এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪ রাজস্ব আইন এর স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর
এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪ এর
স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর
রাজস্ব আইন
১।
(ক) সরকারি অর্থ ব্যবস্থা কি?
(খ)
সরকারি অর্থ ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা কর।
(গ) সরকারি রাজস্ব বা আয়ের উৎসসমূহ কি?
ক) সরকারি অর্থ ব্যবস্থা কী?
সরকারি
অর্থ
ব্যবস্থা বলতে
রাষ্ট্রের সেই
আর্থিক
ব্যবস্থাকে বোঝায়
যার
মাধ্যমে সরকার
দেশের
প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও
জনকল্যাণ নিশ্চিত করার
জন্য
প্রয়োজনীয় অর্থ
সংগ্রহ, বণ্টন, ব্যয়, ঋণ গ্রহণ এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করে
থাকে।
এটি
মূলত
সরকারের আয়
ও
ব্যয়ের পরিকল্পিত ও
নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সমষ্টি।
সরকার
জনগণের
নিকট
থেকে
বিভিন্ন ধরনের
কর
ও
কর
বহির্ভূত উৎসের
মাধ্যমে রাজস্ব
সংগ্রহ
করে।
সংগৃহীত এই
অর্থ
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো
গুরুত্বপূর্ণ খাতে
ব্যয়
করা
হয়।
প্রয়োজনে সরকার
উন্নয়নমূলক কাজের
জন্য
ঋণ
গ্রহণ
করে
এবং
বাজেটের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ ও
নিয়ন্ত্রণ করে।
অতএব
বলা
যায়,
রাষ্ট্রের আর্থিক
কার্যাবলির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও
তদারকির সমন্বিত প্রক্রিয়াই সরকারি
অর্থ
ব্যবস্থা, যা
দেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও
সামাজিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে।
(খ) সরকারি অর্থ ব্যবস্থার গুরুত্ব
1. রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা
সরকারি অর্থ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করা
সম্ভব হয়। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার
কার্যক্রম এ ব্যবস্থার উপর
নির্ভরশীল।
2. উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিল্প ও কৃষিখাতে সরকারি
ব্যয়ের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
3. জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণ
দরিদ্র, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া
জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভর্তুকি ও সহায়তা প্রদান
করা যায়।
4. আয় বৈষম্য হ্রাস
প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা ও
ভর্তুকির মাধ্যমে ধনী ও গরিবের আয়ের
ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়।
5. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা
মুদ্রাস্ফীতি, মন্দা ও বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে
সরকারি ব্যয় ও করনীতি গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে।
6. জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা
দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষায়
প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেয় সরকারি অর্থ ব্যবস্থা।
7. কর্মসংস্থান সৃষ্টি
সরকারি প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজে
ব্যয়ের ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
8. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার
মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
(গ) সরকারি রাজস্ব বা আয়ের উৎসসমূহ
সরকারি রাজস্ব বলতে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড
পরিচালনার জন্য সরকারের নিয়মিত আয়কে বোঝায়। সরকারি আয়ের উৎসসমূহ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত—
১. কর রাজস্ব
যে আয় সরকার জনগণের নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর আদায়ের মাধ্যমে
পেয়ে থাকে তাকে কর রাজস্ব বলা
হয়।
1. আয়কর
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়ের
উপর সরকার যে কর আরোপ
করে তাকে আয়কর বলা হয়।
2. সম্পত্তি কর
ভূমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর
সম্পত্তির উপর আরোপিত করকে সম্পত্তি কর বলা হয়।
3. ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর)
পণ্য ও সেবার উৎপাদন
ও বিক্রয় পর্যায়ে আরোপিত করকে ভ্যাট বলা হয়।
4. আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির সময়
যে কর আদায় করা
হয় তাকে শুল্ক বলা হয়।
5. আবগারি শুল্ক
দেশের ভেতরে উৎপাদিত নির্দিষ্ট পণ্যের উপর আরোপিত করকে আবগারি শুল্ক বলা হয়।
২. কর বহির্ভূত রাজস্ব
যে আয় সরকার কর ছাড়া অন্যান্য
উৎস থেকে অর্জন করে তাকে কর বহির্ভূত রাজস্ব
বলা হয়।
1. সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে লাভ
সরকার পরিচালিত কলকারখানা, ব্যাংক ও সংস্থার লাভ
থেকে আয়।
2. ফি ও লাইসেন্স ফি
পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নিবন্ধন ইত্যাদির জন্য আদায়কৃত ফি।
3. জরিমানা ও দণ্ড
আইন লঙ্ঘনের জন্য আদায়কৃত জরিমানা থেকে প্রাপ্ত আয়।
4. ডাক, রেল ও টেলিযোগাযোগ থেকে আয়
সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত আয়।
5. সুদ ও লভ্যাংশ
সরকার প্রদত্ত ঋণের সুদ এবং বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ।
6. অনুদান ও সাহায্য
দেশি ও বিদেশি সংস্থা
থেকে প্রাপ্ত অনুদান।
উপসংহার
উপরোক্ত বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত সরকারি রাজস্বের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম
পরিচালিত হয়।
২।
(ক) আয়ের সংজ্ঞা দাও।
(খ)
আয়ের বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি?
