Header Ads

Header ADS

ভূমি আইন, রেজিস্ট্রেশন আইন ও সরকারী দাবী আদায় আইন এর টিকা সমূহের এর উত্তর। এল এল বি ফাইনাল পরীক্ষা-২০২৩

 

ভূমি আইন, রেজিস্ট্রেশন আইন ও সরকারী দাবী আদায় আইন এর টিকা সমূহের এর উত্তর


১.  সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক

যখনবন্ধকদাতা (Mortgagor) বন্ধকগ্রহীতার (Mortgagee) নিকট সম্পত্তির দখল প্রদান করেন, এবং বন্ধকগ্রহীতা উক্ত সম্পত্তির ভাড়া, ফসল বা মুনাফা ভোগ করে ঋণের সুদ বা মূল অর্থ সমন্বয় করেন, তখন তাকে খাইখালাসী বন্ধক বলা হয়। এখানে ঋণ আদায়ের প্রধান মাধ্যম হলো সম্পত্তির আয়।

সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক বলতে বোঝায় এমন বন্ধক যেখানেসম্পূর্ণ দখল বন্ধকগ্রহীতার হাতে ন্যস্ত থাকে,সম্পত্তির সমস্ত আয় তিনি গ্রহণ করেন,এবং ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকদাতা দখল ফেরত পান না। এক্ষেত্রে সাধারণত বন্ধকগ্রহীতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মামলা করে টাকা আদায়ের সুযোগ থাকে না; বরং সম্পত্তির আয়ই একমাত্র ভরসা।

 বৈশিষ্ট্যসমূহ

১.সম্পত্তির দখল হস্তান্তর আবশ্যক

 ২.আয় ভোগের অধিকার বন্ধকগ্রহীতার

৩.ব্যক্তিগত দায় (Personal Liability) সাধারণত অনুপস্থিত

৪.আদালতের মাধ্যমে বিক্রয়ের অধিকার নেই (যদি আলাদা শর্ত না থাকে)

৫.বন্ধকগ্রহীতা হিসাব দিতে বাধ্য

 

সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক হলো এমন একটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা যেখানে ঋণ আদায়ের একমাত্র উৎস হলো সম্পত্তির আয় এবং সম্পত্তির দখল বন্ধকগ্রহীতার হাতে থাকে। এটি Transfer of Property Act, 1882 এর ৫৮(ডি) ধারায় স্বীকৃত এবং ভূমি আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


 

২.বর্তস্বত্বের অধিকার

বর্তস্বত্বের অধিকার (Right of Redemption) হলো বন্ধকদাতার সেই আইনগত অধিকার, যার দ্বারা তিনি ঋণের মূলধন, সুদ বৈধ খরচ পরিশোধ করে বন্ধকী সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারেন। বন্ধক কখনো স্থায়ী বিক্রয়ে পরিণত হয় না; ঋণ পরিশোধ করলে সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকে।

ঋণ পরিশোধের পর বন্ধকদাতাবন্ধক দলিল ফেরত চাইতে পারেন, সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন,বন্ধক সংক্রান্ত চার্জ অপসারণ করতে পারেন।

বন্ধক চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত আরোপ করা যাবে না যা বর্তস্বত্বের অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

বর্তস্বত্বের অধিকার বন্ধক আইনের একটি মৌলিক অধিকার, যা বন্ধকদাতার মালিকানা সুরক্ষা করে। এটি Transfer of Property Act, 1882 এর ধারা ৬০ দ্বারা নিশ্চিত।

খাসজমি

খাসজমি হলো সেই জমি যা সরাসরি সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকারের নিজস্ব দখল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অর্থাৎ, যে জমির উপর কোনো ব্যক্তি বা প্রজার স্বত্ব নেই এবং যা রাষ্ট্রের নিজস্ব সম্পত্তিতাই খাসজমি।

 

