শ্রম আইন এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা -২০২৪ - গুরুত্বপূর্ণ টিকা সমূহ। পার্ট -১
শ্রম আইন এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা -২০২৪ - গুরুত্বপূর্ণ টিকা সমূহ
১) লে-অফ (Lay-off)
লে-অফ বলতে বোঝায়—কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীর দোষ ছাড়া সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক যখন কর্মীদের কাজে রাখতে বা কাজ দিতে
পারেন না, তখন সেই অবস্থাকে লে-অফ বলা
হয়।
সহজভাবে:
কারখানা বা অফিস চালু
থাকলেও কাঁচামাল না পাওয়া, বিদ্যুৎ
সংকট, যন্ত্র নষ্ট হওয়া, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য কাজ না দেওয়া = লে-অফ।
গুরুত্বপূর্ণ
বৈশিষ্ট্য:
·
এটি
সাধারণত সাময়িক
·
কর্মীকে
স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয় না
·
পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হলে কর্মীকে আবার কাজে নেওয়া হয়
·
অনেক
ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত লে-অফ ভাতা দেওয়ার বিধান থাকে
(২) অসদাচরণ
ও উহার শাস্তি
অসদাচরণ (Misconduct):
কোনো
কর্মচারী যখন
প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিয়ম-কানুন বা আইন
ভঙ্গ
করে,
কিংবা
কর্তব্যে অবহেলা
করে—তাকে অসদাচরণ বলা
হয়।
অসদাচরণের উদাহরণ:
- অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত
থাকা
- কর্তৃপক্ষের
আদেশ অমান্য করা
- চুরি, জালিয়াতি
বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকা
- কাজে ইচ্ছাকৃত
অবহেলা করা
- সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তার সঙ্গে অসভ্য আচরণ
- প্রতিষ্ঠানের
সম্পত্তির ক্ষতি করা
- মারামারি
বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা
অসদাচরণের জন্য শাস্তি:
অসদাচরণের মাত্রা
অনুযায়ী নিম্নলিখিত শাস্তি
দেওয়া
হতে
পারে—
- মৌখিক বা লিখিত সতর্কবার্তা
- জরিমানা
- সাময়িক বরখাস্ত
(Suspension)
- পদাবনতি
- বেতন বৃদ্ধি বা অন্যান্য
সুবিধা স্থগিত
- গুরুতর ক্ষেত্রে
চাকরি থেকে বরখাস্ত (Dismissal)
3.নিম্নতম
মজুরি
হার
ও শ্রেণি
নিম্নতম মজুরি হার (Minimum Wage Rate):
কোনো শিল্প বা পেশায় একজন
শ্রমিককে কাজের বিনিময়ে যে সর্বনিম্ন মজুরি দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক, তাকে নিম্নতম মজুরি হার বলা হয়। এটি সরকার/মজুরি বোর্ড নির্ধারণ করে।
নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের উদ্দেশ্য:
·
শ্রমিকের
ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করা
·
শোষণ
রোধ করা
·
ন্যায্য
মজুরি ব্যবস্থা গড়ে তোলা
শ্রমিকের শ্রেণি (সাধারণভাবে):
নিম্নতম মজুরি সাধারণত শ্রমিকের দক্ষতা অনুযায়ী শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত হয়—
1. অদক্ষ শ্রমিক (Unskilled)
2. অর্ধদক্ষ শ্রমিক (Semi-skilled)
3. দক্ষ শ্রমিক (Skilled)
4. অতিদক্ষ শ্রমিক (Highly skilled)
প্রতিটি শ্রেণির জন্য মজুরি হার আলাদা হয় এবং শিল্পভেদে তা ভিন্ন হতে
পারে।
(৪)
শিল্প
বিরোধ
(Industrial Dispute)
শিল্প বিরোধ:
শিল্প বিরোধ বলতে বোঝায়—শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে,
কিংবা শ্রমিক-শ্রমিক বা মালিক-মালিকের
মধ্যে কর্মসংস্থান, মজুরি, কাজের শর্ত, শৃঙ্খলা বা শ্রমসংক্রান্ত অধিকার নিয়ে যে মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তাকে শিল্প বিরোধ বলা হয়।
শিল্প বিরোধের কারণ:
·
মজুরি
ও বোনাস সংক্রান্ত বিরোধ
·
কাজের
সময় ও কর্মপরিবেশ নিয়ে
অসন্তোষ
·
পদোন্নতি,
ছাঁটাই, লে-অফ বা
বরখাস্ত
·
শ্রম
আইন বা চুক্তি লঙ্ঘন
·
ট্রেড
ইউনিয়ন সংক্রান্ত সমস্যা
শিল্প বিরোধের ফলাফল:
·
ধর্মঘট
(Strike)
·
লকআউট
(Lockout)
·
উৎপাদন
হ্রাস
·
শিল্প
অশান্তি
5.ছুটি ও অবকাশ
ছুটি
(Leave):
ছুটি বলতে বোঝায়—কোনো কর্মচারী নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি
নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজে অনুপস্থিত থাকার অধিকার।
ছুটির ধরন (সংক্ষেপে):
·
নৈমিত্তিক
ছুটি
·
অসুস্থতাজনিত
ছুটি
