লিসপেনন্ডেন্স নীতিটি ব্যাখ্যা কর। এই নীতির উদ্দেশ্য কি? নোটিসের নীতি দ্বারা এই নীতির প্রয়োগ কি ক্ষতিগ্রস্ত হবে? আলোচনা কর।? মামলা চলিত অবস্থায় কৃত কোন হস্তান্তর কি বাতিল? মার্শালিং এবং কন্ট্রিবিউশনর
৩. (ক) লিসপেনন্ডেন্স নীতিটি ব্যাখ্যা কর। এই নীতির উদ্দেশ্য কি? নোটিসের নীতি দ্বারা এই নীতির
প্রয়োগ
কি ক্ষতিগ্রস্ত হবে? আলোচনা কর।? মামলা চলিত অবস্থায় কৃত কোন হস্তান্তর কি বাতিল?
(খ) কৃত্রিম মালিক কে? কোন কোন অবস্থায় কৃত্রিম মালিকের কোন হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের উপর
বাধ্যকর হয়?
(গ) মার্শালিং এবং কন্ট্রিবিউশনর সংজ্ঞা দাও ও ব্যাখ্যা কর। উক্ত নীতিদ্বয়ের মধ্যে বিরোধের
লিসপেন্ডেন্স নীতি – সংজ্ঞা
লিসপেন্ডেন্স
নীতি
(Doctrine of Lis Pendens) হলো
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি যা বলে:
“যে কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত
মামলা চলাকালীন সেই সম্পত্তি বা অধিকারের ওপর
করা কোনো লেনদেন বা হস্তান্তর সেই
মামলার রায়ের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।”
অর্থাৎ, মামলা চলাকালীন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা
হলেও সেই হস্তান্তরের বৈধতা আদালতের রায় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
উদাহরণ
·
ধরুন
A, B-কে একটি জমি বিক্রি করেছে।
·
পরে
সেই একই জমি C-কে বিক্রি করা
হলো।
·
A এবং
B-এর মধ্যে মামলার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কে প্রকৃত মালিক।
·
C-এর
অধিকার মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হবে।
·
লিসপেন্ডেন্স নীতি
মামলা
চলাকালীন সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো
হস্তান্তরের কার্যকারিতা আদালতের রায়ের
উপর
নির্ভর
করে।
লিসপেন্ডেন্স নীতি মামলা চলাকালীন সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো হস্তান্তরের কার্যকারিতা আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করে।
উদ্দেশ্য / উদ্দেশ্যসমূহ
1. মামলা চলাকালীন প্রতারণা রোধ করা:
o
কোনো
পক্ষ মামলা চলাকালীন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে
পারবে না যাতে অন্য
পক্ষের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
2. আদালতের রায় কার্যকর রাখা:
o
সম্পত্তি
বিক্রয় বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে
মামলার ফলাফলের সাথে সঙ্গতি বজায় থাকে।
3. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা:
o
মামলা
চলাকালীন লেনদেন বা হস্তান্তর অন্যায়ভাবে
সম্পত্তির অধিকারীকে বঞ্চিত করতে পারে না।
4. পক্ষগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা প্রদান করা:
o
মামলা
চলাকালীন ক্রেতা বা বিক্রেতা সাবধান
থাকে এবং আইন অনুসারে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
নীতি অনুযায়ী প্রভাব
1. মামলার সমাধানের আগে হস্তান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল নয়:
o
মামলা
চলাকালীন করা হস্তান্তর তখনই প্রভাবিত হবে, যখন আদালত রায় ঘোষণা করবে।
2. আদালতের রায় অনুযায়ী মালিকানা নির্ধারণ:
o
যে
পক্ষের অধিকারের মামলা চলছে, তার হক রক্ষা হবে।
o
নতুন
ক্রেতা বা হস্তান্তরকারী সেই
রায়ের প্রতি বাধ্য থাকবে।
3. নোটিস নীতি (Doctrine of Notice) এর সম্পর্ক:
o
নতুন
ক্রেতা যদি মামলা সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত
ছিল, তবে তার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
o
অর্থাৎ,
লিসপেন্ডেন্স নীতি নোটিস নীতির সাথে যুক্ত হলে ক্রেতা মামলা চলাকালীন সতর্ক না হলে তার
