২। (ক) ‘ওপেন’ এবং ‘ক্রসড চেক’ এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর। (খ) “তিনটি শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে চেক ‘ডিসঅনার’ করার অপরাধ শাস্তিযোগ্য হয়”। -উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। (গ) এই ধরনের অপরাধ কীভাবে এবং কখন আদালতে আমলযোগ্য হয়? কোন্ আদালত এই অপরাধের বিচার করতে পারে?
২। (ক) ‘ওপেন’ এবং ‘ক্রসড চেক’ এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।
(খ) “তিনটি শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে চেক ‘ডিসঅনার’ করার অপরাধ শাস্তিযোগ্য হয়”। -উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
(গ) এই ধরনের অপরাধ কীভাবে এবং কখন আদালতে আমলযোগ্য হয়? কোন্ আদালত এই অপরাধের বিচার করতে পারে?
(ক)
‘ওপেন’ এবং
‘ক্রসড
চেক’
এর
মধ্যে
পার্থক্য নিরূপণ
কর।
ওপেন চেক (Open Cheque)
সংজ্ঞা
যে
চেকের
উপর
কোনো
ক্রসিং (দুটি সমান্তরাল দাগ) নাই এবং
যা
কাউন্টারে সরাসরি
উপস্থাপন করে
নগদ অর্থ উত্তোলন করা যায়, তাকে
ওপেন
চেক
বলে।
বৈশিষ্ট্য
- চেকটি ব্যাংকের
কাউন্টারে উপস্থাপন করলেই নগদে অর্থ পাওয়া যায়।
- চেকের নিরাপত্তা
তুলনামূলকভাবে কম।
- চেক হারিয়ে গেলে অপব্যবহারের
ঝুঁকি বেশি।
- বাহক
(bearer) চেক হলে যে কেউ উপস্থাপন করে টাকা তুলতে পারে।
- ব্যাংক নগদে পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে, যদি সব কিছু নিয়মমাফিক
হয়।
ব্যবহার
- জরুরি নগদ লেনদেন
- ব্যক্তিগত
ও
ছোট অঙ্কের পরিশোধ
ক্রসড চেক (Crossed Cheque)
সংজ্ঞা
যে
চেকের
উপর
দুইটি
সমান্তরাল দাগ
(//) থাকে,
দাগের
মাঝে
বা
পাশে
“& Co.”, “A/C Payee”, “Not Negotiable” ইত্যাদি লেখা
থাকে—তাকে ক্রসড চেক
বলে।
বৈশিষ্ট্য
- নগদে টাকা উত্তোলন করা যায় না।
- প্রাপকের
ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েই টাকা উত্তোলন করতে হয়।
- চেকের নিরাপত্তা
বেশি।
- চেক হারিয়ে গেলেও অপব্যবহার
তুলনামূলকভাবে কঠিন।
- ব্যাংক কাউন্টারে
সরাসরি নগদ প্রদান করতে পারে না।
প্রকারভেদ
- General Crossing
– শুধু দুটি সমান্তরাল দাগ বা “& Co.” লেখা থাকে।
- Special Crossing
– নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকের নাম লেখা থাকে।
ওপেন চেক ও ক্রসড চেকের মধ্যে পার্থক্য
|
বিষয় |
ওপেন চেক |
ক্রসড চেক |
|
ক্রসিং চিহ্ন |
নেই |
আছে |
|
নগদ
উত্তোলন |
সরাসরি সম্ভব |
সম্ভব নয় |
|
ব্যাংকে জমা |
বাধ্যতামূলক নয় |
বাধ্যতামূলক |
|
নিরাপত্তা |
কম |
বেশি |
|
হারানোর ঝুঁকি |
বেশি |
কম |
|
ব্যবহার |
দ্রুত নগদ
লেনদেন |
নিরাপদ লেনদেন |
|
ব্যাংকের দায় |
নগদ
পরিশোধ |
হিসাবে জমা |
উপসংহার
ওপেন
চেক
দ্রুত
নগদ
পাওয়ার সুবিধা
দিলেও
ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে ক্রসড
চেক
অধিক
নিরাপদ
এবং
আধুনিক
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বেশি
গ্রহণযোগ্য। তাই
বড়
অঙ্কের
ও
গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে ক্রসড চেক ব্যবহার করাই উত্তম।
খ)
