(ক) “কোনো বিক্রেতার পণ্যে তার নিজের যে স্বত্ব আছে তদাপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্বত্ব পণ্যের ক্রেতাকে প্রদান করতে পারে না” -আলোচনা কর। এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম আছে কী? থাকলে সেগুলো কী? ( খ) বাতিলযোগ্য চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য বিক্রয়ের ফলাফল কী? লিয়েন ও পথিমধ্যে আটক এর মধ্যে পার্থক্য কী? (গ) ক্রেতা সাবধান বলতে কী বুঝ? পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগের ব্যতিক্রম আছে কী? পণ্য বিক্রয়ের চুক্তিতে অনুমিত মুখ্য শর্ত ও গৌণ শর্তগুলো কী কী?
১৩। (ক) “কোনো বিক্রেতার পণ্যে তার নিজের যে স্বত্ব আছে
তদাপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্বত্ব পণ্যের ক্রেতাকে প্রদান করতে পারে না” -আলোচনা কর। এই নিয়মের কোনো
ব্যতিক্রম আছে কী? থাকলে সেগুলো কী?
( খ) বাতিলযোগ্য চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য বিক্রয়ের ফলাফল কী? লিয়েন ও পথিমধ্যে আটক
এর মধ্যে পার্থক্য কী?
(গ) ক্রেতা সাবধান বলতে কী বুঝ? পণ্য
বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগের
ব্যতিক্রম আছে কী? পণ্য বিক্রয়ের চুক্তিতে অনুমিত মুখ্য শর্ত ও গৌণ শর্তগুলো
কী কী?
ক)
“কোনো বিক্রেতার পণ্যে তার নিজের যে স্বত্ব আছে
তদাপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্বত্ব পণ্যের ক্রেতাকে প্রদান করতে পারে না” -আলোচনা কর। এই নিয়মের কোনো
ব্যতিক্রম আছে কী? থাকলে সেগুলো কী?
১. মূল বক্তব্য
“কোনো বিক্রেতার পণ্যে তার নিজের যে স্বত্ব আছে,
তদাপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্বত্ব পণ্যের ক্রেতাকে প্রদান করতে পারে না।”
অর্থ:
বিক্রেতা শুধুমাত্র তার নিজস্ব মালিকানা বা অধিকারভুক্ত স্বত্ব ক্রেতাকে হস্তান্তর করতে পারে।বিক্রেতা অন্য কারো মালিকানা বা অধিকারের অধিকার ক্রেতাকে দিতে পারবে না।যদি ক্রেতা এমন পণ্য কিনে যা বিক্রেতার নিজস্ব
নয়, ক্রেতার আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উদাহরণ:
·
বিক্রেতা
A, যার কাছে একটি গাড়ির মালিকানা আছে, সে সেই গাড়ি
ক্রেতা B-কে বিক্রি করতে
পারে।
·
যদি
A অন্যের (C-এর) গাড়ি বিক্রি করার চেষ্টা করে, ক্রেতা B সেই গাড়ি বৈধভাবে দাবি করতে পারবে না।
২. নিয়মের কারণ
1. আইনগত নিরাপত্তা: ক্রেতাকে বৈধ মালিকানা দেওয়া নিশ্চিত করা।
2. বিক্রেতার দায় সীমিত করা: বিক্রেতা শুধুমাত্র তার নিজের স্বত্বের জন্য দায়ী।
3. বাণিজ্যিক সততা বজায় রাখা: প্রতারণার ঝুঁকি কমানো।
৩. ব্যতিক্রমসমূহ (Exceptions)
কিছু ক্ষেত্রে বিক্রেতা উৎকৃষ্টতর স্বত্ব ক্রেতাকে দিতে পারে, যেমন:
1. উক্তি বা অনুমোদনের ভিত্তিতে বিক্রয়:
o
যদি
বিক্রেতার কাছে মালিকানা বা স্বত্ব হস্তান্তরের
আইনি অনুমতি থাকে, তবে ক্রেতা বৈধ অধিকার পেতে পারে।
o
উদাহরণ:
চুক্তি অনুযায়ী বিক্রেতা অন্যের পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
2. বিক্রেতা সতর্কভাবে প্রদত্ত চুক্তি (Estoppel):
o
যদি
বিক্রেতা অন্য কারো স্বত্ব বিক্রির জন্য ক্রেতাকে সতর্কভাবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে, এবং ক্রেতা তা বিশ্বাস করে,
কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
3. শর্তসাপেক্ষ বিক্রয় (Conditional
Sale):
o
বিক্রেতার
স্বত্ব সীমিত হলেও চুক্তিতে শর্ত থাকলে ক্রেতা পরে স্বত্ব বুঝলে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।
o
উদাহরণ:
“বিক্রয় শর্তসাপেক্ষে, স্বত্ব প্রমাণিত হলে হস্তান্তর হবে”
4. ব্যবসায়িক রীতি / customary practice:
o
কিছু
ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক চর্চা অনুযায়ী বিক্রেতা স্বত্বের উপর বিশ্বাসযোগ্য অধিকার প্রদান করতে পারে, এবং আদালত তা গ্রহণ করতে
পারে।
খ)
বাতিলযোগ্য চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য বিক্রয়ের ফলাফল কী? লিয়েন ও পথিমধ্যে আটক
এর মধ্যে পার্থক্য কী?