লেনদেন কার্যকর হবে না।
নোটিসের নীতি দ্বারা এই নীতির প্রয়োগ
কি ক্ষতিগ্রস্ত হবে? আলোচনা কর।
·
ক্ষতিগ্রস্ত
হওয়ার
সম্ভাবনা:
o
সচেতন
ক্রেতা বা হস্তান্তরকারী মামলার
ফলাফলের ফলে সম্পত্তি হারাতে পারে।
o
লিসপেন্ডেন্স
নীতি এখানে আদালতের রায়কে প্রাধান্য দেয়, কিন্তু নোটিস নীতি ক্রেতাকে সতর্ক করে।
·
ক্ষতি
কম হওয়ার ক্ষেত্রে:
o
নতুন
ক্রেতা অজানা বা নির্দোষ হলে
আদালত তার অধিকার রক্ষা করতে পারে।
o
এই
ক্ষেত্রে লিসপেন্ডেন্স নীতি প্রয়োগ হলেও ক্ষতি হয় না।
উদাহরণ:
1. A
তার জমি B-কে বিক্রি করে।
2. B
সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা করে।
3. মামলা চলাকালীন A সেই জমি C-কে বিক্রি করে।
o
যদি
C জানত বা জানা উচিত
ছিল → নোটিস নীতি অনুযায়ী C ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
o
যদি
C অজানা → আদালত তার অধিকার রক্ষা করতে পারে।
নোটিস
নীতি লিসপেন্ডেন্স নীতির প্রয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে সচেতন ক্রেতার ক্ষেত্রে।তবে নোটিস নীতি লিসপেন্ডেন্স নীতিকে বাতিল করে না, বরং সতর্কতার সঙ্গে কার্যকর করে।
1. মূল উদ্দেশ্য দুই নীতির সংমিশ্রণে:
o
মামলা
চলাকালীন প্রতারণা রোধ।
o
আদালতের
রায় কার্যকর রাখা।
o
পক্ষগুলোর
ন্যায্য অধিকার রক্ষা।
·
লিসপেন্ডেন্স
নীতি মামলা চলাকালীন হস্তান্তর রায় অনুযায়ী প্রভাবিত হবে।
·
নোটিস
নীতি সচেতন ক্রেতার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নোটিস
নীতি লিসপেন্ডেন্স নীতির প্রয়োগকে সতর্ক ও কার্যকর করে,
ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নীতির মূল উদ্দেশ্য রক্ষা পায়।
মামলা চলিত অবস্থায় কৃত কোন হস্তান্তর কি বাতিল?
মামলা চলাকালীন হস্তান্তরের ক্ষেত্রে লিসপেন্ডেন্স নীতি (Doctrine of
Lis Pendens) প্রযোজ্য।
·
লিসপেন্ডেন্স
নীতি
অনুযায়ী:
মামলা
চলাকালীন করা হস্তান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
·
অর্থাৎ,
মামলা চলাকালীন বিক্রয়, হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা
স্বাভাবিকভাবে বাতিল নয়, তবে মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
২. হস্তান্তরের বৈধতা নির্ধারণের ধাপ
1. মামলার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীলতা:
o
আদালতের
রায় অনুযায়ী হস্তান্তর বৈধ বা অবৈধ হতে পারে।
o
যদি
আদালত সিদ্ধান্তে বলেছে আসল মালিক অন্য, তাহলে নতুন ক্রেতা বা হস্তান্তরকারী সম্পত্তি
হারাবে।
2. নোটিস নীতির প্রভাব:
o
যদি
নতুন ক্রেতা বা হস্তান্তরকারী মামলা
সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত
ছিল, তার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
o
নির্দোষ
ক্রেতার ক্ষেত্রে আদালত তার অধিকার রক্ষা করতে পারে।
৩. উদাহরণ
1. A
জমি B-কে বিক্রি করেছে।
2. B
সেই জমি নিয়ে মামলা করেছে।
3. মামলা চলাকালীন A জমি C-কে বিক্রি করেছে।
ফলাফল:
·
C যদি
জানত বা জানা উচিত
ছিল মামলা চলছে → তার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
·
C যদি
অজানা → আদালত রায়ের পর তার অধিকার
রক্ষা করতে পারে।
·
মুখ্য
কথা:
মামলা চলাকালীন হস্তান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না, তবে রায় অনুযায়ী প্রভাবিত হতে পারে।
উপসংহার
·
মামলা
চলাকালীন করা হস্তান্তর সরাসরি বাতিল নয়।
·
হস্তান্তরের
বৈধতা নির্ভর করে:
1. আদালতের রায়ের ওপর।
2. নোটিস নীতির প্রয়োগ (সচেতন ক্রেতা বা হস্তান্তরকারী)।
·
মূল
উদ্দেশ্য: মামলার ফলাফলের আগে কোনো পক্ষের প্রতারণা রোধ করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
(খ) কৃত্রিম
মালিক
কে?