“তিনটি
শর্তাবলি পূরণ
সাপেক্ষে চেক
‘ডিসঅনার’ করার
অপরাধ
শাস্তিযোগ্য হয়”। -উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ
কর।
উক্তি
“তিনটি শর্তাবলি
পূরণ সাপেক্ষে চেক ‘ডিসঅনার’ করার অপরাধ শাস্তিযোগ্য হয়।”
এই
উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ—কারণ
আইন
নিজেই
নির্দিষ্ট কিছু
শর্ত
পূরণ
হলে
তবেই
চেক
ডিজঅনারকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে
গণ্য
করেছে।
প্রাসঙ্গিক আইন
Negotiable Instruments Act, 1881-এর ধারা 138 অনুযায়ী—
সাধারণভাবে চেক
ডিজঅনার একটি
দেওয়ানি বিষয়
হলেও,
নির্দিষ্ট তিনটি শর্ত পূরণ হলে তা
ফৌজদারি অপরাধে
পরিণত
হয়
এবং
শাস্তিযোগ্য হয়।
শাস্তিযোগ্য হওয়ার তিনটি শর্ত
১. আইনগত দায় বা দেনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে চেক ইস্যু
চেকটি
অবশ্যই—কোনো আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য দেনা (legally enforceable debt) বাঅন্য
কোনো
আইনগত
দায়
পরিশোধের উদ্দেশ্যে ইস্যু
করা
হতে
হবে।
যদি চেকটি
উপহার,
দান
বা
অবৈধ
চুক্তির জন্য
হয়,
তাহলে
ধারা
138 প্রযোজ্য হবে
না।
২. চেক ব্যাংকে উপস্থাপন ও ডিজঅনার: চেকটি
তার
মেয়াদসীমার মধ্যে (বর্তমানে সাধারণত ৬
মাস
বা
ব্যাংক
নির্ধারিত সময়)
ব্যাংকে উপস্থাপন করতে
হবে। ব্যাংক
কর্তৃক
চেকটি
অপর্যাপ্ত অর্থ (insufficient funds)
বা
অ্যকাউন্ট অকার্যকর/বন্ধ ইত্যাদি কারণে
ডিজঅনার হতে
হবে। অন্য
কারণে
(যেমন:
সিগনেচার মিসম্যাচ) ডিজঅনার হলে
সাধারণত ধারা
138 প্রযোজ্য হয়
না।
৩. লিখিত নোটিশ ও অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতা
এই
শর্তটি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চেক
ডিজঅনারের খবর
পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেকগ্রহীতা কর্তৃক
চেকদাতাকে লিখিত নোটিশ পাঠাতে
হবে।নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে
চেকদাতা যদি
সম্পূর্ণ অর্থ
পরিশোধে ব্যর্থ
হন—তাহলেই অপরাধটি সংঘটিত
হয়েছে
বলে
গণ্য
হবে।যদি ১৫
দিনের
মধ্যে
টাকা
পরিশোধ
করা
হয়,
তাহলে
কোনো
অপরাধ
সংঘটিত
হয়
না।
শাস্তির বিধান
ধারা
138 অনুযায়ী অপরাধ
প্রমাণিত হলে—সর্বোচ্চ ১ বছর (কিছু ক্ষেত্রে
২ বছর পর্যন্ত) কারাদণ্ড, অথবা
চেকের
অর্থের
দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা
উভয়
দণ্ডই
হতে
পারে।
উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ
উক্তিতে বলা
হয়েছে—
তিনটি
শর্ত
পূরণ
সাপেক্ষে চেক
ডিজঅনার শাস্তিযোগ্য হয়।
উপরোক্ত আলোচনায় দেখা
গেল—আইন নিজেই তিনটি
আবশ্যিক শর্ত
নির্ধারণ করেছে।
শর্ত
পূরণ
না
হলে
চেক
ডিজঅনার ফৌজদারি অপরাধ হয় না। অতএব,
উক্তিটি—আইনসম্মত, যুক্তিসংগত এবং
সম্পূর্ণরূপে যথার্থ
উপসংহার
চেক
ডিজঅনার সব
ক্ষেত্রে অপরাধ
নয়।
তবে
আইনে নির্ধারিত তিনটি শর্ত পূরণ হলে তা
ফৌজদারি অপরাধে
পরিণত
হয়
এবং
শাস্তিযোগ্য হয়।
সুতরাং
উক্তিটির যথার্থতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।
(গ) এই
ধরনের
অপরাধ
কীভাবে
এবং
কখন
আদালতে
আমলযোগ্য হয়?