খাসজমির প্রকারভেদ

  1. কৃষি খাসজমিচাষযোগ্য সরকারি জমি
  2. অকৃষি খাসজমিবসতভিটা, জলাশয়, চর ইত্যাদি
  3. চর খাসজমিনদী থেকে জেগে ওঠা নতুন জমি

 

খাসজমির বৈশিষ্ট্য

১.সরকারের সরাসরি মালিকানা
২. বন্দোবস্তের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য
৩. অবৈধ দখল উচ্ছেদযোগ্য
৪.সাধারণত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়

খাসজমির বন্দোবস্ত

সরকার ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে থাকে।
বন্দোবস্ত শর্তসাপেক্ষ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রদান করা হয়।

অবৈধ দখল

খাসজমি অবৈধভাবে দখল করলে সরকার উচ্ছেদ করতে পারে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

খাসজমি হলো সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি, যা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে বিশেষত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এটি ভূমি প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

৪.কৃষি অকৃষি জমি

 

কৃষি জমি

সংজ্ঞা:
যে জমি চাষাবাদ, ফসল উৎপাদন, বাগান, মৎস্যচাষ বা কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তাকে কৃষি জমি বলে।

আইনগত ভিত্তি:

  • State Acquisition and Tenancy Act, 1950
  • Land Reforms Ordinance, 1984

বৈশিষ্ট্য:
. ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত
. ভূমি ceiling আইন প্রযোজ্য
. কৃষি খাজনা ধার্য হয়
. ভূমি সংস্কার আইনের আওতাভুক্ত

 

 অকৃষি জমি (Non-Agricultural Land)

সংজ্ঞা:
যে জমি কৃষিকাজ ব্যতীত বসতবাড়ি, শিল্প, বাণিজ্য বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে অকৃষি জমি বলে।

আইনগত ভিত্তি:

Non-Agricultural Tenancy Act, 1949

বৈশিষ্ট্য:
. আবাসিক/বাণিজ্যিক/শিল্প কাজে ব্যবহৃত
. কৃষি ceiling আইন সাধারণত প্রযোজ্য নয়
. ভিন্ন হারে ভাড়া বা খাজনা ধার্য হয়

 

পার্থক্য

বিষয়

কৃষি জমি

অকৃষি জমি

ব্যবহার

চাষাবাদ

বসত/ব্যবসা

আইন

ভূমি সংস্কার আইন

অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন

Ceiling

প্রযোজ্য

সাধারণত নয়

 

কৃষি অকৃষি জমির পার্থক্য মূলত জমির ব্যবহারভিত্তিক। আইনগতভাবে এদের উপর ভিন্ন বিধান প্রযোজ্য, যা ভূমি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ।

 

৫.দাগ খতিয়ান

দাগ (Plot / Survey Number)

সংজ্ঞা

ভূমি জরিপের সময় একটি মৌজার ভেতরে প্রত্যেকটি পৃথক জমিখণ্ডকে যে নির্দিষ্ট নম্বর প্রদান করা হয় তাকে দাগ নম্বর বলে।

বৈশিষ্ট্য

. মানচিত্রে চিহ্নিত থাকে
. প্রতিটি জমির আলাদা নম্বর থাকে
. সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ
. মালিকানা নির্ধারণের প্রাথমিক ভিত্তি

এক কথায় দাগ হলো জমির ভৌত পরিচয়।

খতিয়ান (Record of Rights – ROR)

সংজ্ঞা

সরকারি জরিপের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জমির মালিকানা, দখল, শ্রেণি পরিমাণ সংক্রান্ত যে লিখিত রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

আইনগত ভিত্তি

State Acquisition and Tenancy Act, 1950

খতিয়ানে যা থাকে

. মালিকের নাম
. পিতার নাম
. জমির দাগ নম্বর
. জমির শ্রেণি
. জমির পরিমাণ
. খাজনার পরিমাণ