গ) মূলধনজাতীয় ও মুনাফাজাতীয় আয়ের
পার্থক্য নির্ণয় কর।
(ক) আয়ের সংজ্ঞা
আয় বলতে নির্দিষ্ট একটি সময়কালে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা সরকার যে
নিয়মিত অর্থমূল্য বা আর্থিক সুবিধা অর্জন করে তাকে বোঝায়। সাধারণভাবে শ্রম, পুঁজি, ভূমি বা উদ্যোগের বিনিময়ে
যে অর্থ বা আর্থিক লাভ
পাওয়া যায়, তাই আয়।
অর্থনীতিতে আয় শুধু নগদ অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বেতন, মজুরি, লাভ, ভাড়া, সুদ, ভাতা ইত্যাদি সকল ধরনের আর্থিক প্রাপ্তিই আয়ের অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তি আয় করে জীবিকা নির্বাহের জন্য, প্রতিষ্ঠান আয় করে মুনাফা অর্জনের জন্য এবং সরকার আয় করে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম
পরিচালনার জন্য।
অতএব বলা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বা বিভিন্ন উৎস
থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থমূল্যই হলো আয়, যা মানুষের জীবনধারণ
ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি।
খ) আয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ
1. নির্দিষ্ট সময়সীমা সংশ্লিষ্ট
আয় সবসময় একটি নির্দিষ্ট সময়কালের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন—মাসিক, বার্ষিক বা সাপ্তাহিক আয়।
2. অর্থমূল্যে পরিমাপযোগ্য
আয় অবশ্যই অর্থমূল্যে প্রকাশযোগ্য হতে হয়। পণ্য বা সেবার বিনিময়ে
পাওয়া সুবিধাকেও অর্থমূল্যে হিসাব করা হয়।
3. উৎপাদন কার্যক্রমের ফল
আয় সাধারণত উৎপাদন বা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে
অংশগ্রহণের ফলস্বরূপ অর্জিত হয়।
4. নিয়মিত বা পুনরাবৃত্তিমূলক
আয় সাধারণত নিয়মিতভাবে অর্জিত হয়, যেমন বেতন, মজুরি, ভাড়া বা সুদ।
5. বৈধ উপায়ে অর্জিত
অর্থনীতিতে আয় বলতে বৈধ ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য
উপায়ে অর্জিত আয়কে বোঝায়।
6. বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত
আয় শ্রম, ভূমি, পুঁজি ও উদ্যোগ—এই
চার উৎপাদন উপাদান থেকে আসতে পারে।
7. ভোগ ও সঞ্চয়ের ভিত্তি
আয় মানুষের ভোগ ও সঞ্চয়ের প্রধান
ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
8. ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার সূচক
আয় ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক
সক্ষমতা নির্দেশ করে।
গ) মূলধনজাতীয় ও মুনাফাজাতীয় আয়ের
পার্থক্য
|
বৈশিষ্ট্য |
মূলধনজাতীয় আয় |
মুনাফাজাতীয় আয় |
|
সংজ্ঞা |
এমন
আয় যা পুঁজি বা সম্পত্তি থেকে অর্জিত হয়। |
এমন
আয় যা উদ্যোগ বা ব্যবসা পরিচালনা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা। |
|
উৎপাদনের উৎস |
জমি,
ভবন, মেশিন, সরঞ্জাম, ঋণ বা বিনিয়োগ। |
ব্যবসা,
শিল্প বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম। |
|
লাভের ধরন |
স্থির
বা নিয়মিত (যেমন: ভাড়া, সুদ)। |
পরিবর্তনশীল
এবং ঝুঁকিপূর্ণ (বাজারের ওপর নির্ভরশীল)। |
|
ঝুঁকি |
সাধারণত
কম ঝুঁকিপূর্ণ। |
ঝুঁকিপূর্ণ;
ব্যবসায় ক্ষতি হলেও আয় কমতে পারে। |
|
উদাহরণ |
ভাড়া,
সুদ, বন্ড বা শেয়ারের লভ্যাংশ। |
ব্যবসার
মুনাফা, শিল্পের লাভ। |
৩। (ক) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২০ ধারা
মোতাবেক আয়ের খাতগুলো কি কি?
(খ) সংক্ষেপে আয়ের বিভিন্ন খাতের ব্যাখ্যা
কর।
(গ) তুমি 'মোট আয়' ও 'মোট বিশ্ব আয়' বলতে কি বুঝ?
