Header Ads

Header ADS

রাজস্ব আইন সংক্ষিপ্ত সাজেশন অনুসারে প্রশ্ন উত্তর । এল এল বি পরীক্ষা-২০২৪

 

৫. (ক) কালো টাকা বলতে কী বুঝায়? এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত লেখ।

 

কালো টাকা বলতে কী বুঝায়?

কালো টাকা হলো সেই অর্থ যা সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আয় বা লেনদেন গোপন রেখে অর্জন করা হয় এটি সাধারণত ট্যাক্স ফাঁকি, অবৈধ ব্যবসা বা অন্য কোন বেআইনি উপায়ে অর্জিত হয় কালো টাকার মাধ্যমে সরকারকে কর প্রদানের পরিমাণ কমানো হয়।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. এটি বৈধ হিসাবপত্রে বা ব্যাংকে প্রদর্শিত হয় না।
  2. সাধারণত নগদ আকারে লেনদেন হয়।
  3. এর উৎস সাধারণত বৈধ বা অবৈধ ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
  4. এটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সামাজিক নীতির জন্য ক্ষতিকর।

উদাহরণ:

  • কোনো ব্যবসায় লাভের আয় কম দেখানো।
  • প্রপার্টি লেনদেন গোপন রাখা।
  • সরকারি অনুমোদন ব্যতীত টাকা ইনভেস্ট বা লেনদেন করা।

 

কালো টাকার ক্ষতিকর প্রভাব

কালো টাকা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, দেশের অর্থনীতি, সমাজ প্রশাসনেও মারাত্মক ক্ষতি করে। বিস্তারিত ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হলো:

. অর্থনৈতিক ক্ষতি

সরকারের আয় কমে যায়, ফলে দেশের বিকাশমূলক কাজ জনসেবা ব্যাহত হয় বৈধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, কারণ কালো অর্থের মাধ্যমে কিছু ব্যবসায়ী কম মূল্যে প্রতিযোগিতা করতে পারে।অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে, কারণ বাজারে লুকানো অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।

. দুর্নীতি অপরাধ বৃদ্ধি

কালো অর্থ প্রায়ই দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব অবৈধ লেনদেনে ব্যবহার হয়।সমাজে ন্যায়বিচারের অভাব অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

. সামাজিক নৈতিক প্রভাব

সাধারণ মানুষকে কর দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু যারা কালো টাকা ব্যবহার করে তারা আইনের বাইরে থাকে, ফলে সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়।মানুষে অন্যায়ের প্রতি অসহিষ্ণুতা অসততার সংস্কৃতি বৃদ্ধি পায়

. আন্তর্জাতিক খ্যাতি বিনিয়োগের ক্ষতি

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে স্বচ্ছতা না থাকায় বিনিয়োগ কমাতে পারে।বৈদেশিক ঋণ সাহায্য পাওয়া কঠিন হতে পারে।

. বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাহত হয়

সরকার সঠিক কর না পেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে পারে না।দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে

 

বাংলাদেশে করফাঁকি কর এড়ানো প্রতিরোধের উপায়

. কর প্রশাসনের শক্তিশালীকরণ

অনলাইন কর প্রদান -ফাইলিং বাধ্যতামূলক করা।করদাতাদের লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার।

. ডিজিটাল লেনদেন নগদ সীমাবদ্ধকরণ

নগদ লেনদেনের সীমা নির্ধারণ। ব্যাংক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল লেনদেন বাধ্যতামূলক করা।

. প্ররোচনা শাস্তি

সময়মতো কর দিলে ছাড় বা প্রণোদনা দেওয়া।করফাঁকি বা কালো টাকা ব্যবহার ধরা পড়লে কঠোর জরিমানা শাস্তি।

. জনসচেতনতা বৃদ্ধি

কর প্রদানের গুরুত্ব কালো অর্থের ক্ষতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো।গণমাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি।

. আইনগত ব্যবস্থা

  • অবৈধ সম্পদ লুকানো আয় ধরা পড়লে কঠোর আইন প্রয়োগ।রিয়েল এস্টেট, হোটেল, বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অডিট করা।

৫ (খ) খেলাপি করদাতা বলতে কী বুঝ? খেলাপি করদাতা হতে কর আদায়ের পদ্ধতিসমূহ লেখ।

 

খেলাপি করদাতা বলতে কী বুঝ?

যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় অথবা কর নির্ধারণ (assessment) হওয়ার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ না করে, তাকে খেলাপি করদাতা বলা হয়। করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও কর না দেওয়া। নির্ধারিত সময় পার হলেও কর বকেয়া রাখা। কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল করলেও বকেয়া অংশ পরিশোধ না করা। এসব ক্ষেত্রে করদাতা খেলাপি করদাতা হিসেবে গণ্য হয়

উদাহরণ:একজন ব্যবসায়ীর ২০২৩২৪ করবর্ষে লাখ টাকা কর নির্ধারিত হলো, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর পরিশোধ করলেন না। তিনি খেলাপি করদাতা হবেন। কোনো কোম্পানি ভ্যাট বা উৎসে কর কেটে রাখলেও তা সরকারে জমা না দিলে সেও খেলাপি করদাতা।

মূল বৈশিষ্ট্য:

1.      করযোগ্য আয় থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কর প্রদান না করা।

2.      কর নির্ধারণের পরে কর পরিশোধে অবহেলা বা বিলম্ব।

3.      করফাঁকি বা আয় লুকিয়ে রাখার মাধ্যমে বকেয়া কর জমা না করা।

4.      কর কর্তৃপক্ষের নোটিশ বা নির্দেশ অমান্য করা।

 

খেলাপি করদাতা হতে কর আদায়ের পদ্ধতিসমূহ লেখ।

বাংলাদেশের আয়কর আইন ১৯৮৪ (Income Tax Ordinance, 1984) অনুযায়ী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর বিধিমালা অনুসারে, খেলাপি করদাতার কাছ থেকে কর আদায় করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এগুলো মূলত প্রিএডজাস্টমেন্ট, আইনগত এবং সম্পত্তি জব্দমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভাগ করা যায়।

() নোটিশ সতর্কীকরণ

  1. লিখিত নোটিশ জারি করা:প্রথম ধাপে করদাতাকে লেখা নোটিশ প্রেরণ করা হয়।এতে উল্লেখ থাকেবকেয়া কর, জরিমানা, সুদের পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ।
  2. সাবধানী সতর্কীকরণ:করদাতাকে বোঝানো হয়, যদি সময়মতো পরিশোধ না করেন, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লক্ষ্য: এটি প্রাথমিক সহজ পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রে করদাতা এই পর্যায়েই কর পরিশোধ করে।

 

() ব্যাংক হিসাব জব্দ (Garnishee Order)

কর কর্তৃপক্ষ খেলাপি করদাতার ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত করে।ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়, করদাতার অ্যাকাউন্ট থেকে বকেয়া কর সরাসরি কেটে সরকারে জমা দিতে।

সুবিধা: দ্রুত এবং কার্যকর।

 

() সম্পত্তি ক্রোক নিলাম

  • করদাতার স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি, জমি, যানবাহন) এবং অস্থাবর সম্পত্তি (ব্যবসার পুঁজি, মালামাল) সরকারীভাবে জব্দ করা হয়। পরে সরকারি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে কর আদায় করা হয়।

লক্ষ্য: বড় বকেয়া বা দীর্ঘ সময়ের খেলাপি করদাতার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।

 

() তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে আদায়

  • করদাতার অর্থ বা সম্পদে তৃতীয় পক্ষের দখল থাকলে, তাদের কাছ থেকেও কর আদায় করা যায়।

উদাহরণ:

    • করদাতার ভাড়াটিয়ার কাছে জমা ভাড়া সরকারে পাঠানো।
    • করদাতার কাছে পাওনা থাকা টাকা সরকার কর্তৃক বিকাশের মাধ্যমে আদায়।

 

 

 

() বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

বড় বকেয়া খেলাপির ক্ষেত্রে, কর কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। বিদেশে যাওয়া বা অর্থান্তর রোধ করা হয়।

লক্ষ্য: মানসিক চাপ সৃষ্টি কর পরিশোধ নিশ্চিত করা।

 

() মামলা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

 করফাঁকি বা ইচ্ছাকৃত খেলাপির ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে মামলা করা হয়।সম্ভাব্য শাস্তি:

    • জরিমানা
    • অতিরিক্ত সুদ
    • কারাদণ্ড (প্রয়োজনে)

লক্ষ্য: কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে করদাতাকে সাবধান করা।

 

