Header Ads

Header ADS

আঞ্চলিক ভূখণ্ডের সংজ্ঞা দাও। রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত এবং রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলসমূহের শ্রেণিবিন্যাস কর। একটি মুখ্য মামলার বিশেষ প্রসঙ্গসহ আঞ্চলিক সমুদ্রের উপকূল রাষ্ট্রের অধিকার এবং দায়িত্বসমূহ আলোচনা কর।

 

৬. আঞ্চলিক ভূখণ্ডের সংজ্ঞা দাও। রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত এবং রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলসমূহের শ্রেণিবিন্যাস কর। একটি মুখ্য মামলার বিশেষ প্রসঙ্গসহ আঞ্চলিক সমুদ্রের উপকূল রাষ্ট্রের অধিকার এবং দায়িত্বসমূহ আলোচনা কর।

আঞ্চলিক ভূখণ্ড বলতে বোঝায়:

একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত একাধিক দ্বীপ এবং তাদের মধ্যে থাকা জলসীমার সমষ্টি, যা একত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র দ্বীপ নয়, দ্বীপগুলোর মধ্যে থাকা জলও আঞ্চলিক ভূখণ্ডের অংশ

আঞ্চলিক ভূখণ্ড হলো রাষ্ট্রের দ্বীপসমূহ এবং তাদের মধ্যে থাকা জলসীমার সমষ্টি, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ সীমিত শর্তে ব্যবহার করা যায়।

 

রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলসমূহের শ্রেণিবিন্যাস (State Jurisdictional Waters)

সংজ্ঞা:
রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চল হলো সেই অঞ্চল যেখানে উপকূলীয় রাষ্ট্রের আইন নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য এবং রাষ্ট্রের অধিকার অনুযায়ী সম্পদ আহরণ, নিরাপত্তা, এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

UNCLOS-1982 অনুযায়ী প্রধান রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলগুলো হলো:

 

উপকূলীয় জল (Territorial Sea)

·         সীমা: উপকূল থেকে 12 নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত

·         অধিকার:

1.      পূর্ণ সার্বভৌমত্ব: রাষ্ট্র আইন প্রয়োগ, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা

2.      বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নৌপথ রক্ষা

3.      উপকূলীয় সম্পদের ব্যবহার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ

·         শর্ত:

o    অন্য রাষ্ট্রের জাহাজের নির্দোষ অতিক্রম (Innocent Passage) অনুমোদিত, যদি ক্ষতিকর কার্যক্রম না করে

·         দায়িত্ব:

o    নির্দোষ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা

o    পরিবেশ সংরক্ষণ

 

আঞ্চলিক জল (Archipelagic Waters)

·         সীমা: দ্বীপগুলোর বাহ্যিক প্রান্তের baselines দিয়ে সংজ্ঞায়িত

·         অধিকার:

1.      দ্বীপ এবং তাদের মধ্যে থাকা জলসীমা রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব

2.      আন্তর্জাতিক জাহাজের Archipelagic Sea Lanes Passage অনুমোদন

3.      প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ

·         দায়িত্ব:

o    নির্দোষ নৌপথ খোলা রাখা

o    নিরাপত্তা পরিবেশ সংরক্ষণ

উদাহরণ: ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ

 

কংটিনেন্টাল শেল (Continental Shelf)

·         সীমা: উপকূল থেকে 200 নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত (প্রয়োজনে আরও বাড়ানো যেতে পারে, UNCLOS অনুযায়ী)

·         অধিকার:

1.      প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ: তেল, গ্যাস, খনিজ

2.      উপকূলীয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ সীমিত, শুধুমাত্র সম্পদ ব্যবহারে অধিকার

·         দায়িত্ব:

o    সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার

o    পরিবেশ রক্ষা

o    আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ

 

একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive Economic Zone / EEZ)

·         সীমা: উপকূল থেকে 200 নটিক্যাল মাইল

·         অধিকার:

1.      মাছ ধরা, তেল-গ্যাস আহরণ, খনিজ সম্পদ ব্যবহারে একচেটিয়া অধিকার

2.      সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ

·         শর্ত:

o    পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নেই

o    অন্য রাষ্ট্রের নির্দোষ নৌপথ বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনুমোদিত

·         দায়িত্ব:

o    পরিবেশ সংরক্ষণ

o    প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা

 পরিশেষে রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা সীমিত অধিকার থাকে, যেখানে আইন প্রয়োগ, সম্পদ আহরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ করা হয়।

 

রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলসমূহের শ্রেণিবিন্যাস কর

রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলসমূহ (Areas Beyond National Jurisdiction)

সংজ্ঞা:
রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলগুলো হলো উপকূলীয় রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের বাইরে থাকা সমুদ্র, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সকল রাষ্ট্রের সমান অধিকার বা সীমিত নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য।

UNCLOS-1982 অনুযায়ী প্রধান বহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলগুলো হলো:

 

উন্মুক্ত সমুদ্র / High Seas

·         সীমা:

o    EEZ (200 নটিক্যাল মাইল) এর বাইরে

·         বৈশিষ্ট্য অধিকার:

1.                  সকল রাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত

2.                  স্বাধীন নৌপথ বাণিজ্য চালানো যায়

3.                  মাছ ধরা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ

4.                  কোনো রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নেই

·         দায়িত্ব:

o    আন্তর্জাতিক আইন নীতি অনুসরণ করা

o    পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা

o    সমুদ্রের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বজায় রাখা

 

আন্তর্জাতিক শেলফ / Continental Shelf beyond 200 n.m.

