রাজস্ব আইন এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীয় ভাষায় পার্ট- ৪
খ) বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ ও কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য মতামত
বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান
আয়ের
উৎসগুলো হলো—
- কর
রাজস্ব
- প্রত্যক্ষ
কর: আয়কর, কর্পোরেট কর, সম্পদ/ভূমি কর
- পরোক্ষ কর: ভ্যাট, শুল্ক (আমদানি-রপ্তানি
শুল্ক), আবগারি শুল্ক
- অকর
রাজস্ব
- সরকারি ফি ও চার্জ (পাসপোর্ট,
লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ফি)
- সরকারি সম্পদ থেকে আয় (রাষ্ট্রায়ত্ত
প্রতিষ্ঠানের মুনাফা)
- জরিমানা
ও দণ্ড
- দেশীয়
ঋণ
- সঞ্চয়পত্র,
ট্রেজারি বিল/বন্ড
- বৈদেশিক
সাহায্য ও ঋণ
- অনুদান ও স্বল্পসুদে
ঋণ
- অন্যান্য
উৎস
- সরকারি সেবা থেকে আয়, ভাড়া ইত্যাদি
কর রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য আমার মতামত
কর
রাজস্ব
বাড়াতে নিচের
পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে
পারে—
- করজাল
সম্প্রসারণ: করদাতার সংখ্যা বাড়াতে নতুন করদাতা শনাক্ত করা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনা।
- ডিজিটালাইজেশন:
অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-পেমেন্ট ও
তথ্যভিত্তিক নজরদারি জোরদার করলে ফাঁকি কমবে।
- করহার
যৌক্তিক করা: অতিরিক্ত করহার না বাড়িয়ে ন্যায্য ও
সহনীয় হার নির্ধারণ করলে স্বেচ্ছায় কর প্রদান বাড়ে।
- কর
ফাঁকি রোধ: শক্তিশালী অডিট, তথ্য বিনিময় ও
কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।
- সচেতনতা
বৃদ্ধি: কর প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা ও
করশিক্ষা।
- সেবা
সহজীকরণ: কর অফিসে হয়রানি কমিয়ে দ্রুত ও
স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা।
- ভ্যাট
ব্যবস্থার সংস্কার: ভ্যাট রিফান্ড দ্রুত করা ও
ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।
উপসংহার: স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং
ন্যায্য করনীতি
অনুসরণ
করলে
কর
রাজস্ব
আদায়
টেকসইভাবে বৃদ্ধি
পাবে।
২।
(ক) আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কারা আয়কর বিবরণী দাখিল করতে বাধ্য?
(খ) বিভিন্ন করদাতার
আবাসিক মর্যাদা কিভাবে নিরূপণ করা হয়? একজন করদাতার আবাসিক মর্যাদা কিভাবে তার মোট আয় ও করদায়কে প্রভাবিত
করে?
২। (ক) আয়কর অধ্যাদেশ
অনুযায়ী কারা আয়কর বিবরণী দাখিল করতে বাধ্য?
আয়কর
অধ্যাদেশ,
১৯৮৪
অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য
আয়কর বিবরণী (Income Tax Return)
দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তারা হলো—
১. আয়সীমার ঊর্ধ্বে আয়কারী ব্যক্তি
যেসব ব্যক্তি নির্ধারিত করমুক্ত
আয়ের
সীমা
অতিক্রম
করেন,
তাদের অবশ্যই আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হয়—
·
সাধারণ
করদাতা
·
মহিলা
করদাতা
·
সিনিয়র
সিটিজেন
·
প্রতিবন্ধী
ব্যক্তি
(যে করবর্ষে করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমার বেশি হবে)
২. বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তি (আয় থাকুক বা না থাকুক)
নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের আয় না থাকলেও বিবরণী
দাখিল বাধ্যতামূলক—
·
সংসদ
সদস্য
·
সিটি
কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য
·
সরকারি
বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা
·
নিবন্ধিত
ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট
·
ঠিকাদার,
সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী (ট্রেড লাইসেন্সধারী)
৩. কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান
·
সকল
লিমিটেড
কোম্পানি
·
ব্যাংক,
বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান
·
এনজিও
ও সমবায় সমিতি (নির্দিষ্ট শর্তে)
৪. সম্পদ ও জীবনযাত্রাভিত্তিক শর্তে
যেসব ব্যক্তির—
·
নিজ
নামে গাড়ি আছে
·
শহর
এলাকায় নিজস্ব বা ফ্ল্যাট আছে
·
ক্রেডিট
কার্ড ব্যবহার করেন
·
ব্যবসায়িক
ট্রেড লাইসেন্স আছে
তাদের আয় থাকুক বা না থাকুক
বিবরণী দাখিল করতে হয়।
২। (খ) বিভিন্ন করদাতার
আবাসিক মর্যাদা কিভাবে নিরূপণ করা হয়? আবাসিক মর্যাদার প্রভাব
আবাসিক মর্যাদা কী?
