১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের ‘সরকারি দাবি’ এর অর্থ ব্যাখ্যা কর। উক্ত আইন অনুযায়ী সরকারি দাবি আদায়ের জন্য কীভাবে সার্টিফিকেট দায়ের করা যায়। সার্টিফিকেট কার্যকরীর বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী? আলোচনা কর।
১। ১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের ‘সরকারি দাবি’ এর অর্থ ব্যাখ্যা কর। উক্ত আইন অনুযায়ী সরকারি দাবি আদায়ের জন্য কীভাবে সার্টিফিকেট দায়ের করা যায়। সার্টিফিকেট কার্যকরীর বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী? আলোচনা কর।
১৯১৩
সালের
সরকারি
দাবি
আদায়
আইন
সরকারের প্রাপ্য অর্থ
দ্রুত
আদায়ের একটি
বিশেষ
ও
সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি
নির্ধারণ করেছে।
এতে
দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘ
প্রক্রিয়া এড়িয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সার্টিফিকেট দায়ের
ও
কার্যকর করে
সরকারি
দাবি
আদায়
সম্ভব
হয়।
তবে
দেনাদারকে নোটিশ
ও
আপত্তির সুযোগ
দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের নীতিও
রক্ষা
করা
হয়েছে।
১৯১৩
সালের
সরকারি
দাবি
আদায়
আইনের
‘সরকারি
দাবি’
এর
অর্থ
ব্যাখ্যা কর।
১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনে ‘সরকারি দাবি’—এর অর্থ
১৯১৩
সালের
Public Demands Recovery Act, 1913 (সরকারি দাবি
আদায়
আইন,
১৯১৩)
সরকার
ও
নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য অর্থ
দ্রুত
ও
প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আদায়ের জন্য
প্রণীত
একটি
বিশেষ
আইন।
এই
আইনের
মূল
ভিত্তি
হলো—‘সরকারি দাবি’ (Public Demand) কী, তা
নির্ধারণ করা।
১. আইনি সংজ্ঞা
আইনের
ধারা
৩(৬) অনুযায়ী,
‘সরকারি দাবি’ বলতে তফসিলে (Schedule) উল্লিখিত যেকোনো দাবি বোঝায়।
অর্থাৎ,
সব
ধরনের
সরকারি
পাওনা
এই
আইনের
আওতায়
পড়ে
না;
কেবলমাত্র তফসিলে
অন্তর্ভুক্ত দাবিসমূহই ‘সরকারি
দাবি’
হিসেবে
গণ্য
হবে।
২. তফসিলভুক্ত দাবির প্রকৃতি
আইনের
তফসিলে
সাধারণত নিম্নোক্ত প্রকারের দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে—
(ক) ভূমি রাজস্ব
ও সংশ্লিষ্ট দাবিসমূহ
- ভূমি রাজস্ব
(Land Revenue)
- খাজনা
- সেস, রোড সেস, পাবলিক ওয়ার্কস
সেস
- সরকারি জমির ভাড়া
(খ) কর ও শুল্ক সংক্রান্ত
দাবি
- আয়কর (প্রাসঙ্গিক
ক্ষেত্রে)
- বিক্রয়কর
- আবগারি শুল্ক
- কাস্টমস ডিউটি
- লাইসেন্স
ফি
(গ) সরকারি
ঋণ ও অগ্রিম
- সরকারি ঋণ
- কৃষিঋণ
- ত্রাণ ঋণ
- সরকারি অনুদান বা ভর্তুকির
ফেরতযোগ্য অর্থ
(ঘ) আদালতের
আদেশে প্রাপ্য অর্থ
- আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী
সরকারের পাওনা
- জরিমানা
- ক্ষতিপূরণ
(ঙ) স্থানীয়
কর্তৃপক্ষের প্রাপ্য অর্থ
পৌরসভা,
জেলা
পরিষদ,
ইউনিয়ন পরিষদের নির্দিষ্ট পাওনা
(যদি
তফসিলে
অন্তর্ভুক্ত থাকে)
(চ) অন্যান্য আইন দ্বারা নির্ধারিত দাবি
কোনো
বিশেষ
আইন
দ্বারা
নির্ধারিত এবং
এই
আইনের
তফসিলে
অন্তর্ভুক্ত দাবি।
৩. ‘সরকারি দাবি’ ধারণার বৈশিষ্ট্য
১. তফসিল-নির্ভরতা
যে
দাবি
তফসিলে
নেই,
তা
এই
আইনের
অধীনে
সরকারি
দাবি
হিসেবে
গণ্য
হবে
না।
২. অর্থসংক্রান্ত দাবি
এটি
কেবল
অর্থপ্রদানের দাবি;
কোনো
কাজ
সম্পাদন বা
নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ
এতে
অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩. সরকার বা সরকারের পক্ষে প্রাপ্য
দাবিটি
সরাসরি
সরকার
বা
আইনে
অনুমোদিত কোনো
কর্তৃপক্ষের পক্ষে
হতে
হবে।
৪. প্রশাসনিক পদ্ধতিতে আদায়যোগ্য
এটি
দেওয়ানি আদালতের নিয়মিত মামলা
ছাড়াই
সার্টিফিকেট প্রক্রিয়ায় আদায়যোগ্য।
উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
‘সরকারি দাবি’
ধারণা
প্রবর্তনের মূল
উদ্দেশ্য হলো—সরকারি রাজস্ব দ্রুত
আদায়
নিশ্চিত করা,
প্রশাসনিক দক্ষতা
বৃদ্ধি, দীর্ঘ
দেওয়ানি মামলা
এড়ানো, রাজস্ব
ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা।
এটি
এক
ধরনের
summary procedure, যেখানে সার্টিফিকেট অফিসারের মাধ্যমে দ্রুত
প্রক্রিয়ায় আদায়
সম্ভব।
সীমাবদ্ধতা
দেনাদারকে নোটিশ
ও
আপত্তির সুযোগ
দিতে
হয়। দাবির যথার্থতা যাচাইযোগ্য তফসিলের বাইরে কোনো দাবি
অন্তর্ভুক্ত করা
যায়
না। এটি ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়,
বরং
দেওয়ানি প্রকৃতির আদায়
পদ্ধতি
উপসংহার
১৯১৩
সালের
সরকারি
দাবি
আদায়
আইনে
‘সরকারি
দাবি’
বলতে
এমন
অর্থদাবিকে বোঝায়
যা
আইনের
তফসিলে
স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত এবং
যা
সরকার
বা
অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের নিকট
প্রাপ্য। এই
ধারণা
সরকারি
রাজস্ব
ও
অন্যান্য আর্থিক
দাবিকে
দ্রুত
ও
কার্যকরভাবে আদায়ের জন্য
একটি
বিশেষ
প্রশাসনিক ব্যবস্থা সৃষ্টি
করেছে।
No comments