Header Ads

Header ADS

আয়কর আইনে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কারা?আপীল ট্রাইব্যুনালের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা কর।এই ট্রাইব্যুনালের কাছে কারা আবেদন করতে পারে?আয়কর মামলায় বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা কী?

 

) আয়কর আইনে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কারা?

() আপীল ট্রাইব্যুনালের গঠন, ক্ষমতা কার্যাবলি আলোচনা কর।

() এই ট্রাইব্যুনালের কাছে কারা আবেদন করতে পারে?

() আয়কর মামলায় বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা কী?

 

() আয়কর আইনে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কারা?

আয়কর আইনে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বলতে মূলত আয়কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বোঝানো হয়, যারা কর নির্ধারণ, তদারকি এবং আদায়ের দায়িত্বে থাকেন। প্রধান বিভাগীয় কর্তৃপক্ষগুলো হলো:

  1. কেন্দ্রীয় আয়কর কমিশনার (Commissioner of Income Tax)আয়কর আইনের অধীনে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
  2. ডেপুটি কমিশনার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারকর ধার্য আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা।
  3. চিফ আয়কর কর্মকর্তা বিভাগীয় কর্মকর্তারাবিশেষভাবে কর রিটার্ন যাচাই, অডিট এবং মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োগিত।

বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ হলো সেই কর্মকর্তারা যাঁরা আয়কর ধার্য, আদায় এবং তদারকির কাজ করেন এবং আয়কর আইনের নিয়মাবলী প্রয়োগ করেন।

আয়কর আপীল ট্রাইব্যুনালের গঠন (Income Tax Appellate Tribunal, ITAT)

1.      চেয়ারম্যান (Chairman)

o    ট্রাইব্যুনালের প্রধান কর্মকর্তা

o    সাধারণত আইনজ্ঞ বা অভিজ্ঞ প্রশাসক হয়।

o    ট্রাইব্যুনালের মোট কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করে।

2.      সদস্য (Members):

প্রশাসনিক সদস্য (Judicial Member)আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।

3.প্রযুক্তিগত/আর্থিক সদস্য (Technical/Account Member)কর হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ের বিশেষজ্ঞ।সাধারণত একটি বেঞ্চে দুই বা ততোধিক সদস্য মিলে আপীল শুনানী করেন।

4.      ডেপুটি চেয়ারম্যান (Deputy Chairman) [প্রয়োজনে]

1.      চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকলে কার্যক্রম চালায়।রায় প্রদান শুনানি পরিচালনা করতে পারে।

আয়কর আপীল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা

আইন অনুযায়ী, ITAT-এর ক্ষমতা মূলত কর নির্ধারণ সংশোধন এবং আপীল শুনানির মাধ্যমে কাজ করে। ক্ষমতাগুলোকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি:

 

. আপীল শুনানির ক্ষমতা (Appellate Jurisdiction)

ট্রাইব্যুনাল কর কমিশনার বা বিভাগের অফিসারের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল শুনতে পারে।করদাতা বা কমিশনার উভয়ই ট্রাইব্যুনালে আপীল করতে পারেন।এটি মূলত কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক আয়কর কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারক্ষমতা

 

. রায় সংশোধনের ক্ষমতা (Revisional/Rectification Powers)

·         ITAT পূর্বের রায়ে ত্রুটি বা ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে পারে।

·         এটি আইনি বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

·         উদাহরণ: কর নির্ধারণে হিসাবের ভুল, প্রমাণের অবহেলা ইত্যাদি।

 

. প্রমাণ নথি যাচাই করার ক্ষমতা

ট্রাইব্যুনাল শুনানির সময় প্রয়োজনীয় নথি, হিসাব, প্রতিবেদন অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে।প্রয়োজনে সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করতে পারে।

 

. নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা (Direction Powers)

করের পরিমাণ সংশোধনের জন্য কর অফিসারকে নির্দেশ দিতে পারে।তবে ITAT শাস্তিমূলক জরিমানা বা কারাদণ্ড দিতে পারে না।

 

. সুপ্রীম কোর্ট বা হাই কোর্টের জন্য রায় তৈরির ক্ষমতা

ITAT-এর রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে বা সুপ্রীম কোর্টে আপীল করা যায়।এই ক্ষমতা প্রমাণ করে যে ITAT আংশিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে, কিন্তু সর্বশেষ রায় নয়।

আয়কর আপীল ট্রাইব্যুনালের কার্যাবলি

. আপীল গ্রহণ শুনানি করা

করদাতা বা আয়কর কর্মকর্তা ITAT- আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করে।ট্রাইব্যুনাল আপীল গ্রহণ, রেজিস্ট্রেশন শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে।