কোনো করবর্ষে একজন করদাতা বাংলাদেশে
কতদিন
অবস্থান
করেছেন,
তার ওপর ভিত্তি করে তার আবাসিক মর্যাদা নির্ধারিত হয়।
আবাসিক মর্যাদার শ্রেণি
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী করদাতার আবাসিক মর্যাদা তিন প্রকার—
১. আবাসিক (Resident)
কোনো ব্যক্তি যদি—
·
করবর্ষে
বাংলাদেশে ১৮২
দিন
বা
তার
বেশি
অবস্থান করেন
অথবা
·
করবর্ষে
৯০ দিন এবং আগের ৪ বছরে মোট
৩৬৫ দিন অবস্থান করেন
→ তবে তিনি আবাসিক
করদাতা।
২. অনাবাসিক (Non-Resident)
যদি উপরোক্ত শর্ত পূরণ না হয়, তবে
তিনি অনাবাসিক
করদাতা।
৩. সাধারণভাবে আবাসিক নয় (Not Ordinarily
Resident – NOR)
যদি কোনো ব্যক্তি—
·
গত
১০ বছরের মধ্যে ৯ বছর অনাবাসিক
থাকেন
অথবা
·
আগের
৭ বছরে বাংলাদেশে মোট ৭৩০ দিনের কম অবস্থান করেন
→ তিনি সাধারণভাবে
আবাসিক
নন।
আবাসিক মর্যাদার প্রভাব মোট আয় ও করদায়ে
১. আবাসিক করদাতা
·
বাংলাদেশ
ও
বিদেশে
অর্জিত
সব
আয়
করযোগ্য
·
করদায়
বেশি হয়
২. সাধারণভাবে আবাসিক নন
·
বাংলাদেশে
অর্জিত আয়
·
বিদেশি
আয় যদি বাংলাদেশে আনা হয়
→ করযোগ্য
৩. অনাবাসিক করদাতা
·
শুধুমাত্র
বাংলাদেশে
অর্জিত
আয়
করযোগ্য
·
বিদেশি
আয়ের ওপর কর নেই
উপসংহার
একজন করদাতার আবাসিক মর্যাদা তার মোট
আয়ের
পরিসর
ও করদায়ের
পরিমাণ
নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সঠিকভাবে আবাসিক মর্যাদা নিরূপণ করা আয়কর ব্যবস্থায় অত্যন্ত জরুরি।
৩। (ক) সম্পদ কর
বলতে কী বুঝ? সম্পদ
করমুক্ত সম্পদগুলো কী কী? সম্পদের
মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি বর্ণনা কর ।
(খ) দানকর আইন অনুসারে দানের সংজ্ঞা দাও। কারা দানকর প্রদানে বাধ্য? দানকর প্রদান হতে মুক্ত দানসমূহের তালিকা উল্লেখ কর।
সম্পদ কর বলতে কী
বুঝ?
