(ক) বিচারিক কার্যক্রমে কিছু কিছু প্রশ্ন কেন করা যায় না? অনুচিত প্রশ্ন বাধাদানে আদালতের কী কী অধিকার আছে? সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কখন কীভাবে অভিযুক্ত করা যায়? সাক্ষীকে প্রশ্ন করার জন্য বিচারকের সাধারণ ক্ষমতায় কী কী সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে? (খ) কেন বলা হয়ে থাকে যে, “আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে মামলার বিচার করা, মানুষের নয়?
১১।(ক) বিচারিক কার্যক্রমে
কিছু কিছু প্রশ্ন কেন করা যায় না? অনুচিত প্রশ্ন বাধাদানে আদালতের কী কী অধিকার
আছে? সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কখন কীভাবে অভিযুক্ত করা যায়? সাক্ষীকে প্রশ্ন করার জন্য বিচারকের সাধারণ ক্ষমতায় কী কী সীমাবদ্ধতা
আরোপ করা হয়েছে?
(খ) কেন বলা
হয়ে থাকে যে, “আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে মামলার বিচার করা, মানুষের নয়?
বিচারিক
কার্যক্রমে কিছু কিছু প্রশ্ন কেন করা যায় না
১.
অপ্রাসঙ্গিক
বা
অযৌক্তিক
প্রশ্ন
(Irrelevant Questions)
মামলার
বিষয়ের
সঙ্গে
সম্পর্কিত
না
হওয়া:
কিছু প্রশ্ন মামলা বা অভিযোগের সঙ্গে
সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এমন প্রশ্নের মাধ্যমে সাক্ষীর মনোভাব প্রভাবিত হতে পারে, যা মামলার সঠিক
বিচারকে বিপর্যস্ত করে।
উদাহরণ:হত্যার মামলায় সাক্ষীর ব্যক্তিগত প্রেমের জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা।আর্থিক মামলায় সাক্ষীর ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের
দিকে প্রশ্ন করা।
কারণ:
আদালতের লক্ষ্য হলো সত্য
উদঘাটন
করা,
ব্যক্তিগত বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়
নয়। অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন মামলার মূল সত্যকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
২.
প্রাইভেসি
ও
নিরাপত্তার
স্বার্থ
(Privacy & Safety)
সাক্ষীর
নিরাপত্তা:কোনো প্রশ্ন যদি সাক্ষীকে হুমকি, শারীরিক ক্ষতি বা মানসিক চাপের
সম্মুখীন করতে পারে, তা করা যায়
না।উদাহরণ: ধর্ষণ মামলায় ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা।
গোপনীয়তা
সংরক্ষণ:তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত তথ্য, যা মামলার সঙ্গে
সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তা প্রকাশ করা
আইনত নিষিদ্ধ।
৩.
প্ররোচনা
বা
পক্ষপাত
সৃষ্টি
(Improper Influence)
প্রশ্নের
মাধ্যমে
প্রভাবিত
করা:
কোনো পক্ষ যদি সাক্ষীর উত্তর প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বা সাক্ষীকে আতঙ্কিত
করে, তা বেআইনি।
উদাহরণ: "আপনি কি সত্যিই একজন
সৎ মানুষ?"—যদি এটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়।
কারণ:বিচার প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতমুক্ত রাখা।সাক্ষী যাতে নিজের
মনের
সত্যটি
অবাধে
বলতে
পারে।
৪.
পুনরাবৃত্তি
বা
অযথা
চাপ
(Repetitive or Harassing Questions)
একই
প্রশ্ন
বারবার
করা:
সাক্ষীর উপর চাপ তৈরি করতে বা বিভ্রান্ত করতে।যেমন:
একই ঘটনার বিভিন্ন রকমে প্রশ্ন করা, যাতে সাক্ষী বিভ্রান্ত হয়।
কারণ:এটি সাক্ষীর
স্বাভাবিক
প্রতিক্রিয়াকে
প্রভাবিত
করে
এবং ন্যায়বিচারকে বিঘ্নিত করে।
৫.
চরিত্র
বা
নৈতিকতার
আক্রমণ
(Character Assassination)
সাক্ষীর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন, যা মামলার সঙ্গে
সম্পর্কিত নয়, তা নিষিদ্ধ।
উদাহরণ:"আপনি কি কখনো মিথ্যা
বলেছেন?" (যদি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়) "আপনার
জীবনধারা ঠিক নয়"
·
কারণ:
o
আদালতের
কাজ হলো মামলার
সত্য
উদঘাটন,
ব্যক্তির নৈতিক বিচার নয়।
৬.