(ক) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২০ ধারা মোতাবেক আয়ের খাতসমূহ
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২০ ধারা
অনুযায়ী আয়কে প্রধানত পাঁচটি খাতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি খাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো—
১. চাকরি আয় (Salary)
·
চাকরি
বা চাকুরীর বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা।
·
উদাহরণ:
বেতন, ভাতা, কমিশন, বোনাস, গ্র্যাচুইটি।
·
বৈশিষ্ট্য:
নিয়মিত ও স্থায়ী উৎস
থেকে প্রাপ্ত।
২. ভূমি বা স্থাবর সম্পত্তি থেকে আয় (Income from Property
/ House Property)
·
জমি,
বাড়ি, দোকান বা অন্য স্থাবর
সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়।
·
উদাহরণ:
ভাড়া, জমি বা বাড়ির বিক্রয়
থেকে আয়।
·
বৈশিষ্ট্য:
আয় সাধারণত ধারাবাহিক এবং সম্পত্তির মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল।
৩. ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় (Income from Business
or Profession)
·
ব্যবসা,
শিল্প, বা পেশা থেকে
প্রাপ্ত লাভ।
·
উদাহরণ:
দোকান বা ফার্মের মুনাফা,
চিকিৎসক/আইনজীবীর আয়।
·
বৈশিষ্ট্য:
আয় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, লাভ বা ক্ষতির ওপর
নির্ভর করে।
৪. পুঁজি বা বিনিয়োগ থেকে আয় (Capital Gains)
·
স্থাবর
বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা বিনিয়োগ থেকে
অর্জিত লাভ।
·
উদাহরণ:
শেয়ার বিক্রি থেকে লাভ, জমি বা বাড়ি বিক্রয়
থেকে লাভ।
·
বৈশিষ্ট্য:
এককালীন বা অনিয়মিত আয়।
৫. অন্যান্য উৎস থেকে আয় (Income from Other
Sources)
·
উপরোক্ত
চারটি খাতের বাইরে প্রাপ্ত আয়।
·
উদাহরণ:
সুদ, লভ্যাংশ, বীমা বা উপহার থেকে
প্রাপ্ত অর্থ।
·
বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন ছোট উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়, নিয়মিত বা অনিয়মিত হতে
পারে।
খ) আয়ের বিভিন্ন খাত
১. চাকরি বা বেতনজাত আয় (Salary Income)
·
চাকরি
বা পেশার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ।
·
উদাহরণ:
বেতন, কমিশন, বোনাস, ভাতা।
·
বৈশিষ্ট্য:
নিয়মিত ও ধারাবাহিক আয়।
২. স্থাবর সম্পত্তি থেকে আয় (Income from Property
/ House Property)
·
জমি,
বাড়ি, দোকান বা অন্য স্থাবর
সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয়।
·
উদাহরণ:
ভাড়া, সম্পত্তি বিক্রয় থেকে লাভ।
·
বৈশিষ্ট্য:
আয় সাধারণত ধারাবাহিক, সম্পত্তির মালিকানা নির্ভর।
৩. ব্যবসা বা পেশা থেকে আয় (Income from Business
or Profession)
·
ব্যবসা,
শিল্প বা পেশা থেকে
প্রাপ্ত লাভ।
·
উদাহরণ:
দোকান বা ফার্মের লাভ,
ডাক্তার বা আইনজীবীর আয়।
·
বৈশিষ্ট্য:
আয় ঝুঁকিপূর্ণ, লাভ-ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল।
৪. পুঁজি বা বিনিয়োগ থেকে আয় (Capital Gains)
·
স্থাবর
বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা বিনিয়োগ থেকে
প্রাপ্ত লাভ।
·
উদাহরণ:
শেয়ার বিক্রি থেকে লাভ, জমি/বাড়ি বিক্রি থেকে লাভ।
·
বৈশিষ্ট্য:
এককালীন বা অনিয়মিত আয়।
৫. অন্যান্য উৎস থেকে আয় (Income from Other
Sources)
·
উপরোক্ত
চারটি খাতের বাইরে প্রাপ্ত আয়।
·
উদাহরণ:
সুদ, লভ্যাংশ, বীমা বা উপহার থেকে
প্রাপ্ত অর্থ।
·
বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন ছোট উৎস থেকে প্রাপ্ত, নিয়মিত বা অনিয়মিত।
(গ) ‘মোট আয়’ ও ‘মোট বিশ্ব
আয়’
১. মোট আয় (Total Income)
·
একটি
নির্দিষ্ট সময়কালে কেবল দেশের ভেতরে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যে
সমস্ত আয় অর্জিত হয়, তার যোগফল।
·
অর্থাৎ
দেশের বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় মিলিয়ে যা প্রাপ্ত হয়েছে।
·
উদাহরণ:
o
বেতন
o
ব্যবসার
মুনাফা
o
সুদ
বা ভাড়া
·
বিশেষত্ব:
শুধুমাত্র দেশের মধ্যে প্রাপ্ত আয় অন্তর্ভুক্ত।
২. মোট বিশ্ব আয় (Global / Worldwide
Income)
·
একজন
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেশের
ভিতরে ও বাইরে (বিদেশে) প্রাপ্ত সকল আয়ের যোগফল।
·
অর্থাৎ
দেশি আয় + বিদেশি আয় = মোট বিশ্ব আয়।
·
উদাহরণ:
o
দেশের
ভেতরে চাকরি থেকে বেতন +
o
বিদেশে
ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে
প্রাপ্ত লাভ
·
বিশেষত্ব:
আন্তর্জাতিক আয়ও অন্তর্ভুক্ত, তাই কর হিসাবের সময়
ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
৪। (ক) আইটিও ১৯৮৪ এর ২ (৭) ধারা
অনুসারে করদাতা কারা? তাদের বিভিন্ন
শ্রেণির সংজ্ঞা দাও ।
(খ) একটা নির্দিষ্ট সীমার আয়
অর্জনকারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল
বাধ্যতামূলক। তারা কোথা হতে আয়কর
রিটার্ন সংগ্রহ করবেন? কোথায় জমা
দেবেন?
