রাজস্ব আইন এল এল বি ১ম বর্ষ পরীক্ষা স্পেশাল শর্ট সাজেশন অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর সহজ ও সাবলীয় ভাষায় পার্ট- ২
১।
(ক) করের সংজ্ঞা দাও।
(খ) করের বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
(গ) প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের পার্থক্য নির্ণয় কর।
১। (ক) করের সংজ্ঞা
কর
হলো
রাষ্ট্র কর্তৃক
আইনানুগ ক্ষমতাবলে নাগরিকদের নিকট
থেকে
বাধ্যতামূলকভাবে আদায়কৃত এমন
একটি
অপ্রত্যাবর্তনযোগ্য অর্থদান, যার
বিনিময়ে করদাতা
সরাসরি
কোনো
নির্দিষ্ট সুবিধা
দাবি
করতে
পারে
না
এবং
যা
রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ
ও
জনস্বার্থে ব্যয়
করা
হয়।
(খ) করের বৈশিষ্ট্যসমূহ
কর
ব্যবস্থার প্রধান
বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ—
- বাধ্যতামূলক
কর প্রদান নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক; ইচ্ছাধীন নয়। - আইন
দ্বারা আরোপিত
কর কেবল আইন বা সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমেই আরোপ করা হয়। - অপ্রত্যাবর্তনযোগ্য
কর প্রদানের বিপরীতে করদাতা নির্দিষ্ট বা সরাসরি কোনো সেবা ফেরত পায় না। - সাধারণ
কল্যাণমূলক
করের অর্থ রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। - নির্দিষ্ট
উদ্দেশ্যহীন
কর থেকে সংগৃহীত অর্থ কোনো নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক নয়। - নাগরিক
দায়িত্ব
কর প্রদান রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব। - নিয়মিত
ও ধারাবাহিক
কর নির্দিষ্ট সময় পরপর নিয়মিতভাবে আদায় করা হয়।
(গ) প্রত্যক্ষ
কর ও পরোক্ষ করের পার্থক্য
|
বিষয় |
প্রত্যক্ষ কর |
পরোক্ষ কর |
|
আরোপের ধরন |
আয়
বা
সম্পদের উপর
সরাসরি আরোপিত |
পণ্য
ও
সেবার উপর
আরোপিত |
|
করভার বহন |
করদাতা নিজেই বহন
করে |
করভার ভোক্তার উপর
স্থানান্তরিত হয় |
|
কর
ফাঁকি |
তুলনামূলকভাবে সহজ |
তুলনামূলকভাবে কঠিন |
|
আয়ের ন্যায়সংগততা |
ন্যায়সংগত ও
প্রগতিশীল |
তুলনামূলকভাবে পশ্চাদমুখী |
|
উদাহরণ |
আয়কর, সম্পদ কর |
ভ্যাট, শুল্ক, আবগারি শুল্ক |
|
সামাজিক প্রভাব |
আয়
বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক |
দরিদ্রের উপর
বেশি
চাপ
সৃষ্টি করে |
উপসংহার
প্রত্যক্ষ কর
ন্যায়সংগত হলেও
প্রশাসনিকভাবে জটিল,
অপরদিকে পরোক্ষ
কর
সহজে
আদায়যোগ্য হলেও
তা
আয়
বৈষম্য
বৃদ্ধি
করতে
পারে।
২।
(ক)
করদাতা
সনাক্তকরণ নম্বর
বলতে
কী
বুঝ?
(খ)
আয়কর
রিটার্ন কারা
দিবেন?
(গ)
রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি
বর্ণনা
কর।
নিচে
পরীক্ষার খাতার স্ট্যান্ডার্ড, বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী ও নম্বর-স্কোরিং ফরম্যাটে উত্তর
উপস্থাপন করা
হলো—
২। (ক) করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর বলতে কী বুঝ?
করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর (TIN – Taxpayer Identification Number) হলো
জাতীয়
রাজস্ব
বোর্ড
(NBR) কর্তৃক
প্রতিটি করদাতাকে প্রদত্ত একটি
স্বতন্ত্র ও ইউনিক নম্বর, যার
মাধ্যমে করদাতাকে আয়কর
সংক্রান্ত সকল
কার্যক্রমে সনাক্ত
করা
হয়।
এই
নম্বর
ব্যবহার করে
কর
রিটার্ন দাখিল,
কর
পরিশোধ,
ব্যাংক
হিসাব
খোলা,
ট্রেড
লাইসেন্স গ্রহণসহ বিভিন্ন সরকারি
ও
আর্থিক
কার্যক্রম সম্পাদন করা
হয়।
(খ) আয়কর রিটার্ন
কারা দিবেন?