আদালতের
ক্ষমতা
এবং
নিয়ন্ত্রণ
আদালত যে
কোনো
অযাচিত
প্রশ্ন
বন্ধ
করার
অধিকার
রাখে।সাক্ষীকে বাধ্য করা যাবে না এমন প্রশ্নের
উত্তর দিতে।
সীমাবদ্ধতা:শুধুমাত্র মামলার সম্পর্কিত তথ্য জিজ্ঞাসা করা।সাক্ষীর মানবিক মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা
করা।পক্ষপাত বা প্ররোচনা থেকে
বিরত থাকা।
অনুচিত প্রশ্ন বাধাদানে আদালতের কী কী অধিকার আছে?
১.
প্রশ্ন
বাতিল
করার
অধিকার
(Right to Strike or Disallow Questions)
·
আদালত
যে কোনো প্রশ্ন বাতিল
বা
বন্ধ
করার
ক্ষমতা
রাখে,
যদি তা:
1. মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়।
2. সাক্ষীকে বিভ্রান্ত বা প্ররোচিত করে।
3. অযথা চাপ সৃষ্টি করে।
উদাহরণ:
হত্যার মামলায় সাক্ষীর ব্যক্তিগত প্রেমের জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা। আর্থিক মামলায় সাক্ষীর ধর্ম বা রাজনৈতিক বিশ্বাস
জিজ্ঞাসা করা। বিচারকের কাজ হলো প্রাসঙ্গিক
তথ্য
সংগ্রহ
করা,
অপ্রাসঙ্গিক
নয়।
২.
সাক্ষীকে
প্রশ্নের
উত্তর
দিতে
বাধ্য
না
করার
অধিকার
(Right to Protect Witness from Answering)
·
আদালত
সাক্ষীকে
অযাচিত
বা
অপ্রয়োজনীয়
প্রশ্নের
উত্তর
দিতে
বাধ্য
করতে
পারে
না।
·
বিশেষ
করে, যদি প্রশ্ন:
1. সাক্ষীর নিরাপত্তা বা প্রাইভেসি বিপন্ন
করে।
2. গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করে।
3. সাক্ষীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
উদাহরণ:
ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য সাক্ষীকে বাধ্য করা।
৩.
আদালতের
ন্যায়বিচারের
নির্দেশ
দেওয়ার
অধিকার
(Right to Direct Fair Trial)
আদালত প্রশ্নের
পদ্ধতি
ও
সীমা
নির্ধারণ
করতে
পারে।এটি নিশ্চিত করে যে:মামলার প্রমাণ
স্বচ্ছ
ও
প্রাসঙ্গিক। সাক্ষী নিরপেক্ষভাবে
এবং
চাপমুক্তভাবে
কথা বলতে পারে। পক্ষপাত বা প্ররোচনার কোনো
সুযোগ নেই।
উদাহরণ:
যদি আইনজীবী বারবার একই প্রশ্ন করে সাক্ষীকে বিভ্রান্ত করতে চায়, আদালত প্রশ্নের
পুনরাবৃত্তি
বন্ধ
করতে পারে।
৪.
সাক্ষীর
মর্যাদা
রক্ষার
অধিকার
(Right to Protect Witness Dignity)
আদালত সাক্ষীর
মানবিক
মর্যাদা
রক্ষা
করতে
পারে।এর অর্থ হলো, আদালত প্রশ্ন অনুমোদন বা নিষিদ্ধ করতে
পারে যাতে সাক্ষী অপ্রয়োজনীয় মানসিক বা সামাজিক আঘাত
না পায়।
উদাহরণ:ব্যক্তিগত চরিত্রের উপর অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ।পরিবারের সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবন
নিয়ে প্রশ্ন।
৫.
বিচারিক
তত্ত্বাবধান
বা
ক্ষমতা
(Judicial Supervisory Power)
আদালত প্রশ্নের
প্রাসঙ্গিকতা
ও
ন্যায়সঙ্গততা
পর্যবেক্ষণ
করতে পারে।যদি কোনো পক্ষ বা আইনজীবী প্রশ্নকে মামলার
সীমার
বাইরে
নিয়ে
যায়,
আদালত স্থগিত
বা
বাতিল
করতে
পারে।
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা কখন কীভাবে অভিযুক্ত করা যায়
১.
সাক্ষীর
বিশ্বাসযোগ্যতা
কি?
