মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ? এসব স্বাধীনতার কোনগুলো রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলে কার্যকর হয়? ব্যাখ্যা কর। মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা এবং মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ বিশ্লেষণ কর। কিভাবে এদের পার্থক্য করা হয়? মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাসমূহের কোন কোনটি একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
৩. মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ? এসব স্বাধীনতার কোনগুলো রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলে কার্যকর হয়? ব্যাখ্যা কর। মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা এবং মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ বিশ্লেষণ কর। কিভাবে এদের পার্থক্য করা হয়? মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাসমূহের কোন কোনটি একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বলতে
বোঝায়—
কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা
জাতীয়
এখতিয়ারের বাইরে
অবস্থিত সমুদ্রাঞ্চলে (High Seas) সকল রাষ্ট্রের জন্য
সমানভাবে ভোগ্য
কিছু
অধিকার
ও
স্বাধীনতা।অর্থাৎ, মহাসমুদ্র এমন
একটি
অঞ্চল
যেখানে
কোনো
রাষ্ট্র মালিকানা দাবি
করতে
পারে
না
এবং
সকল
রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের
সীমার
মধ্যে
থেকে
অবাধে
ব্যবহার করতে
পারে।
১৯৮২
সালের
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন (UNCLOS)
অনুযায়ী, মহাসমুদ্র সকল
রাষ্ট্রের জন্য
উন্মুক্ত এবং
এখানে
নৌচলাচল, উড্ডয়ন, মৎস্য
আহরণ,
কেবল
ও
পাইপলাইন স্থাপন,
বৈজ্ঞানিক গবেষণা
ইত্যাদি স্বাধীনতা স্বীকৃত।
এসব স্বাধীনতার কোনগুলো রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র
অঞ্চলে
কার্যকর হয়?
ব্যাখ্যা কর।
ভূমিকা
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাসমূহ মূলত
সেই
সব
অধিকার,
যা
কোনো
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বাইরে
থাকা
সমুদ্রাঞ্চলে সকল
রাষ্ট্র ভোগ
করে।
তবে
আধুনিক
আন্তর্জাতিক সমুদ্র
আইন
অনুযায়ী, এসব
স্বাধীনতার কিছু অংশ রাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলেও সীমিত আকারে কার্যকর হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র অঞ্চলসমূহ
রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র
অঞ্চল
হলো—
আঞ্চলিক সমুদ্র (Territorial Sea)
– সর্বোচ্চ ১২
নটিক্যাল মাইল, সংলগ্ন অঞ্চল (Contiguous Zone)
– সর্বোচ্চ ২৪
নটিক্যাল মাইল,
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive Economic Zone – EEZ) – সর্বোচ্চ ২০০
নটিক্যাল মাইল
মহাসমুদ্রের সকল স্বাধীনতা ও তাদের কার্যকারিতা
UNCLOS অনুযায়ী মহাসমুদ্রের প্রধান স্বাধীনতাগুলো হলো—
(ক) নৌচলাচলের
স্বাধীনতা : আঞ্চলিক সমুদ্রে Innocent Passage হিসেবে সীমিতভাবে কার্যকর। সংলগ্ন অঞ্চলে পূর্ণভাবে কার্যকরEEZ-এ পূর্ণভাবে কার্যকর। এটি
রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সব
সমুদ্র
অঞ্চলেই কোনো
না
কোনো
রূপে
কার্যকর
(খ) উড্ডয়নের
স্বাধীনতা
আঞ্চলিক সমুদ্রের উপর আকাশসীমা → উপকূলীয় রাষ্ট্রের পূর্ণ
নিয়ন্ত্রণে (কার্যকর নয়)
সংলগ্ন অঞ্চল ও EEZ-এর উপর আকাশসীমা → কার্যকর
আংশিকভাবে রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চলে
কার্যকর
(গ) মৎস্য আহরণের
স্বাধীনতা
আঞ্চলিক সমুদ্র → কার্যকর নয়
সংলগ্ন অঞ্চল → কার্যকর নয়
EEZ → কার্যকর নয়
(এখানে
উপকূলীয় রাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকার)
,রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র
অঞ্চলে
কার্যকর নয়
(ঘ) সাবমেরিন
