Header Ads

Header ADS

বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে কি বুঝ? বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিগুলো কি কি? বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন দেশের উন্নয়নে কিভাবে অবদান রাখতে পারে তা আলোচনা কর।

 

১) (ক)বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে কি বুঝ?

(খ)  বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিগুলো কি কি?

(গ)বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন দেশের উন্নয়নে কিভাবে অবদান রাখতে পারে তা আলোচনা কর।

 

(ক) বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে কি বুঝ?

বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে সেই সব সম্পত্তিকে বোঝায়, যেগুলো উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়ে জাতীয় আয় বা সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

অর্থাৎ, যে সম্পত্তি ব্যবহার করে নতুন পণ্য বা সেবা উৎপাদন করা যায় এবং ভবিষ্যতে আরও আয় সৃষ্টি হয়, তাকে বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলা হয়।

উদাহরণ:
কারখানা, যন্ত্রপাতি, কৃষিজমি, কাঁচামাল, দোকান, অফিস ভবন ইত্যাদি।

(খ) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিগুলো কি কি

 

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলতে মানুষের মেধা, চিন্তা সৃজনশীলতা থেকে সৃষ্ট সম্পত্তিকে বোঝায়। প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তিগুলো হলো

  1. পেটেন্ট (Patent)নতুন আবিষ্কার বা প্রযুক্তির ওপর অধিকার
  2. কপিরাইট (Copyright)সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, সফটওয়্যার ইত্যাদির ওপর অধিকার
  3. ট্রেডমার্ক (Trademark)পণ্য বা সেবার নাম, লোগো, চিহ্ন ইত্যাদি
  4. শিল্প নকশা (Industrial Design)পণ্যের বাহ্যিক নকশা বা আকৃতি
  5. ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indication – GI)নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরিচয় বহনকারী পণ্য
  6. ট্রেড সিক্রেট (Trade Secret)গোপন সূত্র, পদ্ধতি বা ব্যবসায়িক তথ্য

এগুলোই মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রধান ধরন।

 

 

 

 

 

(গ) বৃদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন দেশের উন্নয়নে কিভাবে অবদান রাখতে পারে তা আলোচনা কর

 

 

ভূমিকা

বৃদ্ধিবৃত্তিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন বলতে মানুষের মেধা, চিন্তা সৃজনশীলতা থেকে সৃষ্ট সম্পদের আইনগত সুরক্ষাকে বোঝায়। পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, শিল্প নকশা ইত্যাদি এই আইনের অন্তর্ভুক্ত। একটি দেশের টেকসই উন্নয়নে আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

. উদ্ভাবন গবেষণায় উৎসাহ প্রদান

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন উদ্ভাবক গবেষকদের তাদের আবিষ্কারের উপর একচেটিয়া অধিকার প্রদান করে। ফলে তারা নতুন প্রযুক্তি, ওষুধ, যন্ত্রপাতি পণ্য উদ্ভাবনে আগ্রহী হন। এর ফলে বিজ্ঞান প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটে।

 

. শিল্পায়ন বিনিয়োগ বৃদ্ধি

আইনগত সুরক্ষা থাকলে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ পায়। এতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপিত হয়, যা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটায়।

 

. কর্মসংস্থান সৃষ্টি জাতীয় আয় বৃদ্ধি

নতুন শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৃজনশীল খাতের বিকাশের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় আয়ও বাড়ে।

 

. প্রযুক্তি হস্তান্তর দক্ষতা উন্নয়ন

পেটেন্ট লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ হয়। এর ফলে দেশীয় শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদনশীলতা উন্নত হয়।

 

. সৃজনশীলতা সংস্কৃতির বিকাশ

কপিরাইট আইন লেখক, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সুরক্ষা প্রদান করে। এতে সাহিত্য, শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে এবং জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষিত হয়।

 

. নকল অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন নকল পণ্য, পাইরেসি অবৈধ ব্যবহার রোধ করে। এর ফলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা পায়।

 

. রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন থাকলে দেশীয় পণ্যের বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। এতে রপ্তানি বৃদ্ধি পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

 

. ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা

ট্রেডমার্ক ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) আইন ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্যকে সুরক্ষা দেয়। ফলে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

 

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন একটি দেশের উদ্ভাবন, শিল্পায়ন, সংস্কৃতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সুষ্ঠু প্রয়োগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই আইন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।


 

(২)

(ক) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রকৃতি আলোচনা কর

খ) সম্পত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির পার্থক্য দেখাও

(গ) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনাকর।

 

(ক) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রকৃতি আলোচনা কর

 

ভূমিকা

মানুষের চিন্তা, বুদ্ধি সৃজনশীলতা থেকেই জ্ঞান, আবিষ্কার, শিল্পকর্ম বিভিন্ন উদ্ভাবনের জন্ম হয়। এসব সৃজনশীল কাজের ফলই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। আধুনিক বিশ্বে অর্থনীতি, শিল্প, বিজ্ঞান সংস্কৃতির বিকাশে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন এসব সৃষ্টির উপর স্রষ্টার অধিকার নিশ্চিত করে এবং তার যথাযথ ব্যবহার সুরক্ষা প্রদান করে।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রকৃতি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির প্রকৃতি নিম্নোক্ত মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়

. অদৃশ্য মানসিক সৃষ্টিসম্পদ

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি দৃশ্যমান বা ভৌত নয়। এটি মানুষের মেধা, চিন্তা বুদ্ধির ফল। যেমনএকটি বইয়ের কাগজ দৃশ্যমান হলেও এর লেখনী ভাবনা অদৃশ্য সম্পত্তি।

 

. আইনগত স্বীকৃত সম্পত্তি

যদিও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অদৃশ্য, তবুও আইন এর ওপর মালিকানা স্বীকৃতি দেয়। পেটেন্ট, কপিরাইট ট্রেডমার্ক আইনের মাধ্যমে এই সম্পত্তি সুরক্ষিত হয়।

 

. নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অধিকার

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার চিরস্থায়ী নয়। যেমনপেটেন্ট নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ২০ বছর) পর্যন্ত কার্যকর থাকে, কপিরাইটও নির্দিষ্ট মেয়াদে সীমাবদ্ধ।

 

. একচেটিয়া অধিকার প্রদান

এই সম্পত্তির মালিক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া ব্যবহার, বিক্রি বা লাইসেন্স দেওয়ার অধিকার পান। অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করতে পারে না।

 

. অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আর্থিকভাবে মূল্যবান। এটি বিক্রি, লাইসেন্স বা রয়্যালটির মাধ্যমে আয়ের উৎস হতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।

 

. স্থানভেদে প্রযোজ্যতা

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার সাধারণত দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে কার্যকর হয়। তবে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে বহুদেশে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

 

. হস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তি

এই সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে বা চুক্তির মাধ্যমে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায়। ফলে এটি অন্যান্য সম্পত্তির মতোই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য।

 

. সামাজিক কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন স্রষ্টার অধিকার রক্ষা করলেও সামাজিক স্বার্থের কথাও বিবেচনা করে। যেমনশিক্ষা গবেষণায় সীমিত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

 

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি মানুষের মেধা সৃজনশীলতার প্রতিফলন। এর অদৃশ্য অথচ মূল্যবান প্রকৃতি আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সঠিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যক্তি, সমাজ রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

খ) সম্পত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির পার্থক্য দেখাও

ভূমিকা

সম্পত্তি বলতে সাধারণভাবে এমন সব বস্তু বা অধিকারকে বোঝায়, যেগুলোর উপর মানুষের আইনগত মালিকানা থাকে এবং যা অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান। সম্পত্তি প্রধানত দুই প্রকারভৌত (দৃশ্যমান) সম্পত্তি অদৃশ্য সম্পত্তি। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হলো অদৃশ্য সম্পত্তির একটি বিশেষ ধরন, যা মানুষের মেধা সৃজনশীলতা থেকে সৃষ্টি হয়। এই দুই ধরনের সম্পত্তির প্রকৃতি বৈশিষ্ট্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