খতিয়ান হলো জমির আইনি পরিচয়পত্র।

দাগ খতিয়ানের পার্থক্য

বিষয়

দাগ

খতিয়ান

অর্থ

জমির নম্বর

মালিকানার রেকর্ড

উদ্দেশ্য

জমি চিহ্নিতকরণ

মালিকানা প্রমাণ

অবস্থান

মানচিত্রে

রেকর্ড বইতে

সংখ্যা

একাধিক হতে পারে

এক বা একাধিক দাগ অন্তর্ভুক্ত

 

দাগ জমির ভৌত সনাক্তকরণ করে, আর খতিয়ান মালিকানার আইনগত প্রমাণ প্রদান করে। ভূমি প্রশাসনে উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

৬.ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল

সংজ্ঞা

ভূমি জরিপ সংক্রান্ত রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ বা মালিকানা বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ আদালতকে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল বলা হয়।

 

আইনগত ভিত্তি

বাংলাদেশে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়— State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ১৪৫ক (145A) অনুযায়ী।

 

 গঠনের উদ্দেশ্য

১.ভুল রেকর্ড সংশোধন
২.খতিয়ান সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি

৩.জরিপ কার্যক্রমের ত্রুটি নিরসন
৪.মালিকানা দখল সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি

 

এখতিয়ার

. চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ান সংশোধন
. দাগ, শ্রেণি বা মালিকানার ভুল নির্ধারণ সংশোধন
. রেকর্ড প্রস্তুতের সময় সংঘটিত ত্রুটি নিরসন

 

আপিল

ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়
ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে

 

বৈশিষ্ট্য

এটি একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সীমিত
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়

 

উপসংহার

ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষায়িত বিচারিক সংস্থা, যা খতিয়ান জরিপ সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

৭. ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪

 

সংজ্ঞা

ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ হলো বাংলাদেশের আইন, যা কৃষিজমির মালিকানা সীমা নির্ধারণ, ভূমিহীন ক্ষুদ্র কৃষকের অধিকার সুরক্ষা, এবং জমির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।

 

উদ্দেশ্য

1.      কৃষিজমির সর্বাধিক মালিকানা (Ceiling) নির্ধারণ করা।

2.      ভূমিহীন ক্ষুদ্র কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

3.      বর্গাদারের (Sharecropper) সুরক্ষা।

4.      জমি ব্যবহার বণ্টন নিয়ন্ত্রণ।

 

প্রধান বিধানসমূহ

Ceiling বা সর্বোচ্চ মালিকানা

একজন ব্যক্তি বা পরিবারের কৃষিজমির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত।অতিরিক্ত জমি রাষ্ট্রের নিকটে ন্যস্ত হবে।

 বর্গাদারের অধিকার

উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা।ফসলের ন্যায্য ভাগের অধিকার।আইনি স্বীকৃতি রেকর্ডভুক্তি।

 বসতভিটার সুরক্ষা

কৃষকের বসতভিটার অধিকার রক্ষা করা।

 জমি হস্তান্তর বিক্রি নিয়ন্ত্রণ

Ceiling এড়াতে কৃত্রিম হস্তান্তর নিষিদ্ধ।

 নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ

ভূমি অফিসার জেলা প্রশাসক জমি বণ্টন নজরদারি করবেন।

 

 গুরুত্ব

·         সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

·         ভূমিহীন ক্ষুদ্র কৃষকের অধিকার সুরক্ষা।

·         মালিকানা বৈষম্য হ্রাস।

·         কৃষি উৎপাদন জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত।

 

উপসংহার

ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ কৃষিজমি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, ভূমিহীনদের সুরক্ষা এবং মালিকানার বৈষম্য হ্রাস কার্যকর ভূমিকা রাখে।

 

৮.সিকস্তি পয়স্তি

 

সিকস্তি (Sikasti)