কেবল ও পাইপলাইন স্থাপনের স্বাধীনতা
- আঞ্চলিক
সমুদ্র → উপকূলীয় রাষ্ট্রের অনুমতির প্রয়োজন
- সংলগ্ন
অঞ্চল → কার্যকর
- EEZ → কার্যকর (রাষ্ট্রের
যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে) সীমিত আকারে কার্যকর
(ঙ) কৃত্রিম
দ্বীপ ও স্থাপনা নির্মাণের স্বাধীনতা
- আঞ্চলিক
সমুদ্র → কার্যকর নয়
- সংলগ্ন
অঞ্চল → কার্যকর নয়
- EEZ → কেবল উপকূলীয়
রাষ্ট্রের অধিকার অন্যান্য
রাষ্ট্রের জন্য কার্যকর নয়
(চ) বৈজ্ঞানিক
গবেষণার স্বাধীনতা
- আঞ্চলিক
সমুদ্র → উপকূলীয় রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া নয়
- সংলগ্ন
অঞ্চল → কার্যকর নয়
- EEZ → উপকূলীয়
রাষ্ট্রের সম্মতি আবশ্যক।
রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র
অঞ্চলে
স্বাধীনতা হিসেবে
কার্যকর নয়
উপসংহার
:সব
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় এখতিয়ারভুক্ত সমুদ্র
অঞ্চলে
কার্যকর হয়
না।
কেবল
নৌচলাচল, উড্ডয়ন এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন স্থাপনের স্বাধীনতা সীমিত
বা
শর্তসাপেক্ষভাবে এসব
অঞ্চলে
কার্যকর হয়েছে। এর
মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমুদ্র
আইন
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও
বৈশ্বিক স্বার্থের মধ্যে
ভারসাম্য রক্ষা
করেছে।
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা এবং
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ
বিশ্লেষণ কর
ভূমিকা
আন্তর্জাতিক সমুদ্র
আইন
এমন
দুটি
নীতির
ওপর
প্রতিষ্ঠিত যা
একদিকে
রাষ্ট্রসমূহের স্বাধীন ব্যবহার নিশ্চিত করে,
অন্যদিকে সমগ্র
মানবজাতির ন্যায়সংগত স্বার্থ রক্ষা
করে।
এই
দুটি
নীতি
হলো—
(ক)
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা (Freedom of the High Seas) এবং
(খ)
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ (Common Heritage of Mankind)।
১৯৮২
সালের
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন (UNCLOS)
এই
দুই
নীতির
আইনি
ভিত্তি
ও
বাস্তব
প্রয়োগ নির্ধারণ করেছে।
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা
ধারণা
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বলতে
বোঝায়—
কোনো
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা
জাতীয়
এখতিয়ারের বাইরে
অবস্থিত সমুদ্রাঞ্চলে সকল
রাষ্ট্রের জন্য
সমানভাবে স্বীকৃত কিছু
মৌলিক
স্বাধীনতা।
UNCLOS-এর ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহাসমুদ্র সকল
রাষ্ট্রের জন্য
উন্মুক্ত এবং
কোনো
রাষ্ট্রই এর
ওপর
মালিকানা বা
সার্বভৌমত্ব দাবি
করতে
পারে
না।
ঐতিহাসিক পটভূমি
১৭শ
শতকে
হুগো গ্রোটিয়াস তাঁর
Mare Liberum গ্রন্থে এই
মতবাদ
উপস্থাপন করেন,
লক্ষ্য
ছিল
সমুদ্রকে বাণিজ্য ও
নৌচলাচলের জন্য
মুক্ত
রাখা। দীর্ঘদিন এটি
প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের
ভিত্তি
হিসেবে
কাজ
করেছে
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতার উপাদানসমূহ
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত—
- নৌচলাচলের
স্বাধীনতা
- উড্ডয়নের
স্বাধীনতা
- মৎস্য আহরণের স্বাধীনতা
- সাবমেরিন
কেবল ও
পাইপলাইন স্থাপন
- কৃত্রিম দ্বীপ ও স্থাপনা নির্মাণ
- বৈজ্ঞানিক
গবেষণার স্বাধীনতা
বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা
বৈশিষ্ট্য
- সকল রাষ্ট্র সমান অধিকারভুক্ত
(স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রসহ)
- ব্যবহারভিত্তিক
অধিকার, মালিকানাভিত্তিক নয়
- শান্তিপূর্ণ
উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা
সীমাবদ্ধতা
পরিবেশ
সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা এবং জলদস্যুতা, দাসব্যবসা ও
অবৈধ
সম্প্রচার নিষিদ্ধ অন্য
রাষ্ট্রের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা
যাবে
না
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ
ধারণা
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ
অনুযায়ী জাতীয়
এখতিয়ারের বাইরে
অবস্থিত আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল অঞ্চল (The Area)
ও
এর
সম্পদ
কোনো
রাষ্ট্রের নয়;
বরং
সমগ্র
মানবজাতির যৌথ
উত্তরাধিকার। UNCLOS-এর ১৩৬ অনুচ্ছেদ এ
নীতির
আইনি
স্বীকৃতি রয়েছে।
ধারণার বিকাশ: ১৯৬৭
সালে
মাল্টার প্রতিনিধি আরভিড পারডো জাতিসংঘে এই
মতবাদ
উত্থাপন করেন
উদ্দেশ্য ছিল
শক্তিশালী রাষ্ট্রের একচেটিয়া সম্পদ
শোষণ
রোধ
উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে : আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল ও উপতল অঞ্চল,
গভীর
সমুদ্রের খনিজ
সম্পদ
(ম্যাঙ্গানিজ নডিউল,
কোবাল্ট, নিকেল
ইত্যাদি)
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- কোনো রাষ্ট্র এককভাবে দখল বা শোষণ করতে পারে না
- সম্পদ আহরণ আন্তর্জাতিক
নিয়ন্ত্রণে
- সুবিধা ন্যায্যভাবে
বণ্টনের বাধ্যবাধকতা
- ব্যবস্থাপনা
করে International Seabed Authority (ISA)
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
স্বার্থ সংরক্ষণ
সমালোচনামূলক মূল্যায়ন: মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা বাস্তবে উন্নত
রাষ্ট্রকে বেশি
সুবিধা
দেয়
।মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ
বাস্তবায়ন প্রযুক্তিগত ও
রাজনৈতিকভাবে জটিল
তবুও
উভয়
নীতি
আধুনিক
সমুদ্র
শাসন
ব্যবস্থার জন্য
অপরিহার্য
উপসংহার
: মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা ও
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ—দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করলেও
আধুনিক
আন্তর্জাতিক সমুদ্র
আইন
এই
দুই
নীতির
সমন্বয়ের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও
টেকসই
ব্যবহারের কাঠামো
গড়ে
তুলেছে।
কিভাবে
এদের
পার্থক্য করা
হয়
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা ও
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ—এই
দুই
নীতিকে
নিচের
ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করা
হয়ঃ
১. প্রযোজ্য এলাকা অনুযায়ী
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা প্রযোজ্য হয় মহাসমুদ্র (High Seas)-এ
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার মতবাদ প্রযোজ্য হয় আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল অঞ্চল (The Area)-এ
২. মূল দর্শন বা নীতিগত ভিত্তি
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → স্বাধীন ব্যবহারভিত্তিক নীতি
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → সামষ্টিক কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক নীতি
৩. মালিকানা ও অধিকার
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → মালিকানা নেই, কিন্তু সব রাষ্ট্রের অবাধ ব্যবহারাধিকার আছে
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → ব্যবহার ও দখল উভয়ই ব্যক্তিগত রাষ্ট্রের জন্য নিষিদ্ধ
৪. নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → রাষ্ট্র নিজে নিজে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করে
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → International Seabed Authority (ISA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
৫. সম্পদ আহরণ ও সুবিধা বণ্টন
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → যে রাষ্ট্র সক্ষম, সে বেশি সুবিধা পায়
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → সুবিধা ন্যায়সঙ্গতভাবে সকল রাষ্ট্রের মধ্যে বণ্টন
৬. উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের অবস্থান