(খ) বাতিলযোগ্য চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত পণ্য বিক্রয়ের ফলাফল
বাতিলযোগ্য চুক্তি (Voidable Contract) কী?
এটি এমন একটি চুক্তি, যা এক বা একাধিক পক্ষের অনিচ্ছা বা আইনি কারণে বাতিল করা যেতে পারে।উদাহরণ: জোর করে স্বাক্ষর করানো, প্রতারণা, বা বোঝার অভাবের
কারণে চুক্তি বাতিলযোগ্য।
ফলাফল:
1. প্রাপ্ত পণ্য:যদি কেউ বাতিলযোগ্য চুক্তির অধীনে পণ্য পায় এবং তা তৃতীয় পক্ষকে বিক্রি করে,মূল চুক্তি বাতিল হলে, বিক্রেতার স্বত্ব স্থায়ী হয় না।
2. বিক্রয় বৈধ কি না:মূল চুক্তি বাতিল হলে, পণ্যের মালিকানা বা অধিকার ক্রেতা বা নতুন প্রাপককে আইনত হস্তান্তরিত হয় না।অর্থাৎ, বিক্রয় বৈধ নয়, এবং মূল মালিক পণ্য পুনরায় দাবি করতে পারে।
3. আইনি প্রতিকার:মূল মালিক তৃতীয় পক্ষের কাছে পণ্য ফেরত চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তৃতীয় পক্ষ যদি সদিচ্ছায় পণ্য কিনে নেয়, তখন ক্ষতিপূরণের জন্য দাবী করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
·
A চুক্তির
অধীনে B-কে পণ্য বিক্রি
করে, কিন্তু চুক্তি প্রতারণার কারণে বাতিলযোগ্য।
·
B যদি
C-কে পণ্য বিক্রি করে, এবং চুক্তি পরে বাতিল হয় → A এখনও পণ্য দাবি করতে পারে।
লিয়েন ও পথিমধ্যে আটক (Lien / Pledge) এর পার্থক্য
|
বিষয় |
লিয়েন (Lien) |
পথিমধ্যে আটক (Pledge / Detention) |
|
সংজ্ঞা |
দেনাদার
অর্থ পরিশোধ না করলে ধারকের স্বার্থসাপেক্ষে পণ্য রাখার অধিকার |
ঋণ
বা দায়ের নিশ্চয়তার জন্য পণ্যকে আটক রাখার অধিকার |
|
মালিকানা |
মালিকানা
থাকে দেনাদারের |
মালিকানা
থাকে দেনাদারের, কিন্তু ধারক নিরাপত্তা হিসেবে রাখে |
|
উদাহরণ |
কার্গো
বা চেম্বার মালিকের লিয়েন – ভাড়া না দিলে পণ্য আটকে রাখা |
ব্যাংক/লোন প্রাপকের কাছে জামানত হিসেবে রাখার জন্য পণ্য আটক |
|
লক্ষ্য |
দেনাদার
অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা |
ঋণ
বা চুক্তি পূরণ নিশ্চিত করা |
|
আইনি
প্রক্রিয়া |
স্বাভাবিক
লিয়েন - আইনি অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা যায় না |
পণ্য
ফেরত দিতে বা বিক্রি করতে চুক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ থাকে |
ক্রেতা
সাবধান বলতে কী বুঝ?
ক্রেতা সাবধান” বা Caveat Emptor
একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক নীতি। এর সরল অর্থ
হলো:ক্রেতা সতর্ক হোক”। অর্থাৎ, পণ্য কেনার সময় ক্রেতা নিজেই পণ্যের গুণগত মান, বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারযোগ্যতা এবং স্বত্ব যাচাই করবে।
মূল ধারণা:
বিক্রেতা সাধারণত পণ্যের ত্রুটি বা সমস্যা সম্পর্কে
দায়ী নয়, যদি সে প্রতারণা না করে। ক্রেতার দায়িত্ব:
পণ্য পরীক্ষা করা,মান যাচাই করা,প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা
উদাহরণ:
·
আপনি
বাজার থেকে জামা-কাপড় কিনলেন। রঙ, সাইজ, কাপড়ের মান যাচাই করা আপনার দায়িত্ব।
·
যদি
পরে দেখা যায় কাপড় খারাপ, এবং বিক্রেতা প্রতারণা করেনি, আইন অনুযায়ী বিক্রেতা সাধারণত দায়ী নয়।
পরিশেষে
ক্রেতা সাবধান নীতি বলছে, ক্রেতা নিজেই সতর্ক হবে, আর বিক্রেতা সাধারণ ত্রুটির জন্য দায়ী হবে না।
পণ্য
বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগের
ব্যতিক্রম আছে কী?