সম্পদ
কর
বলতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট
সময়ে (সাধারণত করবর্ষের শেষ দিনে) মালিকানাধীন মোট
নিট
সম্পদের
ওপর
আরোপিত
করকে
বোঝায়।
অর্থাৎ, করদাতার কাছে থাকা সকল স্থাবর
ও
অস্থাবর
সম্পদের
মোট
মূল্য
থেকে তার ঋণ
ও
দায়
বাদ দিলে যে নিট সম্পদ
থাকে, সেই নিট সম্পদের ওপর আইন অনুযায়ী যে কর আরোপ
করা হয়, সেটিই সম্পদ কর।
বাংলাদেশে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বেশি নিট সম্পদ থাকলে করদাতাকে সম্পদের
বিবরণী
দাখিল
করতে হয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পদ কর দিতে হয়।
সংক্ষেপে বলা যায়
নিট সম্পদের ওপর আরোপিত করই হলো সম্পদ কর।
সম্পদ করমুক্ত সম্পদগুলো কী কী?
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট সম্পদকে সম্পদ
করের
আওতামুক্ত
রাখা হয়েছে। এসব সম্পদ সম্পদের হিসাবের মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত করা হয় না বা করযোগ্য
হিসেবে গণ্য হয় না। নিচে পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করা হলো—
সম্পদ করমুক্ত সম্পদসমূহ
1. কৃষিজমি
o
ব্যক্তির
মালিকানাধীন কৃষিজমি (নির্ধারিত সীমার মধ্যে)
2. ব্যবসায়
ব্যবহৃত
যন্ত্রপাতি
ও
কাঁচামাল
o
শিল্প
ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, মেশিনারি ও কাঁচামাল
3. পারিবারিক
ব্যবহার্য
আসবাবপত্র
o
খাট,
চেয়ার, টেবিল, আলমারি ইত্যাদি গৃহস্থালি সামগ্রী
4. ব্যক্তিগত
ব্যবহার্য
গহনা
o
দৈনন্দিন
ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার (নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে)
5. প্রভিডেন্ট
ফান্ড
ও
গ্র্যাচুইটি
o
সরকার
স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি তহবিল
6. পেনশন
ও
অবসর
ভাতা
o
পেনশনভিত্তিক
জমাকৃত অর্থ
7. জীবন
বীমা
পলিসি
o
জীবন
বীমা পলিসির মূল্য
8. সরকারি
সিকিউরিটিজ
ও
সঞ্চয়পত্র
o
সঞ্চয়পত্র,
ট্রেজারি বন্ড ও অন্যান্য সরকারি
বিনিয়োগ
9. চ্যারিটেবল
ও
ধর্মীয়
প্রতিষ্ঠানের
সম্পদ
o
মসজিদ,
মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের
সম্পদ
10. করমুক্ত
তহবিলে
জমাকৃত
অর্থ
o
আইন
অনুযায়ী করমুক্ত ঘোষণা করা তহবিলের অর্থ
সম্পদ করমুক্ত সম্পদসমূহের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত
জীবনযাত্রার
মৌলিক
চাহিদা,
সামাজিক
কল্যাণ
এবং
উৎপাদনমুখী
খাতকে
উৎসাহ
প্রদান
করা। তাই এসব
সম্পদের ওপর সম্পদ কর আরোপ করা
হয় না।
। সম্পদের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি বর্ণনা কর
সম্পদের প্রকৃতি অনুযায়ী সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে পয়েন্ট আকারে বর্ণনা করা হলো—