কোন
কোন
অবস্থায়
কৃত্রিম
মালিকের
কোন
হস্তান্তর
প্রকৃত
মালিকের
উপর
বাধ্যকর
হয়?
কৃত্রিম মালিক হল সেই ব্যক্তি,
যিনি প্রকৃত মালিক না হওয়া সত্ত্বেও
প্রকৃত মালিকের সম্মতিতে (স্পষ্ট বা নীরবভাবে) কোনো
স্থাবর সম্পত্তির মালিক হিসেবে প্রকাশ্যে বা আচরণে প্রতীয়মান হন এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে মালিক বলে উপস্থাপন করেন।
অন্যভাবে বলা যায়, যে ব্যক্তি
প্রকৃত মালিক না হয়েও প্রকৃত
মালিকের সম্মতিতে সম্পত্তির মালিক হিসেবে প্রতীয়মান হয়, তাকে কৃত্রিম মালিক বলা হয়।
কোনো ব্যক্তিকে কৃত্রিম মালিক বলতে হলে নিচের বিষয়গুলো থাকতে হবে—
1. প্রকৃত মালিকের অস্তিত্ব
o
সম্পত্তির
একজন প্রকৃত ও আইনগত মালিক
অবশ্যই থাকতে হবে।
2. প্রকৃত মালিকের সম্মতি
3.মালিক হিসেবে প্রতীয়মান হওয়া
4.বাস্তবে
মালিকানা
না থাকা
কোন কোন অবস্থায় কৃত্রিম মালিকের হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের উপর বাধ্যকর হয়? — বিস্তারিত আলোচনা
(Transfer of Property Act, 1882-এর
ধারা ৪১ অনুযায়ী)
Transfer of Property Act-এর
ধারা ৪১ কৃত্রিম মালিকের
(Ostensible Owner) দ্বারা
করা হস্তান্তরের আইনগত কার্যকারিতা নির্ধারণ করেছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কৃত্রিম মালিক প্রকৃত মালিক না হওয়ায় তার
দ্বারা করা হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের উপর বাধ্যকর নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে কৃত্রিম মালিকের হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের উপর বাধ্যকর হয়।
নিম্নে সেই শর্তগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো—
১) প্রকৃত মালিকের সম্মতি থাকতে হবে
কৃত্রিম মালিককে মালিক হিসেবে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিকের স্পষ্ট বা নীরব সম্মতি থাকতে হবে।
সম্মতি না থাকলে ধারা
৪১ প্রযোজ্য হবে না।
উদাহরণ:
প্রকৃত মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তির নামে দলিল, রেকর্ড বা দখল প্রদান
করলে তা নীরব সম্মতি
হিসেবে গণ্য হয়।
২) কৃত্রিম মালিক মালিক হিসেবে প্রতীয়মান হতে হবে
কৃত্রিম মালিক এমন অবস্থানে থাকবে যেন সাধারণ মানুষ তাকে সম্পত্তির মালিক মনে করে।
এটি হতে পারে—
·
দখল
থাকার মাধ্যমে
·
খাজনা
বা কর প্রদানের মাধ্যমে
·
সরকারি
রেকর্ড বা দলিলের মাধ্যমে
·
দীর্ঘদিন
মালিকসুলভ আচরণের মাধ্যমে
৩) হস্তান্তর অবশ্যই বিনিময়ের মাধ্যমে হতে হবে
কৃত্রিম মালিকের হস্তান্তর for
consideration হতে
হবে।
অর্থাৎ—
·
বিক্রয়
(Sale)
·
বন্ধক
(Mortgage)
·
বিনিময়
(Exchange)
·
ইজারা
(Lease)
দান
(Gift) হলে এই ধারা প্রযোজ্য
নয়, কারণ সেখানে বিনিময় নেই।
৪) হস্তান্তরগ্রহীতা সদ্ভাবপূর্ণ হতে হবে (Good Faith)
হস্তান্তরগ্রহীতা অবশ্যই সদ্ভাবপূর্ণভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করবে।