() লাইসেন্স সরকারি সুবিধা স্থগিত

করদাতার ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি/রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করা যায়।সরকারি টেন্ডার বা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়।

 লক্ষ্য: কর প্রদানে বাধ্যতামূলক চাপ সৃষ্টি।

(৬. ক) সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ভূমিকা গুরুত্ব আলোচনা কর। সরকারি অর্থ ব্যবস্থা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য কর।

() দেওয়ানী আদালত কি আয়কর সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচার করতে পারে? কোন ব্যাক্তি অ্যাপিলেট ট্যাক্সেস ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারে? কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনল করা যায়।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ভূমিকা

সরকারি অর্থ ব্যবস্থা হলো সরকারের অর্থ সংগ্রহ, ব্যয় ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া। এর মূল ভূমিকা হলো দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রধান দিকগুলো হলো:

1.      অর্থ সংগ্রহ বণ্টন:সরকার ট্যাক্স, শুল্ক, ফি অন্যান্য আয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে।এই অর্থ দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ইত্যাদিতে ব্যয় হয়।

2.      অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা:মুদ্রাস্ফীতি, মহামন্দা বা বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে সরকার অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োগ করে।

3.      উদাহরণ: মন্দার সময় সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে বাজারে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি।

4.      সমাজে আয় সম্পদের সমতা তৈরি:ধনী গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে সরকার কর সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করে।

5.      উন্নয়ন নকশা বাস্তবায়ন: বড় প্রকল্প যেমন রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ, জলবায়ু উন্নয়ন ইত্যাদিতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়।

6.      রাষ্ট্রের ঋণ দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ:অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের প্রকল্প সম্পাদন সহজ হয়।

7.      সার্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা:সরকারি অর্থনৈতিক নীতি দেশকে শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থার গুরুত্ব

সরকারি অর্থ ব্যবস্থা (Public Finance) হলো সরকারের আয়, ব্যয় ঋণ ব্যবস্থার প্রক্রিয়া। এর গুরুত্ব দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিসীম। প্রধান দিকগুলো হলো:

. জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা

সরকার ট্যাক্স এবং অন্যান্য আয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে, যা শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, এবং সমাজসেবায় ব্যয় হয়।এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হয়।

. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা

সরকারের নীতি ব্যয়ের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।উদাহরণ: অর্থনৈতিক মন্দার সময় সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে বাজারে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি করা।

. আয় সম্পদের সমতা সৃষ্টি

ধনী গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানোর জন্য সরকার কর নীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে।যেমন: প্রগ্রেসিভ ট্যাক্স বা সামাজিক অনুদান।

. দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা

বড় প্রকল্প যেমন রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, শিল্পায়ন ইত্যাদিতে সরকারি অর্থের বিনিয়োগ হয়।এর ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুবিধা হয়।

. রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঋণ পরিচালনা

অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে সরকারের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সচ্ছল স্থিতিশীল রাখে।

. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নীতি নির্ধারণে সহায়ক

সরকারি অর্থ ব্যবস্থা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে।

·         উদাহরণ: পরিকল্পিত শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প।

 

সরকারি অর্থ ব্যবস্থা বনাম ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থা

ক্র.

দিক

সরকারি অর্থ ব্যবস্থা

ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থা

উদ্দেশ্য

দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা

ব্যক্তিগত বা পরিবারের স্বার্থ চাহিদা পূরণ

আয় উৎস

কর, শুল্ক, সরকারি ফি, সরকারি ঋণ

বেতন, ব্যবসা, বিনিয়োগ, সঞ্চয়

ব্যয়

জনগণের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো

ব্যক্তিগত চাহিদা, বিনিয়োগ, বিনোদন

পরিকল্পনা

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নীতি নির্ধারণ

স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত লক্ষ্য

নিয়ন্ত্রণ

সরকার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

ব্যক্তি নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে

ঋণ গ্রহণ

দেশের উন্নয়ন প্রকল্প অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য

ব্যক্তিগত প্রয়োজন, যেমন বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা

সমাজে প্রভাব

সমাজের আয় বৈষম্য কমানো জনকল্যাণ

ব্যক্তিগত জীবনমান বৃদ্ধি; সমাজে সীমিত প্রভাব

 

 

() দেওয়ানী আদালত কি আয়কর সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচার করতে পারে? কোন ব্যাক্তি অ্যাপিলেট ট্যাক্সেস ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারে? কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনল করা যায়।

প্রশ্ন: দেওয়ানী আদালত কি আয়কর সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচার করতে পারে?