সংজ্ঞা:
সিকস্তি হলো সেই ভূমি বা জমি যেখানে সরকার বা জমির মালিক উপরে নির্দিষ্ট কর বা খাজনা ধার্য করতে পারে, কিন্তু জমির মালিকানা বা দখল সম্পূর্ণ সরকারী নয়।মূলত কৃষক বা দখলকর্তা সরকারকে কর/খাজনা প্রদান করে।জমির মালিকানা এবং দখল দখলকারীর হাতে থাকে।

বৈশিষ্ট্য:

1.      মালিকানা ব্যক্তি বা পরিবারে থাকে।

2.      সরকার শুধু খাজনা বা রাজস্ব গ্রহণ করে।

3.      ব্যবহার দখল কৃষকের।

পয়স্তি (Poyasti)

সংজ্ঞা:
পয়স্তি হলো সেই জমি বা ভূমি যা সরকারের সরাসরি দখলে থাকে এবং যে জমি থেকে সরকার স্বয়ং ভোগ বা আয় গ্রহণ করে

যেমন: খাসজমি, সরকারি বন, নদীর চর ইত্যাদি।এখানে দখল মালিকানা সরকারের।

বৈশিষ্ট্য:

1.      মালিকানা সরকারের।

2.      দখল আয় সরকার ভোগ করে।

3.      ভূমিহীন বা সাধারণ ব্যক্তি সরাসরি দখল করতে পারে না।

 

পার্থক্য

বিষয়

সিকস্তি

পয়স্তি

মালিকানা

ব্যক্তি/দখলকারীর

সরকার

দখল

দখলকারীর

সরকারী

আয়/রাজস্ব

সরকারকে কর/খাজনা প্রদান

সরকার সরাসরি ভোগ করে

উদাহরণ

চাষী জমি যেখানে কর প্রদান হয়

খাসজমি, সরকারি বন, নদীর চর

 

উপসংহার

সিকস্তি: সরকারী আয়-সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু দখল ব্যক্তি/চাষীর হাতে।

পয়স্তি: সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানা দখল।

৯.ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল

সংজ্ঞা

ভূমি জরিপ সংক্রান্ত রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ বা মালিকানা বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল বলা হয়।

মূল কাজ:

·         খতিয়ান সংশোধন

·         দাগ, শ্রেণি বা মালিকানার ভুল ঠিক করা

·         জমি সম্পর্কিত দ্বন্দ্বের দ্রুত নিষ্পত্তি

 

আইনগত ভিত্তি

State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ১৪৫ক (145A) অনুযায়ী ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।

 

এখতিয়ার ক্ষমতা

1.      চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ান সংশোধন করা।

2.      জমির দাগ, শ্রেণি বা মালিকানার ভুল নির্ধারণ।

3.      জরিপ কার্যক্রমের ত্রুটি সংশোধন।

4.      সরকারি রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদেশ জারি।

 

আপিল

ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যায়।

 

বৈশিষ্ট্য

·         এটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, দেওয়ানি আদালতের স্বাভাবিক এখতিয়ারের বাইরে।

·         নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের করতে হয়।

·         দ্রুত এবং কার্যকরী নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

 

উপসংহার

ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল ভূমি রেকর্ড মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের বিশেষায়িত দ্রুত নিষ্পত্তি সংস্থা, যা খতিয়ান দাগ সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

১০.লাখেরাজ সম্পত্তি

সংজ্ঞা

লাখেরাজ সম্পত্তি হলো সেই জমি বা সম্পত্তি, যার আয় বা ফলন সরাসরি রাষ্ট্র বা সরকারী প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে এবং ব্যক্তিগত মালিকানা সেখানে থাকে না। এটি সাধারণত সরকারি দখলাধীন সম্পত্তি, তবে খাসজমি বা অন্যান্য সরকারি আয়ভোগযোগ্য সম্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।ঐতিহাসিকভাবে, “লাখেরাজবলতে বোঝানো হতো এমন সম্পত্তি যার আয় বা ফলন রাজস্ব/রাজপরিবারের কাছে যায়।

 

