২। (ক) সার্টিফিকেট মূলে ভূমি বিক্রির কারণে সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তির কী কী প্রতিকার আছে যখন- (i) যখন পিডিআর আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারি হয়নি। (ii) যখন উক্ত আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারি হয়েছে। (খ) কখন একটি সার্টিফিকেট বিক্রয় চূড়ান্ত হয়?
২। (ক) সার্টিফিকেট মূলে ভূমি বিক্রির কারণে সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তির কী কী প্রতিকার আছে যখন
- (i) যখন পিডিআর আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারি হয়নি।
(ii) যখন উক্ত আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারি হয়েছে।
(খ) কখন একটি সার্টিফিকেট বিক্রয় চূড়ান্ত হয়?
(ক)
সার্টিফিকেট মূলে ভূমি বিক্রির কারণে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার
সার্টিফিকেট মূলে ভূমি বিক্রয় হয় ১৯১৩ সালের Public Demands Recovery Act, 1913
(পিডিআর আইন) অনুসারে। এই আইনে নোটিশ,
আপত্তি, বিক্রয় ও বিক্রয় বাতিলের
বিশেষ বিধান রয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার নির্ভর করে ধারা ৭-এর নোটিশ
জারি হয়েছে কি না তার
উপর।
(i) যখন পিডিআর আইনের ৭ ধারার নোটিশ
জারি হয়নি
১. ধারা ৭-এর নোটিশের
গুরুত্ব
ধারা ৭ অনুযায়ী সার্টিফিকেট
অফিসার দেনাদারকে
(Certificate-debtor) নোটিশ
জারি করবেন এবং তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেবেন।
নোটিশ জারি না হলে— প্রাকৃতিক
ন্যায়বিচারের নীতি (Audi Alteram Partem)
লঙ্ঘিত হয়, দেনাদার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান না, সম্পূর্ণ কার্যক্রম অবৈধ (void) হতে পারে।
২. সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার
(ক) সার্টিফিকেট বাতিলের আবেদন
দেনাদার সার্টিফিকেট অফিসারের নিকট আবেদন করে পুরো কার্যক্রম বাতিলের দাবি করতে পারেন, কারণ মৌলিক নোটিশই জারি হয়নি।
(খ) বিক্রয় বাতিলের আবেদন
যদি ইতিমধ্যে ভূমি বিক্রয় হয়ে থাকে, তবে বিক্রয় বাতিলের আবেদন করা যায় এই মর্মে যে—
ধারা ৭-এর বাধ্যতামূলক
বিধান মানা হয়নি ফলে বিক্রয় অবৈধ।
(গ) দেওয়ানি আদালতে মামলা
যেহেতু নোটিশ জারি না হওয়া একটি
মৌলিক ত্রুটি (jurisdictional
defect), সেক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে বিক্রয় বাতিলের মামলা দায়ের করা যায়।
এক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে অবারিত নয়, কিন্তু মৌলিক প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।
(ঘ) রিভিশন/আপিল
উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট রিভিশন বা আপিলের আবেদন
করা যায়।
ধারা ৭-এর নোটিশ
জারি না হলে পুরো
সার্টিফিকেট কার্যক্রমই বাতিলযোগ্য।
(ii) যখন পিডিআর আইনের ৭ ধারার নোটিশ
জারি হয়েছে
যদি যথাযথভাবে ধারা ৭-এর নোটিশ
জারি হয় এবং দেনাদার আপত্তি জানানোর সুযোগ পান, তবে প্রতিকার সীমিত হয়ে যায়।
১. আপত্তি দাখিল (ধারা ৯)
দেনাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারেন—দাবি অস্বীকার করে, আংশিক স্বীকার করে, ভুল হিসাব বা আইনগত ত্রুটি
দেখিয়ে।
২. বিক্রয় বাতিলের আবেদন
ভূমি বিক্রির পর—নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে (সাধারণত ৩০ দিন) আবেদন
করে বিক্রয় বাতিলের প্রার্থনা করা যায়, পুরো বকেয়া অর্থ, সুদ ও খরচ জমা
দিয়ে বিক্রয় রদ করার সুযোগ
থাকে।
৩. অনিয়মের অভিযোগ
যদি বিক্রয়ে অনিয়ম, জালিয়াতি বা গুরুতর প্রক্রিয়াগত
ত্রুটি থাকে (যেমন যথাযথ প্রচার না হওয়া, কম
দামে বিক্রি ইত্যাদি), তবে বিক্রয় বাতিলের আবেদন করা যায়।
৪. দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সীমিত
যখন ধারা ৭-এর নোটিশ
জারি হয়েছে এবং আপত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তখন সাধারণত দেওয়ানি আদালত হস্তক্ষেপ করে না, কারণ এটি একটি বিশেষ আইন (Special Law)। অর্থাৎ, নোটিশ
জারি হলে প্রতিকার প্রধানত আইনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
(খ) কখন একটি সার্টিফিকেট বিক্রয় চূড়ান্ত হয়?
১. বিক্রয়ের পর আপত্তির সময়সীমা
অতিক্রান্ত হলে
বিক্রয়ের তারিখ থেকে নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ৩০ দিন) অতিবাহিত
হলে এবং—বিক্রয় বাতিলের আবেদন না হলে; অথবা
আবেদন খারিজ হলেবিক্রয় চূড়ান্ত হয়।
২. বিক্রয় বাতিলের আবেদন খারিজ হলে
যদি দেনাদার বা অন্য সংক্ষুব্ধ
ব্যক্তি আবেদন করেন কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়
এবং আর কোনো আপিল
না থাকে, তবে বিক্রয় চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
৩. বিক্রয় সনদ (Sale Certificate) প্রদান
সার্টিফিকেট অফিসার ক্রেতার অনুকূলে বিক্রয় সনদ প্রদান করলে মালিকানা ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হয়। বিক্রয় আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত হয়।
৪. চূড়ান্ত বিক্রয়ের ফলাফল
পূর্ব মালিকের অধিকার বিলুপ্ত হয়। ক্রেতা পূর্ণ মালিকানা লাভ করে। বিক্রয় সাধারণত অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়ে যায়।
উপসংহার
পিডিআর আইনে ধারা ৭-এর নোটিশ
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নোটিশ জারি না হলে পুরো
কার্যক্রম বাতিলযোগ্য এবং দেওয়ানি আদালতের দ্বার উন্মুক্ত থাকে।নোটিশ জারি হলে প্রতিকার সীমিত এবং আইন নির্ধারিত পদ্ধতির মধ্যেই সমাধান করতে হয়।
সার্টিফিকেট বিক্রয় তখনই চূড়ান্ত হয়, যখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ আপত্তি থাকে না বা আপত্তি
নিষ্পত্তি হয়ে যায় এবং বিক্রয় সনদ প্রদান করা হয়।
No comments