?
জরুরি
অবস্থা
(State of Emergency) বলতে
বোঝায়—
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা বা স্বাভাবিক শাসনব্যবস্থা
যখন এমন সংকটের মুখে পড়ে যে সাধারণ আইন
ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তা মোকাবিলা করা
সম্ভব হয় না, তখন সংবিধান অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য যে অবস্থা ঘোষণা
করা হয়, তাকে জরুরি অবস্থা বলে।
এ সময় রাষ্ট্র স্বাভাবিক আইনি সীমা অতিক্রম করে অসাধারণ
ক্ষমতা
প্রয়োগ করতে পারে।
২. সংবিধান অনুযায়ী কোন কোন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়?
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ
১৪১ক
অনুযায়ী, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যেতে পারে—
1. যুদ্ধের
কারণে
2. বহিঃশত্রুর
আক্রমণের
কারণে
3. রাষ্ট্রের
অভ্যন্তরীণ
গোলযোগের
কারণে
4. রাষ্ট্রের
নিরাপত্তা
বা
অর্থনৈতিক
জীবন
বিপন্ন
হলে
রাষ্ট্রপতি লিখিত ঘোষণার মাধ্যমে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন।
৩. জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কিত সংবিধানিক বিধানসমূহ
(ক) জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা
·
রাষ্ট্রপতি
জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন
·
তবে
বাস্তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর
পরামর্শে
হয়ে থাকে
(খ) মৌলিক অধিকার স্থগিত
·
অনুচ্ছেদ
১৪১খ
অনুযায়ী—
o
কিছু
মৌলিক অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত করা যায়
o
যেমন:
চলাফেরা, সমাবেশ, বাকস্বাধীনতা ইত্যাদি
(গ) আদালতের এখতিয়ার সীমিতকরণ
·
জরুরি
অবস্থাকালে
o
মৌলিক
অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ সীমিত হতে পারে
(ঘ) জরুরি অবস্থার মেয়াদ
·
সংবিধানে
নির্দিষ্ট
সর্বোচ্চ
সময়সীমা
স্পষ্টভাবে
উল্লেখ
নেই
·
সংসদের
অনুমোদন সম্পর্কিত বিধান তুলনামূলকভাবে দুর্বল
৪. জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধানসমূহের সমালোচনা
(ক) ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি
·
জরুরি
অবস্থা ঘোষণার শর্তগুলো অস্পষ্ট
ও
ব্যাপক
·
“অভ্যন্তরীণ
গোলযোগ” বা “অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন” — এই শব্দগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ
·
ফলে
রাজনৈতিক স্বার্থে জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কা থাকে
(খ) মৌলিক অধিকার স্থগিতের ব্যাপকতা
·
জরুরি
অবস্থায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ব্যাপকভাবে স্থগিত করা যায়
·
এটি
ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী
(গ) সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল
·
জরুরি
অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে সংসদের তাৎক্ষণিক
অনুমোদন
বাধ্যতামূলক
নয়
·
এতে
নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা অতিরিক্ত বেড়ে যায়
(ঘ) বিচার বিভাগের ভূমিকা সীমিত
·
জরুরি
অবস্থায় আদালতের এখতিয়ার সীমিত হওয়ায়
o
নাগরিকরা
কার্যকর প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে
(ঙ) অতীত অভিজ্ঞতা
·
বাংলাদেশের
ইতিহাসে জরুরি অবস্থা অনেক সময়
o
রাজনৈতিক
সংকট মোকাবিলার বদলে রাজনৈতিক
নিয়ন্ত্রণের
হাতিয়ার
হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে
·
এতে
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
৫. ইতিবাচক দিক (সংক্ষেপে)
সমালোচনার পাশাপাশি কিছু ইতিবাচক দিকও আছে—
·
রাষ্ট্রের
অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব
·
যুদ্ধ
বা চরম সংকটে প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর হয়
·
জাতীয়
নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়
উপসংহার