·
বাৎসরিক/অর্জিত ছুটি
·
মাতৃত্বকালীন
ছুটি
·
উৎসব
ছুটি
অবকাশ
(Holiday):
অবকাশ বলতে বোঝায়—যে দিনগুলোতে সকল কর্মচারীর জন্য অফিস/কারখানা বন্ধ থাকে, এবং সে দিনে কাজ
করতে হয় না।
অবকাশের উদাহরণ:
·
সাপ্তাহিক
ছুটি (শুক্রবার/শনিবার)
·
জাতীয়
দিবস
·
ধর্মীয়
উৎসবের ছুটি
ছুটি ও অবকাশের পার্থক্য (সংক্ষেপে):
·
ছুটি
ব্যক্তিগতভাবে অনুমতি নিয়ে নিতে হয়
·
অবকাশ
সকলের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য
৬) মাতৃত্বকালীন সুবিধা (Maternity Benefit)
মাতৃত্বকালীন
সুবিধা:
কোনো নারী শ্রমিক বা কর্মচারী গর্ভধারণ
ও সন্তান জন্মদানের সময় আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ছুটি ও মজুরি/ভাতা পাওয়ার অধিকারকে মাতৃত্বকালীন সুবিধা বলা হয়।
মূল সুবিধাসমূহ (সাধারণভাবে):
·
নির্দিষ্ট
সময়ের মাতৃত্বকালীন ছুটি
·
ছুটির
সময় পূর্ণ মজুরি বা ভাতা
·
এই
সময়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত না করার সুরক্ষা
উদ্দেশ্য:
·
মা
ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা
·
কর্মজীবী
নারীর অধিকার নিশ্চিত করা
·
কর্মস্থলে
বৈষম্য রোধ
(৭)
ধর্মঘট
ও তালাবদ্ধ (Strike &
Lockout)
ধর্মঘট
(Strike):
ধর্মঘট বলতে বোঝায়—শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখা বা কাজে যোগ না দেওয়া।
ধর্মঘটের কারণ:
·
মজুরি
ও বোনাস সংক্রান্ত দাবি
·
কাজের
সময় ও পরিবেশ নিয়ে
অসন্তোষ
·
অন্যায়
ছাঁটাই বা বরখাস্ত
·
শ্রম
আইন বা চুক্তি লঙ্ঘন
তালাবদ্ধ
/ লকআউট
(Lockout):
তালাবদ্ধ বলতে বোঝায়—মালিক পক্ষ যখন শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়, অথবা শ্রমিকদের কাজে প্রবেশ করতে দেয় না।
ধর্মঘট ও তালাবদ্ধের পার্থক্য (সংক্ষেপে):
·
ধর্মঘট
শুরু করে শ্রমিকরা
·
তালাবদ্ধ
ঘোষণা করে মালিক পক্ষ
·
ধর্মঘটে
শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখে
·
তালাবদ্ধে
মালিক কাজ বন্ধ করে দেয়
৮) গ্রিভান্স (Grievance)
গ্রিভান্স
/ অভিযোগ:
গ্রিভান্স বলতে বোঝায়—কোনো শ্রমিক বা কর্মচারীর কর্মসংস্থান, মজুরি, কাজের পরিবেশ, পদোন্নতি, শাস্তি বা অধিকার সংক্রান্ত অসন্তোষ, অভিযোগ বা ক্ষোভকে গ্রিভান্স বলা হয়।
গ্রিভান্সের
কারণ:
·
মজুরি
বা ভাতা কম দেওয়া
·
অন্যায়
শাস্তি বা বরখাস্ত
·
পদোন্নতি
না পাওয়া
·
কাজের
পরিবেশ অনুপযুক্ত হওয়া
·
কর্তৃপক্ষের
বৈষম্যমূলক আচরণ
গ্রিভান্স
নিষ্পত্তি
(সংক্ষেপে):
·
কর্মচারী
কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানায়
·
আলোচনার
মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা
·
প্রয়োজনে
ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রম আদালতের
আশ্রয়
9.শ্রমিক
(Worker):
যে ব্যক্তি মজুরির বিনিময়ে কোনো শিল্প, কারখানা, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক, মানসিক, কারিগরি বা দাপ্তরিক কাজ করে—তাকে শ্রমিক বলা হয়।
শ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত কাজের ধরন:
·
হাতে-কলমে কাজ
·
যন্ত্রচালিত
কাজ
·
কারিগরি
কাজ
·
দাপ্তরিক/ক্লারিকাল কাজ
·
তত্ত্বাবধানমূলক
কাজ (নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে)
10.ধর্মঘট (Strike):
- যখন শ্রমিকরা
তাদের দাবি আদায় করতে সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখে বা কাজে যায় না, তাকে ধর্মঘট বলা হয়।
- উদাহরণ: মজুরি বাড়ানোর
দাবিতে শ্রমিকরা কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখলো।
তালাবদ্ধকরণ / লকআউট (Lockout):
- যখন মালিক
পক্ষ শ্রমিকদের ওপর চাপ দেখাতে বা তাদের বাধা দিতে কারখানা/প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়, তাকে তালাবদ্ধ বা লকআউট বলা হয়।
- উদাহরণ: শ্রমিকদের
কাজে ঢুকতে না দিয়ে মালিক কারখানা বন্ধ করে দিল।
পার্থক্য (সহজভাবে):
|
বিষয় |
ধর্মঘট |
তালাবদ্ধ |
|
কে
শুরু
করে |
শ্রমিকরা |
মালিকরা |
|
উদ্দেশ্য |
দাবি
আদায় |
চাপ
সৃষ্টি |
|
কাজ
বন্ধ |
শ্রমিকরা কাজ
বন্ধ
রাখে |
মালিকরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
করে
দেয় |
No comments