অর্থাৎ—
·
সে
জানত না যে কৃত্রিম
মালিক প্রকৃত মালিক নয়
·
জানার
মতো যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল না
যদি সে প্রতারণা বা
সন্দেহ জেনেও হস্তান্তর গ্রহণ করে, তবে ধারা ৪১ প্রযোজ্য হবে
না।
৫) হস্তান্তরগ্রহীতা যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা
অবলম্বন করবে
হস্তান্তরগ্রহীতাকে
প্রমাণ করতে হবে যে সে—
·
মালিকানা
যাচাই করেছে
·
দলিল,
রেকর্ড ও পরিস্থিতি অনুযায়ী
যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা গ্রহণ করেছে
যথাযথ সতর্কতা না নিলে সে
ধারা ৪১-এর সুরক্ষা
পাবে না।
৬) হস্তান্তরটি আইনসম্মত হতে হবে
হস্তান্তরটি আইনবিরোধী বা অবৈধ উদ্দেশ্যে
হলে প্রকৃত মালিকের উপর তা বাধ্যকর হবে
না।
উপসংহার
Transfer of Property Act, 1882-এর
ধারা ৪১ অনুযায়ী প্রকৃত
মালিকের সম্মতিতে মালিক হিসেবে প্রতীয়মান কৃত্রিম মালিক যদি বিনিময়ের মাধ্যমে সদ্ভাবপূর্ণ ও যথাযথ সতর্কতাসম্পন্ন
হস্তান্তরগ্রহীতার নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে সেই হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের উপর বাধ্যকর হয়।
(গ) মার্শালিং ও কন্ট্রিবিউশন : সংজ্ঞা
ও ব্যাখ্যা
মার্শালিং
(Marshalling) ও কন্ট্রিবিউশন
(Contribution) হলো Transfer
of Property Act, 1882-এ
স্বীকৃত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়নীতিভিত্তিক নীতি, যা মূলত বন্ধক
(Mortgage) সম্পর্কিত
বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই নীতিগুলোর উদ্দেশ্য
হলো বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত ভারসাম্য ও সুবিচার নিশ্চিত
করা।
মার্শালিং
(Marshalling)
সংজ্ঞা :
যখন কোনো দেনাদারের একাধিক সম্পত্তি থাকে এবং সে ঐ সম্পত্তিগুলো
প্রথমে একজন বন্ধকগ্রহীতার নিকট বন্ধক রাখে এবং পরে ঐ সম্পত্তির কোনো
একটি বা একাধিকটি অন্য
কোনো বন্ধকগ্রহীতার নিকট বন্ধক রাখে, তখন পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার স্বার্থ রক্ষার্থে প্রথম বন্ধকগ্রহীতাকে এমনভাবে তার পাওনা আদায় করতে বাধ্য করা হয় যাতে পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার নিরাপত্তা অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এই
নীতিকে মার্শালিং বলা হয়।
এটি
Transfer of Property Act-এর ধারা ৮১-এ
উল্লেখিত।
ব্যাখ্যা
:
প্রথম বন্ধকগ্রহীতার আইনগত অধিকার থাকে দেনাদারের সকল বন্ধকীকৃত সম্পত্তি থেকে তার ঋণ আদায় করার।
কিন্তু ন্যায়নীতির ভিত্তিতে তাকে বলা হয়—যদি সম্ভব হয়, তবে সে যেন প্রথমে
সেই সম্পত্তি থেকে তার পাওনা আদায় করে, যা পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার
নিকট বন্ধক দেওয়া হয়নি। তবে মার্শালিং এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে না যাতে প্রথম
