সেট-অফ' বলতে তুমি কী বুঝ,ইকুইটেবল সেট-অফ ব্যাখ্যা কর এবং আইনগত সেট-অফের সাথে এর পার্থক্য নির্ণয় কর,পাল্টা দাবি কী? পাল্টা দাবি ও সেট-অফের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
৪)
ক) সেট-অফ' বলতে তুমি কী বুঝ ?
(খ)
ইকুইটেবল সেট-অফ ব্যাখ্যা কর
এবং আইনগত সেট-অফের সাথে এর পার্থক্য নির্ণয়
কর।
(গ) পাল্টা দাবি কী? পাল্টা দাবি ও সেট-অফের
মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
সেট-অফ’ বলতে তুমি কী বুঝ?
সেট-অফ (Set-off) হলো এমন একটি আইনগত ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বিবাদী বাদীর আর্থিক দাবির বিপরীতে নিজের কোনো বৈধ ও নির্দিষ্ট পাওনা
দাবি আদালতের মাধ্যমে সমন্বয় করার অধিকার পায়। অর্থাৎ, বাদী যদি বিবাদীর নিকট কোনো অর্থ দাবি করে এবং একই সময়ে বিবাদীরও বাদীর বিরুদ্ধে অর্থ পাওনা থাকে, তবে বিবাদী তার সেই পাওনা অর্থ বাদীর দাবির সঙ্গে সমন্বয় করে বাদীর দাবি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন
করতে পারে।
সিভিল কার্যবিধির আদেশ ৮, বিধি ৬
অনুযায়ী সেট-অফের বিধান রয়েছে। সেট-অফের মূল উদ্দেশ্য হলো একাধিক মামলা এড়ানো এবং পক্ষদ্বয়ের পারস্পরিক আর্থিক দাবি একসাথে নিষ্পত্তি করা।
পরিশেষে
সেট-অফ হলো বাদী
ও বিবাদীর পারস্পরিক আর্থিক দাবির সমন্বয় করে মামলা নিষ্পত্তির একটি আইনগত পদ্ধতি।
খ) ইকুইটেবল সেট-অফ ব্যাখ্যা কর
ইকুইটেবল সেট-অফ (Equitable Set-off)
হলো এমন একটি সেট-অফ যা আইনগত
সেট-অফের কঠোর শর্ত পূরণ না করলেও ন্যায়বিচারের
স্বার্থে আদালত অনুমোদন করে। এর ব্যাখ্যা নিচে
পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো—
১. ন্যায়সংগত ভিত্তিতে উদ্ভূত
ইকুইটেবল সেট-অফের মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচারের নীতি (Equity)। যেখানে আইনগত
বিধান কঠোর হলে অন্যায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে আদালত ন্যায়সংগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইকুইটেবল সেট-অফ মঞ্জুর করে।
২. একই বা সম্পর্কযুক্ত লেনদেন
থেকে উদ্ভূত
এটি সাধারণত তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন বাদী ও বিবাদীর দাবিগুলো
একই লেনদেন বা পরস্পরের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত লেনদেন থেকে উদ্ভূত হয়।
৩. নির্দিষ্ট অর্থের দাবি হওয়া আবশ্যক নয়
আইনগত সেট-অফের মতো এখানে দাবিটি নির্দিষ্ট ও তরল অর্থের
(ascertained sum) হওয়া
বাধ্যতামূলক নয়। অ-নির্দিষ্ট বা
ক্ষতিপূরণমূলক দাবিও ইকুইটেবল সেট-অফের আওতায় আসতে পারে।
৪. আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা
ইকুইটেবল সেট-অফ আদালতের বিবেচনাধীন। অর্থাৎ, এটি
বিবাদীর অধিকার হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়; বরং আদালত ন্যায়বিচারের প্রয়োজন বিবেচনা করে অনুমোদন দেয়।
৫. বিধিবদ্ধ নয়, বিচারিক সৃষ্টি
ইকুইটেবল সেট-অফ সিভিল কার্যবিধিতে
স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়। এটি আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত নীতির
মাধ্যমে বিকশিত একটি ধারণা।
৬. অন্যায় প্রতিরোধের উদ্দেশ্য
এর মূল উদ্দেশ্য হলো একতরফা বিচার এড়িয়ে চলা এবং এমন পরিস্থিতি রোধ করা, যেখানে বাদী নিজের দায় অস্বীকার করে কেবল নিজের দাবির সুবিধা নিতে পারে।
৭. একাধিক মামলা এড়াতে সহায়ক
ইকুইটেবল সেট-অফ মঞ্জুর হলে
পারস্পরিক দাবির নিষ্পত্তি একই মামলাতেই সম্ভব হয়, ফলে একাধিক মামলা দায়েরের প্রয়োজন পড়ে না।
উপসংহার
অতএব, ইকুইটেবল সেট-অফ হলো আদালতের
ন্যায়সংগত ক্ষমতার প্রয়োগে সৃষ্ট একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একই বা সম্পর্কযুক্ত লেনদেন
থেকে উদ্ভূত পারস্পরিক দাবির ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হয়।
আইনগত সেট-অফের সাথে এর পার্থক্য নির্ণয়
কর।
ইকুইটেবল সেট-অফ বনাম আইনগত সেট-অফ
|
বিষয় |
আইনগত সেট-অফ (Legal Set-off) |
ইকুইটেবল সেট-অফ (Equitable Set-off) |
|
আইনি ভিত্তি |
সিভিল
কার্যবিধি, আদেশ ৮, বিধি ৬ |
ন্যায়বিচারের
নীতি (Equity) এবং আদালতের বিচারিক ক্ষমতা |
|
দাবি প্রকৃতি |
নির্দিষ্ট
(ascertained) অর্থ
হওয়া আবশ্যক |
নির্দিষ্ট
না হলেও হতে পারে, ক্ষতিপূরণমূলক বা অ-নির্দিষ্ট অর্থও গ্রহণযোগ্য |
|
সম্পর্কিত লেনদেন |
একই
লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা আবশ্যক নয় |
সাধারণত
একই বা সম্পর্কযুক্ত লেনদেনের দাবি হওয়া আবশ্যক |
|
আদালতের অনুমোদন |
বাধ্যতামূলক
স্বীকৃতি; স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য |
আদালতের
বিবেচনা ও অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল |
|
স্বয়ংক্রিয় প্রয়োগ |
প্রযোজ্য
হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃতকার্য হয় |
আদালত
ন্যায়বিচারের প্রয়োজন বিচার করে অনুমোদন দেয় |
|
সীমাবদ্ধতা |
কঠোর
শর্তাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ |
নমনীয়,
ন্যায়সংগত পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য |
|
লক্ষ্য |
পারস্পরিক
আর্থিক দাবি সমন্বয় করা |
পারস্পরিক
দাবির ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা |
(গ) পাল্টা দাবি কী? পাল্টা দাবি ও সেট-অফের
মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।]
পাল্টা দাবি (Counter-claim) কী?