কোন্
আদালত
এই
অপরাধের বিচার
করতে
পারে?
(গ) এই ধরনের অপরাধ কীভাবে
ও কখন আদালতে আমলযোগ্য হয় এবং কোন আদালত বিচার করতে পারে
১. কখন এই অপরাধ সংঘটিত ও আমলযোগ্য হয়
চেক
ডিজঅনারের অপরাধ
তাৎক্ষণিকভাবে সংঘটিত
হয়
না।
আইন
নির্ধারিত কিছু
ধাপ
সম্পূর্ণ হওয়ার
পরেই
এটি
আদালতে আমলযোগ্য (cognizable by complaint)
হয়।
ধাপে
ধাপে
বিষয়টি হলো—
চেক
ব্যাংকে উপস্থাপন করা
হয়
এবং
তা
ডিসঅনার হয়
ডিসঅনারের তথ্য
পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে
চেকগ্রহীতা কর্তৃক
চেকদাতাকে লিখিত লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো
হয়।নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে চেকদাতা অর্থ
পরিশোধে ব্যর্থ
হন
এই
১৫ দিন পার হওয়ার পরদিন থেকেই অপরাধটি সংঘটিত
হয়েছে
বলে
গণ্য
হয়
এবং
তখনই
আদালতে
মামলা
দায়েরের অধিকার
সৃষ্টি
হয়।
২. কীভাবে আদালতে আমলযোগ্য হয়
এই
অপরাধটি—Cognizable নয় (পুলিশ
নিজে
থেকে
মামলা
করতে
পারে
না)। Non-cognizable ও bailable অপরাধ
কেবলমাত্র লিখিত অভিযোগ (complaint)–এর মাধ্যমে আদালতে
আমলযোগ্য
Negotiable Instruments Act, 1881-এর ধারা 142 অনুযায়ী—চেকগ্রহীতা বা
যথাযথ
অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি লিখিত
অভিযোগ
দাখিল
করলে
আদালত
এই
অপরাধের আমল
গ্রহণ
করতে
পারে
অভিযোগটি অবশ্যই
করতে
হবে—১৫ দিনের সময়সীমা শেষ
হওয়ার
পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে। যৌক্তিক কারণ
থাকলে
আদালত
বিলম্ব
ক্ষমা
করতে
পারেন।
৩. কোন আদালত এই অপরাধের বিচার করতে পারে
ধারা
142 ও 143 অনুযায়ী—এই অপরাধের বিচার
করতে
পারেন
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা
প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে—চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা তাঁর অধীনস্থ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই
ধরনের
মামলার
বিচার
করে
থাকেন।
৪. বিচার প্রক্রিয়া
ধারা
143 অনুযায়ী—এই
অপরাধের বিচার
Summary Trial পদ্ধতিতে করা
যেতে
পারে।
প্রয়োজনে আদালত
নিয়মিত বিচারেও রূপান্তর করতে
পারেন।মামলা দ্রুত
নিষ্পত্তির জন্য
বিশেষ
ব্যবস্থা রাখা
হয়েছে।
উপসংহার: চেক ডিজঅনারের অপরাধ নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রমের পরেই আমলযোগ্য হয়।কেবলমাত্র লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে আদালতে মামলা করা যায়।পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করতে পারে না।মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই অপরাধের বিচার করতে পারেন।
No comments