আয়কর
আইন
অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ ও
প্রতিষ্ঠানসমূহ আয়কর
রিটার্ন দাখিল
করতে
বাধ্য—
- যাদের করযোগ্য
আয় করমুক্ত সীমার বেশি।
- যাদের ট্যাক্স
আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN)
রয়েছে।
- সকল কোম্পানি
ও ফার্ম (আয় হোক বা না হোক)।
- সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী।
- যারা মোটরগাড়ির
মালিক।
- যারা ব্যবসা
বা পেশা পরিচালনা করেন।
- যারা ব্যাংক
ঋণ, এলসি, বা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেন।
- বিদেশে বসবাসকারী
বাংলাদেশি যাদের বাংলাদেশে আয় রয়েছে।
(গ) রিটার্ন
দাখিলের পদ্ধতি বর্ণনা কর
আয়কর
রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি
নিম্নরূপ—
- TIN সংগ্রহ
প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে অনলাইনে বা নির্ধারিত উপায়ে TIN সংগ্রহ করতে হয়। - রিটার্ন
ফরম সংগ্রহ
নির্ধারিত আয়কর রিটার্ন ফরম (IT-11GA/IT-10B ইত্যাদি) সংগ্রহ করতে হয়। - আয়
ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত
সংশ্লিষ্ট হিসাব বৎসরের সকল আয়, ব্যয় ও বিনিয়োগের সঠিক হিসাব প্রস্তুত করতে হয়। - কর
নিরূপণ
প্রচলিত করস্ল্যাব অনুযায়ী কর নির্ধারণ করতে হয়। - কর
পরিশোধ
নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে চালানের সাহায্যে কর পরিশোধ করতে হয়। - রিটার্ন
দাখিল
পূরণকৃত রিটার্ন ফরম প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত কর সার্কেল/অনলাইন পোর্টালে দাখিল করতে হয়। - স্বীকৃতি
গ্রহণ
রিটার্ন দাখিলের পর প্রাপ্তি স্বীকার (Acknowledgement Slip) সংরক্ষণ করতে হয়।
️ উপসংহার
রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে একজন
করদাতা
তার
আয়
ও
কর
সংক্রান্ত দায়িত্ব আইনসম্মতভাবে পালন
করে,
যা
একটি
সুশাসিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
৩।
(ক) ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা কী?
(খ)
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি লিখ। কখন উক্ত ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায়? (গ) কর কমিশনারের
ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা
কর।
৩। (ক) ট্যাক্স আপীলেট
ট্রাইব্যুনালের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনাল আয়কর সংক্রান্ত আপীল নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। এ ট্রাইব্যুনালের সদস্য
হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট আইনগত, প্রশাসনিক ও নৈতিক যোগ্যতা
থাকা আবশ্যক। নিচে বিস্তারিতভাবে যোগ্যতাসমূহ আলোচনা করা হলো—
১। বিচার বিভাগীয় যোগ্যতা
যিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অথবা আপীল বিভাগের বিচারক ছিলেন, অথবা যিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তিনি ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। এ ধরনের সদস্যকে
সাধারণত জুডিশিয়াল মেম্বার বলা হয়।
২। আয়কর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
যিনি কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বছর আয়কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অথবা দীর্ঘদিন আয়কর প্রশাসনের উচ্চপদে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনিও ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারেন। এ শ্রেণির সদস্যকে
টেকনিক্যাল মেম্বার বলা হয়।
৩। কর আইন ও
বিধি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান
সদস্য প্রার্থীর আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪, কর বিধিমালা, সার্কুলার
ও এসআরও সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে, যাতে তিনি জটিল কর বিরোধ নিষ্পত্তি
করতে সক্ষম হন।
৪। দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা
প্রার্থীকে কর প্রশাসন, আইন
বা অর্থনৈতিক বিষয়ে দীর্ঘদিনের বাস্তব ও পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হয়, যা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে
সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৫। সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্যকে অবশ্যই সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনায় প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রাধান্য
পায়।
৬। সুনাম ও নৈতিক চরিত্র
সদস্যকে অবশ্যই সুনামসম্পন্ন ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর দুর্নীতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণের অভিযোগ