উত্তর: সাধারণ নিয়মে, দেওয়ানী আদালত সরাসরি আয়কর সংক্রান্ত মামলা বিচার করতে পারে না। তবে এর পেছনে ব্যাখ্যা বোঝা জরুরি।

 

দেওয়ানী আদালত কী?

দেওয়ানী আদালত হলো সাধারণ দেওয়ানী (Civil Court)।এর মূল কাজ হলো চুক্তি, ঋণ, সম্পত্তি, বকেয়া টাকা, ক্ষতিপূরণ বা সাধারণ দেওয়ানী মামলার বিচার করা।এটি নাগরিকদের মধ্যে দেওয়ানী দ্বন্দ্ব সমাধান করে

উদাহরণ:

·         একজন ব্যক্তি অপরের সঙ্গে চুক্তি ভাঙার কারণে মামলা করলে।

·         জমি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ।

 

আয়কর সংক্রান্ত মামলা কোথায় আসে?

আয়কর সংক্রান্ত মামলা হলো Income Tax Act অনুযায়ী কর নির্ধারণ বা আদায় সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব।এই মামলার জন্য সরকার একটি বিশেষ আদালত/ট্রাইব্যুনাল তৈরি করেছে, যার নাম:Income Tax Appellate Tribunal (ITAT)নাগরিকরা আয়কর কর্তৃপক্ষের (Assessing Officer বা Commissioner) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি দেওয়ানী আদালতে যেতে পারেন না।

উদাহরণ:

যদি কর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কর ধার্য করে এবং ব্যক্তি তা মেনে না নেয়, তাহলে মামলা ট্রাইব্যুনালে হবে, দেওয়ানী আদালতে নয়।

 

 দেওয়ানী আদালত আয়কর মামলার বিচার করতে পারে না কেন?

1.      বিশেষায়িত আইন:আয়কর মামলা Income Tax Act অনুযায়ী পরিচালিত হয়।সাধারণ দেওয়ানী আদালতের আইন এটি কাভার করে না।

2.      ট্রাইব্যুনালের বিশেষ ক্ষমতা:আয়কর মামলা শুনতে এবং রায় দেওয়ার জন্য ট্যাক্স ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।এই ট্রাইব্যুনাল আইন হিসাবরক্ষণ উভয় দিক থেকে বিশেষজ্ঞ।

3.      কোর্টের হায়ারার্কি অনুযায়ী:আয়কর মামলা ট্রাইব্যুনালউচ্চ আদালতসর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court) স্তর অনুযায়ী বিচার হয়। দেওয়ানী আদালত এই ধাপে নেই।

 

. কি ধরনের মামলা দেওয়ানী আদালতে যেতে পারে?

·         সাধারণ দেওয়ানী মামলা, যেমন:

o    চুক্তি লঙ্ঘন

o    সম্পত্তি বা ভূমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব

o    ব্যক্তিগত ঋণ বা বকেয়া টাকা সংক্রান্ত মামলা

কিন্তু আয়কর, শুল্ক বা অন্যান্য সরকারি কর সংক্রান্ত মামলা দেওয়ানী আদালতে যাবে না।

 

দেওয়ানী আদালত আয়কর সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচার করতে পারে না। আয়কর সংক্রান্ত মামলাগুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

কোন ব্যাক্তি অ্যাপিলেট ট্যাক্সেস ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারে? কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনল করা যায়।

 

. অ্যাপিলেট ট্যাক্সেস ট্রাইব্যুনালের সদস্য (Members of Appellate Tax Tribunal)

অ্যাপিলেট ট্যাক্সেস ট্রাইব্যুনাল (Income Tax Appellate Tribunal / ITAT) হলো আয়কর সংক্রান্ত মামলার প্রথম পর্যায়ের আপিল আদালত। এটি দুই ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত হয়:

() বিচারিক সদস্য (Judicial Member)

·         একজন আইনজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি

·         যোগ্যতা:

1.      উচ্চ আদালতের বিচারক বা আইনজীবী হিসেবে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

2.      আয়কর আইন, দেওয়ানী আইন বা আইনি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