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা বলতে বোঝায় সাক্ষীর দেওয়া তথ্য কতটা নির্ভুল, নির্ভীক ও সত্যসম্মত।আদালত
কখনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরে নেয় না যে সকল সাক্ষী সত্য বলছে।তাই প্রমাণের স্বার্থে কখনও কখনও সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা চ্যালেঞ্জ করা যায়।
২.
কখন
সাক্ষীর
বিশ্বাসযোগ্যতা
অভিযুক্ত
করা
যায়?
সাধারণত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে:
1. সাক্ষ্যের
মধ্যে
স্বতঃবিরোধ
বা
অসঙ্গতি:
যদি সাক্ষী একই ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্নভাবে
বা
একে
অপরের
সঙ্গে
বিরোধপূর্ণভাবে
বলে। উদাহরণ: একটি চুরির ঘটনা সাক্ষী প্রথমে বলল “আমি দেখেছি সে রাত ৮টায়
বাড়িতে ছিল”, পরে বলল “আমি রাতে ঘরে ছিলাম না।”
2. পূর্ববর্তী
মিথ্যা
বা
অপরাধমূলক
আচরণ:
সাক্ষী যদি পূর্বে মিথ্যা
বলার
বা
প্রতারণার
ইতিহাস
রাখে। আদালত বা উভয় পক্ষের
আইনজীবী এটি তুলে ধরতে পারে।
3. সাক্ষীর
পক্ষপাত
বা
প্ররোচনা:
সাক্ষী যদি পক্ষপাতমূলক
হয়,
যেমন: অভিযুক্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা লাভ-ক্ষতির
সম্পর্ক।উদাহরণ: একটি মামলা যেখানে সাক্ষী অভিযুক্তের শত্রু, তখন তার সাক্ষ্য প্রভাবিত হতে পারে।
4. বাহ্যিক
প্রমাণের
সঙ্গে
বিরোধ:
সাক্ষীর বক্তব্য যদি দস্তাবেজ,
ছবি
বা
অন্য
স্বতন্ত্র
প্রমাণের
সঙ্গে
বিরোধপূর্ণ
হয়।আদালত তখন সেই সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্ন করতে পারে।
৩.
বিশ্বাসযোগ্যতা
চ্যালেঞ্জ
করার
পদ্ধতি
1. সাক্ষীর
প্রশ্নের
মাধ্যমে
(Cross-examination): প্রতিপক্ষের
আইনজীবী সাক্ষীর কথা পরীক্ষা
ও
যাচাই
করতে পারে।লক্ষ্য: অসঙ্গতি,
ভুল
তথ্য
বা
পক্ষপাত
উদঘাটন।
2. পূর্ববর্তী
বিবৃতির
প্রমাণ:
সাক্ষীর পূর্ববর্তী বিবৃতি, যেমন FIR বা দফতরী নথি,
ব্যবহার করা যেতে পারে।যদি তা বর্তমান সাক্ষ্যের
সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ হয়, বিশ্বাসযোগ্যতা কমে।
3. সাক্ষীর
চরিত্র
বা
অতীত
আচরণ:শুধু তখনই প্রযোজ্য যখন এটি মামলার
প্রাসঙ্গিকতা
অনুযায়ী।উদাহরণ: মিথ্যা বলার ইতিহাস থাকলে তা বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্ন
করতে ব্যবহৃত হয়।
4. বাহ্যিক
প্রমাণের
তুলনা:
অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে সাক্ষীর বক্তব্য মিলিয়ে দেখা।যদি বড় পার্থক্য থাকে, আদালত বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে বিচার করতে পারে।
৪.
আদালতের
ভূমিকা:
আদালত
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে।চ্যালেঞ্জ করা হলেও, শেষ সিদ্ধান্ত আদালতের।আদালত বিচার করতে পারে: সাক্ষী কতটা নির্ভরযোগ্য এবং সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে মামলা কেমন প্রভাবিত হবে।
সাক্ষীকে প্রশ্ন করার জন্য বিচারকের সাধারণ ক্ষমতায় কী কী সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে?
১.
বিচারকের
সাধারণ
ক্ষমতা
কী?
বিচারক সাধারণভাবে মামলা চলাকালীন সাক্ষীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয়
তথ্য
সংগ্রহ
করার
জন্য
প্রশ্ন করতে পারে।এটি নিশ্চিত করে যে সত্য
উদঘাটিত
হচ্ছে
এবং
মামলার
ন্যায়সঙ্গত
বিচার
হচ্ছে।তবে, এই ক্ষমতা সীমাহীন
নয়।
২.