কখন জমা দেবেন?
(গ)
রিটার্ন দাখিল না করার পরিণতি
কি?
(ঘ)
নিম্নোক্ত রিটার্ন ফরমগুলোর এক লাইনে সংজ্ঞা
দিন-
(i) আইটি ১১(গ), (ii) আইটি ১১(ঙ),
(iii) আইটি ১১ (চ), (iv) আইটি ১১ (গগ)
(ক) ধারা ২(৭) অনুসারে
করদাতা (Assessee) কারা?
ধারা ২(৭) অনুযায়ী করদাতা (Assessee)
বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বোঝায়—
1. যার দ্বারা আয়কর বা অন্য কোনো
কর পরিশোধযোগ্য, অথবা
2. যার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা
হয়েছে বা করা হবে,
অথবা
3. যে ব্যক্তি অন্য
কারো আয়ের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে কর পরিশোধে দায়ী,
অথবা
4. যে ব্যক্তি কর
পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় Assessee
in default হিসেবে
গণ্য।
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বা
সত্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আয়কর
সংক্রান্ত দায় বহন করে, তাকেই করদাতা বলা হয়।
করদাতার বিভিন্ন শ্রেণি ও তাদের সংজ্ঞা
আইন অনুযায়ী “Person” শব্দের আওতায় যেসব সত্তা পড়ে, তারাই করদাতা হতে পারে। সেগুলো হলো—
১. ব্যক্তি (Individual)
একজন স্বাভাবিক মানুষ যিনি নিজ নামে আয় করেন এবং কর প্রদান করেন।
উদাহরণ:
চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, শিক্ষক ইত্যাদি।
২. ফার্ম (Firm)
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি
পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাকে ফার্ম বলা হয়।
উদাহরণ:
অংশীদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
৩. ব্যক্তিসমূহের সংঘ (Association of
Persons – AOP)
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি
কোনো সাধারণ উদ্দেশ্যে একত্রে কাজ করে আয় করলে তাকে AOP বলা হয়।
উদাহরণ:
যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত কোনো প্রকল্প।
৪. হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (Hindu Undivided
Family – HUF)
হিন্দু আইনের অধীনে গঠিত এমন পরিবার, যেখানে যৌথ সম্পত্তি ও যৌথ আয়
থাকে।
উদাহরণ:
পিতা, পুত্র ও অন্যান্য সদস্য
নিয়ে গঠিত অবিভক্ত পরিবার।
৫. কোম্পানি (Company)
কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান যা আলাদা আইনগত
সত্তা হিসেবে স্বীকৃত।
উদাহরণ:
লিমিটেড কোম্পানি, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
৬. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (Local
Authority)
আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা।
উদাহরণ:
সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ।
৭. কৃত্রিম আইনগত ব্যক্তি (Artificial
Juridical Person)
যারা মানুষ নয় কিন্তু আইন অনুযায়ী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য।
উদাহরণ:
ট্রাস্ট, ওয়াক্ফ, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।
উপসংহার
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ধারা ২(৭) অনুযায়ী করদাতা হলো এমন ব্যক্তি বা সত্তা যাদের
ওপর আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করা যায়, এবং এই করদাতারা বিভিন্ন
শ্রেণিতে বিভক্ত।
(খ) নির্দিষ্ট সীমার আয় অর্জনকারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল
সংক্রান্ত বিষয়াবলি
আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় অর্জনকারী প্রত্যেক করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
১. আয়কর রিটার্ন কোথা থেকে সংগ্রহ করবেন?
করদাতারা আয়কর রিটার্ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন—
1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)–এর ওয়েবসাইট থেকে
(অনলাইনে ডাউনলোড)
2. সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল / কর অঞ্চলের অফিস থেকে
3. বর্তমানে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন পূরণ করা যায়
২. আয়কর রিটার্ন কোথায় জমা দেবেন?
আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়—
1. করদাতার স্থায়ী ঠিকানা বা ব্যবসা স্থানের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে, অথবা
2. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে
৩. আয়কর রিটার্ন কখন জমা দেবেন?
রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা হলো—
·
ব্যক্তি
করদাতা
(Individual) এর
ক্ষেত্রে:
👉 সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর এর মধ্যে
·
কোম্পানির
ক্ষেত্রে:
👉 আয়বর্ষ শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে
বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার বা NBR প্রজ্ঞাপন দ্বারা সময়সীমা বাড়াতে পারে।
উপসংহার
অতএব, নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয়কারী করদাতারা NBR বা কর অফিস
থেকে রিটার্ন সংগ্রহ করে নির্ধারিত কর সার্কেলে বা
অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেবেন।
(গ) রিটার্ন দাখিল না করার পরিণতি
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে
বিভিন্ন আইনগত ও আর্থিক পরিণতি ভোগ করতে হয়।
১. জরিমানা (Penalty)
রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে করদাতার ওপর কর কর্তৃপক্ষ আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারে।
২. বিলম্ব ফি ও অতিরিক্ত
কর
নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর রিটার্ন দাখিল
করলে করদাতাকে বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত কর অথবা সারচার্জ প্রদান করতে হতে পারে।
৩. কর নির্ধারণ নিজ
উদ্যোগে (Best
Judgment Assessment)
করদাতা রিটার্ন না দিলে কর
কর্তৃপক্ষ নিজ বিবেচনায় কর নির্ধারণ করতে
পারে, যা অনেক সময়
করদাতার জন্য অসুবিধাজনক ও বেশি পরিমাণ হয়।
৪. Assessee in
Default হিসেবে গণ্য
রিটার্ন দাখিল না করায় করদাতাকে
Assessee in default হিসেবে
ঘোষণা করা হতে পারে, ফলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
৫. আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তি
গুরুতর ক্ষেত্রে করদাতার বিরুদ্ধে মামলা, আর্থিক দণ্ড বা অন্যান্য আইনগত
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
৬. কর-সংক্রান্ত সুবিধা
থেকে বঞ্চিত হওয়া
রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতা
বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, যেমন—
·
ব্যাংক
ঋণ
·
টেন্ডারে
অংশগ্রহণ
·
ট্রেড
লাইসেন্স নবায়ন
ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন।
উপসংহার
অতএব, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে
জরিমানা, অতিরিক্ত কর, আইনগত ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সুবিধা
থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়।
(ঘ)
নিম্নোক্ত
রিটার্ন
ফরমগুলোর
এক
লাইনে
সংজ্ঞা
দিন-
(i) আইটি
১১(গ), (ii) আইটি ১১(ঙ), (iii) আইটি
১১(চ), (iv) আইটি ১১ (গগ)
(i) আইটি–১১(গ):
যে
সকল
ব্যক্তি করদাতা (Individual)
নির্দিষ্ট সীমার
বেশি
আয়
করেন
এবং
সাধারণ
আয়ের
উৎস
রয়েছে,
তাদের
জন্য
নির্ধারিত রিটার্ন ফরম।
(ii) আইটি–১১(ঙ):
ফার্ম (Firm)–এর আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য
নির্ধারিত ফরম।
(iii) আইটি–১১(চ):
কোম্পানি (Company)–এর আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য
নির্ধারিত ফরম।
(iv) আইটি–১১(গগ):
হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF) বা ব্যক্তিসমূহের সংঘ (AOP)–এর আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য
নির্ধারিত ফরম।
৫।
(ক) কর নির্ধারণ কি?
(খ)
কর নির্ধারণী চক্রের ধাপগুলো আলোচনা কর।
(গ)
নিম্নোক্ত বিষয়ের কর নির্ধারণ কিভাবে
করা হয়?
(i) মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে,
(ii) ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে,
(iii) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে।
(ক) কর নির্ধারণ কী?
— বিস্তারিত আলোচনা
কর নির্ধারণ (Assessment)