জরুরি অবস্থা রাষ্ট্রের জন্য একটি অপরিহার্য
কিন্তু
ঝুঁকিপূর্ণ
সাংবিধানিক
ব্যবস্থা। বাংলাদেশের সংবিধানে
জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান থাকলেও, এর শর্তের অস্পষ্টতা,
সংসদীয় ও বিচারিক নিয়ন্ত্রণের
দুর্বলতা একে অপব্যবহারের সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।
অতএব, গণতন্ত্র,
মৌলিক
অধিকার
ও
আইনের
শাসন
রক্ষার্থে
জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সাংবিধানিক সুরক্ষা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ
ব্যবস্থা প্রয়োজন।
9.(ক)
রীটের সংজ্ঞা দাও ।
(খ)
“সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে রীটের শর্তাবলি পাওয়া যায়, তবে এটি ১০২ অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয—ব্যাখ্যা কর
।
(গ) রীটের সীমাবদ্ধতা
কী? > দেখা
(ক) রীটের সংজ্ঞা
রীট
(Writ) হলো
সুপ্রীম
কোর্ট
কর্তৃক
জারি
করা
একটি
আদেশ
বা
নির্দেশ,
যার মাধ্যমে নাগরিকেরা মৌলিক
অধিকার
লঙ্ঘনের
বিরুদ্ধে
প্রতিকার
চাইতে
পারে।
মূল বৈশিষ্ট্য
1. রীটের উদ্দেশ্য হলো মৌলিক
অধিকার
রক্ষা
2. এটি আদালত থেকে প্রত্যক্ষ
ও
দ্রুত
প্রতিকার
প্রদান করে
3. সাধারণত সরকারি
বা
রাষ্ট্র
সংশ্লিষ্ট
কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে
প্রযোজ্য
সাধারণভাবে বাংলাদেশে রীটের ধরন ৫ ধরনের—
·
হাবিয়াস
কোরপাস
(Habeas Corpus)
·
ম্যান্ডামাস
(Mandamus)
·
প্রহিবিশন
(Prohibition)
·
ক্যুইয়াম
ফেক্টি
(Quo Warranto)
·
সারেপাস
(Certiorari)
(খ) সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে রীটের শর্তাবলি পাওয়া যায়, তবে এটি ১০২ অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়—ব্যাখ্যা
সংবিধানভিত্তিক ব্যাখ্যা
1. অনুচ্ছেদ
১০৪
o
এখানে
সুপ্রীম কোর্টের সাধারণ
ক্ষমতা
ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত শর্তাবলি উল্লেখ আছে
o
মূলত
আদালতের অভ্যন্তরীণ
নিয়ম
ও
শর্তাবলি
সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
2. অনুচ্ছেদ
১০২
o
এখানে
মৌলিক
অধিকার
লঙ্ঘন
রোধে
নাগরিকদের
রীটের
অধিকার
সরাসরি প্রদত্ত
o
আদালতকে
প্রয়োজনীয় প্রতিকার
জারি
করার
ক্ষমতা
দেয়
ব্যাখ্যা
·
অর্থাৎ
শর্তাবলি
ও
প্রক্রিয়া
১০৪
অনুচ্ছেদে,
·
প্রধান
কার্যকারিতা
ও
মৌলিক
অধিকার
সংরক্ষণের
উদ্দেশ্য
১০২
অনুচ্ছেদে
·
এটি
নিশ্চিত করে যে, সুপ্রীম
কোর্ট
নাগরিকদের
অধিকার
রক্ষায়
দ্রুত
ও
কার্যকরী
ব্যবস্থা
নিতে
পারে।
(গ) রীটের সীমাবদ্ধতা
১. ব্যক্তিগত বা বেসরকারি কাজে
প্রযোজ্য নয়
·
রীট
সাধারণত সরকারি
কর্মকাণ্ড
বা
রাষ্ট্র
সংক্রান্ত
কর্তৃপক্ষের
কাছে
প্রযোজ্য
·
ব্যক্তিগত
চুক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
নিয়ে আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না
২. মৌলিক অধিকার সীমিত হলে
·
যদি
সংশ্লিষ্ট অধিকার সংবিধান
বা
আইন
দ্বারা
সীমিত
থাকে, রীট কার্যকর নাও হতে পারে
৩. জরুরি/অসাধারণ পরিস্থিতি
·
জরুরি
অবস্থা
বা বিশেষ আইন প্রয়োগের সময় রীটের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে
৪. আদালতের ন্যায্য সীমাবদ্ধতা
·
রীট
জারি করার জন্য সরাসরি
ক্ষতিগ্রস্ত
নাগরিক
হতে হবে
·
নিছক
আগাম শঙ্কা বা অনুমান পর্যাপ্ত
নয়
৫. বিধানগত সীমাবদ্ধতা
·
কিছু
বিশেষ আইন যেমন প্রতিরোধমূলক
আটক
আইন
বা সাবেক
জরুরি
অবস্থার
আইন
রীটের ক্ষমতা সীমিত করে
উপসংহার
·
রীট
হলো নাগরিকদের জন্য সংবিধান প্রদত্ত দ্রুত
প্রতিকার
ব্যবস্থা
·
সংবিধানের
১০৪
অনুচ্ছেদ
শর্তাবলি
দেয়,
কিন্তু ১০২
অনুচ্ছেদ
কার্যকর
প্রয়োগ
নির্দেশ
করে
·
তবে
এর ক্ষমতা সরকারি
কর্মকাণ্ডে
সীমাবদ্ধ,
কিছু বিশেষ আইন বা জরুরি অবস্থায়
প্রয়োগ সীমিত হয়
10.(ক)
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বুঝ? এগুলোর
তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য কী?