সীমাবদ্ধতার
ধরন
(ক) প্রাসঙ্গিকতা (Relevance)
বিচারক শুধু সেই প্রশ্ন করতে পারেন যা মামলার
সঙ্গে
সম্পর্কিত।অপ্রাসঙ্গিক বা ব্যক্তিগত জীবন,
ধর্ম, রাজনৈতিক বিশ্বাস ইত্যাদি মামলার বিচারে প্রভাব ফেলে না।
উদাহরণ:
হত্যার মামলায় সাক্ষীর প্রেম জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন করা অযৌক্তিক
ও
নিষিদ্ধ।
(খ) সাক্ষীর মানবিক মর্যাদা ও প্রাইভেসি (Dignity & Privacy)
সাক্ষীর গোপনীয়তা
ও
মর্যাদা
রক্ষা
করা
বাধ্যতামূলক।প্রশ্ন এমন হওয়া উচিত যা মানসিক
চাপ
বা
সামাজিক
আঘাত
সৃষ্টি
না
করে।
উদাহরণ:
ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের
মামলায় সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশের জন্য চাপ দেওয়া যাবে না।
(গ) পক্ষপাত বা প্ররোচনা থেকে বিরত থাকা (Impartiality)
বিচারককে পক্ষপাতহীন
থাকতে
হবে।কোনো প্রশ্ন পক্ষের
সুবিধা
বা
অসুবিধা
সৃষ্টি
করতে
পারবে
না।
উদাহরণ:
“আপনি কি অভিযুক্তকে ভালবাসেন?”—এ ধরনের প্রশ্ন
মামলা প্রভাবিত করে এবং পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে।
(ঘ) পুনরাবৃত্তি বা চাপ সৃষ্টি (Repetition & Harassment)
একই বিষয়ের উপর বারবার প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ।এটি সাক্ষীর উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা কমায়।
উদাহরণ:একই ঘটনার বিভিন্ন রূপে ১০ বার প্রশ্ন
করা, যাতে সাক্ষী বিভ্রান্ত হয়।
(ঙ) আইনের সীমা (Legal Boundaries)
বিচারকের ক্ষমতা আইনের
বাইরে
যাবে
না।কোনো প্রশ্ন যদি আইনত
দণ্ডনীয়
হয়
বা
নিষিদ্ধ
তথ্য
প্রকাশ
করে,
তা করা যাবে না।
উদাহরণ:
গোপন সরকারি নথি বা আইনত সংরক্ষিত
তথ্য প্রকাশের জন্য প্রশ্ন।
(খ)
কেন বলা হয়ে থাকে যে, “আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে মামলার বিচার করা, মানুষের নয়?
“আদালতের
দায়িত্ব
হচ্ছে
মামলার
বিচার
করা,
মানুষের
নয়”
– ব্যাখ্যা
1. আদালতের
মূল
লক্ষ্য:
সত্য
উদঘাটন
এবং
ন্যায়বিচার:
আদালত মামলার
প্রমাণ
এবং
আইনের
ভিত্তিতে
সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি, সহানুভূতি বা কোনো ব্যক্তির
প্রতি ভালোবাসা-ঘৃণা কোনো প্রভাব ফেলে না।
2. ব্যক্তিগত
পক্ষপাত
থেকে
মুক্তি:
বিচারক কোনো
পক্ষের
সঙ্গে
ব্যক্তিগত
সম্পর্ক
বা
অনুভূতির
ভিত্তিতে
রায় দেয় না। উদাহরণ: অভিযুক্তের ব্যক্তিগত চরিত্র ভালো হলেও, প্রমাণ অনুযায়ী দোষী হলে দোষী সাব্যস্ত হবে।
3. আইনের
শাসন
বজায়
রাখা:
আদালতের কাজ হলো আইন
অনুযায়ী
ন্যায়
প্রতিষ্ঠা
করা,
ব্যক্তিগত সমবেদনা নয়।প্রত্যেককেই সমানভাবে আইনের সামনে বিচার করা হয়।
4. সত্য
উদঘাটনের
উপরে
গুরুত্ব:
লক্ষ্য হলো ঘটনার
বাস্তব
সত্য
উদঘাটন।ব্যক্তি বা সমাজের প্রতি
ব্যক্তিগত দয়া, অনুগ্রহ বা বিরোধ এখানে
প্রযোজ্য নয়।
5. সাক্ষ্য
ও
প্রমাণের
ভিত্তিতে
বিচার:
আদালত কেবল
প্রমাণ,
সাক্ষ্য
এবং
আইনি
বিধান
বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।মানুষের চরিত্র, ধন-সম্পদ, সামাজিক
অবস্থান বা জনপ্রিয়তা বিচার
প্রভাবিত করতে পারে না।
No comments