৪। (ক) ১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারির ফলাফল কী? সার্টিফিকেট কার্যকরীর বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী? আলোচনা করুন।
৪। ১৯১৩ সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের ৭ ধারার নোটিশ জারির ফলাফল কী? সার্টিফিকেট কার্যকরীর বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী? আলোচনা করুন।
১৯১৩
সালের সরকারি দাবি আদায় আইনের ৭ ধারার নোটিশ
জারির ফলাফল কী?
১৯১৩
সালের Public Demands Recovery Act, 1913–এর ধারা ৭–এর নোটিশ হলো
সার্টিফিকেট প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি দেনাদারের আইনি অধিকার এবং সরকারি দাবির কার্যকরতা নিশ্চিত করে।
৭ ধারার নোটিশের উদ্দেশ্য
১. দেনাদারকে জ্ঞাতকরণ: সার্টিফিকেট অফিসার দেনাদারকে দাবির পরিমাণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে
জানাতে বাধ্য।
২. আইনি প্রতিকার নিশ্চিতকরণ:দেনাদারকে লিখিত আপত্তি দাখিল করার সুযোগ প্রদান করা।এটি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের (natural
justice) অংশ।
৩. সার্টিফিকেট কার্যক্রমের স্বচ্ছতা:নোটিশ জারি করার মাধ্যমে প্রশাসনিক সতর্কতা এবং আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।
ধারা ৭–এর নোটিশ জারির ফলাফল
(ক) আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি:
দেনাদার ধারা ৯ অনুযায়ী লিখিত
আপত্তি দাখিল করতে পারেন।আপত্তি করতে পারার সময়সীমা সাধারণত ৩০ দিন বা
নোটিশে উল্লেখিত সময়সীমা। এতে দেনাদারের প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
খ) দাবির স্বীকৃতি বা বিতর্ক নির্ধারণ
নোটিশ পাওয়ার পর দেনাদার দাবিটি
স্বীকার করতে পারে বা আংশিক/সম্পূর্ণভাবে
অস্বীকার করে আপত্তি উত্থাপন করতে পারে। এটি দাবির বৈধতা যাচাই এবং বিতর্ক সমাধানের সুযোগ তৈরি করে।
গ) কার্যকরী ব্যবস্থা স্থগিত
নোটিশ দেওয়ার সাথে সাথে সরাসরি সম্পত্তি ক্রোক বা বিক্রয় স্থগিত থাকে, যতক্ষণ না দেনাদার আপত্তি
দাখিল করে বা সময়সীমা অতিক্রম
করে।অর্থাৎ, নোটিশ প্রাপ্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত জবরদস্তি প্রতিরোধ হয়।
(ঘ) আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ
ধারা ৭–এর নোটিশ
আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।নোটিশ না দিলে সার্টিফিকেট
বাতিলযোগ্য
হতে পারে। সার্টিফিকেট অফিসারের জন্য এটি একটি আইনগত নিরাপত্তা ও দায়িত্ব।
পরিশেষে,
৭ ধারার নোটিশ হল সার্টিফিকেট মামলার
পূর্বশর্ত, যা দেনাদারের প্রতিরক্ষা
ও সরকারি দাবির কার্যকারিতা উভয়ই নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন: সার্টিফিকেট কার্যকরীর বিভিন্ন পদ্ধতি কী কী? আলোচনা করুন।
১. ভূমিকা
সার্টিফিকেট কার্যকরী পদ্ধতি
মূলত
দেনাদারের সম্পত্তি বা
আয়ের
উপর
কেন্দ্র করে।
আইন
সংক্ষিপ্ত (summary) প্রক্রিয়ায় সরকারি
দাবি
আদায়
নিশ্চিত করে,
যাতে
দীর্ঘ
দেওয়ানি মামলা
ছাড়াই
অর্থ
আদায়
করা
যায়।
২. সার্টিফকেট কার্যকরীর প্রধান পদ্ধতি
(ক) সম্পত্তি
ক্রোক (Attachment of Property)
- স্থাবর
সম্পত্তি:জমি, বাড়ি, দোকান ইত্যাদি দখল করে সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বিক্রয় করা যেতে পারে।
- অস্থাবর
সম্পত্তি:যানবাহন, জিনিসপত্র, ব্যাংক ব্যালেন্স, পণ্য ইত্যাদি ক্রোক করা যায়।
- উদ্দেশ্য:বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সরকারি দাবি পরিশোধ করা।
(খ) বেতন বা আয় কর্তন
(Deduction from Salary/Income)
- সরকারি
কর্মচারী বা নিয়মিত আয়ের ক্ষেত্রে:বেতন, পেনশন বা অন্যান্য নিয়মিত আয় থেকে নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা হয়।
- উদ্দেশ্য:ধারাবাহিকভাবে
দেনাদারের আয় থেকে সরকারি দাবি আদায় নিশ্চিত করা।
(গ) জমি বিক্রয়
(Sale of Land):সার্টিফিকেটের মাধ্যমে দখলকৃত
জমি
নিলামে
বিক্রি
করা
যায়।নিলামের আয়
সরকারি
দাবিতে
ব্যবহার করা
হয়।এটি প্রধানত বড়
অর্থের
দাবির
ক্ষেত্রে কার্যকর।
(ঘ) ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক সম্পত্তি থেকে কর্তন
ব্যাংক
ব্যালেন্স, স্থাবর
পুঁজির
লেনদেন
বা
চলতি
হিসাব
থেকে
সরাসরি
দাবির
অর্থ
আদায়
করা
যায়।প্রক্রিয়াটি দ্রুত
এবং
সরাসরি।
(ঙ) অন্যান্য
উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা
যদি
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো যথেষ্ট
না
হয়,
আইন
অনুযায়ী অন্য
কার্যকরী পদ্ধতি
গ্রহণ
করা
যায়।উদাহরণ: সিকিউরিটি ফান্ড
বা
তৃতীয়
পক্ষের
সম্পত্তি দখল।
৩. কার্যকরীর প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য
- সংক্ষিপ্ত
ও দ্রুত:দেওয়ানি মামলার মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়া নয়।
- দেনাদারের
ন্যায়বিচার নিশ্চিত:ধারা ৭
নোটিশ, আপত্তি দাখিল ও
শুনানি প্রক্রিয়া।
- দাবির
সীমাবদ্ধতা:কার্যকরী পদক্ষেপ কেবল দেনাদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা আয়ের ওপর প্রযোজ্য।
- দায়িত্ব: সার্টিফিকেট অফিসার যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করেন এবং দাবির বৈধতা নিশ্চিত করেন।
উপসংহার
No comments