(খ)
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে আলোচনা কর।
(গ)
মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার
মূলনীতিসমূহের পার্থক্য নিরূপণ কর ।
(ক) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Principles of
State Policy)
রাষ্ট্র
পরিচালনার
মূলনীতি
হলো সংবিধানে প্রতিফলিত নীতিমালা যা রাষ্ট্রকে পরিচালনা
ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ
৮,
৯,
১০,
১১,
১২
প্রভৃতিতে এই নীতিসমূহ উল্লেখ
রয়েছে।
তাৎপর্য
1. ন্যায়বিচার
ও
সমাজতন্ত্র
নিশ্চিত
করা
2. অর্থনৈতিক
ও
সামাজিক
উন্নয়ন
ত্বরান্বিত
করা
3. গণতান্ত্রিক
মূল্যবোধ
বজায়
রাখা
4. মানবাধিকার
ও
সমতার
নীতির
প্রতিফলন
5. জাতীয়
ঐক্য
ও
সার্বভৌমত্ব
রক্ষা
বৈশিষ্ট্য
|
বৈশিষ্ট্য |
ব্যাখ্যা |
|
আইনগত বাধ্যতা নয় |
মূলনীতি
নির্দেশমূলক; নাগরিকদের প্রয়োগযোগ্য নয় |
|
নৈতিক ও রাজনৈতিক নির্দেশিকা |
সরকারকে
নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পথনির্দেশ দেয় |
|
সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক নির্দেশ করে |
উন্নয়ন,
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণ নীতির ভিত্তি |
|
মৌলিক অধিকারকে সমর্থন করে |
মানুষের
মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে দিকনির্দেশ দেয় |
|
সংবিধানের অংশ |
Basic Structure বা
রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর অংশ |
(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব
1. নীতিমালা
প্রণয়ন
ও
বাস্তবায়ন
o
আইন
ও কার্যক্রমের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুসরণ করা
o
যেমন:
সামাজিক ন্যায়বিচার, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী-পুরুষ সমতা
2. নীতিগত
নির্দেশনা
o
সরকারের
বাজেট, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রাষ্ট্র
পরিচালনার মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে
3. সুপ্রীম
কোর্টের
তদারকি
o
সরকার
নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আদালতের তদারকি বা নির্দেশ প্রযোজ্য
4. দূরদর্শী
ও
স্বচ্ছ
প্রশাসন
o
নীতির
লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক কাঠামো ও জনসচেতনতা নিশ্চিত
করা
5. সমাজ
ও
অর্থনীতির
উন্নয়ন
o
মূলনীতি
অনুযায়ী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায়
কার্যকর পদক্ষেপ
(গ) মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার
মূলনীতির পার্থক্য
|
বিষয় |
মৌলিক অধিকার (Fundamental
Rights) |
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Principles of
State Policy) |
|
প্রকৃতি |
আইনগতভাবে
বাধ্যতামূলক |
নির্দেশনামূলক/নৈতিক ও রাজনৈতিক |
|
উদ্দেশ্য |
নাগরিকদের
স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা |
রাষ্ট্রকে
নৈতিক ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশ দেয় |
|
প্রয়োগযোগ্যতা |
সরাসরি
আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য |
সরাসরি
আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য নয় |
|
সংবিধানিক স্থান |
অনুচ্ছেদ
২৬-৪৭ |
অনুচ্ছেদ
৮-১৩ |
|
বিধি লঙ্ঘন হলে প্রতিকার |
সুপ্রীম
কোর্টে মামলা দায়ের সম্ভব |
প্রধানত
সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন |
উপসংহার
·
রাষ্ট্র
পরিচালনার
মূলনীতি
হলো নৈতিক ও নীতিগত দিকনির্দেশ,
যা সরকারের কার্যক্রমে দিকনির্দেশক
ও
পরিকল্পনামূলক
ভূমিকা রাখে।
·
মৌলিক