 

সম্পত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির পার্থক্য

পার্থক্যের বিষয়

সাধারণ সম্পত্তি

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি

প্রকৃতি

দৃশ্যমান ভৌত

অদৃশ্য মানসিক সৃষ্টি

উৎপত্তি

প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ভৌত বস্তু

মানুষের বুদ্ধি সৃজনশীলতা

উদাহরণ

জমি, বাড়ি, গাড়ি, যন্ত্রপাতি

পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক

ব্যবহার

এক ব্যক্তি ব্যবহার করলে অন্যের ব্যবহার সীমিত হয়

বহুজন একই সময়ে ব্যবহার করতে পারে

ক্ষয়

ব্যবহারে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়

ব্যবহারে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না

আইনগত সুরক্ষা

সাধারণ সম্পত্তি আইনে সুরক্ষিত

বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইনে সুরক্ষিত

মালিকানার মেয়াদ

সাধারণত স্থায়ী

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য

স্থানগত সীমা

সর্বত্র স্বীকৃত

সাধারণত দেশভেদে সীমাবদ্ধ

হস্তান্তরযোগ্যতা

সহজে হস্তান্তরযোগ্য

আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তরযোগ্য

অর্থনৈতিক মূল্য

প্রত্যক্ষ ভৌত মূল্য

জ্ঞান সৃজনশীলতার মাধ্যমে মূল্য

 

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, সম্পত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যদিও উভয়ই আইনগতভাবে স্বীকৃত অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবুও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই দুই ধরনের সম্পত্তির পার্থক্য জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

(গ) বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য আলোচনাকর।

ভূমিকা

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাণিজ্য, প্রযুক্তি সংস্কৃতি আর একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। বই, সফটওয়্যার, আবিষ্কার, ব্র্যান্ড শিল্পকর্ম সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি সংস্থার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সুরক্ষা বিশ্বব্যাপী নিশ্চিত করা হয়।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য

. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সুরক্ষা

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ধারণা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে এক দেশের স্রষ্টার অধিকার অন্য দেশেও স্বীকৃতি পায়।

 

. আন্তর্জাতিক চুক্তি কনভেনশন

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য বহু আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে, যেমন

·         বার্ন কনভেনশন (কপিরাইটের জন্য)

·         প্যারিস কনভেনশন (শিল্প সম্পত্তির জন্য)

·         TRIPS চুক্তি (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অধীনে)

এই চুক্তিগুলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণে বাধ্য করে।

 

. জাতীয় আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন

যদিও আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে, তবুও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার মূলত প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনের মাধ্যমে কার্যকর হয়। তাই একে বলা হয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় সুরক্ষা

 

. জাতীয় সমতা নীতি (National Treatment)

আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, একটি দেশের নাগরিক অন্য সদস্য দেশে সেই দেশের নাগরিকের মতোই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সুরক্ষা পায়।

 

. সীমান্ত অতিক্রমী প্রয়োগ

ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সহজেই এক দেশের সীমা অতিক্রম করে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নকল পাইরেসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

. বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO)-এর ভূমিকা

WIPO বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রশাসন সমন্বয় করে। এটি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে এবং আইনগত সহায়তা প্রদান করে।

 

. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে সম্পর্ক

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি, ওষুধ, সফটওয়্যার ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক লেনদেনে এর ভূমিকা অপরিসীম।

 

. উন্নত উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থসমন্বয়

আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ব্যবস্থায় উন্নত উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়, যাতে উন্নয়নশীল দেশও প্রযুক্তি জ্ঞানের সুফল পায়।

 

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি একটি আন্তর্জাতিক চরিত্রসম্পন্ন ধারণা। আন্তর্জাতিক চুক্তি, সংস্থা সহযোগিতার মাধ্যমে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। বিশ্বায়নের এই যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য বিশ্ব অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

No comments

Powered by Blogger.