বলতে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী করদাতার একটি নির্দিষ্ট আয়বর্ষে অর্জিত আয়ের উপর করযোগ্য আয় নিরূপণ, করহার প্রয়োগ এবং চূড়ান্তভাবে পরিশোধযোগ্য করের পরিমাণ নির্ধারণ করার আইনগত প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
কর নির্ধারণের মূল উপাদানসমূহ
কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে—
1. মোট আয় নিরূপণ
করদাতার বিভিন্ন উৎস (চাকরি, ব্যবসা, পেশা, গৃহসম্পত্তি, মূলধনী লাভ, অন্যান্য উৎস) থেকে অর্জিত সব আয় হিসাব
করা হয়।
2. করমুক্ত আয় ও ছাড় নির্ধারণ
আইন অনুযায়ী যেসব আয় করমুক্ত এবং যেসব খাতে কর রেয়াত বা
ছাড় প্রযোজ্য, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়।
3. করযোগ্য আয় নির্ধারণ
মোট আয় থেকে করমুক্ত আয় ও অনুমোদিত ব্যয়
বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করা হয়।
4. করহার প্রয়োগ
নির্ধারিত করহার অনুযায়ী করযোগ্য আয়ের ওপর কর হিসাব করা
হয়।
5. অগ্রিম কর ও উৎসে কর সমন্বয়
ইতিপূর্বে পরিশোধিত অগ্রিম কর বা উৎসে
কর্তিত কর থাকলে তা
সমন্বয় করা হয়।
6. চূড়ান্ত কর নির্ধারণ
সব হিসাব শেষে করদাতার পরিশোধযোগ্য বা ফেরতযোগ্য করের
পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়।
কর নির্ধারণের উদ্দেশ্য
কর নির্ধারণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—
·
সরকারের
রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা
·
করদাতার
ন্যায্য কর নিরূপণ করা
·
কর
আইন বাস্তবায়ন করা
·
কর
ফাঁকি প্রতিরোধ করা
উপসংহার : সার্বিকভাবে,
কর নির্ধারণ হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া
যার মাধ্যমে করদাতার আয় বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্র নির্ধারণ করে সে কতটুকু কর
প্রদান করবে।
খ) কর নির্ধারণী
চক্রের ধাপসমূহ (Tax Assessment
Cycle)
কর নির্ধারণী চক্র বলতে একটি আয়বর্ষ শুরু হওয়া থেকে শুরু করে কর নির্ধারণ, কর
আদায় এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই চক্রের ধাপগুলো
ধারাবাহিকভাবে নিচে আলোচনা করা হলো—
১. আয়বর্ষ নির্ধারণ (Income Year)
যে সময়ে করদাতা আয় অর্জন করে তাকে আয়বর্ষ বলা হয়। এই আয়বর্ষের আয়ের
ওপর পরবর্তী নির্ধারণী বছরে কর নির্ধারণ করা
হয়।
২. করদাতার আয় অর্জন
করদাতা চাকরি, ব্যবসা, পেশা, কৃষি, গৃহসম্পত্তি, মূলধনী লাভ ও অন্যান্য উৎস
থেকে আয় অর্জন করে। এই আয়ই কর
নির্ধারণের ভিত্তি।
৩. রিটার্ন দাখিল (Submission of
Return)
করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে। রিটার্নে মোট আয়, করযোগ্য আয় ও প্রদেয় করের
বিবরণ থাকে।
৪. রিটার্ন যাচাই ও তদন্ত
কর কর্তৃপক্ষ দাখিলকৃত রিটার্ন পরীক্ষা করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য, হিসাবপত্র বা ব্যাখ্যা চাইতে
পারে।
৫. কর নির্ধারণ (Assessment)
রিটার্ন ও প্রাপ্ত তথ্যের
ভিত্তিতে কর কর্তৃপক্ষ করযোগ্য
আয় নির্ধারণ করে এবং আইন অনুযায়ী করহার প্রয়োগ করে করের পরিমাণ নির্ধারণ করে।
৬. কর দাবি নোটিশ
প্রদান
কর নির্ধারণ শেষ হলে করদাতাকে পরিশোধযোগ্য করের পরিমাণ উল্লেখ করে কর দাবি নোটিশ প্রদান করা হয়।
৭. কর পরিশোধ (Payment of Tax)
করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর পরিশোধ করে।
৮. আপত্তি ও আপিল (যদি
থাকে)
করদাতা কর নির্ধারণে অসন্তুষ্ট
হলে আইন অনুযায়ী আপত্তি বা আপিল করতে
পারে।
৯. কর আদায় ও
নিষ্পত্তি
পরিশোধ বা আপিল নিষ্পত্তির
মাধ্যমে কর আদায় সম্পন্ন
হলে কর নির্ধারণী চক্রের
সমাপ্তি ঘটে।
উপসংহার
কর নির্ধারণী চক্র একটি ধারাবাহিক ও আইননির্ভর প্রক্রিয়া,
যার প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে ন্যায্য কর আদায় এবং
কর ব্যবস্থার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
গ) নিম্নোক্ত বিষয়ের কর নির্ধারণ কিভাবে
করা হয়?