অধিকার
নাগরিকদের সরাসরি অধিকার এবং আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য।
·
রাষ্ট্র
পরিচালনার মূলনীতি নাগরিকদের আইনগত
অধিকার
নয়,
বরং সরকারের সাংবিধানিক
ও
নৈতিক
বাধ্যবাধকতা
নিশ্চিত করে।
11. ক)
রাষ্ট্রের উপাদানগুলো ব্যাখ্যা কর।
(খ)
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রকার সরকার পদ্ধতি আলোচনা কর ।
(ক) রাষ্ট্রের উপাদানগুলো
রাষ্ট্র
হলো একটি রাজনৈতিক ও আইনি সংগঠন
যা নির্দিষ্ট ভূমি,
জনগণ
ও
সরকারের
মাধ্যমে
শাসন
ব্যবস্থা
পরিচালনা করে।
রাষ্ট্রের মূল উপাদানগুলো তিনটি—
|
উপাদান |
ব্যাখ্যা |
উদাহরণ/বিশেষত্ব |
|
জনগণ (Population) |
রাষ্ট্রের
সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; যারা তার আইন ও নীতি মেনে চলে |
বাংলাদেশে
প্রায় ১৬ কোটি মানুষ |
|
ভূমি (Territory) |
রাষ্ট্রের
স্থায়ী সীমারেখা ও ভূখণ্ড যেখানে সরকার কার্যকর |
নদী,
পাহাড়, সমুদ্রসীমাসহ স্থির অঞ্চল |
|
সরকার (Government/Authority) |
রাষ্ট্রের
আইন প্রয়োগ ও শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্র; সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা |
সংসদ,
নির্বাহী, বিচার বিভাগ |
|
সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) |
রাষ্ট্রের
স্বশাসন ও আইন প্রয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা; বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার |
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা |
অর্থাৎ, জনগণ
+ ভূমি
+ সরকার
+ সার্বভৌমত্ব—এই চারটি রাষ্ট্রের
অপরিহার্য উপাদান।
(খ) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রকার সরকার পদ্ধতি
গণতান্ত্রিক
শাসন
ব্যবস্থা
হলো এমন ব্যবস্থা যেখানে জনগণ সরাসরি বা নির্বাচনের মাধ্যমে
সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণে
অংশগ্রহণ করে।
প্রধান সরকার পদ্ধতি
|
সরকার পদ্ধতি |
বৈশিষ্ট্য |
উদাহরণ |
|
সংসদীয় সরকার (Parliamentary) |
- সংসদ
ও নির্বাহীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক |
বাংলাদেশ,
ভারত, যুক্তরাজ্য |
|
রাষ্ট্রপতিমুখী/রাষ্ট্রপতি সরকার (Presidential) |
- রাষ্ট্রপতি
সরকার ও সংসদ থেকে পৃথক |
যুক্তরাষ্ট্র,
ফিলিপাইন |
|
সংকর সরকার/হাইব্রিড (Semi-Presidential) |
- রাষ্ট্রপতি
ও প্রধানমন্ত্রী দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ |
ফ্রান্স,
রাশিয়া |
|
সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) |
- রাজা
বা রানী রাষ্ট্রের প্রতীকী প্রধান |
যুক্তরাজ্য,
জাপান |
|
লোকতান্ত্রিক/ডিরেক্ট ডেমোক্রেসি (Direct Democracy) |
- নাগরিকরা
সরাসরি আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করে |
কিছু
সুইস কাউন্সিল ও রেফারেন্ডাম |
মূল বৈশিষ্ট্য (সাধারণ)
1. জনগণের
সার্বভৌমত্ব
2. নির্বাচনের
মাধ্যমে
সরকার
গঠন
3. আইনের
শাসন
ও
মৌলিক
অধিকার
রক্ষা
4. তিন
অঙ্গের
বিভাজন
(নির্বাহী, আইনসভা, বিচার বিভাগ)
5. স্বচ্ছতা
ও
জবাবদিহিতা
নিশ্চিতকরণ
উপসংহার
·
রাষ্ট্রের
উপাদান
হলো: জনগণ, ভূমি, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব।
·
গণতান্ত্রিক
শাসন
ব্যবস্থায়
সরকার
পদ্ধতি
মূলত সংসদীয়, রাষ্ট্রপতিমুখী, সংকর, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সরাসরি গণতন্ত্রের
মধ্যে বিভক্ত।
·
প্রতিটি
পদ্ধতি শাসন
ও
জবাবদিহিতার
ধরন
অনুযায়ী
পৃথক,
তবে সকলেই জনগণের
সার্বভৌমত্ব
ও
আইনের
শাসন
নিশ্চিত করতে চায়।
No comments