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → বিশেষ সুবিধা নেই
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ সুবিধা ও
সুরক্ষা
৭. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ
- মহাসমুদ্রের
স্বাধীনতা → সরাসরি উল্লেখ নেই
- মানবজাতির
উত্তরাধিকার → ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষার বাধ্যবাধকতা
সংক্ষেপে পার্থক্যসূচক টেবিল
|
ভিত্তি |
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা |
মানবজাতির উত্তরাধিকার |
|
প্রযোজ্য এলাকা |
High Seas |
আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল |
|
দর্শন |
স্বাধীনতা |
সমবণ্টন |
|
নিয়ন্ত্রণ |
রাষ্ট্র |
আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ |
|
সম্পদ শোষণ |
অবাধ |
নিয়ন্ত্রিত |
|
উন্নয়নশীল রাষ্ট্র |
সমান |
বিশেষ সুবিধা |
উপসংহার
এইভাবে
দেখা
যায়
যে,
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা রাষ্ট্রকেন্দ্রিক স্বাধীনতার প্রতিফলন, আর
মানবজাতির উত্তরাধিকার মতবাদ মানবকেন্দ্রিক ন্যায়বোধের প্রকাশ। আধুনিক সমুদ্র
আইন
এই
দুই
নীতির
পার্থক্য ও
সমন্বয়ের ওপরই
দাঁড়িয়ে আছে।
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাসমূহের কোন
কোনটি
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ)–এ মহাসমুদ্রের সব
স্বাধীনতা প্রযোজ্য নয়।
তবে
কিছু নির্দিষ্ট মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা সীমিত আকারে EEZ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিচে
স্পষ্টভাবে তুলে
ধরা
হলো—
EEZ-এ অন্তর্ভুক্ত
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাসমূহ
জাতিসংঘ সমুদ্র
আইন
কনভেনশন (UNCLOS)–এর ৫৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্যান্য রাষ্ট্র EEZ-এ
নিম্নোক্ত মহাসমুদ্রের স্বাধীনতাগুলো ভোগ
করতে
পারে—
১. নৌচলাচলের স্বাধীনতা
সকল
রাষ্ট্রের জাহাজ
EEZ-এর
ভেতর
দিয়ে
অবাধে
চলাচল
করতে
পারে
উপকূলীয় রাষ্ট্র এ
ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব দাবি
করতে
পারে
না
২. উড্ডয়নের স্বাধীনতা:
EEZ-এর উপর
আকাশসীমা আন্তর্জাতিক আকাশসীমা হিসেবে
বিবেচিত ।বিদেশি বিমান
চলাচলে
উপকূলীয় রাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিতে
পারে
না
৩. সাবমেরিন
কেবল ও পাইপলাইন স্থাপনের স্বাধীনতা
অন্যান্য রাষ্ট্র EEZ-এর
তলদেশে
কেবল
ও
পাইপলাইন স্থাপন
করতে
পারে
তবে
উপকূলীয় রাষ্ট্রের যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ ও
পরিবেশগত বিধি
মানতে
হয়
৪. সমুদ্রসম্পর্কিত
বৈধ ব্যবহার (Other internationally lawful uses)
সামরিক
নৌচলাচল , নৌ-মহড়া ও নজরদারি (যতক্ষণ
না
উপকূলীয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অধিকার
ক্ষুন্ন হয়)
EEZ-এ অন্তর্ভুক্ত
নয় এমন মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা
নিম্নোক্ত স্বাধীনতাগুলো EEZ-এ প্রযোজ্য নয়, কারণ
এগুলোতে উপকূলীয় রাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকার
থাকে—
১.মৎস্য আহরণের
স্বাধীনতা
২.
খনিজ
ও
অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ
আহরণ
৩.কৃত্রিম দ্বীপ
ও
স্থাপনা নির্মাণ (অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য)
৪.বৈজ্ঞানিক গবেষণা
(রাষ্ট্রের সম্মতি
ছাড়া)
সুতরাং
বলা
যায়—
নৌচলাচল, উড্ডয়ন এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন স্থাপনের স্বাধীনতা—এই
তিনটি
প্রধান
মহাসমুদ্রের স্বাধীনতা একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এগুলোও
উপকূলীয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অধিকার
ও
পরিবেশগত বিধির
প্রতি
সম্মান
প্রদর্শন সাপেক্ষে কার্যকর।
No comments