বন্ধকগ্রহীতার অধিকার বা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত
হয়।
উদাহরণ :
রহিমের দুটি জমি A ও B। তিনি
প্রথমে A ও B উভয় জমি ব্যাংক X-এর নিকট বন্ধক
দেন। পরে তিনি শুধুমাত্র A জমি ব্যাংক Y-এর নিকট বন্ধক
দেন। এই ক্ষেত্রে ব্যাংক
Y দাবি করতে পারে যে ব্যাংক X আগে
B জমি থেকে তার পাওনা আদায় করুক। এটিই মার্শালিং।
কন্ট্রিবিউশন
(Contribution)
সংজ্ঞা :
যখন একাধিক সম্পত্তি সমানভাবে একটি সাধারণ ঋণের জন্য দায়বদ্ধ থাকে এবং ঐ ঋণ পরিশোধের
জন্য কোনো একটি সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ অর্থ
আদায় করা হয়, তখন যে সম্পত্তি অতিরিক্ত
বোঝা বহন করেছে, সে অন্য সম্পত্তিগুলোর
নিকট থেকে অনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে—এই নীতিকে কন্ট্রিবিউশন
বলা হয়।
এটি Transfer
of Property Act-এর
ধারা
৮২-এ বর্ণিত।
ব্যাখ্যা
:
যেহেতু সব সম্পত্তি একই
ঋণের জন্য সমানভাবে দায়বদ্ধ, তাই ন্যায়নীতির দাবি হলো—একটি সম্পত্তি একা পুরো ঋণের বোঝা বহন করবে না। যদি কোনো একটি সম্পত্তি থেকে পুরো ঋণ আদায় করা
হয়, তবে ঐ সম্পত্তির মালিক
অন্য সম্পত্তির মালিকদের নিকট থেকে তাদের অনুপাতিক অংশ দাবি করতে পারবে।
উদাহরণ :
রহিমের তিনটি জমি A, B ও C একটি ঋণের জন্য সমানভাবে বন্ধক। ঋণদাতা পুরো ঋণ শুধুমাত্র A জমি
বিক্রি করে আদায় করল। তখন A জমির মালিক B ও C জমির মালিকদের কাছ থেকে অনুপাতে অর্থ দাবি করতে পারবে। এটিই কন্ট্রিবিউশন।
উপসংহার
মার্শালিং ও কন্ট্রিবিউশন উভয়ই
ন্যায়নীতিভিত্তিক নীতি। মার্শালিং-এর উদ্দেশ্য হলো
পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার স্বার্থ রক্ষা করা এবং কন্ট্রিবিউশন-এর উদ্দেশ্য হলো
সমান দায়ে আবদ্ধ সম্পত্তিগুলোর মধ্যে ন্যায্য বোঝা বণ্টন করা। এই দুই নীতির
মাধ্যমে সম্পত্তি আইনে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত
হয়।
বিরোধের ফলাফল
1. মার্শালিং নীতির অগ্রাধিকার
o
তৃতীয়
পক্ষ (পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতা) যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
না তা নিশ্চিত করতে
প্রথম বন্ধকগ্রহীতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
o
অর্থাৎ,
পরবর্তী বন্ধকগ্রহীতার স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
2. কন্ট্রিবিউশন নীতি তার পরিপূরক হিসেবে কার্যকর
o
মার্শালিং
প্রয়োগের পর বাকি বোঝা
সমানভাবে বিতরণ করা যায়।
o
কন্ট্রিবিউশন
শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সমান বণ্টনের জন্য প্রযোজ্য।
3. ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি
o
মার্শালিং
নীতির লক্ষ্য হলো ন্যায়সঙ্গত ও নির্দোষ পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা।
o
কন্ট্রিবিউশন
মূলত সমান বোঝা ভাগের ন্যায্যতা নিশ্চিত করে, কিন্তু তৃতীয় পক্ষের স্বার্থের তুলনায় গৌণ।
No comments