Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশের একজন দন্ত চিকিৎসক জনাব হাসান এর ঢাকায় একটি দন্ত চিকিৎসালয় থাকাকালীন সময় দেউলিয়া আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং সেই মোতাবেক তাহার সম্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন রিসিভার নিয়োগ পান। রিসিভারের নিকট সম্পত্তি সমর্পিত হইবার সময়- (ক) জনাব হক ঢাকায় অবস্থিত একটি দুই তলা ইমারত হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন, যাহা তিনি জনাব হাসানের নিকট হইতে সরল বিশ্বাসে ক্রয় করেন এবং জনাব হাসান যে মুহূর্তে এই মর্মে অবগত হন যে, তাহার বিরুদ্ধে একটি দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত পড়িয়াছে অমনি তিনি তাহা হস্তান্তর করেন। (খ) জনাব হাসান দন্ত চিকিৎসালয়ের দুইটি ডেন্টাল চেয়ার হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন এই বলিয়া যে উহারা তাহার পেশার সামগ্রী এবং আইনের আওতায় রিসিভারের লওয়ার কোনো অধিকার নাই। আলোচনা কর।

 

১.বাংলাদেশের একজন দন্ত চিকিৎসক জনাব হাসান এর ঢাকায় একটি দন্ত চিকিৎসালয় থাকাকালীন সময় দেউলিয়া আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং সেই মোতাবেক তাহার সম্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন রিসিভার নিয়োগ পান। রিসিভারের নিকট সম্পত্তি সমর্পিত হইবার সময়-

 () জনাব হক ঢাকায় অবস্থিত একটি দুই তলা ইমারত হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন, যাহা তিনি জনাব হাসানের নিকট হইতে সরল বিশ্বাসে ক্রয় করেন এবং জনাব হাসান যে মুহূর্তে এই মর্মে অবগত হন যে, তাহার বিরুদ্ধে একটি দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত পড়িয়াছে অমনি তিনি তাহা হস্তান্তর করেন।

() জনাব হাসান দন্ত চিকিৎসালয়ের দুইটি ডেন্টাল চেয়ার হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন এই বলিয়া যে উহারা তাহার পেশার সামগ্রী এবং আইনের আওতায় রিসিভারের লওয়ার কোনো অধিকার নাই। আলোচনা কর।

 

 

) জনাব হক ঢাকায় অবস্থিত একটি দুই তলা ইমারত হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন, যাহা তিনি জনাব হাসানের নিকট হইতে সরল বিশ্বাসে ক্রয় করেন এবং জনাব হাসান যে মুহূর্তে এই মর্মে অবগত হন যে, তাহার বিরুদ্ধে একটি দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত পড়িয়াছে অমনি তিনি তাহা হস্তান্তর করেন। বিস্তারিত

 

() দুই তলা ইমারত হস্তান্তর সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা

. ঘটনার সারসংক্ষেপ

জনাব হাসান একজন দন্ত চিকিৎসক। ঢাকায় তাঁর একটি দন্ত চিকিৎসালয় থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত আদালতে দাখিল হয়।
এই দরখাস্ত দাখিল হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জনাব হাসান ঢাকায় অবস্থিত তাঁর একটি দুই তলা ইমারত জনাব হকের নিকট হস্তান্তর করেন।
জনাব হক দাবি করেন যে

  • তিনি ইমারতটি সরল বিশ্বাসে (bona fide) ক্রয় করেছেন, এবং
  • তাই তিনি উক্ত সম্পত্তি রিসিভারের নিকট হস্তান্তর করতে বাধ্য নন।

প্রশ্ন হলোএই হস্তান্তরটি কি আইনত বৈধ রিসিভারের বিরুদ্ধে কার্যকর?

 

. প্রযোজ্য আইন

এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দেউলিয়া আইন, ১৯২০ (Insolvency Act, 1920)এর নিম্নোক্ত ধারাগুলো প্রযোজ্য

  • ধারা 28 : দেউলিয়া ঘোষণার পর দেনাদারের সম্পত্তি রিসিভারের নিকট ন্যস্ত (vest) হয়।
  • ধারা 53 : দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত দাখিল হওয়ার পর দেনাদার কর্তৃক কৃত স্বেচ্ছায় হস্তান্তর (voluntary transfer) রিসিভারের বিরুদ্ধে অকার্যকর।

 

. আইনগত মূলনীতি (Legal Principle)

দেউলিয়া আইনের একটি মৌলিক নীতি হলোদেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত দাখিল হওয়ার পর দেনাদার যেন তাঁর সম্পত্তি আত্মসাৎ, গোপন বা পক্ষপাতমূলকভাবে হস্তান্তর করে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে না পারেন।এই উদ্দেশ্যেই আইন বলেছেদরখাস্ত দাখিলের তারিখ থেকেই দেনাদারের সম্পত্তির উপর আদালতের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়।পরবর্তীতে দেনাদার কর্তৃক কৃত হস্তান্তর সাধারণ পাওনাদারদের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাতিলযোগ্য।

 