থাকা চলবে না।
৭। নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা
ট্রাইব্যুনালের সদস্যকে করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষের
প্রতি নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতমুক্ত থেকে বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদানের মানসিকতা থাকতে হবে।
৮। পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা
সদস্যকে পূর্ণকালীনভাবে ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হতে হবে এবং অন্য কোনো লাভজনক পেশায় নিয়োজিত থাকা যাবে না।
৯। জুডিশিয়াল ও টেকনিক্যাল সদস্যের
সমন্বয়
সাধারণত একটি বেঞ্চ গঠিত হয়—
·
১
জন জুডিশিয়াল মেম্বার এবং
·
১
জন টেকনিক্যাল মেম্বার দ্বারা
যাতে আইনগত ও কারিগরি উভয়
দিক থেকে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায়।
১০। আইনানুগ শপথ গ্রহণ
নিয়োগের পর সদস্যকে সরকার
নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী শপথ গ্রহণ করতে হয় এবং সংবিধান ও আইন অনুসরণ
করে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করতে হয়।
✍️
উপসংহার
সার্বিকভাবে বলা যায়, ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য হওয়ার জন্য আইনগত জ্ঞান, কর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা,
নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতার সমন্বয়
অপরিহার্য। এসব যোগ্যতার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল আয়কর ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত
করে।
(খ) ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি লিখ। কখন উক্ত ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায়?
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও আপীল করার
সময়
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনাল আয়কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ আপীল কর্তৃপক্ষ। নিচে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং কখন উক্ত ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা
করা হলো—
ক) ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি
১। বেঞ্চ গঠন
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনাল সাধারণত দুই সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে বসে আপীল শুনানি গ্রহণ করে। বেঞ্চে থাকেন—
·
একজন
জুডিশিয়াল মেম্বার এবং
·
একজন
টেকনিক্যাল মেম্বার।
২। আপীল গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা
নির্ধারিত ফরম, ফি ও সময়সীমা
অনুসরণ করে দাখিলকৃত আপীল ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল নথি, আদেশ ও দলিল পর্যালোচনা
করে।
৩। পক্ষদ্বয়ের শুনানি
ট্রাইব্যুনাল করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষ—উভয় পক্ষকে ন্যায্য শুনানির সুযোগ প্রদান করে। প্রয়োজনে আইনজীবী বা প্রতিনিধি উপস্থিত
থাকতে পারেন।
৪। প্রমাণ ও যুক্তি মূল্যায়ন
উপস্থাপিত কাগজপত্র, হিসাব বিবরণী, সাক্ষ্য ও আইনগত যুক্তি
বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়।
৫। যৌথ আলোচনা ও মতামত প্রদান
শুনানি শেষে বেঞ্চের সদস্যগণ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে মতামত প্রদান করেন।
৬। মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত
যদি বেঞ্চের উভয় সদস্য একই মত পোষণ করেন,
তবে সেই মত অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৭। মতভেদের ক্ষেত্রে তৃতীয় সদস্য
যদি দুই সদস্যের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তবে বিষয়টি তৃতীয় সদস্যের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৮। লিখিত রায় প্রদান
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে প্রদান করা হয় এবং তাতে সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ থাকে।
৯। আদেশ কার্যকরযোগ্যতা
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালের আদেশ সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ ও
করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক এবং কার্যকরযোগ্য।
১০। রায় সংরক্ষণ ও রেকর্ড
রায় সংরক্ষণ করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর মামলায় রেফারেন্স বা নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
কখন
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায়?