পাল্টা
দাবি
হলো
এমন
একটি
আইনগত
দাবি
যা
বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে একই মামলার মধ্যে উত্থাপন করে, যাতে
বাদীর
মূল
দাবির
পাশাপাশি বিবাদীর নিজস্ব
দাবি
বিচারাধীন হয়।
এটি
মূলত
একটি
স্বাধীন ও আক্রমণাত্মক দাবি, যা
মামলা
চলাকালীন সময়ে
আদালতে
উত্থাপন করা
হয়।
সিভিল
কার্যবিধির আদেশ
৮,
বিধি
৬ক
অনুযায়ী, পাল্টা
দাবি
মামলা
চলাকালীন সময়ে
আদালতে
করা
যেতে
পারে,
যাতে
একসাথে
দুই
পক্ষের
দাবির
নিষ্পত্তি করা
সম্ভব
হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- স্বাধীন
প্রকৃতি: পাল্টা দাবি নিজস্ব মামলা হিসেবে গণ্য করা যায়।
- আক্রমণাত্মক
এবং প্রতিরক্ষামূলক: এটি কেবল প্রতিরক্ষা
নয়, বরং বিবাদীর নিজের দাবিও অন্তর্ভুক্ত।
- একই
মামলা: এটি মূল মামলা চলাকালীন
আদালতে উত্থাপিত হয়।
- দাবি
ধরন: আর্থিক বা অ-আর্থিক—দু’ই
হতে পারে।
- উদ্দেশ্য: বাদীর দাবি খণ্ডন ও
নিজের দাবির পূর্ণ নিষ্পত্তি।
পরিশেষে
পাল্টা
দাবি
হল
বিবাদীর নিজস্ব দাবির মামলা যা
বাদীর
মূল
দাবির
বিপরীতে একই
মামলা
চলাকালীন উত্থাপন করা
হয়।
পাল্টা
দাবি ও সেট-অফের
মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
ভূমিকা
সিভিল মামলায় বাদী এবং বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবির সংঘাত ঘটতে পারে। আইন এতে সমাধান করার জন্য বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা
প্রদান করে। এর মধ্যে সেট-অফ (Set-off) এবং পাল্টা দাবি (Counter-claim)
প্রধান।
·
সেট-অফ: মূলত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
·
পাল্টা
দাবি:
বিবাদীর নিজস্ব স্বতন্ত্র দাবি, যা একই মামলায়
উত্থাপন করা হয়।
উভয়ই মামলার পক্ষদের স্বার্থ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
করতে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া আলাদা।
পাল্টা দাবি বনাম সেট-অফ
|
বিষয় |
সেট-অফ (Set-off) |
পাল্টা দাবি (Counter-claim) |
|
প্রকৃতি |
প্রতিরক্ষামূলক
(defensive) |
আক্রমণাত্মক
ও স্বাধীন (offensive &
independent) |
|
দাবির উদ্দেশ্য |
বাদীর
দাবি আংশিক বা সম্পূর্ণ খণ্ডন |
বিবাদীর
নিজস্ব দাবি আদায় করা |
|
স্বাধীন মামলা |
নয়,
মূল মামলার সঙ্গে সীমাবদ্ধ |
কার্যত
একটি স্বাধীন মামলা, কিন্তু একই মামলার মধ্যে দাখিল হয় |
|
দাবির ধরন |
সাধারণত
আর্থিক / নির্দিষ্ট অর্থের দাবি |
আর্থিক
বা অ-আর্থিক—উভয়ই হতে
পারে |
|
আইনগত ভিত্তি |
সিভিল
কার্যবিধি, আদেশ ৮, বিধি ৬ |
সিভিল
কার্যবিধি, আদেশ ৮, বিধি ৬ক |
|
আদালতের বিবেচনা |
আইনগত
বা ইকুইটেবল শর্ত পূরণ হলে প্রযোজ্য |
আদালতের
অনুমোদনের প্রয়োজন, নিজস্ব দাবির ভিত্তিতে উত্থাপিত |
No comments