৪. (ক) ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ এর প্রধান বিধানগুলো আলোচনা কর। তুমি কী মনে কর এ আইন বর্গাদারদের বাস্তবিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করেছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও। খ) একজন ব্যক্তি একই সময়ে একই সম্পত্তির ‘ভূস্বামী এবং প্রজা হতে পারে না।’ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫-তে এই নীতিটি কতটুকু পর্যন্ত স্বীকৃত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
৪. (ক) ১৯৮৪ সালের
ভূমি
সংস্কার অধ্যাদেশ এর
প্রধান
বিধানগুলো আলোচনা
কর।
তুমি
কী
মনে
কর
এ
আইন
বর্গাদারদের বাস্তবিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান
করেছে?
তোমার
উত্তরের সপক্ষে
যুক্তি
দেখাও।
১. ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ – প্রেক্ষাপট
১৯৮৪
সালের
ভূমি
সংস্কার অধ্যাদেশ (Land Reform Ordinance, 1984) বাংলাদেশের কৃষি খাতে জমি
বৈষম্য
কমানো,
ক্ষুদ্র চাষী
ও
বর্গাদারদের অধিকার
সুরক্ষা এবং
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য
প্রণীত
হয়।
মূল
লক্ষ্য
ছিল:
- বড় জমিদারদের
জমির একত্রীকরণ রোধ করা।
- ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জমির ব্যবহার ও
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- চাষী-বর্গাদারদের
জীবিকার জন্য অধিকার সুরক্ষা প্রদান।
২. প্রধান বিধানসমূহ
(১) সর্বোচ্চ
জমি মালিকানা সীমা নির্ধারণ
একজন
কৃষক
বা
পরিবারের কাছে
সর্বোচ্চ কত
জমি
থাকতে
পারবে
তা
নির্ধারণ করা
হয়েছে।এই সীমা
অতিক্রম করলে
অতিরিক্ত জমি
রাষ্ট্রের মাধ্যমে ক্ষুদ্র চাষীদের মধ্যে
বিতরণ
করা
হবে।উদ্দেশ্য: জমির
একত্রীকরণ কমানো
এবং
সামাজিক ন্যায়
প্রতিষ্ঠা।
(২) চাষী ও বর্গাদারের
অধিকার সুরক্ষা
বর্গাদারদের জমি
চাষের
অধিকার
রয়েছে।উৎপাদনের অংশ
পেতে
পারবে,
তবে
জমির
মালিকানা তাদের
নয়।সরকার তাদের
চাষের
অধিকার
নথিভুক্ত করে
আইনি
স্বীকৃতি প্রদান
করেছে।
(৩) জমি পুনর্বণ্টন
ও অব্যবহৃত জমি ব্যবহার
বড়
জমিদারদের অধিক
জমি
পুনর্বণ্টন করা
হবে।অব্যবহৃত জমি
ক্ষুদ্র চাষীদের দেওয়া
হবে।লক্ষ্য: ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য
জীবিকা
ও
চাষের
সুযোগ
বৃদ্ধি।
(৪) রেজিস্ট্রেশন
ও নথিভুক্তকরণ
সকল
চাষী
ও
বর্গাদারের চুক্তি
এবং
ভূমি
ব্যবহার নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক।এতে বর্গাদারদের অধিকার
আইনি
স্বীকৃতি পায়।
(৫) কৃষি শ্রমিক
ও ভাড়াটেদের সুরক্ষা
ভাড়াটে বা
কৃষি
শ্রমিকদের উৎপাদন,
বেতন
এবং
অধিকার
সুরক্ষিত রাখা
হয়েছে।আইন তাদের
অবৈধভাবে জমি
থেকে
বের
করা
রোধ
করে।
৩. আইন বর্গাদারদের বাস্তবিক অধিকার নিশ্চিত করেছে কি?