১। কর কমিশনার (আপীল)
এর আদেশের বিরুদ্ধে
কর কমিশনার (আপীল) প্রদত্ত আদেশে করদাতা বা কর কর্তৃপক্ষ
অসন্তুষ্ট হলে ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায়।
২। আইনগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য
যখন কর নির্ধারণে আইন
বা বিধির ভুল প্রয়োগ ঘটে।
৩। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে
সাধারণত কর কমিশনার (আপীল)
এর আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপীল দাখিল করতে হয়।
৪। করদাতা ও কর কর্তৃপক্ষ
উভয়ের অধিকার
উভয় পক্ষ—করদাতা বা কর কর্তৃপক্ষ—ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনালে আপীল করতে পারে।
৫। নির্ধারিত ফি ও ফরমে
নির্ধারিত আপীল ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় ফি প্রদান সাপেক্ষে
আপীল করা যায়।
৬। কর পরিশোধ সংক্রান্ত
শর্ত পূরণ সাপেক্ষে
আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত অংশের কর পরিশোধ বা
নিরাপত্তা প্রদান করতে হয়।
৭। বিচারাধীন বিষয়বস্তু থাকলে
যে বিষয়ে আপীল করা হচ্ছে তা অবশ্যই কমিশনার
(আপীল) কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত হতে হবে।
৮। আইনসম্মত আপীলযোগ্য আদেশ হলে
শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী আপীলযোগ্য আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যায়।
✍️
উপসংহার
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনাল একটি আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের
সুস্পষ্ট পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট আপীল
বিধানের মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা
ও ন্যায়সংগততা বজায় থাকে।
(গ) কর কমিশনারের ক্ষমতা
ও কার্যাবলী আলোচনা কর
কর কমিশনার আয়কর প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী নিম্নরূপ—
১. প্রশাসনিক ক্ষমতা
·
অধীনস্থ
কর কর্মকর্তাদের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করা।
·
কর
সার্কেল ও কর অঞ্চল
পরিচালনা করা।
২. কর নির্ধারণ সংক্রান্ত
ক্ষমতা
·
কর
নির্ধারণ, পুনঃনির্ধারণ ও সংশোধনের নির্দেশ
প্রদান।
·
ভুল
বা অবৈধ কর নির্ধারণ সংশোধন
করা।
৩. আপীল সংক্রান্ত ক্ষমতা
·
কর
কমিশনার (আপীল) হিসেবে করদাতার আপীল শুনানি গ্রহণ।
·
ন্যায়সঙ্গত
আদেশ প্রদান।
৪. জরিমানা ও দণ্ড আরোপের
ক্ষমতা
·
আইন
লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা আরোপ বা প্রত্যাহার করা।
·
কর
ফাঁকির ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. কর আদায় ও
আদেশ কার্যকরকরণ
·
বকেয়া
কর আদায়ের নির্দেশ প্রদান।
·
প্রয়োজনে
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অনুমোদন।
৬. আইনগত ও পরামর্শমূলক ভূমিকা
·
কর
আইন বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান।
·
জাতীয়
রাজস্ব বোর্ডকে পরামর্শ প্রদান।
উপসংহার
ট্যাক্স আপীলেট ট্রাইব্যুনাল ও কর কমিশনার
উভয়ই আয়কর ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত
করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(গ) কর কমিশনারের ক্ষমতা
ও কার্যাবলী
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী কর কমিশনার আয়কর প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ও আধা-বিচারিক
কর্তৃপক্ষ। তার উপর কর নির্ধারণ, আপীল,
আদায় ও তদারকির গুরুদায়িত্ব
ন্যস্ত থাকে। নিচে তার ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিস্তারিতভাবে
আলোচনা করা হলো—
১। কর প্রশাসনিক ক্ষমতা
কর কমিশনার তার অধীনস্থ কর অঞ্চল, কর
সার্কেল ও কর্মকর্তাদের উপর
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করেন।
তিনি কর্মকর্তাদের কাজ বণ্টন, দিকনির্দেশনা প্রদান এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।
২। কর নির্ধারণের ক্ষমতা
তিনি কর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে
কর নির্ধারণ (Assessment) করাতে পারেন এবং প্রয়োজনে পুনঃনির্ধারণ
(Re-assessment) বা
সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
৩। সংশোধন ও পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা
ভুল, ত্রুটি বা আইনবিরোধী কর
নির্ধারণ হলে কর কমিশনার তা
সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন।