ক. স্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ
(জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ইত্যাদি)
1. ক্রয়মূল্য
পদ্ধতি
o
যে
দামে সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে, সেই মূল্য ধরা হয়।
2. বাজারমূল্য
পদ্ধতি
o
করবর্ষের
শেষ তারিখে বিদ্যমান বাজারদর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ।
3. নির্মাণ
ব্যয়
পদ্ধতি
o
ভবন
নির্মাণে মোট ব্যয় যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
4. অবচয়
বাদ
প্রদান
o
ব্যবহারের
বছর অনুযায়ী অবচয় কেটে নিট মূল্য নির্ধারণ।
খ. অস্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ
(নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, গহনা ইত্যাদি)
1. নগদ
অর্থ
o
করবর্ষের
শেষ দিনে হাতে থাকা প্রকৃত নগদ অর্থ।
2. ব্যাংক
আমানত
o
ব্যাংক
স্টেটমেন্ট অনুযায়ী জমাকৃত অর্থ।
3. স্বর্ণ
ও
অলংকার
o
ওজন
অনুযায়ী বাজারদরে মূল্য নির্ধারণ।
4. আসবাবপত্র
o
ক্রয়মূল্য
থেকে অবচয় বাদ দিয়ে মূল্য নির্ধারণ।
গ. শেয়ার ও বিনিয়োগের মূল্য
নির্ধারণ
1. তালিকাভুক্ত
শেয়ার
o
স্টক
এক্সচেঞ্জে বিদ্যমান বাজারমূল্য।
2. অতালিকাভুক্ত
শেয়ার
o
কোম্পানির
নিট সম্পদের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ।
3. সরকারি
সিকিউরিটিজ
o
ফেস
ভ্যালু বা বাজারমূল্য অনুযায়ী।
ঘ. ব্যবসায়িক সম্পদের মূল্য নির্ধারণ
1. মজুদ
পণ্য
(Stock-in-Trade)
o
ক্রয়মূল্য
বা বাজারমূল্যের যেটি কম।
2. যন্ত্রপাতি
ও
সরঞ্জাম
o
ক্রয়মূল্য
থেকে অবচয় বাদ দিয়ে।
3. পাওনা
ও
দেনা
o
পাওনা
যোগ এবং দেনা বাদ দিয়ে নিট মূল্য নির্ধারণ।
ঙ. নিট সম্পদ নির্ধারণ
1. সব সম্পদের মোট
মূল্য যোগ করা হয়।
2. মোট ঋণ ও দায়
বাদ দেওয়া হয়।
3. অবশিষ্ট অংশই হলো করদাতার নিট
সম্পদ।
সম্পদ করমুক্ত সম্পদ সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং আইনসম্মত পদ্ধতিতে সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করদাতার সম্পদ
বিবরণী
ও
কর
নির্ধারণে
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
দানকর আইন অনুসারে দানের সংজ্ঞা
দানকর
আইন,
১৯৯০
অনুযায়ী—
কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায়, বিনা
প্রতিদানে
এবং জীবিত
অবস্থায়
অন্য কোনো ব্যক্তিকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি
হস্তান্তর করেন, তবে তাকে দান
(Gift) বলা
হয়।
সংজ্ঞার
মূল
উপাদানগুলো
হলো—
·
স্বেচ্ছায়
দান হতে হবে
·
বিনা
প্রতিদানে হতে হবে
·
দাতা
জীবিত থাকাকালীন হতে হবে
·
স্থাবর
বা অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর হতে হবে
কারা দানকর প্রদানে বাধ্য?