শুনানিতে উভয় পক্ষের (করদাতা কমিশনার) বক্তব্য শোনা হয়।

 

. নথি প্রমাণ যাচাই করা

আপীলের সময় আর্থিক হিসাব, রিটার্ন, নথি অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা।প্রয়োজনে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়।

 

. রায় প্রদান

ITAT লিখিত রায় প্রকাশ করে, যেখানে:আপীল মঞ্জুর করা হবে কিনা,রায় সংশোধন করা হবে কিনা,কর নির্ধারণে সংশোধন বা নির্দেশ দেওয়া হবে,
ইত্যাদি উল্লেখ থাকে।

 

. রায় সংশোধন (Rectification)পূর্বের রায়ে ত্রুটি বা ভুল থাকলে তা সংশোধন করা।

উদাহরণ: হিসাবের ভুল, আইনগত ব্যাখ্যার ভুল।

 

. কর অফিসারদের নির্দেশ

রায়ে সংশোধিত কর পরিমাণ কার্যকর করার জন্য কর অফিসারদের নির্দেশ দেয়।কিন্তু ITAT শাস্তিমূলক জরিমানা বা ফৌজদারি দায় দিতে পারে না।

 

. হাই কোর্ট/সুপ্রীম কোর্টের জন্য রায় প্রস্তুত করা

ITAT-এর রায় চূড়ান্ত নয়,যদি পক্ষরা সন্তুষ্ট না হয়, তারা হাই কোর্ট বা সুপ্রীম কোর্টে আপীল করতে পারে।

 

) এই ট্রাইব্যুনালের কাছে কারা আবেদন করতে পারে?

 

আবেদনকারী পক্ষ (Appellants before ITAT)

  1. করদাতা (Taxpayer / Assessee) :যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর ধার্য করা হয়েছে।যদি তারা কেন্দ্রীয় আয়কর কমিশনার বা অন্য অফিসারের রায়ের বিরুদ্ধে সন্তুষ্ট না হন।
    • উদাহরণ: করের পরিমাণ বেশি নির্ধারণ, কর ছাড় না দেওয়া ইত্যাদি।
  2. কেন্দ্রীয় আয়কর কমিশনার বা বিভাগের কর্মকর্তা (Income Tax Officer / Commissioner)
  3. করদাতার বিরুদ্ধে নির্ধারিত করের পরিমাণে আপীল করতে পারেন।অর্থাৎ, কর অফিসারও আইনের সঠিক প্রয়োগের জন্য আপীল দায়ের করতে পারে।

 

শর্তাবলি (Conditions for Filing Appeal)

  • সময়সীমা: সাধারণত, কমিশনার বা অফিসারের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করতে হয়।
  • লিখিত আবেদন: আবেদন লিখিত আকারে করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করতে হবে।
  • ফি (Fee): প্রয়োজনীয় আপীল ফি জমা দিতে হবে।

 

 

() আয়কর মামলায় বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা কী?

বাংলাদেশে আয়কর মামলায় সুপ্রীম কোর্টের ভূমিকা

সুপ্রীম কোর্ট হল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আয়কর মামলায় এর মূল ভূমিকা হলো চূড়ান্ত রায় প্রদান এবং আইনের ব্যাখ্যা নির্ধারণ করা।

 

. চূড়ান্ত আপীল (Final Appellate Authority)

·         ITAT বা হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপীল করা যায়। সুপ্রীম কোর্টের রায় চূড়ান্ত এবং বাধ্যতামূলক।অর্থাৎ, করদাতা বা কর অফিসার সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পর আর পরবর্তী আপীল করতে পারে না।

 

. আইনগত ব্যাখ্যা (Interpretation of Law)

কর আইনের ব্যাখ্যা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্টতা আনে।উদাহরণ: করের ধারা, করছাড় বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে বিধি-বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে।

 

. সংবিধানিক মৌলিক অধিকার রক্ষা

করদাতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা বিচার করে।যেমন: নির্বিচার্য কর আরোপ, যথাযথ শুনানি না দেওয়া ইত্যাদি।

 

. হাই কোর্ট বা ITAT রায় পর্যালোচনা

সুপ্রীম কোর্ট শুধুমাত্র আইনগত এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।এটি তথ্যভিত্তিক বা ছোটখাটো হিসাবের ত্রুটির জন্য সাধারণত নয়।

. প্রশাসনিক বা নীতি নির্ধারণে প্রভাব

·         সুপ্রীম কোর্টের রায় আয়কর প্রশাসন ভবিষ্যতের রায়গুলোর জন্য দিকনির্দেশক (precedent) হিসেবে কাজ করে।এটি কর আইনের অভ্যাসগত প্রয়োগে স্থায়ী নীতি স্থাপন করে।

No comments

Powered by Blogger.