(i) মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ
মৃত ব্যক্তির কর নির্ধারণ করা
হয় তার আইনগত
প্রতিনিধি
(Legal Representative)–এর
মাধ্যমে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অর্জিত
আয়ের ওপর কর নির্ধারণ হয়
এবং সেই কর মৃত ব্যক্তির
সম্পত্তি থেকে পরিশোধযোগ্য।
(ii) ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ
কোনো ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে, বন্ধ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর বিশেষ
কর
নির্ধারণ
করা হয়।
এক্ষেত্রে কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন
মনে করলে তাৎক্ষণিক
বা
সংক্ষিপ্ত
কর
নির্ধারণ
করতে পারে।
(iii) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের (HUF) ক্ষেত্রে কর নির্ধারণ
হিন্দু অবিভক্ত পরিবারকে একটি স্বতন্ত্র
করদাতা
সত্তা
হিসেবে গণ্য করা হয়।
পরিবারের যৌথ আয়ের ওপর কর নির্ধারণ করা
হয় এবং পরিবারের কর্তা (Karta) কর পরিশোধের দায়িত্ব
পালন করে।
উপসংহার
কর নির্ধারণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা সাধারণ করদাতা,
মৃত ব্যক্তি, ব্যবসা বন্ধ বা HUF—সব ক্ষেত্রেই আইনের
নির্দিষ্ট বিধান অনুসারে সম্পন্ন হয়।
৬। (ক) সংক্ষেপে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪
এর বর্ণনা দাও।
(খ) সংক্ষেপে কর আইনের উপাদানগুলো
বর্ণনা কর, যেগুলো অত্র আইনের উৎস
হিসেবে গণ্য হয়।
(গ) কর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে থাকেন একজন উপকর কমিশনার। তার
ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা
কর।
(ক) সংক্ষেপে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর বর্ণনা
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ বাংলাদেশের আয়কর ব্যবস্থার প্রধান আইন। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে
করদাতার আয় নির্ধারণ, করহার প্রয়োগ, রিটার্ন দাখিল, কর নির্ধারণ, কর
আদায়, আপিল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সম্পর্কিত বিধান নির্ধারিত হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের
দায়িত্ব পালন করে। দেশের সরকারি রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো এই আইন।
(খ) কর আইনের উপাদানসমূহ
(কর আইনের উৎস)
কর আইনের উপাদান বলতে সেই সব আইনগত ও
প্রশাসনিক উৎসকে বোঝায়, যেগুলোর মাধ্যমে কর আইন প্রণীত,
ব্যাখ্যাত ও কার্যকর হয়।
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪–এর উৎস হিসেবে
নিম্নোক্ত উপাদানগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
১. সংবিধান (The Constitution
of Bangladesh)
বাংলাদেশের সংবিধান সরকারকে কর আরোপ, সংগ্রহ
ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করে।
সংবিধানের বিধান ছাড়া কোনো কর বৈধভাবে আরোপ
করা যায় না।
২. আইন ও অধ্যাদেশ (Acts and Ordinances)
সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন বা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক
জারিকৃত অধ্যাদেশই কর আইনের প্রধান
উৎস।
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত
এবং এটি আয়কর সংক্রান্ত মূল আইন।
৩. বিধি ও নিয়মাবলি (Rules)
আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকার বা জাতীয় রাজস্ব
বোর্ড কর্তৃক প্রণীত বিধি ও নিয়মাবলি।
এগুলো আইনের অধীন প্রণীত হওয়ায় আইনেরই অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
৪. প্রজ্ঞাপন ও এসআরও (Notification & SRO)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করহার নির্ধারণ, কর অব্যাহতি, ছাড়,
সময়সীমা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ও এসআরও জারি
করে।
এগুলো কর আইনের গুরুত্বপূর্ণ
প্রশাসনিক উৎস।
৫. সার্কুলার ও নির্দেশনা (Circulars & Instructions)
কর প্রশাসন পরিচালনার জন্য এনবিআর বা কর কর্তৃপক্ষ
কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা।
এসব সার্কুলার কর কর্মকর্তাদের জন্য
বাধ্যতামূলক হলেও করদাতার ওপর সরাসরি আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।
৬. বিচারিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের রায়
(Judicial Decisions)
উচ্চ আদালত ও আপিল ট্রাইব্যুনালের
রায় কর আইনের ব্যাখ্যা
প্রদান করে।
এসব রায় ভবিষ্যৎ কর নির্ধারণে দৃষ্টান্ত
(precedent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৭. কর প্রশাসনিক প্রথা
ও রীতি (Practice &
Usage)
দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত কর প্রশাসনিক রীতি
ও প্রথাও কর আইনের ব্যাখ্যায়
সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যদিও তা লিখিত আইনের
বিকল্প নয়।
উপসংহার
অতএব, কর আইন কেবল
একটি অধ্যাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংবিধান, আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন, সার্কুলার ও আদালতের রায়—সব মিলিয়ে কর
আইনের পূর্ণ কাঠামো গঠিত হয়।
(গ) কর নির্ধারণে উপকর
কমিশনারের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
উপকর কমিশনার (Deputy
Commissioner of Taxes – DCT) আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায়
কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি কেবল রিটার্ন যাচাই ও কর নির্ধারণেই