দানকর প্রদানের দায়িত্ব সাধারণত দানকারী
(Donor)-এর
ওপর বর্তায়। নিচে বিস্তারিতভাবে বলা হলো—
1. যে ব্যক্তি—
o
করযোগ্য
দান প্রদান করেন
o
করমুক্ত
সীমার বেশি মূল্যের দান করেন
2. দান যদি—
o
আইন
অনুযায়ী করযোগ্য হয়
o
নিকটাত্মীয়
ব্যতীত অন্য কাউকে দেওয়া হয়
3. দানকারী যদি—
o
ব্যক্তি
বা প্রতিষ্ঠান হন
o
জীবিত
অবস্থায় সম্পত্তি দান করেন
দানগ্রহীতা
(Donee) সাধারণত
দানকর দিতে বাধ্য নন।
দানকর প্রদান হতে মুক্ত দানসমূহের তালিকা
দানকর আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত দানসমূহ দানকরমুক্ত—
১. নিকটাত্মীয়দের মধ্যে দান
·
স্বামী
ও স্ত্রীর মধ্যে দান
·
পিতা-মাতা ও সন্তানের মধ্যে
দান
·
ভাই
ও বোনের মধ্যে দান
·
দাদা-দাদি/নানা-নানী ও নাতি-নাতনির
মধ্যে দান
২. ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে
দান
·
মসজিদ,
মন্দির, গির্জা
·
মাদ্রাসা,
এতিমখানা
·
চ্যারিটেবল
ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
৩. সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে
দান
·
বাংলাদেশ
সরকার
·
সিটি
কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ
৪. বিবাহ উপলক্ষে দান
·
বিবাহ
অনুষ্ঠানে প্রদত্ত উপহার বা দান
৫. নির্ধারিত করমুক্ত সীমার মধ্যে দান
·
আইন
অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা দান
উপসংহার
দানকর আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিনামূল্যে
সম্পদ
হস্তান্তরের
মাধ্যমে
কর
ফাঁকি
রোধ
করা। তবে নিকটাত্মীয়,
ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক
দানকে উৎসাহ দিতে এসব দানকে করমুক্ত রাখা হয়েছে।
৪। (ক) আয়কর কর্তৃপক্ষ কারা? এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
(খ) আয়কর অধ্যাদেশের ১৯৮৪ এর ১৬০ ধারার অধীন হাইকোর্ট ডিভিশনের রেফারেন্স আবেদন দায়ের পদ্ধতি আলোচনা কর।
৪। (ক) আয়কর কর্তৃপক্ষ কারা?
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশে আয়কর আদায় ও প্রশাসনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সমষ্টিকে আয়কর কর্তৃপক্ষ বলা
হয়।
আয়কর কর্তৃপক্ষের প্রধানরা:
- জাতীয়
রাজস্ব বোর্ড (NBR)
– দেশের কর প্রশাসনের প্রধান সংস্থা।
- চেয়ারম্যান,
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড – NBR-এর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।
- কর
কমিশনার (Commissioner of Taxes) – কর নির্ধারণ ও
আদায়ের ক্ষমতা রাখেন।
- অতিরিক্ত
কর কমিশনার (Additional Commissioner) – কমিশনারকে সহায়তা ও
তদারকি।
- যুগ্ম
কর কমিশনার (Joint Commissioner)
– কর নির্ধারণ ও
তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত।
- উপ-কর
কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes, DCT) – কর আদায় ও
মূল্যায়ন।
- সহকারী
কর কমিশনার (Assistant Commissioner of Taxes, ACT) – আয়কর কার্যক্রমের প্রশাসনিক সহায়ক।
- কর
পরিদর্শক (Tax Inspector)
– মাঠ পর্যায়ে কর পরিদর্শন ও
যাচাই কাজ সম্পাদন।
২. এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের গঠন
এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালকে সাধারণত বিচারিক
ও
আর্থিক
বিশেষজ্ঞদের
সমন্বয়ে
গঠন করা হয়।
(ক) চেয়ারম্যান (Chairman)
·
ট্রাইব্যুনালের
প্রধান।
·
সাধারণত
উচ্চ আদালতের বিচারক বা আইন ও
কর প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
·
বেঞ্চের
সভাপতিত্ব করেন এবং সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত প্রভাব রাখেন।
(খ) বিচারিক সদস্য (Judicial Member)
·
আইনগত