·         সীমা:

o    EEZ এর বাইরে, কিন্তু প্রাকৃতিক শেলফ বা সমুদ্রতলের অংশ

·         অধিকার:

1.                  প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল, গ্যাস, খনিজ) আহরণ করতে পারা যায়

2.                  সম্পদ আহরণে ইন্টারন্যাশনাল সী (International Seabed Authority) অনুমোদন প্রয়োজন

·         দায়িত্ব:

o    আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ

o    পরিবেশ সংরক্ষণ

o    ক্ষতি রোধ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা

 

বিশেষ অঞ্চল (Special Areas)

কিছু অঞ্চল আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী বিধিনিষেধযুক্ত বা নিয়ন্ত্রিত উদাহরণ:

·         সমুদ্রের কিছু অংশ যেখানে নির্দিষ্ট পরিবেশ বা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজন

·         প্রতিটি রাষ্ট্রের সীমিত নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান

 

 

মূল ধারণা

·         রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত অঞ্চল:

o    কোনো রাষ্ট্রের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নেই

o    আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সকল রাষ্ট্রের সমান বা সীমিত অধিকার প্রযোজ্য

o    পরিবেশ সংরক্ষণ শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন


পরিশেষে রাষ্ট্রীয় বহির্ভূত সমুদ্র হলো এমন সমুদ্র যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নেই, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম সমান অধিকার প্রযোজ্য।

 

আঞ্চলিক সমুদ্র (Archipelagic Waters) – উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার দায়িত্ব

 

আঞ্চলিক সমুদ্রের সংজ্ঞা

আঞ্চলিক সমুদ্র হলো:

একাধিক দ্বীপের সমষ্টি এবং তাদের মধ্যে থাকা জলসীমা, যা উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের আওতায় আসে।
মূল উদাহরণ: ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ

 

উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার

1.      সার্বভৌমত্ব আইন প্রয়োগ: আঞ্চলিক জলে রাষ্ট্রের পূর্ণ আইন প্রয়োগ, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী নৌযান নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

2.      সম্পদ ব্যবস্থাপনা: মাছ, তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ আহরণের অধিকার। জলবায়ু, প্রাকৃতিক পরিবেশ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

3.      আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণArchipelagic Sea Lanes Passage (ASLP) এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্দোষভাবে চলাচল করতে পারে। রাষ্ট্র এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

4.      সমুদ্র আইনগত নিয়ন্ত্রণ: বিদেশি যুদ্ধ জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলে রাষ্ট্র নির্দোষ অতিক্রম বা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

 

 উপকূলীয় রাষ্ট্রের দায়িত্ব

1.      নির্দোষ নৌপথ নিশ্চিত করা : আন্তর্জাতিক জাহাজ নির্দোষভাবে চলতে পারে, কিন্তু ক্ষতিকর বা হুমকিসৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

2.      পরিবেশ সংরক্ষণ: জলদূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষয়, এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করা।

3.      নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইন মানা: আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নৌপথ সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

 

 মুখ্য মামলা: Philippines v. China (South China Sea Arbitration, 2016)

প্রেক্ষাপট:

·         চীন দক্ষিণ চীন সাগরে বিশাল অংশেনাইন-ড্যাশ লাইনব্যবহার করে আঞ্চলিক জলদাবী করেছিল।

·         ফিলিপাইন UNCLOS-1982 এর অধীনে ২০১৩ সালে মামলা দায়ের করে।

আদালতের প্রধান সিদ্ধান্ত:

1.      চীনের নাইন-ড্যাশ লাইন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

2.      ফিলিপাইনের EEZ এবং আঞ্চলিক জলসীমা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

3.      ফিলিপাইনের আঞ্চলিক জলসীমায় সার্বভৌমত্ব সম্পদ ব্যবস্থাপনার পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত।

4.      আন্তর্জাতিক নৌপথের ব্যবহার স্বীকৃত, তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গুরুত্ব:আঞ্চলিক জলসীমায় উপকূলীয় রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অধিকার স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক নৌপথ পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিশ্চিত।

 

অধিকার দায়িত্ব

বিষয়

উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার

উপকূলীয় রাষ্ট্রের দায়িত্ব

সার্বভৌমত্ব

আইন প্রয়োগ, নিরাপত্তা, প্রশাসন

আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখা

সম্পদ ব্যবস্থাপনা

মাছ, তেল, গ্যাস, খনিজ আহরণ

পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ

আন্তর্জাতিক নৌপথ

Sea Lanes Passage ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, অনুমোদন

নির্দোষ নৌপথ নিশ্চিত করা

নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ

বিদেশি জাহাজ পর্যবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণ

UNCLOS অনুযায়ী আচরণ, আন্তর্জাতিক আইন মানা

 

পরিশেষেআঞ্চলিক সমুদ্রের উপর উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকার পূর্ণ, তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ, নির্দোষ চলাচল এবং পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরিহার্য।

 

No comments

Powered by Blogger.