নয়, বরং কর আদায় ও
প্রশাসনিক তদারকিতেও গুরুত্বপূর্ণ।
১. কর নির্ধারণের ক্ষমতা
·
করদাতার
দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন যাচাই করে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করেন।
·
করহার
প্রয়োগ করে পরিশোধযোগ্য করের চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করেন।
·
প্রয়োজনে
রিটার্নের অপূর্ণতা বা ভুল তথ্য সংশোধন করে কর পুনঃনির্ধারণের ক্ষমতা
রয়েছে।
২. রিটার্ন যাচাই ও তদন্ত
·
রিটার্নে
প্রদত্ত আয়, ব্যয় ও অন্যান্য তথ্যের
সত্যতা যাচাই করা।
·
প্রয়োজনীয়
হলে করদাতার হিসাবপত্র, দলিল, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি তলব ও পরীক্ষা করা।
·
সন্দেহজনক
বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে তদন্ত পরিচালনা করা।
৩. নোটিশ জারি করার ক্ষমতা
·
করদাতাকে
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল বা তথ্য সরবরাহের জন্য নোটিশ প্রদান করা।
·
করদাতার
পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া বা করের হিসাব
সংশোধনের জন্য নোটিশ জারি করা।
৪. বেস্ট জাজমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (Best
Judgment Assessment)
·
করদাতা
রিটার্ন দাখিল না করলে বা
তথ্য গোপন করলে, উপকর কমিশনার নিজের বিবেচনায় কর নির্ধারণ করতে পারেন।
·
এটি
নিশ্চিত করে যে, করের আদায় বন্ধ হবে না এবং সরকারী
রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
৫. জরিমানা ও অতিরিক্ত কর
আরোপ
·
আইন
লঙ্ঘন বা রিটার্ন দাখিল
না করার ক্ষেত্রে জরিমানা বা অতিরিক্ত কর আরোপের ক্ষমতা।
·
বিলম্বে
রিটার্ন দাখিল বা কর পরিশোধের
ক্ষেত্রে সারচার্জ আরোপ করা।
৬. কর পুনঃনির্ধারণ ও
সংশোধন
·
ভুল
বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে পূর্বে নির্ধারিত কর পুনঃনির্ধারণ।
·
করদাতার
আয় বা খরচ সংক্রান্ত
তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।
·
প্রয়োজনে
সংশোধিত নোটিশ প্রদান।
৭. কর দাবি ও
আদায়
·
কর
নির্ধারণ শেষে কর দাবি নোটিশ প্রদান।
·
নিশ্চিত
করা যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ করা হয়েছে।
·
প্রয়োজনে
কর আদায়ে সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৮. আপিল ও আদালতের কার্যাবলী
·
করদাতা
আপিল করলে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা আদালতে প্রেরণ।
·
প্রশাসনিক
ও আইনগত নির্দেশনার মাধ্যমে আদালত ও কর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
৯. প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ
·
কর
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত
করা।
·
কর
রিটার্ন যাচাই ও কর নির্ধারণ
প্রক্রিয়ার সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করা।
·
করদাতাদের
সচেতন করা ও কর ফাঁকি
রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
উপসংহার
উপকর কমিশনার কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা, যার মাধ্যমে—
·
করদাতার
আয় ও কর নির্ধারণ
করা,
·
রিটার্ন
যাচাই ও তদন্ত পরিচালনা
করা,
·
কর
আদায় ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
করা,
সমস্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী ছাড়া
আয়কর ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়।
আয়কর
ও মূল্য সংযোজন করের পার্থক্য কর।
নিচে আয়কর (Income Tax)
এবং মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax – VAT)–এর মধ্যে মূল
পার্থক্যগুলো
বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো—
আয়কর (Income
Tax) বনাম মূল্য সংযোজন কর (VAT)
|
ক্র. |
বিষয় |
আয়কর (Income Tax) |
মূল্য সংযোজন কর (VAT) |
|
1 |
ধরন |
সরাসরি
কর (Direct Tax) |
পরোক্ষ
কর (Indirect Tax) |
|
2 |
করদাতা |
ব্যক্তি,
ফার্ম, কোম্পানি, HUF ইত্যাদি |
পণ্য
বা সেবা ক্রেতা; কর বিক্রেতা সংগ্রহ করে সরকারে জমা দেয় |
|
3 |
কর আরোপের ভিত্তি |
ব্যক্তির
বা সংস্থার আয় বা লাভ |
পণ্য
বা সেবার বিক্রয়মূল্য (মূল্য সংযোজনের উপর) |
|
4 |
পরিশোধের দায়িত্ব |
করদাতার
নিজস্ব |
বিক্রেতার
মাধ্যমে ক্রেতার পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হয় |
|
5 |
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য |
সরকারের
রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যক্তির আয় হিসাব করা |
পণ্য
ও সেবার চূড়ান্ত মূল্য থেকে কর আদায় করা, অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে |
|
6 |
প্রয়োগ ক্ষেত্র |
আয়কর
আইন (Income Tax
Ordinance, 1984) |
VAT Act বা
প্রযোজ্য সেবা/পণ্য আইন |
|
7 |
সময়কাল/সাধারণ নীতি |
প্রতি
আয়বর্ষ (১ জুলাই–৩০ জুন) |
প্রতিটি
বিক্রয়/লেনদেনের সময় প্রযোজ্য |
|
8 |
ফলাফল |
আয়
অনুযায়ী কর পরিশোধ; বিলম্বে জরিমানা |
পণ্যের/সেবার মূল্য বৃদ্ধি; ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সরকারে জমা |
সংক্ষেপে মূল পার্থক্য
1. আয়কর সরাসরি ব্যক্তির আয় বা লাভের ওপর আরোপিত হয়, আর VAT পণ্য বা সেবার মূল্যবৃদ্ধিতে প্রযোজ্য।
2. আয়কর সরাসরি করদাতা দ্বারা পরিশোধিত হয়; VAT ক্রেতার খরচে আছে কিন্তু বিক্রেতা সরকারে জমা দেয়।
3. আয়কর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক, VAT লেনদেন বা বিক্রয় ভিত্তিক।
No comments