উত্তর: আংশিকভাবে – হ্যাঁ,
বর্গাদারদের চাষ ও উৎপাদনের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে,
কিন্তু
সম্পূর্ণ মালিকানা অধিকার নয়।
যুক্তি (সপক্ষে)
- চাষের
অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে
- বর্গাদাররা
জমি চাষ করতে পারছে এবং উৎপাদনের অংশ পাচ্ছে।
- এটি তাদের জীবিকার
জন্য কার্যকর সুরক্ষা দেয়।
- আইনি
স্বীকৃতি ও রেজিস্ট্রেশন
- রেজিস্ট্রেশন
সিস্টেম বর্গাদারের চাষের অধিকার নথিভুক্ত করেছে।
- ফলে তাদের অধিকার সরকারীভাবে
স্বীকৃত।
- বৃহৎ
জমি পুনর্বণ্টন
- অতিরিক্ত
জমি ক্ষুদ্র চাষীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
- এতে চাষী ও বর্গাদারের
ভূমি ব্যবহার ও জীবিকা সুরক্ষিত হয়েছে।
- শ্রমিক
ও ভাড়াটেদের সুরক্ষা
- আইন নিশ্চিত
করেছে, চাষী-বর্গাদারদের শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন হবে না।
সীমাবদ্ধতা
বর্গাদারদের মালিকানা অধিকার নেই;
তারা
শুধু
চাষের
অধিকার
পেয়েছে।প্রশাসনিক জটিলতা
বা
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে
অনেক
সময়
চাষী
বা
বর্গাদার প্রকৃত
সুবিধা
পায়নি।বড় জমিদারদের মামলা
বা
চাপের
কারণে
অধিকার
সীমিত
হতে
পারে।
৪. উপসংহার
১৯৮৪
সালের
ভূমি
সংস্কার অধ্যাদেশ মূলত
বর্গাদারদের বাস্তবিক অধিকার নিশ্চিত করেছে।
তারা
চাষ
করতে
পেয়েছে, উৎপাদনের অংশ
পেয়েছে এবং
আইনি
স্বীকৃতি পেয়েছে।তবে সম্পূর্ণ মালিকানা অধিকার নিশ্চিত করা
যায়নি,
এবং
কিছু
ক্ষেত্রে বাস্তব
প্রয়োগ সীমিত
ছিল।
খ)
একজন
ব্যক্তি একই
সময়ে
একই
সম্পত্তির ‘ভূস্বামী এবং
প্রজা
হতে
পারে
না।’
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন,
১৮৮৫-তে এই নীতিটি
কতটুকু
পর্যন্ত স্বীকৃত হয়েছে
তা
ব্যাখ্যা কর।
১. নীতিটি: “একই ব্যক্তি একই সময়ে একই সম্পত্তির ভূস্বামী এবং প্রজা হতে পারে না”
নীতি মূলত
ভূস্বামী ও প্রজার মধ্যে দ্বৈত স্বত্ত্বরোধ সম্পর্কিত।অর্থাৎ, কেউ
একই
সময়ে
একই
জমির
মালিক
(ভূস্বামী) এবং
সেই
জমি
ব্যবহারকারী বা
চাষী
(প্রজা)
হতে
পারবে
না।
লক্ষ্য:
জমিতে
শোষণ
বা
স্বার্থান্বেষণ কমানো
এবং
চাষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫-এ স্বীকৃতি
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫ (Bengal Tenancy Act, 1885) প্রধানত চাষী
ও
জমিদারের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার
জন্য
প্রণীত
হয়েছিল।
(১) নীতির প্রয়োগ
- ভূস্বামীর
প্রজারূপে অধিকার সীমিত: আইন স্পষ্টভাবে বলে, একজন ভূস্বামী তার নিজের মালিকানাধীন জমি নিজের চাষের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না।যদি ভূমি ব্যবহার করতে চায়, তাকে বর্গাদার বা চাষীরূপে আলাদা চুক্তি করতে হবে।
- চুক্তির
স্বীকৃতি ও সীমাবদ্ধতা: প্রজার অধিকার এবং বর্গাদারের অধিকার আলাদা নথিভুক্ত করতে হবে।চাষী হিসেবে থাকা অবস্থায় ভূস্বামী তার নিজস্ব ভূমিতে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে পারবে না।
- উদ্দেশ্য
ও প্রভাব: এটি চাষীকে জমিতে স্থায়ী অধিকার দেয়।জমিতে একমাত্র মালিক হওয়া অবস্থায় চাষীকে শোষণ বা অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়।
(২) সীমাবদ্ধতাআইন শুধু
নির্দিষ্ট শর্তে নীতি
প্রয়োগ করেছে।বড় জমিদাররা অন্য
কোনও
কৌশল
ব্যবহার করে
প্রজারূপে কিছু
সুবিধা
পেতে
পারত।প্রশাসনিক কার্যক্রম ও
রেকর্ডের দুর্বলতার কারণে
কিছু
ক্ষেত্রে দ্বৈত
স্বত্ত্ব দেখা
যেত।
৩. উপসংহার
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন,
১৮৮৫-এ নীতি “একই
ব্যক্তি একই
সময়ে
ভূস্বামী এবং
প্রজা
হতে
পারবে
না”
আংশিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।আইন মূলত চাষীকে
নিরাপত্তা এবং
স্থায়ী অধিকার
দিতে
চেয়েছে।তবে প্রয়োগ ও
বাস্তবতা অনুসারে কিছু
সীমাবদ্ধতা ছিল,
যা
বড়
জমিদারদের প্রভাব
বা
প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে
পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
No comments