বৈশিষ্ট্য

1.      মালিকানা: রাষ্ট্র/সরকারের।

2.      দখল: সরকারের হাতে।

3.      আয়: সরাসরি সরকারের দ্বারা ভোগ বা সংগ্রহ।

4.      ব্যবহার: সাধারণ ব্যক্তি বা চাষীর দখলে থাকে না।

5.      উদ্দেশ্য: সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যবহার।

 

উদাহরণ

·         সরকারি খাসজমি যেখানে চাষের আয় রাজস্ব হিসেবে যায়।

·         নদীর চর বা সরকারি বন যা থেকে আয় সরকার সংগ্রহ করে।

·         ঐতিহাসিকভাবে রাজপরিবার বা রাষ্ট্রের আয়বৃদ্ধি জন্য নির্ধারিত জমি।

 

 উপসংহার

লাখেরাজ সম্পত্তি মূলত সরকারি দখল এবং আয়ের জন্য নির্ধারিত জমি, যা ব্যক্তি বা দখলকারীর মালিকানায় থাকে না। এটি ভূমি প্রশাসনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে

 

১১.জোতজমা (Jot-Joma)

 সংজ্ঞা

জোতজমা হলো একটি জমির মালিকানা বা অধিকার সংক্রান্ত নথি/রেকর্ড।মূলত মোট জমি (মৌজা) কে ভাগ করে আলাদাজোতবা অংশে ভাগ করা হয়, যেখানে প্রত্যেক অংশের মালিক নির্ধারিত।এটি কৃষক/টেন্যান্টের ভূমি অধিকার, কর এবং ফসলের হিসাব নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।

 

বৈশিষ্ট্য

1.      ভূমি ভাগজমিকে আলাদা জোত বা অংশে ভাগ করে রেকর্ড রাখা।

2.      মালিকানা রেকর্ডপ্রতিটি জোতের মালিক, পরিমাণ, এবং কর নির্ধারিত থাকে।

3.      কর/ভাড়া নির্ধারণজমি থেকে প্রাপ্ত ফসল বা আয়ের ভিত্তিতে ফিক্সড কর ধার্য করা হয়।

4.      আইনি স্বীকৃতিজমি বিরোধে জোতজমা রেকর্ডকে আইনসম্মত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

5.      ঐতিহ্যগত ভূমি ব্যবস্থাপনাপুরোনো টেনিউর বা পত্তনী তালুকের ক্ষেত্রে প্রায়ই উল্লেখ থাকে।

 

 ব্যবহার

ভূমি জরিপ দলিল তৈরিতে।পত্তনী তালুকদার, লাখেরাজ সম্পত্তি বা অন্যান্য ভূমি অধিকার নির্ধারণে।আদালতে জমি বিরোধ বা মালিকানা দাবি প্রমাণে।

 

১২.পত্তনী তালুকদার

 সংজ্ঞা

পত্তনী তালুকদার হলো এমন একজন ভূমি অধিকারী যাকে স্থায়ীভাবে জমি দেওয়া হয়।এই জমিতে সে ফিক্সড ভাড়া/কর দিয়ে অধিকার ভোগ করতে পারে।এটি হেরিটেবল (উত্তরাধিকারযোগ্য) এবং ট্রান্সফারযোগ্য

 

বৈশিষ্ট্য

1.      স্থায়ী অধিকারজমি চিরস্থায়ীভাবে তালুকদারের নামে।

2.      ভাড়া/কর নির্ধারিতফিক্সড বা স্থায়ী।

3.      উত্তরাধিকারযোগ্যজমি উত্তরাধিকারসূত্রে ছেলে বা উত্তরাধিকারীর কাছে যায়।

4.      ট্রান্সফারযোগ্যবিক্রি, উপহার বা ঋণের জন্য হস্তান্তরযোগ্য।

5.      আইনসাপেক্ষ দাবিমালিকানা বা সীমানা বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে দাবি করা যায়।

 

No comments

Powered by Blogger.