৪। আপীল শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা
কর কমিশনার (আপীল) হিসেবে তিনি করদাতার দাখিলকৃত আপীল শুনানি গ্রহণ করেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ন্যায়সঙ্গত আদেশ প্রদান করেন।
৫। জরিমানা আরোপ ও প্রত্যাহারের ক্ষমতা
আইন লঙ্ঘন, রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা বা কর ফাঁকির
ক্ষেত্রে কর কমিশনার জরিমানা আরোপ, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
৬। কর আদায় ও
বকেয়া ব্যবস্থাপনা
তিনি বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ
প্রদান করেন এবং প্রয়োজনে—
·
ব্যাংক
হিসাব জব্দ
·
সম্পত্তি
ক্রোক
·
নিলামের
ব্যবস্থা
গ্রহণ করতে পারেন।
৭। তদন্ত ও অনুসন্ধান ক্ষমতা
কর ফাঁকি বা গোপন আয়ের
সন্দেহ হলে কর কমিশনার তদন্তের
নির্দেশ দিতে পারেন এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র তলব করতে পারেন।
৮। কর অব্যাহতি ও
বিশেষ সুবিধা প্রদানের ক্ষমতা
আইনের আওতায় বিশেষ ক্ষেত্রে কর কমিশনার কর অব্যাহতি, ছাড় বা বিশেষ সুবিধা প্রদানের সুপারিশ বা অনুমোদন দিতে
পারেন।
৯। আইন বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যামূলক ভূমিকা
কর আইন, বিধি ও সার্কুলার বাস্তবায়নে
কর কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রয়োজনে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা প্রদান করেন।
১০। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পরামর্শ প্রদান
কর আদায় বৃদ্ধি, আইন সংস্কার ও প্রশাসনিক উন্নয়নের
বিষয়ে কর কমিশনার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-কে পরামর্শ প্রদান
করেন।
উপসংহার
কর কমিশনারের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আয়কর
ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনার মূল ভিত্তি। তার দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও আইনের যথাযথ
প্রয়োগের মাধ্যমে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা
ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
4। (ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো উল্লেখ কর।
(খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা ও কার্যাবলী বর্ণনা কর।
(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR – National
Board of Revenue) হলো
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ ও কর প্রশাসনের
সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এর সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ:
১। চেয়ারম্যান (Chairman)
·
বোর্ডের
প্রধান ও সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ।
·
রাজস্ব
নীতি প্রণয়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে
দায়িত্ব পালন।
·
বোর্ডের
বৈঠক আহ্বান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের
তদারকি।
২। সদস্য / কমিশনার (Members /
Commissioners)
·
প্রতিটি
বিভাগের (Income Tax,
Customs, VAT & Excise) তদারকির
জন্য নিয়োজিত।
·
বোর্ডের
নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে
প্রধান ভূমিকা পালন।
৩। আয়কর বিভাগ (Income Tax Wing)
·
ব্যক্তিগত,
ব্যবসায়িক ও কর্পোরেট আয়ের
কর নির্ধারণ ও আদায়।
·
কর
রিটার্ন যাচাই ও নির্ধারিত সময়ে
কর সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ।
৪। কাস্টমস বিভাগ (Customs Wing)
·
আমদানি-রফতানি শুল্ক, এক্সাইজ শুল্ক ও অন্যান্য সংযোজিত
রাজস্ব সংগ্রহ।
·
কাস্টমস
আইন বাস্তবায়ন ও অবৈধ আমদানি/রফতানি নিয়ন্ত্রণ।
৫। ভ্যাট ও এক্সাইজ বিভাগ (VAT & Excise
Wing)
·
ভ্যাট,
সেবা কর ও এক্সাইজ
কর সংগ্রহ।
·
ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে
কর নিশ্চিতকরণ।
৬। প্রশাসনিক ও সহায়ক শাখা
·
মানবসম্পদ,
প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তি (IT), হিসাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম
তদারকি।
·
বোর্ডের
দৈনন্দিন কার্যক্রম সমন্বয়।
৭। আঞ্চলিক ও জেলা কর অফিস
·
আঞ্চলিক
কমিশনার ও জেলা কমিশনারদের
অধীনে সার্কেল অফিস।
·
আঞ্চলিকভাবে
কর আদায়, তদন্ত, রিটার্ন যাচাই ও আপীল শুনানি।
·
স্থানীয়
পর্যায়ে কর প্রশাসনের কার্যক্রম
বাস্তবায়ন।
৮। সহযোগী ও বিশেষ শাখা
·
প্রশিক্ষণ
ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান: কর কর্মকর্তাদের দক্ষতা
বৃদ্ধির জন্য।
·
পরিসংখ্যান
ও বিশ্লেষণ: কর সংগ্রহের রিপোর্ট
ও রাজস্ব বিশ্লেষণ তৈরি।
·
আইন
শাখা:
কর আইন বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা।
৯। ট্রাইব্যুনাল ও আপীল সংক্রান্ত তত্ত্বাবধায়ক
·
কর
কমিশনার ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম
তদারকির জন্য বোর্ডের কাঠামোতে বিশেষ শাখা।
·
করদাতার
আপীল ও কর কর্তৃপক্ষের
আপীলের তদারকি।
১০। সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য
·
চেয়ারম্যানের
নেতৃত্বে মাল্টি-ডিভিশনাল ও আঞ্চলিক ভিত্তিক ব্যবস্থা।
·
বোর্ডের
প্রত্যেক শাখা ও বিভাগের কার্যক্রম
স্বয়ংক্রিয়
ও স্বচ্ছ।
·
নীতি
প্রণয়ন, কার্যনির্বাহী ও তদারকি মিলিতভাবে
পরিচালিত হয়।
উপসংহার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাংগঠনিক কাঠামো হলো চেয়ারম্যান, সদস্য, আয়কর, কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ বিভাগ, আঞ্চলিক ও জেলা অফিস এবং প্রশাসনিক শাখা–এর সমন্বয়।
এর মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ, কর প্রশাসন, নীতি
প্রণয়ন ও তদারকি কার্যক্রম
সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
(খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) হলো বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহ ও কর প্রশাসনের
সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। এর ক্ষমতা ও
কার্যাবলী নিম্নরূপ:
১। রাজস্ব সংগ্রহ ও তদারকি
·
আয়কর,
ভ্যাট, কাস্টমস শুল্ক, এক্সাইজ এবং অন্যান্য রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করা।
·
রাজস্ব
সংগ্রহের উপর নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করা।
২। কর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পরামর্শ
·
সরকারকে
কর আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও বিধি প্রণয়নে
পরামর্শ প্রদান।
·
কর
নীতি ও আইন বাস্তবায়নে
নির্দেশনা প্রদান।
৩। কর প্রশাসন তদারকি
·
আঞ্চলিক
ও জেলা কর অফিসসমূহের কার্যক্রম
তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ।
·
কর
কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টন
নিশ্চিত করা।
৪। কর রিটার্ন যাচাই ও নির্ধারণ তদারকি
·
করদাতাদের
দাখিলকৃত রিটার্ন যাচাই ও নির্ধারিত সময়ে
কর আদায়।
·
কর
নির্ধারণে ভুল, ত্রুটি বা অনিয়ম থাকলে
সংশোধন নির্দেশ প্রদান।
৫। কর আপীল ও ট্রাইব্যুনাল তদারকি
·
কর
কমিশনার ও কর আপীল
কমিশনারের কার্যক্রম তদারকি।
·
ট্যাক্স
আপীলেট ট্রাইব্যুনালের আপীল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
পর্যবেক্ষণ।
৬। পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ
·
রাজস্ব
সংগ্রহ, কর রিটার্ন ও
বকেয়া করের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা।
·
রাজস্ব
নীতি ও কর প্রয়োজনীয়তা
বিশ্লেষণ।
৭। সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
·
কর
প্রশাসনে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ।
·
কর্মকর্তাদের
সততা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত
করা।
৮। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
·
কর
কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা নিশ্চিত
করা।
·
আধুনিক
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর প্রশাসনের দক্ষতা
বৃদ্ধি।
৯। আইন ব্যাখ্যা ও সহায়ক ভূমিকা
·
আয়কর,
ভ্যাট, কাস্টমস ও এক্সাইজ আইন
ব্যাখ্যা করা।
·
কর
প্রশাসনের সকল স্তরে নীতি প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
১০। জাতীয় রাজস্ব নীতি ও পরামর্শ প্রদান
·
কর
সংগ্রহ ও রাজস্ব নীতিতে
সরকারের জন্য পরিকল্পনা ও পরামর্শ।
·
দেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাজেট প্রণয়নে
সহায়ক ভূমিকা পালন।
উপসংহার
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের রাজস্ব সংগ্রহ, কর আইন বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক তদারকি ও নীতি প্রণয়নের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ।
এর কার্যাবলী কার্যকরভাবে সম্পাদন করলে দেশের রাজস্ব সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার সম্ভব
হয়।
No comments