. সরল বিশ্বাস (Bona fide) প্রসঙ্গে আলোচনা

জনাব হক দাবি করেছেন যে তিনি সরল বিশ্বাসে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। কিন্তু দেউলিয়া আইনে যদি হস্তান্তরটি দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত দাখিল হওয়ার পরে করা হয়, এবং দেনাদার সেই দরখাস্ত সম্পর্কে অবগত থাকেন, তাহলেক্রেতার সরল বিশ্বাস হস্তান্তরটিকে বৈধ করে না।এই ধরনের হস্তান্তরকে void as against the receiver ধরা হয়। অর্থাৎ, হস্তান্তরটি পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কার্যকর হলেও রিসিভারের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়

 

. ঘটনার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ

বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে

  • দেউলিয়া ঘোষণার দরখাস্ত ইতিমধ্যেই দাখিল হয়েছে
  • জনাব হাসান দরখাস্তের বিষয়টি জানতেন
  • জানার পরপরই তিনি সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন

এতে স্পষ্ট যে

হস্তান্তরটি সাধারণ পাওনাদারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। এটি দেউলিয়া আইনের ধারা 53-এর আওতাভুক্ত একটি অকার্যকর হস্তান্তর

 

. সিদ্ধান্ত (Conclusion)

অতএব বলা যায়

  • জনাব হকের সরল বিশ্বাস আইনত সুরক্ষা পাবে না
  • দুই তলা ইমারতটির হস্তান্তর রিসিভারের বিরুদ্ধে অকার্যকর
  • রিসিভার উক্ত সম্পত্তি গ্রহণ করে দেউলিয়া সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন
  • জনাব হকের হস্তান্তর করতে অস্বীকার করার কোনো আইনগত ভিত্তি নাই

() জনাব হাসান দন্ত চিকিৎসালয়ের দুইটি ডেন্টাল চেয়ার হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করেন এই বলিয়া যে উহারা তাহার পেশার সামগ্রী এবং আইনের আওতায় রিসিভারের লওয়ার কোনো অধিকার নাই। আলোচনা কর।

. ঘটনার সারসংক্ষেপ

জনাব হাসান একজন পেশাদার দন্ত চিকিৎসক। দেউলিয়া ঘোষণার পর আদালত কর্তৃক একজন রিসিভার নিয়োগ করা হয় তাঁর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য।
এই সময় জনাব হাসান তাঁর দন্ত চিকিৎসালয়ে ব্যবহৃত দুইটি ডেন্টাল চেয়ার রিসিভারের নিকট হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন।
তাঁর যুক্তি হলোডেন্টাল চেয়ারসমূহ তাঁর পেশা পরিচালনার অপরিহার্য সামগ্রী, এবং আইন অনুযায়ী এগুলো রিসিভারের অধিগ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন হলোএই অস্বীকৃতি কি আইনসম্মত?

 

. প্রযোজ্য আইন

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দেউলিয়া আইন, ১৯২০ (Insolvency Act, 1920)এর ধারা 60 প্রযোজ্য।ধারা 60 অনুযায়ী, দেউলিয়ার নিম্নলিখিত সম্পত্তি রিসিভার গ্রহণ করতে পারবেন নাদেউলিয়ার পেশা বা জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম (tools of trade)

 

. “পেশার সামগ্রী (Tools of Trade)” ধারণা

আইনের দৃষ্টিতে “tools of trade” বলতে বোঝায়যেসব যন্ত্রপাতি বা উপকরণ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা করতে অক্ষম যা তাঁর দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত

দন্ত চিকিৎসকের ক্ষেত্রে

  • ডেন্টাল চেয়ার রোগী পরীক্ষা চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য
  • ডেন্টাল চেয়ার ছাড়া দন্ত চিকিৎসালয় পরিচালনা কার্যত অসম্ভব

 

. চেয়ারের সংখ্যা যৌক্তিকতা

এখানে লক্ষণীয়

  • জনাব হাসানের কাছে মাত্র দুইটি ডেন্টাল চেয়ার আছে
  • এটি অতিরিক্ত, বিলাসী বা ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচিত নয়
  • বরং একটি কার্যকর দন্ত চিকিৎসালয় পরিচালনার জন্য স্বাভাবিক যুক্তিসংগত পরিমাণ

অতএব, এগুলোকে আইনগতভাবে “tools of trade”-এর মধ্যেই গণ্য করা হবে।

 

. রিসিভারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

যেহেতু আইন নিজেই কিছু সম্পত্তিকে দেউলিয়া সম্পত্তির বাইরে রেখেছেরিসিভারের ক্ষমতা সেই সম্পত্তির উপর প্রযোজ্য নয়।রিসিভার আইন বহির্ভূতভাবে কোনো সম্পত্তি দখল করতে পারেন না। সুতরাং, এই ক্ষেত্রে রিসিভারের ডেন্টাল চেয়ার গ্রহণের কোনো আইনগত অধিকার নেই।

 

. সিদ্ধান্ত (Conclusion)

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়

  • ডেন্টাল চেয়ার দুটি জনাব হাসানের পেশা পরিচালনার অপরিহার্য সামগ্রী
  • এগুলো Insolvency Act, 1920-এর ধারা 60 অনুযায়ী অব্যাহৃত সম্পত্তি
  • রিসিভার উক্ত ডেন্টাল চেয়ার গ্রহণ করতে পারবেন না
  • অতএব, জনাব হাসানের হস্তান্তর করতে অস্বীকার করা আইনসম্মত যুক্তিসঙ্গত

 

No comments

Powered by Blogger.