দিক থেকে আপিল পর্যালোচনা করেন।
·
আয়কর
সংক্রান্ত আইন, বিধি ও আদালতের পূর্ববর্তী
রায় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
·
বেঞ্চে
উপস্থিত থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।
(গ) হিসাব/অ্যাকাউন্টেন্ট সদস্য (Accountant Member)
·
কর,
হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক তথ্য
যাচাই করেন।
·
করদাতার
আয়, খরচ, লাভ-লোকসানের হিসাব ও সম্পদ মূল্যায়ন
বিশ্লেষণ করেন।
·
আর্থিক
জটিলতা এবং হিসাব সংক্রান্ত ভুল-ত্রুটি শনাক্ত করেন।
(ঘ) বেঞ্চের আকার
·
সাধারণত
দুই
সদস্যের
বেঞ্চ
(একজন বিচারিক ও একজন হিসাব
সদস্য)
·
চেয়ারম্যান
বেঞ্চের সভাপতিত্ব করেন।
·
বিশেষ
ক্ষেত্রে একাধিক বেঞ্চ বা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ
গঠন করা যেতে পারে।
(ঙ) নিয়োগ
·
চেয়ারম্যান
ও সদস্যদের সরকারের
দ্বারা
নিয়োগ
করা হয়।
·
নিয়োগের
ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রধান
বিবেচ্য।
৩. এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কার্যাবলী
(ক) কর আপিল শুনানি
ও নিষ্পত্তি
·
কমিশনার
বা উপ-কমিশনারের আয়কর
নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ।
·
করদাতা
বা কর কর্তৃপক্ষ উভয়ই
ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন।
(খ) প্রমাণাদি পর্যালোচনা
·
দাখিলকৃত
নথি, হিসাব, ব্যালান্স শীট ও অন্যান্য প্রমাণ
যাচাই।
·
প্রমাণের
ভিত্তিতে আইন ও তথ্যের যথাযথ
প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
(গ) আইনের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত প্রদান
·
কর
আইন, নিয়ম ও প্রিভিয়াস রায়ের
ব্যাখ্যা করে আদেশ প্রদান।
·
আইনগত
দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা দূর
করে।
(ঘ) আদেশ সংশোধন, বাতিল বা বহাল রাখা
·
প্রয়োজনীয়
ক্ষেত্রে পূর্বের কর নির্ধারণ বাতিল
বা সংশোধন।
·
কখনও
কখনও আদেশ বহাল রেখে রেফারেন্সের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো।
(ঙ) ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
·
করদাতা
ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে
বিরোধের সমাধান।
·
কর
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সমতা বজায়
রাখা।
(চ) আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে রেফারেন্স
·
ধারা
১৬০ অনুযায়ী হাইকোর্টে আইনের ব্যাখ্যা চাওয়া যায়।
·
বিশেষ
করে আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন হলে হাইকোর্ট রেফারেন্স বাধ্যতামূলক।
৪. ট্রাইব্যুনালের গুরুত্ব
1. করদাতার অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
করা।
2. কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়িত্ব
ও
অভিজ্ঞতা
নিশ্চিত করা।
3. কর আইন প্রয়োগে
একরূপতা বজায় রাখা।
4. আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে হাইকোর্টের
ব্যাখ্যা
পাওয়ার সুযোগ রাখা।
উপসংহার
এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল হলো আয়কর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপের বিচার বিভাগ। এটি চেয়ারম্যান,
বিচারিক
সদস্য
ও
হিসাব
সদস্য
নিয়ে গঠিত এবং করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের
মধ্যে আইন
ও
হিসাব
নির্ভর
আপিল
নিষ্পত্তি,
ন্যায়বিচার
ও
আইনের
ব্যাখ্যা
নিশ্চিত করে।
আয়কর
অধ্যাদেশের ১৯৮৪ এর ১৬০ ধারার
অধীন হাইকোর্ট ডিভিশনের রেফারেন্স আবেদন দায়ের পদ্ধতি আলোচনা কর।
নিচে আয়কর
অধ্যাদেশ,
১৯৮৪-এর
ধারা
১৬০
অনুযায়ী
হাইকোর্ট
ডিভিশনে
রেফারেন্স
আবেদন
দায়ের
পদ্ধতি
বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা হলো—
১. ধারা ১৬০: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ধারা
১৬০
অনুযায়ী—
আয়কর এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের আদেশে যদি আইনের
কোনো
গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্ন
(Question of Law) থাকে,
তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাইকোর্ট
ডিভিশনে
রেফারেন্স
আবেদন
করতে পারে।
হাইকোর্ট সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের আদেশ পরিবর্তন বা পুনঃশুনানি নির্দেশ
দিতে পারে।
উদ্দেশ্য:
·
আইনের
সঠিক ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা
·
ট্রাইব্যুনালের
সিদ্ধান্তের উপর একরূপতা বজায় রাখা
·
করদাতা
ও কর প্রশাসনের মধ্যে
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
২. রেফারেন্স আবেদন করার যোগ্যতা
(ক) আবেদনকারী পক্ষ
1. করদাতা
(Taxpayer)
o
যিনি
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট এবং আইনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করেন।
2. কর
কর্তৃপক্ষ
(NBR বা
কমিশনার)
o
যিনি
ট্রাইব্যুনালের আদেশে আইনের ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন।
(খ) রেফারেন্সের যোগ্যতা
·
আবেদন
করতে হবে ট্রাইব্যুনালের
আইনের
প্রশ্ন
সম্পর্কিত
আদেশ-এর বিরুদ্ধে।
·
শুধুমাত্র
আইনের
ব্যাখ্যা
বা
দৃষ্টিভঙ্গি
চাওয়া যায়, ফ্যাক্ট বা প্রমাণের প্রশ্ন
নয়।
৩. রেফারেন্স আবেদন দায়েরের সময়সীমা
·
ট্রাইব্যুনালের
আদেশ প্রাপ্তির
৯০
দিনের
মধ্যে
রেফারেন্স আবেদন দায়ের করতে হবে।
·
সময়সীমা
অতিক্রান্ত হলে সাধারণত আদালতের অনুমতি ব্যতীত আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. রেফারেন্স আবেদন দায়েরের পদ্ধতি
(ক) ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন
1. করদাতা বা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালে
লিখিত আবেদন দাখিল করে।
2. আবেদনপত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে—
o
ট্রাইব্যুনালের
আদেশের অনুলিপি
o
স্পষ্টভাবে
উল্লেখিত আইনের
প্রশ্ন
o
কেন
হাইকোর্টের ব্যাখ্যা প্রয়োজন তার যুক্তিসহ
(খ) ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা
1. আবেদন গ্রহণ করলে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি হাইকোর্টে পাঠায়।
2. ট্রাইব্যুনাল তার মতামত বা সুপারিশ (Opinion) হাইকোর্টকে প্রদান
করে।
3. ট্রাইব্যুনাল রেফারেন্স না পাঠালে, আবেদনকারী
সরাসরি
হাইকোর্টে
আবেদন
করতে পারে।
(গ) হাইকোর্টের ভূমিকা
1. হাইকোর্ট ডিভিশন আইনের
প্রশ্নের
ব্যাখ্যা
প্রদান করে।
2. প্রয়োজনে—
o
ট্রাইব্যুনালের
আদেশ বাতিল
বা
সংশোধন
করতে পারে
o
মামলা
পুনঃশুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠাতে পারে
3. হাইকোর্টের ব্যাখ্যা চূড়ান্ত এবং ট্রাইব্যুনাল বাধ্য থাকে তা অনুসরণ করতে।
৫. গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ
1. ফ্যাক্টের
প্রশ্ন
নয়
– কেবল আইনের ব্যাখ্যা।
2. সময়মিত
আবেদন
– ৯০ দিনের মধ্যে আবেদিত হওয়া আবশ্যক।
3. দুই
পক্ষই
আবেদন
করতে
পারে
– করদাতা বা কর কর্তৃপক্ষ।
4. চূড়ান্ততা – হাইকোর্টের ব্যাখ্যা চূড়ান্ত; ট্রাইব্যুনাল তা মানতে বাধ্য।
উপসংহার
ধারা ১৬০ হাইকোর্ট রেফারেন্স ব্যবস্থা কর আইনে একটি
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণমূলক
উপায়,
যা—
·
আইনগত
দ্বিধা দূর করে
·
ট্রাইব্যুনালের
সিদ্ধান্তের উপর আইনের একরূপ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করে
·
করদাতা
ও কর প্রশাসনের মধ্যে
ন্যায়বিচার রক্ষা করে
No comments