·         প্রধান ভূমিকা: আইনি দিকগুলি বিচার করা।

() প্রযুক্তিগত / অর্থসংক্রান্ত সদস্য (Technical / Accountant Member)

·         একজন অর্থ, হিসাবরক্ষণ বা কর ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ

·         যোগ্যতা:

1.      Chartered Accountant (CA), Cost Accountant বা অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হতে পারেন।

2.      আয়কর বা ট্যাক্স সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতে হবে।

·         প্রধান ভূমিকা: হিসাব, অর্থ কর সম্পর্কিত বিষয়গুলি সমাধান করা।

সাধারণ কাঠামো:

·         ট্রাইব্যুনালে একজন চেয়ারম্যান (প্রায়শই বিচারক) এবং অন্য সদস্যরা (আইন প্রযুক্তি/হিসাব বিশেষজ্ঞ) থাকে।

 

. কোন পরিস্থিতিতে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল করা যায়?

মূলত তিনটি প্রধান পরিস্থিতিতে:

1.      আয়কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল

o    যদি Assessment Officer বা Commissioner দ্বারা ধার্যকৃত কর, অতিরিক্ত কর বা জরিমানা নিয়ে ব্যক্তি/সংস্থা অসন্তুষ্ট হয়।

o    উদাহরণ: কর বেশি ধার্য হয়েছে বা অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

2.      ট্যাক্স রিটার্ন, ক্লেইম বা ছাড়ের ক্ষেত্রে বিরোধ

o    কোনও ছাড়, সুবিধা বা দাবির ক্ষেত্রে কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধ হলে।

3.      অন্যান্য কর সংক্রান্ত বিরোধ

o    যেমন: Capital Gains, Income Tax Deduction, TDS সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব।

 

. কিভাবে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা যায়? (Procedure of Filing Appeal)

ধাপ : আগের সিদ্ধান্ত পাওয়া

প্রথমে Assessing Officer / Commissioner / Lower Authority এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া আবশ্যক।

 

 

ধাপ : সময়সীমার মধ্যে আবেদন

সাধারণত 30–60 দিনের মধ্যে লিখিত আবেদন (appeal) জমা দিতে হবে।বিলম্বে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন

ধাপ : লিখিত আবেদন / পিটিশন:

আবেদন লিখিতভাবে জমা দিতে হবে।এতে উল্লেখ থাকবে:কর পরিমাণ, বিষয়বস্তু, অসন্তুষ্টির কারণ, প্রমাণাদি।

ধাপ : শুনানি (Hearing)ট্রাইব্যুনাল মামলাটি শুনবে।Judicial Member আইনি বিষয় বিচার করবে। Technical Member হিসাব-অর্থ বা কর সম্পর্কিত বিষয় দেখবে।

ধাপ : রায় প্রদান

ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত রায় দেয়।রায়ের বিরুদ্ধে যদি আরও অসন্তুষ্টি থাকে, উচ্চ আদালতে appeal করা সম্ভব

 

৭.কর বলতে কী বুঝায়? করের উদ্দেশ্যাবলি কী কী? কর ধার্যের নীতিসমূহ আলোচনা কর

 () আয়কর বলতে তুমি কী বুঝ? একটি দেশের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে আয়কর ধার্য করার গুরুত্ব আলোচনা কর।]

 

() কর বলতে কী বুঝায়? করের উদ্দেশ্যাবলি কী কী? কর ধার্যের নীতিসমূহ

. করের সংজ্ঞা:
কর হলো সরকার কর্তৃক নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত বাধ্যতামূলক আর্থিক সংগ্রহ, যা নাগরিক বা কোম্পানির লাভ বা সম্পদ থেকে ধার্য করা হয় এবং এটি কোনো সরাসরি বিনিময় ছাড়া সরকারী খরচ পূরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, কর হলো রাষ্ট্রীয় আয় করার একটি মাধ্যম, যা নাগরিকদের থেকে সংগ্রহ করা হয় রাষ্ট্রীয় সেবা দেওয়ার জন্য।

. করের উদ্দেশ্য (Objectives of Taxation):
কর ধার্য করার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:

  1. রাজস্ব আহরণ (Revenue Generation): সরকারী খরচ যেমন রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী ইত্যাদি নির্বাহ করার জন্য অর্থ সংগ্রহ।
  2. আর্থ-সামাজিক নিয়ন্ত্রণ (Economic Regulation): অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা।
  3. সমাজকল্যাণ (Social Welfare): করের মাধ্যমে দরিদ্র, অসহায় বা ব্যর্থ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে অর্থায়ন করা।
  4. সম্পদের পুনর্বণ্টন (Redistribution of Wealth): ধনীদের বেশি কর আরোপ করে সমাজে সম্পদের ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করা।
  5. চলমান অর্থনৈতিক নীতি সম্পাদন (Implementation of Economic Policy): বিভিন্ন নীতি যেমন শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে করের ব্যবহার।

. কর ধার্যের নীতিসমূহ (Principles of Taxation):
কর ধার্য করার সময় কিছু নীতি অনুসরণ করা হয়। প্রধান নীতিসমূহ হলো:

  1. ন্যায্যতা (Equity): কর ধার্য হতে হবে নাগরিকের আয় ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ধনী বেশি কর দেবেন, দরিদ্র কম।
  2. সুবিন্যস্ততা (Certainty): করের হার নিয়ম স্পষ্ট হতে হবে, যাতে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকে।
  3. সুবোধযোগ্যতা (Convenience of Payment): কর দেওয়ার সময় পদ্ধতি নাগরিকদের জন্য সহজ সুবিধাজনক হতে হবে।
  4. অর্থনৈতিক দক্ষতা (Economic Efficiency): কর ধরণের কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়।
  5. সুবিন্যস্ত সহজ প্রশাসন (Administrative Efficiency): কর আদায়ের পদ্ধতি সহজ, কম খরচে এবং কার্যকর হওয়া উচিত।

 

) আয়কর বলতে তুমি কী বুঝ? একটি দেশের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে আয়কর ধার্য করার গুরুত্ব আলোচনা কর।] বিস্তারিত

 

আয়কর সংজ্ঞা

আয়কর (Income Tax) হলো এমন একটি সরাসরি কর, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির আয় (Income) থেকে সরকার কর্তৃক ধার্য করা হয়।এটি সরাসরি কর, কারণ এটি সরাসরি আয়কারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো হয়। এটি কোনো বিনিময় ছাড়া ধার্য করা হয়, অর্থাৎ করদাতা সরকারকে আয় দেয় কিন্তু সরাসরি কিছু পায় না।

উদাহরণ: একজন চাকরিজীবীর বেতন বা ব্যবসায়ীর মুনাফা থেকে ধার্য করা কর।

 

. আয়কর ধার্য করার প্রকারভেদ

1.      ব্যক্তিগত আয়কর (Personal Income Tax): ব্যক্তি বা পরিবারের আয় থেকে।

2.      প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি আয়কর (Corporate Tax): কোম্পানি বা ব্যবসার লাভ থেকে।

 

. আয়কর ধার্য করার গুরুত্ব (Importance of Income Tax)

আয়কর শুধুমাত্র রাজস্ব আহরণের মাধ্যম নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:

() রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান উৎস (Revenue Generation)

আয়কর সরকারের স্থায়ী এবং প্রধান আয় উৎস।এটি সরকারি বাজেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহার হয়।

() সম্পদের পুনর্বণ্টন (Redistribution of Wealth)

ধনী নাগরিকদের থেকে বেশি কর ধার্য করে দরিদ্রদের কল্যাণে অর্থায়ন করা যায়।এটি সামাজিক অসাম্য কমাতে সাহায্য করে।উদাহরণ: উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের থেকে নেওয়া কর দিয়ে দরিদ্রদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি।

() অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (Economic Stability)

আয়কর ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা যায়।সরকার চাইলে কর বাড়িয়ে অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে পারে বা কমিয়ে বাজারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পারে।

() সামাজিক কল্যাণ (Social Welfare)

·         আয়কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করা হয়।এটি জনগণের জীবনমান উন্নত করে।

() রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন (Implementation of Economic Policy)

সরকার কর ব্যবহার করে বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন করে। যেমন কৃষি উন্নয়ন, শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ।

উদাহরণ: পরিবেশ বান্ধব শিল্পে কর ছাড় দিয়ে উৎসাহিত করা।

 

 

 

 উপসংহার

আয়কর শুধু সরকারের আয় নয়, এটি  সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে,ধনসম্পদের অসাম্য কমায়,অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে,এবং দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

No comments

Powered by Blogger.