হ্যাঁ, “ক্রেতা সাবধান” (Caveat Emptor) নীতি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
নয়। পণ্য বিক্রয়ে কিছু ব্যতিক্রম আছে, যেখানে ক্রেতা নিজের সতর্কতার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য নয়।
ব্যতিক্রমসমূহ
1. প্রতারণা বা ভুয়া তথ্য (Fraud /
Misrepresentation):যদি
বিক্রেতা মিথ্যা তথ্য দেয় বা প্রতারণা করে, ক্রেতা তখন ক্ষতিপূরণ বা চুক্তি বাতিলের দাবি করতে পারে।
উদাহরণ: বিক্রেতা বলে “এই ঘড়ি আসল
ব্র্যান্ডের”, কিন্তু তা নকল।
2. উত্তম মানের নিশ্চয়তা (Implied
Warranty / Merchantable Quality):পণ্য
ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহারযোগ্য বা ঠিকঠাক মানের হতে হবে।
উদাহরণ: খাবারের দোকানে বিক্রি করা পণ্য অক্ষত এবং খাওয়ার উপযোগী হতে হবে।
3. নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য বিক্রয় (Fitness for
Purpose)যদি
ক্রেতা বিক্রেতাকে পণ্য ব্যবহারের বিশেষ উদ্দেশ্য জানায় এবং বিক্রেতা তা নিশ্চিত করে,
পণ্য সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার যোগ্য না হলে বিক্রেতা
দায়ী।
উদাহরণ: ক্রেতা বলে, “আমি এই কাচ দিয়ে
বাড়ির জানালা বানাবো,” এবং বিক্রেতা তা মেনে বিক্রি
করে। কাচ ভাঙা হলে বিক্রেতা দায়ী।
4. প্রকাশ্য শর্ত / গ্যারান্টি (Express
Warranty / Condition): বিক্রেতা
যদি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে শর্ত বা গ্যারান্টি দেন,
তা পূরণ না হলে ক্রেতা
ক্ষতিপূরণ বা চুক্তি বাতিল করতে পারে।
উদাহরণ: “এই কম্পিউটার ২
বছরের জন্য ওয়ারেন্টি সহ।”
5. পেশাদার বিক্রেতার দায় (Professional
Sellers): পেশাদার
বিক্রেতা বা ব্যবসায়িক সংস্থা
ক্রেতাকে সতর্কতা এবং পরামর্শ দেওয়ার দায় বহন করে।
উদাহরণ: প্রযুক্তি দোকানে পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কিত ভুল পরামর্শ দিলে বিক্রেতা দায়ী।
পণ্য বিক্রয়ের চুক্তিতে অনুমিত মুখ্য শর্ত ও গৌণ শর্তগুলো কী কী?
১. পণ্য বিক্রয়ের চুক্তিতে অনুমিত শর্তসমূহ (Conditions & Warranties)
পণ্য বিক্রয়ের চুক্তিতে শর্তগুলো দুই ধরনের হয়:
(ক) মুখ্য শর্ত (Condition)
·
সংজ্ঞা:
চুক্তির এমন শর্ত, যার পূরণ না হলে ক্রেতা চুক্তি বাতিল করতে পারে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
·
লক্ষ্য:
পণ্য বিক্রির মূল উদ্দেশ্য পূরণ।
·
উদাহরণ:
1. মালিকানা / স্বত্ব (Title/Ownership)
– বিক্রেতা পণ্যের বৈধ মালিক হবে।
2. মূল্য এবং পরিমাণ (Price &
Quantity) – চুক্তিতে
নির্ধারিত দাম ও পরিমাণ পূরণ।
3. মুখ্য বৈশিষ্ট্য / প্রধান গুণমান – যেমন, ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষমতা, গাড়ির মডেল ইত্যাদি।
মুখ্য শর্ত পূরণ না হলে: চুক্তি বাতিল করা যায়।
(খ) গৌণ শর্ত (Warranty)
·
সংজ্ঞা:
চুক্তির এমন শর্ত, যার পূরণ না হলে ক্রেতা
শুধু ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, চুক্তি বাতিল করতে পারবে না।
·
লক্ষ্য:
চুক্তির সহযোগী বা সহায়ক শর্ত।
·
উদাহরণ:
1. পণ্যের রঙ, নকশা, cosmetic defects
2. ডেলিভারির সময়সীমা (যদি চুক্তিতে প্রধান শর্ত না হয়)
3. অতিরিক্ত ফিচার বা accessories
গৌণ শর্ত পূরণ না হলে: চুক্তি বজায় থাকে, ক্রেতা শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
No comments